সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আগে মানুষ ভোট দিয়ে সরকার বেছে নিত, আজ মোদী সরকার নিজেই পছন্দের ভোটার বেছে নিচ্ছে।’ এসআইআর ইস্যুতে এভাবেই কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে আজ মমতা নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবীদের পদযাত্রা করে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, এটা বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। তাঁর তোপ, দিল্লির কাছে বাংলা বশ্যতা স্বীকার করবে না। ১০০ দিনের মামলায় বাংলার মানুষেরই জয় হয়েছে। এখন যাকে খুশি বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, বাংলাদেশে ডিপোর্ট করছে। যাঁরা মানুষকে রিমোট কন্ট্রোলের মতো চালিয়েছে, তাদের শূন্য করতে হবে। ২০২৬ সালে দিদিকে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই নয়, বিজেপিকে শূন্য করার লড়াই। এখন বলা হচ্ছে ভোটার কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়, রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একটা যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলেই বাংলা জবাব দেবে।’
রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত আজ তৃণমূলের ‘এসআইআর বিরোধী’ প্রতিবাদ মিছিল থেকে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মিছিলের সারিতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতা-নেত্রীরাও। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কেন্দ্রকে। অভিষেকের দাবি, বাংলায় এস আই আর আতঙ্কে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। আগামী দু মাসের মধ্যে দিল্লিতে মিছিল করার হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। মঞ্চে উঠে অভিষেক বলেন, গত জুন মাসে এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল তার বিরোধিতা করে আসছে। এসআইআর ঘোষণার পর সাত দিনের মধ্যেই সাতজন সহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানান অভিষেক। এরপর তিনি বলেন, ‘দু’দিনের ব্যবধানে যদি আমরা এত বড় মিছিল করতে পারি, তাহলে আগামী দুই মাসের মধ্যে দিল্লিতেও তৃণমূলের মিছিল দেখতে পাবে দেশ। আমাদের ধমকে, চমকে লাভ নেই।’
অভিষেক আরও বলেন, ‘২০২১-এ হেরেছে বিজেপি, ২০২৪-এও হেরেছে। তাই এখন হঠাৎ এসআইআর ঘোষণা করে মানুষের কাগজ চাইছে। যারা আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারা আগে নিজের বাবা-ঠাকুরদার কাগজ দেখাক। আমরা ভয় পাই না, ধমকে চমকে আমাদের থামানো যাবে না। প্রয়োজনে প্রাণ দিয়েও আমরা মানুষের অধিকারের জন্য লড়ব। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লী যাবে। বাংলার কি ক্ষমতা দিল্লী দেখবে! ইনকাম ট্যাক্স ও অন্যান্য বাহিনী রাজনৈতিকভাবে কাজ করেছে এবং বাংলাকে অপমান করা হয়েছে; যারা টাকা আটকে রেখেছে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। তিনি জানান, আগামী ২৬-এর লড়াই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী দাঁড় করানোর লড়াই নয়, এটি বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে শূন্য করার লড়াই হবে এবং রাজ্যবাসীর ক্ষমতা দিল্লিতে দেখিয়ে দেওয়া হবে — সেই সংগঠিত প্রস্তুতিই তৃণমূল ঘোষণা করেছে।

অভিষেক বলেন, ‘এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২১ জুলাই যে আন্দোলন কলকাতার বুকে হয়েছিল। তখন তৃণমূল তৈরি হয়নি। কংগ্রেসের ব্যানারে আন্দোলন হয়েছিল, সচিত্র পরিচয় পত্রের যে দাবি, মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে যাঁরা বঞ্চিত করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা গর্জে উঠব। আগামীদিনেও যদি মানুষের অধিকারে আমাদের প্রাণ দিতে রাস্তা নামতে হয়, বিজেপির বিরুদ্ধে বঙ্গবাসী ইতস্তত বোধ করবে না। আমরা তৈরি আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যোগ্য ভোটারের থেকে নাম বাদ গেলে কী হবে সেই ক্ষমতা দেখাব। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁরা সবাই বৈধ ভোটার ছিল। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এর জবাব দেওয়া হবে। আগামীদিন দিল্লি যাওয়া হবে। দিল্লি যেতে প্রস্তুত থাকুন’। অভিষেকের আরও বলেন, ‘অমিত শাহের দম থাকলে সামনে এসে বলুন, লালকৃষ্ণ আডবাণী ভোট দিতে পারবেন না। কারণ ওনার জন্ম করাচিতে। মতুয়াদের ভোট নিয়েছে। আর এখন বলছে যেতে হবে সিএএ ক্যাম্পে। এদের কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে দেব না। গেলে আমাদের মরদেহের ওপর দিয়ে যেতে হবে। এখন তো শুনছি মতুয়া মহাসংঘের নামে ৮০০ টাকা করে নিচ্ছে।’