প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
কসবা ল’ কলেজের ঘটনায় জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। সেখানে আবেদন, আদালতের তত্ত্বাবধানে এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত হোক। কসবা কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে এদিন তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীরা এই মামলাগুলি দায়ের করার অনুমতি চান। আদালত তাঁদের অনুমতি দেয়।
আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলাগুলির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। আইনজীবী সৌম্যশুভ্র রায়, সায়ন দে এবং বিজয় কুমার সিংহল মামলা দায়ের করার অনুমতি চান। মাননীয় বিচারপতি সেই অনুমতি দেন। আইনজীবীরা দাবি করেন, আদালত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত হোক এবং কলেজে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক।
এমনিতেই এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। ৯ সদস্যের সিট ঘটন করা হয়েছে। পুলিশের জেরায় ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে কসবাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র। জেরায় সে জানিয়েছে, তার ক্ষমতা সম্পর্কে সকলের ধারণা ছিল। নির্যাতিতাও তার ক্ষমতা সম্পর্কে জানত। কিন্তু অভিযোগ জানানোর সাহস করবে তা ভাবতেও পারেনি গণধর্ষণ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। নিজের মুখেই সে স্বীকার করেছে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা সেই ঘটিয়েছে।কসবাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ও নির্যাতিতার ডিএনএ নিয়ে পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ধৃতদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার দিন কারা কার কলেজে উপস্থিত ছিলেন তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই দিন যাঁদের দেখা গিয়েছে, যাঁরা হাজির ছিলেন, সকলকে আলাদা আলাদা করে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের শেষে কসবার কলেজে এই ঘটনা সামনে আসে। কলেজে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কলেজেরই অস্থায়ী কর্মী ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। সঙ্গী ছিল আরও দুইজন। তারা ওই কলেজেরই পড়ুয়া। পুলিশ অভিযোগ পেয়েই তিনজনকে গ্রেফতার করে। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ও ঘটনা পুনর্নির্মাণ করে সত্যাসত্য অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। তবে কলকাতার কলেজে এমন ঘটনায় বারবার আক্রমণের মুখে পড়ছে সরকার। তৃণমূল দলের মধ্যেও কসবা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ শুরু হয়েছে। এক পক্ষ আর এক পক্ষকে দোষারোপ করছে। এই অবস্থা নতুন তদন্তকারী সংস্থা এতে যুক্ত হয় কিনা সেটাই দেখার।
অন্যদিকে, কসবার ল কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের আর্জি করলেন আইনজীবী সত্যম সিংহ। নির্যাতিতার পরিবারকে সুরক্ষা ও আর্থিক সাহায্যের দাবিতে তিনি আর্জি দায়ের করেছেন। আবেদনকারীকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানা গিয়েছে, সেখানে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্রর বিতর্কিত মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। এদিকে, কসবার সরকারি আইন কলেজের গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার ক’দিন আগেই সিবিআই তদন্তে রাজি নয় বলে জানিয়ে দেয়। আপাতত পুলিশ এবং প্রশাসনের উপরই ভরসা রাখছে বলে জানায় তারা। তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্রের ‘কুকথা’ নিয়েও কোনও মন্তব্য করেনি নির্যাতিতার পরিবার। শুক্রবার কলেজের ধর্ষণকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকে নানা মহলে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠেছে। দাবি, পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করছে না! তবে সেই দাবির সঙ্গে সহমত নয় নির্যাতিতার পরিবার।