শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন।’ দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রেক্ষিতে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন রয়েছে বলে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরে দাবি জানালেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতার সন্দেহ কথা বলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সর্বসমক্ষে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলবেন না। রাজ্যপালের এই মন্তব্যে রীতিমতো উৎসাহী বঙ্গ বিজেপির নেতারা। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যপাল বাংলার সাংবিধানিক প্রধান, তিনি তাঁর বক্তব্য রেখেছেন, তা নিয়ে যাঁদের চর্চা করার বিষয়, তাঁরাই চর্চা করবেন। তবে বাংলায় ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক অবস্থা, বাংলার মানুষের সামনে বর্তমান সরকার সম্পর্কে একটা প্রশ্ন চিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। তারই প্রতিফলন সাংবিধানিক প্রধানের মুখ দিয়ে হয়েছে।’
তবে রাজ্যপাল যেভাবে বিজেপির দাবিতে সুর মিলিয়ে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলছেন তা আলোতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। রাজ্যপালের এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজ্যপাল অত্যন্ত অভিজ্ঞ, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। আমার মনে হয় বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে দেবেন না। আর পার্লামেন্টে তো দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি বিজেপির নেই।’
অন্যদিকে দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক ডাক্তারি ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। সোমবার রাতে তিনি ফোনে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেন এবং এই কঠিন সময়ে ওড়িশা সরকার সর্বতভাবে পাশে থাকবে বলে নিশ্চিত করেন। ২৩ বছর বয়সি নির্যাতিতার সঙ্গে কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একদম চিন্তা করবেন না। ওড়িশার সরকার আপনার এবং আপনার পরিবারের পাশে রয়েছে। একদম ধৈর্য হারাবেন না।’ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এই কথোপকথনের একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করে নির্যাতিতার পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সমস্তরকম সহায়তা করার আশ্বাসও দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে দোষীদের কড়া শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কথাবার্তা বলার সময় নির্যাতিতা ওড়িশার যে কোনও একটি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। তাঁর কথায়, ‘আপনি একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। সেকারণে কীভাবে আপনাকে স্থানান্তর করা যায়, সেই বিষয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিতে হবে। আমি এই বিষয়ে তদন্তের জন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ নির্যাতিতার মা-বাবা এবং ওড়িশা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন শোভনা মোহান্তির সঙ্গেও এদিন কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।