সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
এসআইআর ইস্যুতে দায়ের হওয়া মামলা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টে এমনিতেই এসআইআর ইস্যুতে মামলা চলছে। হাইকোর্টগুলোতে এই একই ইস্যুতে মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা নিতে বলেছে শীর্ষ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। আপাতত হাইকোর্ট এই মামলা গ্রহণ না করে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী রায়ের জন্য অপেক্ষা করবে।
এসআইআর নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি মুলতুবি করে দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টে যেহেতু এসআইআর মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই সমস্ত হাইকোর্ট যেন এসআইআর মামলার শুনানি স্থগিত রাখে, এই মর্মে আগেই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত । সেই নির্দেশ মেনেই এসআইআর মামলার শুনানি মুলতবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ । ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপরেই নির্ভর করবে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার ভবিষ্যৎ।
কলকাতা হাইকোর্টে এসআইআর নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারী পিন্টু কারারের বক্তব্য ছিল, ২০০২ সালকে কেন এসআইআর-এর ভিত্তিবর্ষ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআরের সময়সীমা বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয় এই মামলায়। এর আগে, কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল। তার আগে থেকেই সুপ্রিম কোর্টে তৎকালীন বিচারপতি সূর্য কান্ত (বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এসভিএন ভাট্টির বেঞ্চে এসআইআর দায়ের হয়েছে। কেরলের তরফ থেকে একটি মামলা, উত্তরপ্রদেশের একটি মামলা বিচারাধীন। কেরল সরকারের হয়ে মামলা শোনেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। কেরলে পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোট রয়েছে। তাই এই সময়কালে এক সঙ্গে নির্বাচন ও ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ চলা কঠিন বলেই যুক্তি দেন সিব্বল।
কেরল সরকার মামলা দায়ের করে জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে কেরলে পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে। সেই কাজে প্রায় 1 লক্ষ 76 হাজার কর্মচারী নিযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাতে যে সরকারি কর্মচারী প্রয়োজন, তার যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হোক, এই দাবি জানানো হয় শীর্ষ আদালতে।