সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেরে গেলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার বাংলার রাজনীতির আসরে অবতীর্ণ হলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আর প্রথম দফাতেই বড়সড়ো ঝটকা দিলেন তৃণমূলকে। অধীর চৌধুরীর হাত ধরে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্বে ভাঙ্গন ধরিয়ে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্যা ও তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ শাহনাজ বেগম। শাহনাজ এর পাশাপাশি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের যোগ দিলেন তৃণমূলের জেলা স্তরের নেতা জালাল শেখ এবং তাঁদের সমর্থকরা।
শাহনাজ বেগম মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ছিলেন, একসময় কৃষি কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেত্রীও ছিলেন। সেই শাহনাজ বেগম কংগ্রেসের যোগদান করায় অস্বস্তিতে পড়ল জেলা তৃণমূল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত ১৭ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন শাহনাজ বেগম। রেজিনগর বিধানসভার জেলা পরিষদের আসন থেকে তিনবার জয়ী হন শাহনাজ বেগম। কংগ্রেসের আসন থেকে জয়ের পর ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ভাঙার সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শাহনাজ বেগমের। সেই সময় শাহনাজ তৃণমূলে যোগদান করেন। এরপর দুবার তৃণমূলের টিকিটে জেতেন তিনি।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য শাহনাজ বেগম
তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করার সময় দল ছাড়ার কারণ জানিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছিলেন। সেখানে স্পষ্ট লিখেছেন, ‘চোর জেলা পরিষদের একজন অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আপনাদের দেওয়া টার্ম পূর্ণ হওয়ার আগেই আমি সদস্য পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।’ শাহনাজ বেগমের নিশানায় মূলত জেলা পরিষদের সভাধিপতি, তৃণমূল নেত্রী রুবিয়া সুলতানা। তাঁর বিরুদ্ধে আগে একাধিকবার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন শাহনাজ বেগম।
কংগ্রেসে যোগ দিয়েই শাসকদলকে তোপ দেগেছেন শাহনাজ। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কাজের ধরন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাহনাজের অভিযোগ, জেলা পরিষদের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চলছে। তৃণমূল নেতৃত্বকে বারংবার তা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। সাবধান করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘আমি স্বভাবে প্রতিবাদী। বিভিন্ন সময় দলের শীর্ষ স্তরে এবং প্রশাসনিক বৈঠকেও দুর্নীতির কথা জানিয়েছি। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। যে দল দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, সেখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

শাহনাজের দাবি, তিনি রাজনীতিতে এসেছেন শুধু পাওয়ার লোভে নয়, জনসেবা করবার জন্য। পাশাপাশি হুমায়ুন-প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য, ২২ ডিসেম্বর নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে (ওই দিন হুমায়ুনের নতুন দল ঘোষণার কথা)। ২২ তারিখ পার হলে দেখা যাবে, অনেকেই তৃণমূল ছাড়ছেন। কিন্তু তাঁরা হুমায়ুনের দলে নয়, যোগ দেবেন কংগ্রেসে।
শাহনাজ বলেন, ‘কংগ্রেস রাজ্যে বা কেন্দ্রে কোথাও ক্ষমতায় নেই। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করে যাব। যেখানে অনিয়ম দেখব, সেখানেই সরব হব। দরকারে শূন্য থেকেই নতুন লড়াই শুরু করতে রাজি।’