রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
মহিলাদের দেহ ব্যবসার কাজে যুক্ত করার জন্য ধৃত অভিনেত্রী অনুষ্কা মণিমোহন দাস। বাংলা ছবি ‘লোফার’-এ কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী। সানি সিং, মিকা সিং, উদিত নারায়ণের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্মও করেন অনুষ্কা। বাঙালি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এই যৌন চক্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। মুম্বইয়ের ঠাকুর মলে অভিযান চালিয়ে এই সেক্স ব়্যাকেটের হদিশ মিলেছে বলে খবর।
মহারাষ্ট্রের থানেতে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে এক হাই-প্রোফাইল যৌনচক্রের ঘটনা। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিনেত্রী অনুষ্কা দাসকে। অভিযোগ, তিনি শুধু নিজেই এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং আরও অনেক মহিলা অভিনেত্রীকে জোর করে এই পথে ঠেলে দিতেন।
পুলিশি অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুই তরুণী অভিনেত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁরা বাংলা সিরিয়াল ও চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
পুলিশের গোপন অভিযানে ধরা পড়লেন অনুষ্কা
ভাসাই-ভিরার পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা করা হয়। দুজন ভুয়ো গ্রাহককে অনুষ্কা দাসের কাছে পাঠানো হয়। অনুষ্কা তাদের মুম্বইয়ের কাশিমিরার একটি শপিং মলে ডেকেছিলেন। সেখানেই যখন তিনি ভুয়ো গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন, তখনই ওঁত পেতে থাকা পুলিশ দল তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
উদ্ধার হওয়া অভিনেত্রীদের পাশে পুলিশ
উদ্ধার হওয়া দুই অভিনেত্রীকে আপাতত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
মীরা-ভায়ন্দরের সহকারী পুলিশ কমিশনার মদন বল্লাল জানান, ধৃত অনুষ্কা দাসের বিরুদ্ধে মানব পাচার (১৪৩(৩) ধারা) এবং পিটা আইনে (অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন) মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের জাল মুম্বই ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতেও বিস্তৃত।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ অনুষ্কা দাসকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং কতদিন ধরে এই ব্যবসা চলছে, তা জানার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আরও অনেক অভিনেত্রী হয়তো এই চক্রের শিকার হয়েছেন।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক আগে থেকেই পুলিশ এই মামলা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলেন। এরপরে, গোপন অভিযান শুরু করে তাঁরা। এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন মিরা-ভায়ন্দর, ভাসাই-ভিরা থানার পুলিশ। সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক তাঁরা অভিযান শুরু করেন। প্রথমে পুলিশ দুজন ভুয়ো গ্রাহককে পাঠান।
যারা প্রথমে অভিযুক্ত অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের পর, অভিযুক্তরা বুধবার মুম্বই-আহমেদাবাদ হাইওয়ে র কাশিমিরার একটি মলে তাঁদের দেখা করতে বলেন। যার ফলে পুলিশ দল আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যান। এরপর ভুয়ো গ্রাহকরা অনুষ্কার কাছে পৌঁছন। এরপর অনুষ্কা যখন তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতে যান, তখনই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এই সময় পুলিশ আরও দুই মহিলাকে উদ্ধার করে, যাদের জোর করে এই অবৈধ কাজে জড়ানো হচ্ছিল।
জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলাও টিভি সিরিয়াল এবং বাংলা সিনেমায় কাজ করেছেন। ভাসাই-ভিরার পুলিশের মীরা-ভায়ন্দরের সহকারী পুলিশ কমিশনার মদন বল্লাল জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৩ (৩) ধারায় মানব পাচার এবং পিটা আইন (অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন) এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে, উদ্ধার হওয়া দুই মহিলাকে সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মহিলা ঠিক কতদিন ধরে এই ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। আরও কি কেউ কি এর সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খোঁজ করছে পুলিশ। তাদের সন্দেহ, এই র্যাকেটের নেটওয়ার্ক মুম্বই এবং আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।