সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আপনার স্ত্রী বলবেন যে ব্রাত্যর গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে মারেনি। আর আপনি মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে বাণী ছড়াবেন। এই দ্বিচারিতা করবেন না।” এভাবেই যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপরে হামলা চালাতে গিয়ে আহত হওয়া ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়ের বাবার উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত হয়েছিলেন ইন্দ্রানুজ রায়। বর্তমানে কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। শনিবার পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে যায় বলে খবর। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল সেটাই জানতে চাইছে পুলিশ। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার পরেই হাসপাতাল থেকে পুলিশের কাছে মেল পাঠিয়েছিলেন ইন্দ্রানুজ রায়। এবার ইন্দ্রানুজ কিছুটা সুস্থ হতেই পুলিশ তার কাছ থেকে গোটা বিষয়টি জানতে চাইছে বলে খবর।
এদিকে গোটা ঘটনায় এবার ইন্দ্রানুজের বাবাকে বেলাগাম আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “গাড়িটা ইচ্ছাকৃতভাবে মারেনি। বাইট দিয়ে বলেছেন ইন্দ্রানুজের মা। আর আপনি (ইন্দ্রানুজের বাবা) আবার প্রতিবাদীদের মিছিলে হাঁটছেন। দ্বিচারিতা করছে। ছেলের ছবি ভাঙিয়ে প্রচার নিচ্ছেন নিজেদের। আপনারা বামপন্থী পরিবার জানি। ছবি দেখিয়ে নিজের প্রচার নেবেন না। আপনার স্ত্রী বলবেন যে ব্রাত্যর গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে মারেনি। আর আপনি মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে বাণী ছড়াবেন। এই দ্বিচারিতা করবেন না।”
প্রসঙ্গত, ইন্দ্রানুজের বাবা আগেই বলেছিলেন, ছাত্রদের দাবি অত্যন্ত জরুরী দাবি। ছাত্র সংসদ নির্বাচন সহ শিক্ষার ক্ষেত্রে জড়িত যে দাবি সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক পথে এই দাবি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মেটানো হোক। তিনি জানিয়েছেন, ভিসি, প্রোভিসি যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার জায়গা। যত দ্রুত আলোচনার দরজা খোলা যাবে ততই জটিলতা কাটবে। যে কোনও বিষয় আলোচনার মাধ্যমে জট কাটবে। সেই সঙ্গেই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা হোক।
অন্যদিকে সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে যাদবপুর থানার পুলিশ যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে থানায় যেভাবে হাজিরা দিতে বলেছে সেই প্রসঙ্গে কুনাল ঘোষ বলেন, “আরজিকর থেকে শুরু করে যাদবপুর সর্বত্র চক্রান্তের বীজ বুনে চলেছে সিপিএম। বাংলার মানুষ ভোট বাক্সে সিপিএমকে শূন্য করে দিলেও ওরা এখনো চারদিকে শুধু চক্রান্ত করে চলেছে। ওরা নাকি এত বড় বিপ্লবী যে ওদের আগুন পাখিরা নিজেদের পাড়ায় ভোটে দাঁড়িয়েও জিততে পারে না। মানুষ ওদের জামানত জব্দ করে দেয়।”