রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
একটা সময়ে তাঁকে শরীর নিয়ে চূড়ান্ত কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছিল। তবে এখন সময় বদলেছে। এখন অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন তিনি।
সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘কেশরী ২’। আর সেই ছবিতে অভিনয় করেই দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন অনন্যা পাণ্ড (Ananya Panday)।
একটা সময়ে ক্ষীণদেহী ছিলেন বলে নানা রকমের তির্যক মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে।
অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে বলেছেন, “তখন আমার ১৮-১৯ বছর বয়স। খুব রোগা ছিলাম আমি। সেটা নিয়েও মশকরা করা হত।
লোকে আমাকে বলত, ‘আরে, তোমার পা দুটো মুরগির ঠ্যাং-এর মতো।’ কেউ আবার বলত, ‘তোমার চেহারাটাই দেশলাই কাঠির মতো। তোমার তো স্তন বা নিতম্ব কোনওটাই নেই।’ এই সব বহু শুনেছি।”
কয়েকদিন আগেই একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কীভাবে তাঁকে শারীরিক গঠনের জন্য বলিউডে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। কম ওজনের কারণে তাঁকে ঠাট্টা সহ্য করতে হত অনেক। অনন্যার নামে এই কথাও বলা হয়েছে যে তিনি নিতম্বে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
একটি পডকাস্ট শো-এ গিয়েছিলেন অনন্যা। সেখানে অভিনেত্রী বলেন, তিনি যখন বলিউডে আসেন, তখন তিনি একেবারেই কিশোরী ছিলেন। তাঁর ওজন সেই সময়ে কম ছিল। বছর পেরনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ওজন ও বৃদ্ধি পেয়েছে। শরীরের গঠন ও বদলেছে। আর তখনই তাঁকে শুনতে হয়েছে, তিনি নিতম্বে সার্জারি করিয়েছেন।

অনন্যা পাণ্ড বলেছেন, ‘ আমি যখন কেরিয়ার শুরু করি, তখন আমার বয়স ছিল ১৮ বা ১৯ বছর। তখন আমার ওজন সত্যিই ভীষণ কম ছিল। সবাই আমার পা দেখে বলত ‘মুরগীর ঠ্যাং’। অনেকে বলতেন ‘দেশলাইয়ের কাঠি’। অনেকে বলেছেন, ‘তোমার স্তন নেই, তোমার কোনও ফিগার নেই।’ আগে এমনটা হামেশাই শুনতে হত।

নিতম্ব সার্জারি প্রসঙ্গে অনন্যা
অনন্যা বলেছেন, ‘আমি বড় হচ্ছে আর স্বাভাবিকভাবেই আমার শরীরের গড়ন বদলাচ্ছে। কিন্তু সবাই বলছে, ‘এটা হতে পারে না। এটা নিশ্চয়ই আমি নাকি করিয়েছি। এইসব করে কখনোই জেতা যায় না। যাই করি না কেন, এটা চলতেই থাকে। মানুষ সবসময়েই সমালোচনা করার জন্য কিছু না কিছু পেয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে.. আমার মনে হয় না, ছেলেদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে চেহারাতেও ভার এসেছে। তার পরেও নানা তির্যক মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তাঁকে। অনন্যার কথায়, “আমি স্বাভাবিক ভাবেই বড় হচ্ছি। আমার চেহারাও ভারী হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু বলা হচ্ছে, আমি নাকি অস্ত্রোপচার করিয়ে নিতম্বের আকার বৃদ্ধি করেছি। মানুষ যা-ই করবে, দেখতে যেমনই লাগুক, কটাক্ষ শুনতেই হবে। কিছু সমালোচনা করবেই। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে তির্যক মন্তব্য করা হবেই। পুরুষদের এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় বলে মনে হয় না।”