বাংলায় এবার ভোটার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে নির্বাচন কমিশন। বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR – Special Intensive Revision)। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে মূল লক্ষ্য হল— প্রকৃত ভোটারদের তালিকা নির্ধারণ এবং ভুয়ো বা অযোগ্য ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া। তবে, এই প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্কও।
🧐 SIR বা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা কী?
SIR হল নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, যেখানে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা হয়। মৃত, স্থানান্তরিত, কিংবা ভুয়ো ভোটারদের নাম মুছে ফেলা হয়। সবশেষ SIR পশ্চিমবঙ্গে হয়েছিল ২০০২ সালে। এবার নতুনভাবে এই সমীক্ষা শুরু হচ্ছে, যা ২০০২ সালের তালিকাকে নির্ভরযোগ্য ধরেই পরবর্তী তালিকা তৈরি করবে।
📑 কী কী নথি লাগবে ভোটার তালিকায় নাম রাখতে?
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। সেগুলি হল:
1. সরকারি বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পরিচয়পত্র
2. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের সরকারি নথি
3. জন্ম সনদ
4. বৈধ পাসপোর্ট
5. শিক্ষাগত শংসাপত্র (জন্মতারিখ সহ)
6. স্থায়ী বাসিন্দার সনদ
7. তফসিলি জাতি/উপজাতি বা OBC শংসাপত্র
8. NRC তালিকায় নাম
9. বন অধিকারের সনদ
10. পারিবারিক রেজিস্টার
11. জমি বা বাড়ির সরকারি নথি
🚫 আধার বা রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়?
না। কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ড, ভোটার আইডি (EPIC), বা রেশন কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তাই এগুলো এই সমীক্ষায় বৈধ নথি হিসাবে গণ্য হবে না।
📌 প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে?
প্রতি বুথে BLO (Booth Level Officer) থাকবেন যাঁর কাছে ভোটারদের নথি জমা দিতে হবে। বিধানসভা স্তর থেকে জেলা স্তর হয়ে, শেষে রাজ্য নির্বাচন অফিসে যাচাই করা হবে এই নথি।
🤔 কেন বিতর্ক?
এই প্রক্রিয়া অনেক দ্রুততার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকরা বা গরিব মানুষের পক্ষে এত দ্রুত নথি জোগাড় করা কঠিন। পাশাপাশি, কিছু নথিতে জন্মতারিখের উল্লেখ না থাকায় বয়স যাচাই করা কঠিন— এটাও বড় প্রশ্ন। তাছাড়া, NRC বা পারিবারিক রেজিস্টার যেসব রাজ্যে নেই, সেখানে ওই নথি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেই নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।