শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বঙ্গ বিজেপিতে শুরু হল শমীক যুগ। বাংলার বিজেপি পেল নতুন রাজ্য সভাপতি। প্রত্যাশিতভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হল। সুকান্ত মজুমদারের থেকে বঙ্গে গেরুয়া দলের ব্যাটন হাতে তুলে নিলেন শমীক ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দলের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যকে বরণ করে নিলেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এই অনুষ্ঠানে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রবিশংকর প্রসাদ।
আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্য দিলেন নয়া বার্তা। দায়িত্ব নিয়েই সংখ্যালঘু মন পেতে শুরুতেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপির লড়াই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়, আমরা লড়ছি আপনাদেরই জন্য। আমরা চাই যাতে আপনাদের বাড়ির ছেলেদের হাত থেকে পাথর কেড়ে বই দিতে। যারা হাতে তলোয়ার নিয়েছে তাদের হাতে কলম ধরিয়ে দিতে চাই। এটাই বিজেপির লড়াই।”
এদিন সায়েন্স সিটির এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা থাকলেও দিলীপ ঘোষকে কিন্তু ডাকা হয়নি বলেই সূত্রের খবর। এদিন জমকালো এই অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। তবে সেসব বিতর্কে না ঢুকে সংবর্ধনার মঞ্চে উঠে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন।
তিনি বলেন, “একটা সময় রাজ্যে বিজেপির ভোট ১ শতাংশেরও নীচে ছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলতেন যে দলের বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব নেই, তাদের আমরা সর্বদল বৈঠকে ডাকি না। সেই সীমিত শক্তি নিয়েই আমরা বাংলার রাজনীতিতে এসেছি। এই পথ মসৃণ ছিল না। বাংলার মানুষই বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে। তৃণমূলকে হারাতে পারে একমাত্র বিজেপি।”
এদিন সায়েন্স সিটির এই সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আগাগোড়া শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই হাজির ছিলেন তাঁর পূর্বসূরী সুকান্ত মজুমদার। মঞ্চে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। সুকান্ত মজুমদারকে এদিন বলতে শোনা যায়, “চার বছর আগে এমনই একটি দিনে দিলীপদা সকলকে দিয়ে সুকান্ত মজুমদার জিন্দাবাদ বলিয়েছিলেন। আমি আজ আপনাদের সকলকে শমীক ভট্টাচার্য জিন্দাবাদ বলতে বলছি। ২০২৬ সালের লড়াই শমীকদার নেতৃত্বেই হবে।”
শমীক ভট্টাচার্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দলকে শক্তিশালী করে তুলতে শমীক ভট্টাচার্যের জন্য আমার দুটো হাত থাকল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে মমতার সরকার আমাদের পার্টির বুথ স্তর,ওয়ার্ড স্তরের কর্মীদের উপর নারকীয় অত্যাচার করেছিল। ২০২৬-এ এই সরকারকে আমরা উপড়ে ফেলব। ২০২১ সালের পর লড়াই সহজ ছিল না। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, ধর্ষণ, এসবে সাময়িক স্তম্ভিত হেয় গিয়েছিলেন আমাদের কর্মীরা। কিন্তু কোমর বেঁধে পাল্টা লড়াই শুরু হয়। ২০২৬ সালে পাল্টা লড়াই হবে। একটি ঢিল খেলে, পাটকেল মারতে হবে। মার খাবেন না, মারার জন্য তৈরি হয়ে যান।”

আগামী দিনে শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে থেকে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।
নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বের কথা উঠে আসে সুকান্তের ভাষণে। তিনি বলেন, “বিজেপি পরিবারতান্ত্রিক দল নয়, বরং বিজেপিই একটি পরিবার। আমরা সকলে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ কে এসেছেন, কাল কে এসেছেন, আমরা সবাই বিজেপি। বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হলে মা লকার থেকে ঠাকুমার সোনার হার বের করে আনেন। কেউ সেই হারকে পুরনো বলে না, কারণ সোনা সোনাই থাকে। বিজেপি তেমনই খাঁটি সোনা। নতুন-পুরনো বলে এখানে কিছু হয় না। আদি-নব্য কিছু নেই। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে চাই আমরা।”
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে সুকান্ত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কোথায় নিয়ে গিয়েছে বাংলাকে। আমাদের এই লড়াই বাংলাকে সোনার বাংলায় পরিণত করার, যারা বাংলাকে মিনি পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার। মমতার দৌলতে আজ বাংলায় তালিবানি শাসন প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে। বিজেপি-র লড়াই চলবে। আমরা রাস্তায় ছিলাম, আছি।”