সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
এবার বড়সড় অস্বস্তিতে রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটে অনুমোদন দিয়ে দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের অনুমতি পাওয়ার পরেই কারামন্ত্রীর বিরুদ্ধে জোরদার তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে এবার ইডি-র বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিল ইডি’র বিশেষ আদালত। ইডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের অনুমোদন পাওয়ার পরেই আদালতে গৃহীত হয়েছে চার্জশিট। আদালতের নির্দেশ, রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রীকে ১৫ দিনের মধ্যে তলবের সমন পাঠাতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে সিবিআই আদালতে চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ এবং জামিন নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাগজপত্র হাতে এলে তিনি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রাজ্যে প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় এর আগে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে জেরা করে বেশ কিছু নাম পেয়েছিল ইডি। তদন্তেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নামও উঠে এসেছিল। এর আগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এমনকী তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল টাকার হদিশ মেলে বলে সূত্রের খবর। সেই টাকার উৎস সম্পর্কে এখনও ধন্দে রয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা।
প্রথম থেকেই ইডি-র তরফে অভিযোগ আনা হচ্ছিল, চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে যে ৪০ লক্ষ টাকা তারা বাজেয়াপ্ত করেছিল, তার কোনও হিসাব তিনি দিতে পারেননি। যে চার্জশিট জমা পড়ে, তাতে ইডি-র তরফে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পেশ করা হয়। সেই অনুযায়ী তারা দাবি করে, চন্দ্রনাথ সিনহার দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বোলপুরে। তাঁর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট যখন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া হয়, সেটা খতিয়ে দেখা যায় যে, ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল, এই পাঁচ বছরের মধ্যে চন্দ্রনাথ সিনহার এই দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ জমা পড়েছে। ক্যাশ ডিপোজিট হয়েছে। এই তথ্য সামনে রেখে ইডি-র তরফে দাবি করা হয়, যখন চন্দ্রনাথ সিনহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তিনি কোনও সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। টাকা কোথা থেকে এল সেটার উৎস তিনি জানাতে পারেননি। কেন ইডি আধিকারিক মনে করছেন, এই টাকা চাকরি বিক্রির টাকা ? ইডির তরফে দাবি করা হয়, ঠিক সেই সময় চন্দ্রনাথ সিনহার নামে কুন্তল ঘোষের যে ডায়েরি, সেই ডায়েরিতে তাঁর নাম লেখা দেখা যায়। টাকার হিসাব লেখা ছিল। সবমিলিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে চার্জশিটে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “এটা আরও অনেক আগে প্রত্যাশিত ছিল। আরও অনেক আগে হওয়া দরকার ছিল। সেটা অনেক দেরিতে হল। এ রাজ্যে টেকনিক্যাল বিভিন্ন সমস্যা হয়…আমি পুরোটা অবগত নই। কিন্তু, এধরনের সমাজের পাপীরা সমাজে বুক ফুলিয়ে লালবাতি গাড়ি আর পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরবে, ভারত তথা বাংলার মানুষ এটা একেবারেই দেখতে চায় না। ২৬ হাজার ছেলে-মেয়ের, চাকরি ফাইনালি চলে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমার প্রাণ থাকতে চাকরি যেতে দেব না। চাকরিও গেল, উনিও বহাল তবিয়তে আছেন। এই দুটো একসঙ্গেই বা কেন হবে ? কী বলব…এদের জেলেই থাকা উচিত।” তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ কুণাল ঘোষ অবশ্য বলছেন, “এটা সম্পূর্ণ তদন্ত ও আইনের বিষয়। এ বিষয়ে এভাবে কোনও মন্তব্য করতে পারব না। এটা আমার মনে হয়, চন্দ্রনাথবাবু এবং তাঁর আইনজীবীরা যথাযথ উত্তর দিতে পারবেন। কেন কখন কোন সময় কেন্দ্রীয় এজেন্সি সক্রিয় হয়, কোন উদ্দেশে সক্রিয় হয় এটা বাংলার মানুষ জানেন। তবু তদন্তের বিষয়। এ বিষয়ে সরাসরি এখন রাজনৈতিক মন্তব্য এখন করব না।”