সরকারি কর্মী থেকে আশা কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক—এক বাজেটেই একাধিক শ্রেণির কর্মীদের জন্য বড় আর্থিক ঘোষণা
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা (West Bengal Budget 2026): রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেটে এল একের পর এক চমক। সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ডিএ-র দাবিতে বড় সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্যও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)।
বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে ডিএ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য। অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৪২ শতাংশের ব্যবধান ছিল। সেই ব্যবধান কমাতে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ। তার মধ্যে ২০ শতাংশ আমরা এখনই দিচ্ছি। বাকি অংশও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে।”
এই ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ বিতর্কে এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শুধু সরকারি কর্মীরাই নন, পরিবহণ ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (State Transport Corporation) চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের মাসিক পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteer), ভিলেজ পুলিশ (Village Police) এবং গ্রিন পুলিশ (Green Police)-দের জন্যও সুখবর রয়েছে। আগামী অগাস্ট ২০২৬ থেকে তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
একইভাবে হোমগার্ড (Home Guard) এবং এনভিএফ (NVF)-এর কর্মীরাও অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
পশুপালন ও গ্রামীণ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রাণী বন্ধু, প্রাণী মিত্র, প্রাণী সেবা মিত্র এবং অন্যান্য এআই কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেও পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ভিলেজ রিসোর্স পার্সন (Village Resource Person), ভেক্টর কন্ট্রোল টিম (Vector Control Team) এবং ভেক্টর সার্ভেইল্যান্স টিম (Vector Surveillance Team)-এর দৈনিক ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমান হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ টাকা যোগ হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (Anganwadi Worker), অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা (Anganwadi Helper) এবং আশা কর্মীদের (ASHA Worker) সম্মানিক বৃদ্ধি। তাঁদের মাসিক ভাতা এক ধাক্কায় ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও শিশু উন্নয়ন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এই কর্মীদের কাছে এই ঘোষণা বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্যও নতুন আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের মাসিক ৫ হাজার টাকা পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক শ্রেণির কর্মী ও পরিষেবা ক্ষেত্রকে একসঙ্গে আর্থিক সুবিধার আওতায় এনে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে প্রশাসনিক ও সামাজিক পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।

তবে এই ঘোষণাগুলির বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, আর কর্মীদের দীর্ঘদিনের সব দাবি আদৌ কতটা পূরণ হবে—সেই প্রশ্ন এখন থেকেই উঠতে শুরু করেছে। অক্টোবর ও অগাস্টের নির্ধারিত সময়সীমা সামনে রেখে এখন নজর একটাই—ঘোষণার পর বাস্তবে কত দ্রুত পৌঁছয় এই বাড়তি অর্থ?
কারণ বাজেটের মঞ্চে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মাঠে কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটাই এখন দেখার।