কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
‘আগামী দিনে মানুষ যদি কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে।’ এভাবেই বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর খাস তালুক নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের কথায়, ‘এখানের বিধায়ক শুধু হিন্দু মুসলিম করে রাজনীতি করেছে। এখন সেবাশ্রয় দেখে বিচলিত, ভীত এবং সন্ত্রস্ত হয়ে এসব করছে। আগামী দিনে মানুষ যদি কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে। এবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতলে ১৭টি অঞ্চলে সেবাশ্রয় হবে। কারও বুকের পাটা থাকলে আটকে দেখাক।’
নন্দীগ্রামে বৃহস্পতিবার শুরু হল সেবাশ্রয় মডেল ক্যাম্প। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের সেই ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে সেখানে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। নন্দীগ্রামের মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়েই নিজের সাংসদ এলাকা ডায়মন্ডহারবারের বাইরে এসে নন্দীগ্রামের দুই ব্লকে এই সেবাশ্রয়ের আয়োজন করলেন অভিষেক। নন্দীগ্রামে এই সেবাশ্রয় শিবির চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই পা রেখে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক। অভিষেকের নির্দেশেই নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। যেটা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে নন্দীগ্রামে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেবাশ্রয়-১ শিবির ঘুরে দেখেন। নন্দীগ্রামের খোদামবাড়িতে পৌঁছে হেঁটেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এখানে বয়স্ক মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিষেক বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা এখানে জানান। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি সুচিকিৎসা পাবেন।’
আজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘যারা পোস্টার ছিঁড়ছে আসলে তাদের পায়ের তলা থেকে জমি সরে গিয়েছে। আসলে মানুষকে নিপীড়িত করে রাখতেই এই কাজ করা হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি বিরোধী দলনেতা। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আছে। চারটে রাস্তা এনেছে কি? এখানের বিধায়ক কোনও কাজ করেনি। তৃণমূল এখানে না জিতলেও কাজ করেছে।’

ইতিমধ্যেই ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ডায়মন্ডহারবারে এই ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প করে নজর কেড়েছেন সাংসদ। তারপরই দাবি ওঠে নানা জায়গায় তা করার জন্য। তাই ব্যারাকপুরেও হয় ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প। তারপরই দাবি আসে নন্দীগ্রামে এমন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য। সাধারণ মানুষের দাবি মেনে নিয়ে তাতে সাড়া দিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এটা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।