সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দুই রাজ্যের ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর এক হলেই ফেক ভোটার প্রমাণিত হয় না। রবিবার স্পষ্টতই জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের বছর ভোটার তালিকায় বিজেপির কারচুপির অভিযোগ তুলে ভুতুড়ে ভোটার খুঁজতে যখন উদ্যত তৃণমূল, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল এ কথা।
ভোটার লিস্টে কারচুপি করে পশ্চিমবঙ্গ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদাহরণ দিয়ে একথা বুঝিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নথি তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, একই ভোটার কার্ড নম্বরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের সঙ্গে নাম রয়েছে ভিনরাজ্যের ভোটারেরও।
তাঁর অভিযোগ, বাংলার ভোটারদের একই এপিক নম্বরে হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান, বিহারের লোকেদের নাম তুলেছে। ভোটের আগে তাদের রেলে করে নিয়ে আসবে। নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূলের মেগা সমাবেশ থেকে বাংলার ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নথিসমেত উদাহরণ দেখিয়ে মমতা বলেছিলেন, রাজ্যের ভোটারের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে পঞ্জাব হরিয়ানার ভোটারের নামও।
রাজ্যের ভোটার তালিকায় একই এপিক নম্বরে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহারের লোকেদের নাম তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। আর তাই, ভুতুড়ে ভোটার খুঁজতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল। এমতাবস্থায় রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, দুটি ভিন্ন রাজ্যের ভোটারদের একই এপিক নম্বর থাকা মানে তারা ভুয়ো ভোটার নন। আর সেই অভিযোগের পরেই এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হল, দুই রাজ্যের ভোটারের একই এপিক নম্বর মানে সেই ব্যক্তি ভুয়ো ভোটার নয়। সাম্প্রতিক কালে ভুয়ো ভোটার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হল, দুই রাজ্যে আলফা-নিউম্যারিক নম্বর একই হয়ে যেতে পারে কিন্তু তাঁর অন্য তথ্য, বিধানসভা কেন্দ্র, পোলিং বুথ সব আলাদা থাকে।
নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, স্থানীয়ভাবে একটা সময় ভোটার কার্ড তৈরি এবং বিলি করা হত। তাই কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে এপিক কার্ডের নম্বর এক হয়ে থাকতে পারে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, একই এপিক নম্বর হলেও একজন ভোটার কেবল মাত্র সেই রাজ্যেই ভোট দিতে পারবে যেখানকার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একই এপিক কার্ড থাকা ভোটারদের ইউনিক এপিক নম্বর দেওয়ার জন্য তাঁরা কেন্দ্রীয় পোর্টাল আপডেট করছেন।
কমিশনের দাবি, ইলেকটোরাল রোল ডেটাবেস বা ইরোনেট প্ল্যাটফর্ম আসার আগে কেন্দ্রীভূত ছিল না গোটা ব্যবস্থা। যার জেরেই আলফা নিউমেরিক নম্বর একই হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তবে যেকোনও প্রকার অভিযোগ যাতে না ওঠে, তার জন্য আলাদা আলাদা এপিক নম্বর বিলি করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে কমিশন। ডুপ্লিকেট এপিক নম্বর সামনে এলেই তা নতুন এপিক নম্বর দিয়ে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে বলে জানায় কমিশন। এর জন্য ইরোনেট ২.০ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, নেতাজি ইন্ডোরে মমতা বলেন, “ভোটার লিস্ট ক্লিন করতে হবে। দিল্লিতে বসে এজেন্সিকে দিয়ে বিএলআরও-দের সঙ্গে নিয়ে অনলাইনে কারসাজি করা হয়েছে। বাংলায় লোক যাতে ভোট দিতে না পারে, একই এপিক কার্ডে বাইরের লোকের নাম তুলেছে।” কারচুপি ধরতে জেলায় জেলায় কোর কমিটি গড়ে মমতা বলেন, “ওই কমিটি ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করবে। তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।”