শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূলের একটা নতুন রোগ হয়েছে। এসআইআর আতঙ্ক এবং আত্মহত্যা রোগ।’ এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে মানসিক চাপে আলিপুরদুয়ারের এক বিএলও আত্মহত্যা করেছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করার পরে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই যেখানে যত মৃত্যু হচ্ছে সবকটিকেই এসআইআর এবং এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূলের নেতারা প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘১২ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হচ্ছে কোথাও কেউ আত্মহত্যা করছে না। ওনাদের এখানেই আত্মহত্যা নামক এক ব্যামো চেপে বসেছে। এটা তৃণমূলের একটা নতুন রোগ হয়েছে। এসআইআর আতঙ্ক এবং আত্মহত্যা রোগ। কোনো বড় ডাক্তারবাবুর কাছে যান, গিয়ে পরামর্শ করুন, এর কি ওষুধ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর কোনো সত্যতা নেই। বরঞ্চ পশ্চিমবঙ্গে এই ১৫ বছরে চাকরি না পেয়ে যারা মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী। চা বাগানের যে সমস্ত শ্রমিকরা অনাহারে মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী। বিষমদ খেয়ে যে সমস্ত মানুষ মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী।’
তৃণমূলের পক্ষ থেকে যেভাবে এসআইআর স্থগিতের দাবি জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘উনি, ওনার ভাইপো এবং প্রতীক জৈন মিলে একটা মিটিং করেছেন। আইপ্যাক আর পুলিশ মিলে একটা রিপোর্ট করেছে যে, ১ কোটি ১৫ লক্ষ পর্যন্ত বাদ যেতে পারে। আর এটা বাদ গেলে ওনারা জিতবেন না। তারপরে নতুন করে পুলিশের তালিকা করতে বলেছে, যদি পুলিশকে দিয়ে উদ্ধার পাওয়া যায়। পুলিশের ট্রান্সফার তালিকা তৈরি হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর বের হবে।’
অন্যদিকে তৃণমূল সরকার সরকারি স্তরে দুর্নীতি করার জন্য নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কার করেছে বলে তার রীতিমতো ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের সর্বনাশ আগেই করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার। এখন ১০০ দিনের কাজে ঠিকদারদের দিয়ে অন্যায় করানো হচ্ছে। এই কাজের সামগ্রী সরবরাহকারীদের অনেককেই টাকা দেওয়া হয়নি। পথশ্রীর নামে লুটশ্রী প্রকল্প চলছে পশ্চিমবঙ্গে। টেন্ডার ইস্যুতে নথি দেখিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে এই সরকার ৯ হাজার ১১৪টি স্কিমের টেন্ডারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হাজার হাজার কোটি টাকার কাটমানি নিয়ে ঠিকাদারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ব্রোকারদের ছবি প্রকাশ করে এটাও দাবি করেছেন যে, ৭/৮ শতাংশ টাকা সংগ্রহ করে ৩/৪ শতাংশ টাকা নাকি তারা তৃণমূলের পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে! এই কারণে ঠিকাদারদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট বলেছেন – ঠিকাদাররা যেন এখন কাজ না নেন, কারণ নিলে টাকা পাবেন না। কিন্তু কেন টাকা পাবেন না, সেটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। মনে করিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে যাবে। সে সময়ে তৃণমূল নেতারা ব্যস্ত থাকবেন ভোটের দৌড়ে। তাই কাজের কাজ কিছুই হবে না। ঠিকাদাররা একটাও টাকা পাবেন না। শুভেন্দু জানান, তাঁর আসল লক্ষ্য ঠিকাদারদের বাঁচানো।

আজ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের
জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মোট ১৩ হাজার ৪২১ শূন্যপদের জন্য নিয়োগ হবে। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মনে করেন, এসব পুরোটাই মনগড়া কথা। আদতে কিছুই হবে না এবং সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানেন!
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে টেন্ডার থেকে শুরু করে এসআইআর সব ইস্যুতেই তৃণমূল সরকারকে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নিশানা করেন বিজেপি বিধায়ক। সেই সময় প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো সব মনগড়া করছে, ওদের ইচ্ছে মতো। আইপ্যাকের পরামর্শ মতো করছে। এগুলোর কোনও বাস্তবতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে চাকরি দেবেন না সবাই জেনে গেছেন।’