Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/kolkatas12857/public_html/index.php:21) in /home/kolkatas12857/public_html/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
কলকাতা – Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com Kolkata Saradin : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News Wed, 12 Aug 2026 17:08:48 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1 https://kolkatasaradin.com/wp-content/uploads/2026/06/cropped-FB_IMG_1782608202564-32x32.jpg কলকাতা – Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com 32 32 নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যে জিরো টলারেন্স! বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, প্রতিটি বিধানসভায় ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:10:11 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30246 ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবাই পরিষেবা পাবেন, বিধায়কদের সেবাকেন্দ্রে থাকবে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির ছবি; আপত্তিকর পোস্টে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের অভিযোগে এবার সরাসরি কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী [Suvendu Adhikari]-র। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর ঘোষণা—নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য বা আপত্তিকর পোস্ট করলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড়া হবে না। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক কিংবা কোনও দলের নেতা—আইনের আওতায় সবাই সমান।

 

শুধু সতর্কবার্তাতেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়কদের একটি করে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি। অর্থাৎ নেতাজির নামকে কেন্দ্র করে একদিকে কড়া আইনি অবস্থান, অন্যদিকে জনপরিষেবার নতুন মডেল—দুই বার্তাই একসঙ্গে দিল রাজ্য সরকার।

 

প্রতিটি বিধানসভায় ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে অনেক বিধায়কেরই নিজস্ব দফতর বা পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। এবার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একটি করে সেবাকেন্দ্র চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সেখানে এলাকার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি যাঁরা ভোট দেননি, তাঁরাও সমানভাবে পরিষেবা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

এই সেবাকেন্দ্রগুলির নাম হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র [Netaji Subhas Chandra Bose Seva Kendra]।

শুধু নামেই নয়, সেবাকেন্দ্রগুলির সঙ্গে নেতাজির স্মৃতিকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে বিধায়কদের কাছে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির ছবি পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। সেই ছবি সেবাকেন্দ্রে রাখার নির্দেশ থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই পরিষেবা কেন্দ্রের কাজ নির্দিষ্টভাবে চালু করতে পারলে মাসিক ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

 

নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যে এবার কড়া বার্তা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টির দিকে নজর রাখছিল। উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিধায়কও এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা [Siddhinath Gupta]-কে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা পোস্টের ক্ষেত্রে পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে।

তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম—কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

অনন্ত মহারাজকে ঘিরে বিতর্ক

এই বিতর্কের সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে অনন্ত মহারাজ [Ananta Maharaj]-এর নাম। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজ নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ। তবে ওই ভিডিওগুলির বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন—এমন বিষয়ও মাথায় রাখা জরুরি।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, নেতাজির দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।

 

বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তোলে, বিজেপির সাংসদ হয়েও এমন মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার পর দলের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

 

এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য নতুন মাত্রা পেল।

 

‘দল দেখে আইন চলবে না’

 

কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম করে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াতে চান না বলেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যে-ই আপত্তিকর পোস্ট করে থাকুন না কেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

 

এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি কোনও রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়কও হন, তাহলেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করা ব্যক্তিদের প্রয়োজনে পোস্ট সরিয়ে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পোস্ট মুছে ফেললেই আইনি পদক্ষেপ থেকে অব্যাহতি মিলবে না—এমন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

 

তদন্ত ও আইনি ধারায় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত পুলিশই নেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকার সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না বলেও দাবি তাঁর।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে কঠোর, এদিন বারবার সেটিই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—নেতাজি শুধু বাংলার নন, গোটা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক মহলের নজর তাই এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্ট বা ভিডিওগুলির ভিত্তিতে কোনও মামলা বা গ্রেফতারি হয় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

 

প্রাক্তন বিধায়কদের জন্যও ঘোষণা

নেতাজি বিতর্কের পাশাপাশি এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এতদিন প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ বাবদ ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। এবার সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে একদিকে বর্তমান বিধায়কদের জন্য নতুন সেবাকেন্দ্রের পরিকল্পনা, অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি—বিধানসভায় এদিন একাধিক প্রশাসনিক ঘোষণাও সামনে এসেছে।

 

আদ্যাপীঠে পুজো, গোসেবাও

এর আগে বুধবার সকালে আদ্যাপীঠ [Adyapeath Temple, Kolkata]-এ যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্দিরে তাঁকে স্বাগত জানান আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই।

মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি গোশালায় গিয়ে গোসেবাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক ব্যস্ততার দিনের শুরুতেই ধর্মীয় পরিসরে তাঁর এই কর্মসূচিও ছিল নজরকাড়া।

 

সব মিলিয়ে বুধবারের দিনটি রাজ্য রাজনীতিতে একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা নিঃসন্দেহে নেতাজিকে ঘিরে।

একদিকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর নামে সেবাকেন্দ্র তৈরির ঘোষণা, অন্যদিকে নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দল-মত নির্বিশেষে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি।

এবার আসল নজর—নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের অভিযোগে পুলিশ বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, আর ঘোষিত ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’ কত দ্রুত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় বাস্তব রূপ পায়।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/feed/ 0
Neha Bora : নেহা বোরার বক্তব্যে হইচই! কলকাতায় ISI-তে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, পাল্টা উঠল ‘ISI বিল বাতিল করো’ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:00:47 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30242 বরানগরের ISI-তে বক্তব্য রাখতে উঠে বিক্ষোভের মুখে নেহা বোরা, ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’ স্লোগান; প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই বক্তব্য শেষ করলেন তিনি

সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নেহা বোরা, আর ঠিক তখনই হল হইচই! কলকাতার বরানগর ISI [Indian Statistical Institute, Baranagar]-তে বক্তব্য চলাকালীন একদল ছাত্রছাত্রীর প্রতিবাদে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের তরফে ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’ এবং ‘চীনের দালাল দূর হটো’—এর মতো স্লোগান।

 

তবে সেই প্রতিবাদে থামেননি নেহা। মঞ্চে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত বক্তৃতা সম্পূর্ণ করেন। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা ও রাজনীতি—দুই মহলেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

 

দিল্লির পর কলকাতাতেও নেহাকে ঘিরে বিক্ষোভ

নেহা বোরা [Neha Bora] দিল্লির যন্তর মন্তর [Jantar Mantar]-এ NEET পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান [Dharmendra Pradhan]-এর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে আয়োজকদের দাবি।

সেই আন্দোলনের পর এবার কলকাতায় তাঁর বক্তব্য ঘিরে প্রকাশ্যে এল প্রতিবাদের ছবি।

বরানগরের ISI-র ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণে এদিন বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন নেহা। আর তাঁর বক্তৃতা শুরু হতেই একদল ছাত্রছাত্রী প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘Students of India Reject’ লেখা প্ল্যাকার্ড বলে আয়োজকদের দাবি।

 

স্লোগানে উত্তপ্ত সভাস্থল

বিক্ষোভকারীরা নেহা বোরার বক্তব্যের বিরোধিতা করে একাধিক স্লোগান দেন। ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’-র পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘চীনের দালাল দূর হটো’ স্লোগানও শোনা যায়।

 

এর ফলে কিছু সময়ের জন্য সভাস্থলের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে নেহা নিজের বক্তব্য থামাননি।

 

বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদকে কার্যত উপেক্ষা করেই তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান এবং নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করেন।

 

ISI বিল নিয়ে নেহার তীব্র আপত্তি

 

নেহার কলকাতা সফরের মূল বিষয় ছিল অবশ্য অন্য। কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ISI Bill আনতে চলেছে—এই প্রেক্ষাপটে বরানগরের ছাত্রছাত্রীদের সামনে সেই প্রস্তাবিত বিল নিয়ে সরব হন তিনি।

 

নেহার অভিযোগ, এই বিল শিক্ষাক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। তাঁর দাবি, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রভাব বাড়ানো উচিত নয়।

 

তিনি প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে ISI-র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তাও দেন।

 

‘মহলা নবীশের অপমান মানছি না’

নেহার বক্তব্যের পর ISI বরানগর চত্বরে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ‘ISI বিল বাতিল করো’ স্লোগান ওঠে বলে আয়োজকদের দাবি।

এর পাশাপাশি উঠে আসে—‘মহলা নবীশের অপমান মানছি না’—এই স্লোগানও।

অর্থাৎ, একদিকে নেহা বোরার বক্তব্য বানচাল করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রস্তাবিত ISI বিলের বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদ—একই মঞ্চে তৈরি হল দুই বিপরীত সুর।

ঘটনাটি ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির আন্দোলনের পর কলকাতাতেও কি নেহা বোরা আরও বড় ছাত্র আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন? আর ISI বিল নিয়ে এই বিতর্কই বা আগামী দিনে কোন পথে যাবে?

কলকাতার মাটিতে নেহাকে ঘিরে যে প্রতিবাদের ছবি দেখা গেল, সেটাই কি বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের ইঙ্গিত—নাকি এখানেই থেমে যাবে এই উত্তাপ?

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/feed/ 0
মেয়েকে স্কুলে দিয়ে নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন বধূ, কেষ্টপুরের পুকুরে মর্মান্তিক পরিণতি https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:00:44 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30234 ড্রাইভিং শেখার প্রস্তুতি নিতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না সুমিত্রার, প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পুকুর থেকে উদ্ধার গাড়ি ও দেহ

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই। মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন সুমিত্রা দাস [Sumitra Das]। তারপর নিজের স্কুটি রেখে স্বামীর কেনা নতুন গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ড্রাইভিং শেখা, আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই যাত্রা পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।

 

কেষ্টপুর [Kestopur]-এর একটি পুকুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি পড়ে যায়। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন সুমিত্রা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকল ও বাগুইআটি থানার পুলিশ [Baguiati Police Station] গাড়িটি জল থেকে তুলতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে সব শেষ।

 

মেয়েকে স্কুলে দিয়ে, নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন [Prafulla Kanan, Kestopur] এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে দিয়ে আসেন।

 

এরপর স্কুটি বাড়িতে রেখে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস [Krishnendu Das]-এর কেনা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। গাড়ি চালানো শেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

পুলিশের দাবি, সুমিত্রার এখনও ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়নি। আগামী ২২ অগস্ট তাঁর ড্রাইভিং পরীক্ষার কথা ছিল। তার আগে গাড়ি চালানোর অভ্যাস করতেই এ দিন সকালে বেরিয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু আচমকাই ঘটে বিপত্তি।

 

ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে পা?

 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনওভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন সুমিত্রা। সম্ভবত ব্রেকের পরিবর্তে তাঁর পা অ্যাক্সিলারেটরে চলে যাওয়ায় গাড়িটি আচমকা এগিয়ে যায়।

 

এরপর রাস্তার ধার থেকে গাড়িটি পুকুরের দিকে চলে গিয়ে জলে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং বাগুইআটি থানার পুলিশ। পুকুরের জলে গাড়িটি কোথায় রয়েছে, তা শনাক্ত করার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

 

দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

 

জলমগ্ন গাড়িটিকে পুকুরের মাঝামাঝি অংশ থেকে তুলতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর গাড়িটি জল থেকে বের করা সম্ভব হয়।

 

তারপরই সামনে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। গাড়ির ভিতরে পাওয়া যায় সুমিত্রার দেহ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির ভিতরের অবস্থান দেখে মনে হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই মহিলা। উদ্ধার করার সময় তাঁর মুখ পিছনের দরজার দিকের দিকে ছিল এবং পা স্টিয়ারিংয়ের দিকে ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

তবে এই অবস্থান কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

২২ অগস্টের পরীক্ষার আগেই থেমে গেল সব

 

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। মাত্র কয়েকদিন পরেই ছিল পরীক্ষা। তার আগেই নতুন গাড়ি নিয়ে শেখার সেই চেষ্টা এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেবে, তা কেউ ভাবেননি।

একটি নতুন গাড়ি, লাইসেন্স পাওয়ার প্রস্তুতি এবং কয়েক মিনিটের একটি দুর্ঘটনা—সব মিলিয়ে কেষ্টপুরের এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যে মা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন, তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না—কেষ্টপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এখন একটাই প্রশ্ন, ঠিক কোন মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল গাড়িটি?

 

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/feed/ 0
ওবিসি সংরক্ষণে বড় ধাক্কা! মমতার আমলের সমস্ত OBC সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/#respond Thu, 13 Aug 2026 01:50:11 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30230 মমতা আমলের সংশোধিত ব্যবস্থায় জারি শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, সংরক্ষণ সুবিধা নিয়ে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: এক রায়ে বদলে গেল পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ছবিটাই! কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)-এর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে OBC-A ও OBC-B—এই পৃথক শ্রেণিবিভাগ আর কার্যকর থাকছে না। সংশোধিত ব্যবস্থায় জারি হওয়া শংসাপত্রগুলির বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ল। বুধবারের এই নির্দেশের পর চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে জোরালো অনিশ্চয়তা।

 

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা (Justice Rajasekhar Mantha) এবং বিচারপতি অনুজ সিংহ (Justice Anuj Singh)-এর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, রাজ্যে আর OBC-A এবং OBC-B নামে পৃথক দুই শ্রেণির কাঠামো থাকছে না। আগের শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিতে জারি হওয়া সংশোধিত শংসাপত্রগুলি তাদের আইনি ভিত্তি হারিয়েছে বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।

 

এক ধাক্কায় বদলে গেল সংরক্ষণের হিসাব

 

এই রায়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের উপর, যাঁরা সংশোধিত নিয়মে OBC শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র আর সংরক্ষণের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ফলে তাঁদের সাধারণ বা আনরিজার্ভড শ্রেণির হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরির আবেদন করেছেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন কিংবা ভবিষ্যতের সুযোগের জন্য OBC সার্টিফিকেটের উপর নির্ভর করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এখন কী হবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে।

 

কোথা থেকে শুরু এই OBC বিতর্ক?

 

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Reservation) নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের পর রাজ্যের OBC তালিকাকে মূলত OBC-A এবং OBC-B—দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং সম্প্রসারণের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও মামলা সামনে আসে।

 

২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ৬৬টি সম্প্রদায়কে OBC তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে সংশোধিত তালিকা তৈরির কথাও বলা হয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হলেও হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকে।

 

এরপর রাজ্যের তরফে নতুন সমীক্ষা চালিয়ে OBC তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু সেই সমীক্ষার পদ্ধতিও আদালতের নজরে আসে। প্রায় ২,৫০০ নমুনার ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে OBC তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চাকরি ও পড়াশোনায় কী প্রভাব?

 

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের মধ্যে। কারণ, OBC সংরক্ষণ শুধুমাত্র একটি শংসাপত্রের বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং বিভিন্ন সুযোগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের অধিকার।

 

যাঁরা সংশোধিত নিয়মে পাওয়া শংসাপত্রের উপর নির্ভর করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোন প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, ইতিমধ্যে আবেদন করা প্রার্থী বা ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা হবে—তা নিয়ে প্রশাসনিক স্পষ্টীকরণের অপেক্ষা থাকবে।

 

অন্যদিকে রাজনৈতিক দিক থেকেও এই রায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের আমলে তৈরি OBC কাঠামো নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক চলছিল। এবার আদালতের নতুন নির্দেশে সেই বিতর্ক আরও একবার রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এল।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এটি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। তাই আদালতের রায়ের পর প্রশাসন কী নির্দেশিকা দেয়, সেটিই এখন নজরে।

OBC-A ও OBC-B বিভাজন যখন আর থাকছে না, সংশোধিত শংসাপত্রের ভবিষ্যৎও যখন অনিশ্চিত—তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, সংরক্ষণের সুবিধার অপেক্ষায় থাকা পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এবার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

 

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/feed/ 0
বিধানসভায় পাশ হল ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংশোধনী বিল, ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ল কলকাতা ও হাওড়ার https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/#respond Thu, 13 Aug 2026 01:36:26 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30238 সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল কলকাতা ও হাওড়া- রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল। পাশাপাশি এদিন বিল পেশের সময় হাওড়ার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলেও পূর্বতন সরকারকে তুলোধোনা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসকে আইনি বৈধতা দিতে আজ, বুধবার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল রাজ্য বিধানসভা। এই অধিবেশনেই কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬ এবং হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দ্বিতীয় সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাশ হয়ে গেল বিধানসভায়।

রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই দুই বিল অনুমোদন করেছিল। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অন্যদিকে হাওড়ায় ৫০টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে হবে ৬৮টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ দুই পুরনিগম মিলিয়ে মোট ৮৩টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হতে চলেছে।

হাওড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরনির্বাচনের প্রশ্নও ফের সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ড কাঠামো এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার পথ তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

যদিও এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কীসের ভিত্তিতে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট জবাব, ‘আমরা কোনও বাউন্ডারি টেনে লোকসংখ্যা নির্ধারণ করে নতুন মানচিত্র বানাচ্ছি না। এটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই কাজটা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।’ এরপরেও অভিযোগ এবং দাবি জানানোর সুযোগ জনগনের থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। দ্য কলকাতা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশের আগে এদিন আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সজল ঘোষ। ফিরহাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার তো আরও ৬ মাস মেয়াদ ছিল। তা শেষ হওয়ার আগেই আপনি পালালেন কেন? পুরসভা একটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি। মানুষকে পরিষেবা আপনাকে দিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তা না করে আপনি পালিয়ে গেলেন।’ পালটা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি নীতিগত ভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কীসের নীতিতে হচ্ছে?’

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আরও জানান, পুরো বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে না ছেড়ে দিয়ে জন প্রতিনিধিদের যুক্ত করে সর্বদল বৈঠক করে করলে আরও ভাল হত। এর পালটা জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/feed/ 0
Mamata Shyambazar Protest: হালিশহরের পর শ্যামবাজারেও প্রতিবাদের মুখে মমতা, উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/#respond Wed, 12 Aug 2026 01:50:19 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30214 Mamata Hackled : হালিশহরের পরে এবারে শ্যামবাজারে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ফের চোর চোর স্লোগানের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

মাত্র ৪৮ ঘন্টাও হয়নি উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চোর চোর স্লোগান দিয়ে কাঁদা গোবর এবং ইট ছুঁড়েছিল কিছু দুষ্কৃতী। এবারে খাস কলকাতা শহরে শ্যামবাজারে কালীঘাট তৃণমূল আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় হঠাৎ করেই যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন। সরকারের তরফে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

 

একইভাবে ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা ও নেতাজিকে অপমানের জবাব দিতে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কারণেই মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের কর্মীরা। নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করেন মমতা। এরপর নিশানা করেন বিজেপিকে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।

 

তাঁর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনসহ একাধিক প্রথম সারির নেতৃত্ব। কর্মসূচি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী হাতে স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর ছবি নিয়ে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কর্মসূচি যখন পুরোদমে চলছে, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। আচমকা একদল মানুষ জমায়েত হয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভাস্থলের একেবারে কাছে চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। অতর্কিত এই বিক্ষোভে সমাবেশস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্লোগান-প্রতি স্লোগানে পুরো শ্যামবাজার এলাকা থমথমে ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

সেখান থেকে ফেরার সময় আচমকাই হাজির হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান তোলেন তাঁরা। রাস্তায় বসে পড়ে কেউ কেউ স্লোগান তোলেন, ‘চোর হ্যায়, চোর হ্যায়, মমতা ব্যানার্জী চোর হ্য়ায়।’ স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে। এদিকে বিজেপি কর্মীদের সাফ কথা, ‘বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আমরা বাধা দিইনি। ফেরার সময় চোরকে চোর বলেছি, এতে অসুবিধার তো কিছু নেই।’

এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট একদল লোক পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি বানচাল করতে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করতেই এই বিক্ষোভ সাজিয়েছিল।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/feed/ 0
RG Kar Case: “নির্যাতিতা চিকিৎসকের সঙ্গে সেদিন যারা ছিলেন, মৃত্যুর পর কারা এসেছিলেন – সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে” জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/rg-kar-case-health-minister-questioning-statement/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/rg-kar-case-health-minister-questioning-statement/#respond Sun, 09 Aug 2026 02:35:16 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30146 সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

‘আরজিকর মেডিকেল কলেজের ঘটনা আবার একবার ফাইল খোলা হচ্ছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে। নির্যাতিতা চিকিৎসকের সঙ্গে সেই দিন যত ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ হবে। সেই রাতে যারা ছিল, মৃত্যুর পর কারা কেন এসেছিলেন, তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ আর জি কর মেডিকেল কলেজের যে মহিলা চিকিৎসককে খুন এবং ধর্ষণ করা হয়েছিল সেই ঘটনার দু বছর পূর্তির ঠিক আগেই এভাবে নতুন করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা করে সাড়া ফেলে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, ‘আরজি কর তদন্তে তদন্তকারী দলকে সাহায্য করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের যারা যুক্ত, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত হলে সব জানা যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য দফতর ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ হবে। বিগত সরকার করেনি। কিন্তু আমরা করব।’

 

একইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘আগামিকাল ৯ আগস্ট সারা রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অভয়ার স্মরণে নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ১১টা থেকে ১১.০২ পর্যন্ত। এছাড়াও অভয়ার স্মরণে অনুষ্ঠান হবে। আমি আগামিকাল সন্ধ্যায় পানিহাটিতে যাব। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।’

 

৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ

পশ্চিমবঙ্গের ছোট এবং মাঝারি মাপের নার্সিংহোমগুলিতেও আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস সেলিম রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম’-এর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ বৈঠকে হাজির ছিলেন বেসরকারি নার্সিংহোম সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল, সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডে।

 

এ দিন বৈঠকে অনলাইনেও হাজির ছিলেন বহু নার্সিংহোমের মালিক। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১৬ আগস্ট সরকারিভাবে আয়ুষ্মান ভারত পরিষেবা উদ্বোধন হচ্ছে বাংলায়। এই প্রকল্পে এক হাজারটিরও বেশি অস্ত্রোপচার-চিকিৎসা বিনামূল্যে হয়। তার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট রেট। যে সমস্ত ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমের এনএবিএইচএল স্বীকৃতি রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট অস্ত্রোপচারের জন্য ১০ শতাংশ টাকা বেশি পাবে। প্রতিটি ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমে মিলবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা। বাংলায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে আরও বাড়ে তা নিয়ে এ দিন বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।

বাংলায় এতদিন নার্সিংহোম খোলা ছিল ঝক্কির। হাজারো লাইসেন্স লাগে নার্সিংহোম খুলতে। একেকটি নার্সিংহোমে ডে কেয়ার সেন্টার খুলতে লাগে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট লাইসেন্স আবার আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন ব্যবহার করতে লাগে লাইসেন্স। পিসিপিএনডিটি নার্সিংহোমের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ কি না, তা খতিয়ে দেখে তবেই মেলে ফায়ার লাইসেন্স। এই সমস্ত লাইসেন্সের ঘুরতে হত আলাদা আলাদা দপ্তরে। এবার সমস্ত লাইসেন্সের জন্য ওয়ান উইনডো সিস্টেম চালু করছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/rg-kar-case-health-minister-questioning-statement/feed/ 0
Agnimitra Paul : ‘যেখানে-সেখানে পাথর, বালি, সুরকি ফেলে রাখা চলবে না, এটা আপনার রাস্তা নয়, শুধরে যান’ ফের হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/agnimitra-paul-warning-road-construction-materials/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/agnimitra-paul-warning-road-construction-materials/#respond Sun, 09 Aug 2026 02:15:26 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30153 Agnimitra Paul Warning: যেখানে-সেখানে পাথর, বালি ও সুরকি ফেলে রাখা চলবে না, ‘এটা আপনার রাস্তা নয়, শুধরে যান’—ফের কড়া হুঁশিয়ারি

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

‘যেখানে-সেখানে পাথর, বালি, সুরকি ফেলে রাখার হচ্ছে। তা চলবে না। এটা আপনার রাস্তা নয়। বিল্ডার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কড়া পেনাল্টি করব। শুধরে যান। এখনো সময় আছে।’ এভাবেই শনিবার আরো একবার রাস্তায় যেখানে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা এবং রাজ্যজুড়ে বেআইনি বাড়ি তৈরীর সঙ্গে যুক্ত প্রোমোটারদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

 

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনতার সমস্যার কথা শুনতে ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচির সূচনা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। কর্পোরেশনগুলির অধীনে বসবাসকারী নাগরিকদের সমস্যার কথা শোনা হচ্ছে ফোনে। ইতিমধ্যেই কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে এই পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের দরবারে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ‌ পূর্ব ঘোষণা মত আজ শনিবার সল্টলেকে বিধাননগর পৌরসভার অন্তর্গত মানুষের অভাব অভিযোগ শুনেন পুরমন্ত্রী। নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন নাগরিকেরা। তবে এই কর্মসূচি এখন কিছু জায়গায় সীমিত। খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যের বাকি অংশে শুরু করা হবে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

 

শনিবার সল্টলেকে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি ছিল। আগে থেকেই তা এলাকার মানুষদের জানিয়ে দিয়ে হয়েছিল। সেই মোতাবেক কর্মসূচি চলে। সেখান থেকে বেরিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমি আসব আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সমস্যার কথা শুনলাম। আগামী দিনেও আসব। কবে আসব তা ঠিক করিনি। তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’ তবে এই কর্মসূচি এখনও জেলার পুরসভাতে শুরু হয়নি। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ‘কর্পোরেশন এলাকাগুলির মানুষের সমস্যা শোনা হচ্ছে। বাকি পুরসভাগুলিতেও এই কর্মসূচি শুরু করা হবে। বরানগর পুরসভাতে এই কর্মসূচি শুরু হবে। বাকি পুরসভাগুলিতেও হবে।’ অনেক পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া নিয়ে বলেছেন, ‘তৃণমূলের অনেক কাউন্সিলর পালিয়ে গিয়েছে। পুরপ্রশাসক বসিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার মরশুমে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখা হচ্ছে।’

 

প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পাল বারেবারে রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও এখনো পর্যন্ত শোনার পর পৌরসভা এলাকা এবং সোনারপুর গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ রাস্তায় রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতাদের দখলে। সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিদায়িকা লাভলী মৈত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক প্রোমোটারের মদদে তৎকালীন তৃণমূলের পার্টি অফিস আম্বেদকর ভবনের সামনে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী জমা রাখা এবং বিক্রি করার যে ব্যবসা শুরু হয়েছিল তা এখনো পর্যন্ত চলছে রমরমিয়ে। সেখান থেকে একটুখানি এগুলোই ঘাসিয়ারা এবং জগদীশপুর এর মাঝে সরকার বিল্ডার্সের পক্ষ থেকে গোটা রাস্তাটাই বানিয়ে ফেলা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রীর গোডাউনে।

এরপরে সোনারপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন প্রায় সমস্ত রাস্তায় বালি পাথর এবং ইট জমা করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার।

রাস্তায় বাস ও গাড়ির বেআইনি পার্কিং নিয়ে বলেন, ‘রাতে রাস্তায় বাস দাঁড়িয়ে থাকছে। বাস স্টপে যান বা পার্কিং কিনুন। অনেকের বাড়িতে পার্কিং থাকলেও রাস্তায় রাখছেন। এটা চলতে পারে না।’ এ ছাড়াও দলের একাংশের তোলাবাজি নিয়ে মুখ খুলে জানিয়েছেন, ‘আমাদের রাজ্য সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কোনও ভাবেই দুর্নীতি, তোলাবাজি, দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।’

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/09/agnimitra-paul-warning-road-construction-materials/feed/ 0
হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানে ভবানীপুরে বিশাল তিরঙ্গা যাত্রা, প্রথমবার রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি সফল করতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ https://kolkatasaradin.com/2026/08/08/suvendu-tiranga-rally-bhabanipur-har-ghar-tiranga-west-bengal/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/08/suvendu-tiranga-rally-bhabanipur-har-ghar-tiranga-west-bengal/#respond Sat, 08 Aug 2026 02:25:54 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30127 সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বার হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা হলো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের নির্বাচনে কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে কয়েক বছর আগে দেশজুড়ে এই উদ্যোগের সূচনা হলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে এতদিন এই পদযাত্রার রেশ সেভাবে পড়েনি। তবে ২০২৬-এর ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এ বছর তাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে তেরঙ্গা যাত্রাকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় ও বিশাল আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা বাংলা।

 

রাজ্যে এ বার উদযাপিত হতে চলেছে স্বাধীনতার মেগা উৎসব। শুক্রবার কলকাতা সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তেরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিয়ে সেই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

এ দিনের পথপরিক্রমায় হাজার হাজার তেরঙ্গা হাতে অংশ নেন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। পদযাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করবে রাজ্য সংস্কৃতি দফতর। পাশাপাশি, আগামী ১০ অগস্ট রেড রোড থেকে বিড়লা তারামণ্ডল পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষের একটি ঐতিহাসিক তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

 

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই তেরঙ্গা যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক অংশগ্রহণ ছিল না। এ বার রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের উৎসাহকে মাথায় রেখে সরকারি উদ্যোগেই এই রাষ্ট্রবাদী উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে।

Annapurna Yojana : এখনো পাননি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? অগাষ্ট ও সেপ্টেম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার তারিখ ঘোষণা শুভেন্দুর

সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা এই রাজ্যে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা বিলি করার একটি বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সমস্ত সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকমালায় সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে স্কুল-কলেজে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার।’

এ দিনের মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের নেতা রাজ্যবর্ধন রাঠোর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তাপস রায়, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ, বিধায়ক শঙ্কর সিকদার, শিশির বাজোরিয়া, বিজেপির জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, মহিলা নেত্রী পারমিতা দত্ত-সহ অন্যান্যরা।

পরিশেষে আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে তেরঙ্গা যাত্রা শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘দিল সে তেরঙ্গা, প্যায়ার সে তেরঙ্গা, হর ঘর তেরঙ্গা’-এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রতি ভালোবাসা, জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন একটি ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার’ কাজ করছে এবং সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/08/suvendu-tiranga-rally-bhabanipur-har-ghar-tiranga-west-bengal/feed/ 0
Adhir against Mamata : ‘একসময় দিদির আঁকা ছবি কিনেছিল সব চোর, জোচ্ছোর আর চিটাররা’ বিষ্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী https://kolkatasaradin.com/2026/08/06/adhir-ranjan-chowdhury-on-mamata-banerjee-paintings/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/06/adhir-ranjan-chowdhury-on-mamata-banerjee-paintings/#respond Thu, 06 Aug 2026 02:21:01 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30060 মমতার আঁকা ছবি নিয়ে বিস্ফোরক অধীর! ‘চোর, জোচ্চোর আর চিটাররা কিনত’ মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

‘একসময় দিদির আঁকা ছবি কিনেছিল সব চোর, জোচ্ছোর আর চিটাররা। সারদা কাণ্ডের সময় আমরা দেখেছি তাঁর একটা ছবি কীভাবে কোটি টাকায় বিক্রি হতো!’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবেই তীব্র ব্যঙ্গ করলেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেই জামানা এখন চলে গেছে। আজ আর দিদির ছবির কোনো দর নেই, নেই তাঁর কবিতা বা গল্পের কদর। ক্ষমতা চলে গেছে, দলও গেছে। ফলে এখন আর বাংলায় তাঁর লেখা প্রবন্ধ বা কবিতা পড়ার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই।’

প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, তিনি সরকার থেকে কোনো পেনশন নেন না। পাশাপাশি, চলতি বছরে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের রয়্যালটির টাকাও তিনি এখনও পাননি বলে অভিযোগ জানান। এই ঘটনার পিছনে বিরোধী দল বিজেপি-র চক্রান্ত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেনশন না পাওয়া এবং বইয়ের রয়্যালটি আটকে থাকা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই আশঙ্কা ও অভিযোগকে চরম কটাক্ষে বিঁধলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

‘১২০০ টাকার পঞ্চায়েত ট্যাক্স’ নিয়ে তুমুল বিভ্রান্তি! বাংলায় প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করে বড় বার্তা রাজ্যের, ভুয়ো খবর নিয়ে কড়া সতর্কতা

মমতার এই বক্তব্য সামনে আসতেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তোপ দাগেন অধীর চৌধুরী। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘তৃণমূল জামানায় দিদি নিশ্চয়ই বইয়ের রয়্যালটির টাকা পেয়েছেন। কারণ ওই বইগুলো তো কেউ স্বেচ্ছায় পড়ত না, জোর করে পড়ানো হতো! ঠিক যেমন ছোটদের মুখে না চাওয়া সত্ত্বেও জোর করে তেতো ওষুধ ঢেলে দেওয়া হয়, সেভাবেই ওই বইগুলো গেলানো হতো। তাঁর লেখা কবিতা পড়ার মতো লোক বাংলায় কতজন আছে, তা আমার জানা নেই।’

পেনশন বিতর্ক নিয়ে অধীর আরও বলেন, ‘পেনশন না পেলে তো টেনশন হবেই! দিদির উচিত পেনশন পাওয়ার চেষ্টা করা। তবে গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল দলটা যে পরিমাণে ‘ধান্দা’ করেছে, তারপর দিদি যদি এখন বলেন পেনশনের জন্য তাঁর অসুবিধা হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষ হাসাহাসি করবে। তাই দিদিকে বলব, আপনি টেনশন করবেন না, এরকম পেনশন আপনাকে অনেকেই দিয়ে যাবে।’

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/06/adhir-ranjan-chowdhury-on-mamata-banerjee-paintings/feed/ 0