রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার মুন
লাইট গার্ডেন কনভেনশন সেন্টারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংপ্রাম এগিয়ে যাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই ন্যায় ও সমতার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।”
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই ভূখÐের প্রাচীন অধিবাসী। আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভূমি ও জীবনযাপন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সাংবিধানিক ও আইনগত ভাবে আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের প্রতিটি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে নিতে ৫% কোটা সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
এ সময় বিগত সরকারের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আদিবাসীদের ভূমি দখল করা হয়েছে এবং আদিবাসী নারীদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরেও বর্তমানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, “বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছে। তাই আদিবাসীদের ওপর হওয়া সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সভায় আদিবাসীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৯ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়,
আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রæত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণ বন্ধ এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসীদের জমি জবরদখল বন্ধ, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধসহ আদিবাসীদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ছিন্নমূল আদিবাসীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ইশা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ছোটন সরদার এবং আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি যাদু কুমার দাস প্রমুখ।
]]>শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎই বড় রাজনৈতিক বার্তা। ভার্চুয়াল ভাষণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ঘোষণা করলেন, যাই ঘটুক না কেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দেশে ফিরে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বা প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকতে পারে—এ কথা উল্লেখ করেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষণার পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান—বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। দুই পক্ষের এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচার চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। তবে তাঁর কথায়, ক্ষমতায় ফেরাই তাঁর উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা ব্যক্তিগত ঝুঁকিও তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে না।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করেন না। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
ভারতে আশ্রয় পাওয়ার প্রসঙ্গেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্বে প্রবেশ করছে। যদিও এই মূল্যায়ন বিশ্লেষকদের মতামত, এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে আদালতের সামনে হাজির করা হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার চলবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সমস্ত আইনি সুযোগও তিনি পাবেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে। একাংশের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আবার অন্য অংশের মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
এদিকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা এবং প্রশাসনের কড়া অবস্থান—দুইয়ের সংঘাতে আগামী দিনে কী ঘটতে চলেছে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল বাড়ছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেখ হাসিনা সত্যিই কবে বাংলাদেশে ফিরবেন? আর ফিরলে সেই দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কী নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে?
]]>
শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার চিকিৎসা পরিষেবার জন্য যেন এল বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর আবারও বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে কলকাতা (Kolkata Medical Tourism) ও রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল-নার্সিংহোমে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা শিথিল করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা মানুষের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
চিকিৎসা মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু রোগীর সংখ্যা বাড়াবে না, পশ্চিমবঙ্গের বহু কোটি টাকার মেডিকেল ট্যুরিজম শিল্পেও নতুন প্রাণ ফেরাতে পারে। গত দু’বছরের ধাক্কার পর এমন ছবি অনেকেই আশা করেননি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারত সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান অনেকটাই সীমিত করে দেয়। যদিও মানবিক কারণ বিবেচনায় মেডিকেল ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু কড়াকড়ির ফলে চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গে আসা বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কলকাতা (Kolkata Hospitals), শিলিগুড়ি (North Bengal Healthcare) এবং সীমান্তবর্তী একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ আগে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আনে। এরপর ট্যুরিস্ট ভিসাও সহজলভ্য হওয়ায় রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতও অনেক সহজ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এতদিন পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা অনেকটাই কমে যাওয়ায় রোগীরা এখন চিকিৎসার জন্য বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সূত্রের দাবি, ২৮ জুন সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা জারির পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদন প্রক্রিয়া এগোতেই গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলিতে বাংলাদেশি রোগীর উপস্থিতি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
কলকাতার একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের পর এই বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
পরিসংখ্যানও সেই ছবিকেই সামনে আনছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশি রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসতেন। পরে সেই সংখ্যা নেমে যায় প্রায় ২০-এ। এখন আবার সেই গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।
আরও একটি খ্যাতনামা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সিইও জানিয়েছেন, একসময় তাঁদের হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের পর সেই সংখ্যা ১০-এরও নিচে নেমে গিয়েছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পর ফের রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে তিনি জানান। আগামী কয়েক সপ্তাহে এই সংখ্যা আরও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বলেও তাঁদের আশা।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বহু রোগী উন্নত চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং তুলনামূলক দ্রুত পরিষেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গকে ভরসা করে এসেছেন। তাই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় সেই পুরনো প্রবণতা আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রের একাংশের মত, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও মেডিকেল ট্যুরিজম অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মিললে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলার চিকিৎসা শিল্প গত কয়েক বছরে যে ধাক্কা সামলেছে, তার পর এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন সবার নজর একটাই প্রশ্নে—এই বাড়তি রোগীর চাপ সামলে পরিষেবার মান ধরে রাখতে পারবে কি রাজ্যের হাসপাতালগুলি? আগামী কয়েক সপ্তাহই সেই উত্তর দেবে।
]]>
‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে উগ্রপন্থী শক্তি সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।’ বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এমন ‘বিস্ফোরক’ দাবি করলেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন তসলিমা।
তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকার এবং বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মৌলিক কোনও পার্থক্য নেই। তিনি অভিযোগ করেন, কোনও সরকারই মুক্তচিন্তার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় না বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু নারীদের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তসলিমা।
তাঁর অভিযোগ, সেখানে বহু ক্ষেত্রে হিন্দু নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং বৈষম্যের শিকার হন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতেও মুসলিম নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখোমুখি হন। নারী-পুরুষের সমান অধিকারের দাবিতে তাঁর লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও ধর্মকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মাদ্রাসায় উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রসার ঘটে এবং কোথাও কোথাও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও সামনে আসে। যদিও তিনি সব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেননি, বরং কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা দাবি করেন, ওই আন্দোলনের আড়ালে উগ্রপন্থী শক্তি সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
পাশাপাশি তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলন সবসময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনে, এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই। শেষে তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস বিজেপি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নীতিকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থই হলো সকলকে নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক সমাজে সেই অধিকার সর্বদা সুরক্ষিত রাখা।
প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, কারও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া কখনওই উচিত নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং প্রত্যেক মানুষের নিজের মত প্রকাশের অধিকার থাকা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে তিনি কবি জয় গোস্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, তাঁকে অসম্মান করা মানে আমাকেও অসম্মান করা। তসলিমার কথায়, তিনিই জয় গোস্বামীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে তিনি নিজে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।

নিজের নির্বাসনের প্রসঙ্গ তুলে তসলিমা বলেন, এক সময় একটি সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেয়নি, আবার অন্য একটি সরকার তাঁকে কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী। তাঁর মতে, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং কোনও সরকারেরই সেই অধিকার খর্ব করা উচিত নয়।
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
প্রতিশ্রুতি রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগে বাংলার মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। গোটা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ডিজিটাল সেনসাস প্রক্রিয়া শুরুর দিনেই নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০০ জন আবেদনকারীর হাতে এদিন নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শংসাপত্র তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নাগরিকত্ব আইন যারা দ্বারা উপকৃত রাজ্যের মানুষ তাদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সিএএ সার্টিফিকেট বিতরণ হয় অনলাইনে। যারা বিরোধী দলের বিধায়ক তারাও এসেছেন আজ এই অনুষ্ঠানে। একুশ থেকে ছাব্বিশ আমাদের কোথাও ডাকা হতো না, আমি সকলকে ডাকছি।’
সরকার যখন বলে মানুষ বিরোধীদের কথা শোনে না আমাদের কথাও তখন কেউ শোনে না। এসআইআর শুরুর সময় ওনারাই ভিতরে ভিতরে বলেন আবেদনের জন্য। মিথ্যে কথা বলে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে গত সরকার। আগের সরকার বিরোধী করেছে, চায়নি তাই ভারত সরকার দেয়নি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২৩৯৫৬ জনকে এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে সার্টিফিকেট। ২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৫ মোট আবেদনকারী। আমরা এই কয়েক মাসে দিয়েছি ৫৯৬৬ সার্টিফিকেট । সবচেয়ে বেশি সার্টিফিকেট বিতরণ হয়েছে পেয়েছে নদীয়া জেলা তারপর উত্তর ২৪ পরগনা । ওবিসি সার্টিফিকেট এর ক্ষেত্রেও বিবেচনা চলছে। বিগত সরকার সিএএ-র বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছিলেন আপনারা তো নাগরিক রেশন পাচ্ছেন তাহলে আবার কিসের নাগরিকত্ব। কিন্তু আমরা বলেছি বারবার ভিসা করতে হলেই একাত্তরের আগের দলিল আনতে বলা হয়। তার মানে সিএএ-র প্রয়োজনীয়তা ছিল।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেককে বোঝানো হয়েছিল সিএএ মানেই এনআরসি এবং আবেদন করলে রেশন, ভাতা বা পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। এই আশঙ্কায় বহু মানুষ আবেদন করতে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৪ সালে বিধি জারি করার পর নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এখন সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে এই আইনে। দেশভাগের পর ধর্মীয় কারণে যাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার দাবির দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে অধৈর্য হয়ে যান ভোটার তালিকায় নাম উঠছে না। উনিশে কথা দিয়েছিলেন একটি সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি কথা রেখেছেন আইন করেছেন। আজ ধন্যবাদ জানাই তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম এমএলএ এসেছেন। কারণ এই আইনে বলা হয়নি মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। মুসলিমদের বোঝানো হয়েছিল এটা এনআরসি। এই আইনে লেখা ছিল যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছেন তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ বলা হয়েছিল অশান্তি হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করেছিলেন সিএএ-র বিরুদ্ধে । আর এখন ওনার দলের লোকেরা এটাকে সমর্থন করে এসেছেন।’
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলায় যখন ইচ্ছে হবে তখন চলে আসবেন। মনে রাখবেন এই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত।’ দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পরে তসলিমা নাসরিন কলকাতায় ফিরে আসার পর আজ রবীন্দ্র সদনে তসলিমা ভক্তরা তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন সেখানে তসলিমাকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে এমন আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ বিরতির পর ফের কলকাতায় ফিরেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শহরে ফিরতে পেরে নিজের আনন্দের কথা জানান তসলিমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। দুই দশক পর ফের মুক্ত বাংলায় পা রাখলেন তসলিমা নাসরিন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে চরম বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ফের শহরে এলেন তসলিমা। আজ শহরজুড়ে তাঁর হোর্ডিং। বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর নির্বাসনের টানাপোড়েন পেরিয়ে তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তনে নতুন করে চর্চায় তসলিমা নাসরিন।
তসলিমার বক্তব্য, ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাক্স্বাধীনতা পূর্ণমাত্রায় বজায় রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর কলকাতায় ফিরে আসতে পারবেন, এমনটা একসময় তিনি ভাবতেও পারেননি বলে জানান লেখিকা। এবার কলকাতায় ফেরার সুযোগ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য ‘সেক্যুলার মিশন ট্রাস্ট’-এর ওসমান গনি মল্লিক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটানো তসলিমা জানান, অতীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সরকারি সহযোগিতার অভাবের কারণে কলকাতায় আসা সম্ভব হয়নি। এবার নিরাপত্তা পেয়ে তিনি খুশি। ভবিষ্যতে বারবার কলকাতায় আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা এবং বিভিন্ন সাহিত্য উৎসবে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই লেখিকা। অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের আমলে বাংলায় গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার এবং বাক্স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে। কোনও ধরনের ‘ধমক-চমক’ চলবে না বলেও বার্তা দেন তিনি। তসলিমা কলকাতায় আসছেন জানতে পেরে নিজেই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, তসলিমা নাসরিন যখনই কলকাতায় আসতে চাইবেন, তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু কথায় নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
]]>সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। যে শহরকে একদিন চোখের জলে বিদায় জানাতে হয়েছিল, সেই কলকাতা (Kolkata)-তেই অবশেষে ফিরলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্তেই যেন আবেগ আর রাজনীতির এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। লাল পাড়-সাদা শাড়িতে হাসিমুখে বেরিয়ে আসা তসলিমাকে স্বাগত জানানো হল শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে।
কলকাতায় ফেরার আগে থেকেই নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করেননি তসলিমা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “আজি এ প্রভাতে কলকাতার অভিমুখে যাত্রা শুরু করিলাম।” সেই পোস্ট ঘিরেই তৈরি হয়েছিল জল্পনা। অবশেষে ৩১ জুলাই সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রিয় শহরে ফিরলেন তিনি।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তসলিমা বলেন, “খুবই ভালো লাগছে। সবাইকে ধন্যবাদ।” ছোট্ট এই মন্তব্যেই যেন ধরা পড়ল দীর্ঘ প্রতীক্ষার আবেগ।
এই প্রত্যাবর্তন শুধুই একজন লেখকের শহরে ফেরা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের ইতিহাসও। বাংলাদেশ (Bangladesh) ছাড়ার পর একসময় কলকাতাই ছিল তাঁর আশ্রয়। কিন্তু ২০০৭ সালে তাঁর বইকে ঘিরে বিতর্ক এবং নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় দিল্লিতেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর দাবি নতুন করে জোরালো হতে শুরু করে। চলতি বছরের মার্চ মাসে সংসদের জিরো আওয়ারে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তসলিমা কলকাতাকে ভালোবাসেন। তিনি বাংলায় থাকতে, বাংলায় লিখতে চান। তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা উচিত।” সেই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তসলিমার ভারতে থাকার অনুমতির মেয়াদও বাড়ানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে জানানো হয়, ভারতের যে কোনও জায়গায় তিনি যেতে পারবেন। সেই সিদ্ধান্তের পরই কার্যত কলকাতায় ফেরার পথ খুলে যায় তাঁর।
তসলিমার এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর নতুন বই প্রকাশ অনুষ্ঠান। শনিবার রবীন্দ্রসদন (Rabindra Sadan)-এ প্রকাশিত হতে চলেছে তাঁর আত্মজীবনী সমগ্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র। ফলে সাহিত্য ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই এই অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ।
তসলিমার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (Shirshendu Mukhopadhyay)। তাঁর কথায়, “খুবই ভালো লাগছে। দেখা হলে আরও ভালো লাগবে।” সাহিত্য মহলের একাংশও মনে করছে, দীর্ঘ বিরতির পর কলকাতায় তসলিমার উপস্থিতি বাংলা সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে এই প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। একসময় যে লেখিকাকে নিরাপত্তার কারণে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল, আজ তাঁর ফিরে আসা বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। অন্যদিকে বিরোধীরা এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
সব মিলিয়ে তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ফেরা এখন শুধু সাহিত্যজগতের খবর নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও এটি অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনের কর্মসূচি, বই প্রকাশ অনুষ্ঠান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ অবস্থান—সবকিছুই এখন কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রায় দুই দশক পর এই প্রত্যাবর্তন কি শুধুই একটি সফর, নাকি কলকাতার সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বাংলা।
]]>সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কল্যাণী (Kalyani), নদিয়া (Nadia)-র একটি হাসপাতালের মঞ্চে ছিল আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার উদ্বোধন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেই উঠে এল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের বিতর্ক। রোবোটিক নি-সার্জারির সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ [শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)] হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের পরিচয়পত্র বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে নথি যাচাইয়ে কোনওরকম শিথিলতা চলবে না।
মঙ্গলবার কল্যাণীর জেনারেল হাসপাতালে জেলার প্রথম রোবোটিক নি-সার্জারি পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই প্রযুক্তির ফলে হাঁটু প্রতিস্থাপন-সহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই পরিষেবা বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম খরচে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে উদ্বোধনী মঞ্চে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সামনে আনেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নদিয়া একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় রোগীদের পরিচয় যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যে কোনও রোগী চিকিৎসা পেতে পারেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত পরিচয়পত্র, বিশেষ করে আধার কার্ড, যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই করা।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “আপনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সূচনা করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ছে। রোগীর পরিচয়পত্র সঠিকভাবে যাচাই করুন। প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই আসল ও নকল নথির পার্থক্য বোঝা সম্ভব। ভবিষ্যতে কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই এই সতর্কতা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করে চিকিৎসা করিয়ে চলে যান এবং পরে অন্য কোনও মামলায় ধরা পড়েন, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন [রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission)]-এর মহারাজও। যদিও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সতর্কতা সংক্রান্ত এবং দায়িত্বশীল পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের অধিকর্তা শিলা সিং ঘোষ জানান, এই নতুন পরিষেবার মাধ্যমে নদিয়া জেলার রোগীরা বড় সুবিধা পাবেন। তাঁর বক্তব্য, এতদিন রোবোটিক নি-সার্জারির জন্য অনেককেই কলকাতা বা অন্য রাজ্যে যেতে হত। এখন সেই প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
তিনি জানান, সাধারণভাবে একটি রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচ চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই হাসপাতালে একই অস্ত্রোপচার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে করানো সম্ভব হবে। উদ্বোধনের দিন প্রথম কয়েকজন রোগীর হাঁটু প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের নির্ভুলতা অনেকটাই বাড়ে। সার্জনের পরিকল্পনাকে প্রযুক্তি আরও সূক্ষ্মভাবে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করে, ফলে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

একদিকে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সূচনা, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা ও নথি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ—এই দুই বিষয়ই মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সতর্কতার এই বার্তা আগামী দিনে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলির কাজের পদ্ধতিতে কোনও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
এবার প্রশ্ন একটাই—পরিচয়পত্র যাচাই নিয়ে এই বার্তার পরে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলিতে কি নতুন নির্দেশিকা আসবে, নাকি বিতর্ক আরও তীব্র হবে?
]]>ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী, বাংলাদেশ।
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি নৌবন্দরটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নৌবন্দরে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি বন্দরের অফিস, পণ্য খালাসের স্থান ও নদীপথের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “একটি নৌবন্দর চালুর জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবগুলোই এখানে সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দর অবকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং যত দ্রæত সম্ভব বন্দরটি চালুর সুপারিশ করব।”
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখন শুধু এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। আশা করছি, দ্রæতই সেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।”
পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। পণ্যবাহী জাহাজও এনে রাখা হয়েছে। কিন্তু বন্দর চালু না হওয়ায় আমাদের পণ্য আটকে আছে, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পাথর বাংলাদেশে সড়ক ও রেলপথে আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। নৌপথে পাথর আমদানি করা গেলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে এই নৌরুট দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্ষা মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ চলাচল করতে পারবে। আর শুষ্ক মৌসুমে ৭০০ থেকে ৮০০ টনের জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে।”
জানা যায়, প্রায় ছয় দশক আগে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান নৌপথে নিয়মিত বাণিজ্য কার্যক্রম চলত। তবে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে নৌপথ ও নদীবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় এই নৌপথে বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। চালুর পর মাত্র ১০ দিন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এরপর থেকে বন্দরটি আবারও বন্ধ রয়েছে। ওই সময়ে পাঁচটি নৌযানের মাধ্যমে পাথর ও গার্মেন্টস শিল্পের ঝুট আমদানি-রপ্তানি করা হয়েছিল।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্র্বতী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষে দ্রুত বন্দর চালুর নির্দেশনা দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি। একাধিকবার চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি সম্ভাবনাময় এই নৌবন্দর।
আমদানি-রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ঝুলে আছে। এনবিআর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই বন্দরটি স্থবির হয়ে আছে। যদিও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হলেও বন্দরটি চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে রপ্তানি করা যাবে।
বর্তমানে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই কমবে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে ফের বেড়েছে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়। সীমান্ত চেকপোস্টের সামনে ট্রলি, কম্বল, প্লাস্টিকের ছাউনি নিয়ে অপেক্ষমাণ বহু মানুষের ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আর এই আবহেই মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি বার্তা দেন, “জলদি জলদি ভাগো। হাকিমপুরের ঘটনা টিভিতে দেখেছি। আমি শুধু বলব, তাড়াতাড়ি পালাও।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
Bangladesh infiltrators in Bengal
শুধু সতর্কবার্তাই নয়, এদিন শুভেন্দু আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের সম্পদ বণ্টন নিয়েও। তাঁর কথায়, “আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব?” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে জনমত আরও দৃঢ় করার কৌশলেই এই কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে রাজ্য সরকার।
গত কয়েক দিন ধরেই বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক ভিড়ের ছবি সামনে আসছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বহু বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে ফের দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার সকালেও হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে বহু মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁদের কারও হাতে ট্রলি, কারও সঙ্গে কম্বল-বালিশ, আবার কেউ প্লাস্টিক পেতে বসে রয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। (Detect Delete Deport policy
সোমবারও একই ছবি ধরা পড়েছিল সীমান্ত এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, প্রায় ১০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। আরও অনেকে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন সীমান্ত পার হওয়ার আশায়।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রশাসনিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েক দিন আগেই রাজ্যের তরফে জেলায় জেলায় নোটিস পাঠিয়ে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে যাঁদের আটক করা হবে, তাঁদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্যই এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাঁটবে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ফের জোর দিয়ে বলেন, ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতিই এখন সরকারের প্রধান অবস্থান। অর্থাৎ, প্রথমে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা, তারপর সরকারি নথি বা ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া এবং শেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো— এই তিন ধাপেই প্রশাসন এগোবে।
তিনি দাবি করেন, এই ধরনের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো নতুন নয়, আগেও ছিল। তবে এবার তা আরও কড়াভাবে কার্যকর করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীদের ধরা পড়ার পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় দ্রুত ফেরত পাঠানোর দিকেই জোর দিচ্ছে সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত ও নাগরিকত্ব ইস্যু বরাবরই বঙ্গ রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ কিংবা মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই প্রশ্ন ভোট রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে অনুপ্রবেশ বিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে সরকার একদিকে যেমন প্রশাসনিক কড়াকড়ির বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল স্তরে রাজনৈতিক সমর্থন আরও মজবুত করার চেষ্টাও স্পষ্ট।

তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে মানবাধিকার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া উচিত নয় এবং আইনি কাঠামো মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, হাকিমপুর সীমান্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি যে আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট। আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা।
]]>