রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার মুন
লাইট গার্ডেন কনভেনশন সেন্টারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংপ্রাম এগিয়ে যাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই ন্যায় ও সমতার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।”
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই ভূখÐের প্রাচীন অধিবাসী। আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভূমি ও জীবনযাপন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সাংবিধানিক ও আইনগত ভাবে আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের প্রতিটি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে নিতে ৫% কোটা সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
এ সময় বিগত সরকারের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আদিবাসীদের ভূমি দখল করা হয়েছে এবং আদিবাসী নারীদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরেও বর্তমানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, “বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছে। তাই আদিবাসীদের ওপর হওয়া সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সভায় আদিবাসীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৯ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়,
আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রæত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণ বন্ধ এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসীদের জমি জবরদখল বন্ধ, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধসহ আদিবাসীদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ছিন্নমূল আদিবাসীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ইশা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ছোটন সরদার এবং আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি যাদু কুমার দাস প্রমুখ।
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের যেকোনো সরকারি কাজে মাতৃভাষা ‘বাংলা’ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ সোমবার বিধানসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের এই সংক্রান্ত প্রস্তাবের একট চিঠি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের যেকোনো সরকারি কাজে মাতৃভাষা ‘বাংলা’ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের যেকোনো সরকারি দপ্তরের যাবতীয় অভ্যন্তরীণ কাজ, অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের পোর্টালগুলিও বাংলায় করা হবে। তবে কেন্দ্র সরকার বা ভিন রাজ্যের সরকারের সঙ্গে চিঠিপত্রের আদানপ্রদানে বাংলার পাশাপাশি বিদেশি ভাষা ইংরাজির পরিবর্তে ‘রাজভাষা’ হিন্দি ব্যবহৃত হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ভাষাও ব্যবহার করা হবে। তবে রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত কোনো কাজে অগ্রাধিকার পাবে বাংলা ভাষা।
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মাননীয় অমিত শাহ আমাকে একটা চিঠি দিয়েছেন। চলতি বছর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ভারতীয় ভাষার সংরক্ষণের পুরোধা ছিলেন। জনগণের নিজের ভাষায় যাতে সরকার পরিচালিত হয় তা চেয়েছিলেন। তাই ভূমি ও ভূমি সংষ্কার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় অবধি বাংলা ভাষায় করা হবে। নাগরিক পরিষেবা, শংসাপত্র, অ্যাপ , নাগরিক অধিকার, এফআইআর, বিজ্ঞপ্তিতে বাংলার ব্যবহার করা হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিদেশি ভাষার বদলে কেন্দ্রের সঙ্গে চিঠিও বাংলা ও রাজভাষায় করা যেতে পারে। প্রশাসনিক কাজে অনুবাদের কার্যকরী প্রয়োগ হতে পারে। এতে শুধু সুশাসন নয় মানুষের সুবিধা হবে।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলা ভাষা এই রাজ্যে বাধ্যতামূলক করা হল। অনুবাদক সহ বাকি কাজ সেরে নেওয়া হবে। বাংলা ভাষায় চিঠি দেব ও করব। হিন্দি ভাষাতেও করব। এই রাজ্যে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে আমাদের মাতৃভাষাকে প্রয়োগ করা হবে।’
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও জনপরিষেবামূলক সমস্ত মাধ্যম যেমন-আবেদনপত্র, শংসাপত্র, সরকারি পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, গণ-বিজ্ঞপ্তি, প্রেস রিলিজ এবং জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রচারিত যে কোনও ধরণের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার সাথে যুক্ত জনপরিষেবা, যেমন পুলিসের এফআইআর দায়ের, অভিযোগ, নাগরিক তথ্য সংগ্রহ এবং জনসচেতনতামূলক বার্তাতেও বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা এবং দেশের সরকারি ভাষা হিন্দি ব্যবহার করতে হবে। বাংলা ভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অনুবাদক নিয়োগ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ব্যবস্থাও সরকার করবে।
মন্ত্রীদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ
মন্ত্রীদের উদ্দেশেও কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। বলেন, উল্লেখ পর্বে বিধানসভার সদস্যরা যা বলবেন তা যেন সাত দিনের মধ্যে দফতরে পৌঁছে যায়। মন্ত্রীদের উত্তর দিতে হবে। যেটা করা সম্ভব সেটা করতে হবে। যেটা করা সম্ভব নয়, সেটা জানাবেন। যেটায় সময় দরকার সেটাও জানাবেন। এই উল্লেখ পর্বের তালিকা সিএমও-তে পাঠাবেন। আমি ৩ মাস অন্তর এর রিপোর্ট আমি দেব আপনাদের।
]]>
ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী, বাংলাদেশ।
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি নৌবন্দরটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নৌবন্দরে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি বন্দরের অফিস, পণ্য খালাসের স্থান ও নদীপথের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “একটি নৌবন্দর চালুর জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবগুলোই এখানে সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দর অবকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং যত দ্রæত সম্ভব বন্দরটি চালুর সুপারিশ করব।”
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখন শুধু এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। আশা করছি, দ্রæতই সেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।”
পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। পণ্যবাহী জাহাজও এনে রাখা হয়েছে। কিন্তু বন্দর চালু না হওয়ায় আমাদের পণ্য আটকে আছে, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পাথর বাংলাদেশে সড়ক ও রেলপথে আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। নৌপথে পাথর আমদানি করা গেলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে এই নৌরুট দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্ষা মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ চলাচল করতে পারবে। আর শুষ্ক মৌসুমে ৭০০ থেকে ৮০০ টনের জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে।”
জানা যায়, প্রায় ছয় দশক আগে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান নৌপথে নিয়মিত বাণিজ্য কার্যক্রম চলত। তবে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে নৌপথ ও নদীবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় এই নৌপথে বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। চালুর পর মাত্র ১০ দিন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এরপর থেকে বন্দরটি আবারও বন্ধ রয়েছে। ওই সময়ে পাঁচটি নৌযানের মাধ্যমে পাথর ও গার্মেন্টস শিল্পের ঝুট আমদানি-রপ্তানি করা হয়েছিল।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্র্বতী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষে দ্রুত বন্দর চালুর নির্দেশনা দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি। একাধিকবার চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি সম্ভাবনাময় এই নৌবন্দর।
আমদানি-রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ঝুলে আছে। এনবিআর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই বন্দরটি স্থবির হয়ে আছে। যদিও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হলেও বন্দরটি চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে রপ্তানি করা যাবে।
বর্তমানে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই কমবে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
]]>বদলে যাচ্ছে কেরলের নাম। মঙ্গলবার নতুন নাম ‘কেরলম’-এ সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কেরলের নামবদলের জন্য দু’বার (২০২৩ এবং ২০২৪ সালে) প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে কেরল বিধানসভায়। ওই প্রস্তাবে কেরলের বাম সরকার কেন্দ্রকে রাজ্যের নতুন নাম কেরলম করার প্রস্তাব দেয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঠিকানা সাউথ ব্লক থেকে সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে যাওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসেছিল সেখানে। আর সেই বৈঠকেই কেরলের নতুন নামকরণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল ভারত সরকার।
কেরলের মতো পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না অথবা আগামী দিনে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না, এ দিন সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল অশ্বিনী বৈষ্ণবকে। তবে একাধিকবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের বিষয়টি এড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব শুধু বলেন, আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটুকুই জানাতে এসেছি।
তবে বাংলার সঙ্গেই 2026 সালেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে কেরালার। এইভাবে হঠাৎ করে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেরালার সিপিএম সরকারের দাবি মেনে রাজ্যের নাম বদল করার পিছনে সিপিএম এবং বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের পরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের নামবদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রস্তাব ছিল পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে ‘বাংলা’ করা হোক। সেই প্রস্তাব এখনও কেন্দ্রের অনুমোদন পায়নি।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কথা জানার পরেই মমতা বলেন, ‘কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাতে কেরলের ভাইবোনেদের অভিনন্দন জানাচ্ছি আমি। সকলকে অভিনন্দন। কিন্তু একটা কথা ভেবে অবাক হচ্ছি, সব জায়গার নাম বদল হয় রাজ্য সরকাররে অনুমোদন নিয়ে। আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে ওয়াই-জ়েডে পড়ে থাকতে হয় কেন? আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা যখন পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কোথাও গেলে আমাকে সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয় এই নামের বর্ণানুক্রমে। বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন— সব ভেবে রাজ্যটার নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু’ থেকে তিন বার পাশ করেছি। আপনারা দেননি। এক বার যখন প্রস্তাব দিলাম, ওরা বলল, আপনারা নামটাকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষায় এক শব্দ এক করে দিন। তখন আমরা আবার বিধানসভায় পাশ করালাম। হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা— তিন ভাষাতেই বাংলা করা হয়।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তার পরেও সেই নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র। তিনি জানান, তার পরে যত বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যখন এখানে বৈঠক করতে এসেছেন, তখন সেই বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘কেন জানি না! ওরা বাংলা-বিরোধী বলেই আমার মনে হয়। ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। বাংলা কথাটা নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য বলে। কিন্তু ওরা বাংলা বিরোধী। সেই জন্য বাংলা নামটা করল না।’

তবে এর পাশাপাশি আগামী দিনে যে বাংলার পরিবর্তিত নামের অনুমতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনবেন সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা পেয়ে গেল কারণ, কেরলে বিজেপি-র সঙ্গে সিপিএম-এর একটা জোট গড়ে উঠছে। অলিখিত নয়, এখ লিখিত হয়ে গেল, আজকের ঘটনা প্রমাণ। বাংলা কেন বঞ্চিত হবে বার বার। একদিন তো আপনারা চলে যাবেন! বাংলা নামটা আদায় করে আনব আমরা।’
]]>
তারাপীঠের ভৈরব নামে পরিচিত মহাসাধক বামাক্ষ্যাপা-র জন্মদিন ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ১ নম্বর ব্লকের দূর্গাপুরে ছিল ভক্তিমুখর পরিবেশ।
তারা মা ও শনি বাবার মন্দির প্রাঙ্গণে এদিন বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ভক্তদের আনাগোনায় জমে ওঠে মন্দির চত্বর, আর সন্ধ্যা নামতেই সেই আবহ আরও গাঢ় হয় ভক্তিগীত ও মন্ত্রোচ্চারণে।
স্থানীয় উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গ্রামের বাসিন্দা থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও অংশ নেন। পূজা শেষে সকলের হাতে প্রসাদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, শতাধিক ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ জুন এই মন্দিরেই বামাক্ষ্যাপার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পৌত্র সিদ্ধার্থ বাবু।

তারপর থেকেই প্রতি বছর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ পূজার আয়োজনের রীতি চালু হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পূজায় ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ধূপ-প্রদীপ হাতে প্রার্থনায় মগ্ন, কেউ আবার পরিবারের মঙ্গল কামনায় অঞ্জলি দিচ্ছেন। ভক্তদের মতে, বামাক্ষ্যাপা শুধু সাধক নন, তিনি এক আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক, যাঁর আশীর্বাদে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

সব মিলিয়ে দূর্গাপুরে বামাক্ষ্যাপার জন্মদিন পালন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। ভক্তি, বিশ্বাস আর ভ্রাতৃত্ববোধ—এই তিনের মেলবন্ধনেই দিনটি হয়ে উঠেছিল বিশেষ।
]]>
‘আগামী দিনে মানুষ যদি কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে।’ এভাবেই বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর খাস তালুক নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের কথায়, ‘এখানের বিধায়ক শুধু হিন্দু মুসলিম করে রাজনীতি করেছে। এখন সেবাশ্রয় দেখে বিচলিত, ভীত এবং সন্ত্রস্ত হয়ে এসব করছে। আগামী দিনে মানুষ যদি কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে। এবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতলে ১৭টি অঞ্চলে সেবাশ্রয় হবে। কারও বুকের পাটা থাকলে আটকে দেখাক।’
নন্দীগ্রামে বৃহস্পতিবার শুরু হল সেবাশ্রয় মডেল ক্যাম্প। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের সেই ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে সেখানে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। নন্দীগ্রামের মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়েই নিজের সাংসদ এলাকা ডায়মন্ডহারবারের বাইরে এসে নন্দীগ্রামের দুই ব্লকে এই সেবাশ্রয়ের আয়োজন করলেন অভিষেক। নন্দীগ্রামে এই সেবাশ্রয় শিবির চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই পা রেখে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক। অভিষেকের নির্দেশেই নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। যেটা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে নন্দীগ্রামে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেবাশ্রয়-১ শিবির ঘুরে দেখেন। নন্দীগ্রামের খোদামবাড়িতে পৌঁছে হেঁটেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এখানে বয়স্ক মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিষেক বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা এখানে জানান। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি সুচিকিৎসা পাবেন।’
আজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘যারা পোস্টার ছিঁড়ছে আসলে তাদের পায়ের তলা থেকে জমি সরে গিয়েছে। আসলে মানুষকে নিপীড়িত করে রাখতেই এই কাজ করা হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি বিরোধী দলনেতা। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আছে। চারটে রাস্তা এনেছে কি? এখানের বিধায়ক কোনও কাজ করেনি। তৃণমূল এখানে না জিতলেও কাজ করেছে।’

ইতিমধ্যেই ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ডায়মন্ডহারবারে এই ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প করে নজর কেড়েছেন সাংসদ। তারপরই দাবি ওঠে নানা জায়গায় তা করার জন্য। তাই ব্যারাকপুরেও হয় ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প। তারপরই দাবি আসে নন্দীগ্রামে এমন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য। সাধারণ মানুষের দাবি মেনে নিয়ে তাতে সাড়া দিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এটা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
]]>
“যত দ্রুত সম্ভব গরীবরা টাকা পান, সেটাই উদ্দেশ্য আদালতের। যারা মনরেগায় কাজ করেন তাঁরা গরিব। তাই টাকার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।” কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও বাংলার ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের বকেয়া টাকা না মেটানোর প্রেক্ষিতে আজ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে নিজের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ভাষায় এমন কথা জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। গত কয়েক বছর ধরেই মনরেগা প্রকল্পে বাংলার যে সমস্ত গরীব মানুষ কাজ করেছেন তাদের মজুরির টাকা বকে রেখে দিয়েছে কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি দিয়ে এবং দেখা করে বাংলার শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আবেদন জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।
পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের দায়ের হওয়া জনস্বার্থে মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে বাংলায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে যে সমস্ত শ্রমিকের টাকা বাকি রয়েছে তাদের টাকা মেটানোর পাশাপাশি বাংলায় ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু তারপরেও বাংলায় ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ শুরু করা তো দূরের কথা এখনো পর্যন্ত গত কয়েক বছর ধরে বকেয়া পড়ে থাকা বিপুল অংকের টাকা মেটানোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কখনো হাইকোর্টে আবার কখনো আবার সুপ্রিম কোর্টের ছুটে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বারেবারে দাবী করেছে বাংলায় নাকি ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে টাকা নয় ছয় হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্ট বারে বারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন দুর্নীতির অভিযোগ যদি থাকে তার তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে থাকবে কিন্তু বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। তারপরেও আজ আবার কেন্দ্রের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল দাবি করেন ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ ছিল, দুর্নীতি হয়েছে। দোষীদের শাস্তি ও তদন্ত চালাতে হবে। আর গোটা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সেটা প্রমাণিত। তাই রাজ্যের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্র যাই অভিযোগ করুক সবার আগে, টাকা দিতে হবে। প্রসঙ্গত, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বকেয়া টাকা কেন্দ্রকে মেটাতে হবে।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে না পারার পর থেকে কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত সরকার বাংলার প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাববশত ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে দিয়েছে বলে বারে বারে অভিযোগ করেছেন মমতা। বাংলার বকেয়া টাকা মেটানোর দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে বাংলায় অবিলম্বে বন্ধ থাকা ১০০ দিনের প্রকল্প চালু করতে গতবছর জুন মাসে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া টাকা মেটানোর পাশাপাশি ১০০ দিনের প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনন্তকালের জন্য ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। এই রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ওঠে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। শুনানি শেষে ১০০ দিনের টাকা দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

আজ রাজ্য সরকারের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সবাই চাই টাকা পৌঁছে যাক শ্রমিকদের হাতে। যারা মনরেগায় কাজ করেন তাঁরা গরিব। তাই টাকার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
]]>
‘তৃণমূলের একটা নতুন রোগ হয়েছে। এসআইআর আতঙ্ক এবং আত্মহত্যা রোগ।’ এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে মানসিক চাপে আলিপুরদুয়ারের এক বিএলও আত্মহত্যা করেছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করার পরে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই যেখানে যত মৃত্যু হচ্ছে সবকটিকেই এসআইআর এবং এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূলের নেতারা প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘১২ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হচ্ছে কোথাও কেউ আত্মহত্যা করছে না। ওনাদের এখানেই আত্মহত্যা নামক এক ব্যামো চেপে বসেছে। এটা তৃণমূলের একটা নতুন রোগ হয়েছে। এসআইআর আতঙ্ক এবং আত্মহত্যা রোগ। কোনো বড় ডাক্তারবাবুর কাছে যান, গিয়ে পরামর্শ করুন, এর কি ওষুধ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর কোনো সত্যতা নেই। বরঞ্চ পশ্চিমবঙ্গে এই ১৫ বছরে চাকরি না পেয়ে যারা মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী। চা বাগানের যে সমস্ত শ্রমিকরা অনাহারে মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী। বিষমদ খেয়ে যে সমস্ত মানুষ মারা গিয়েছেন, তার জন্য মমতা ব্যানার্জি দায়ী।’
তৃণমূলের পক্ষ থেকে যেভাবে এসআইআর স্থগিতের দাবি জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘উনি, ওনার ভাইপো এবং প্রতীক জৈন মিলে একটা মিটিং করেছেন। আইপ্যাক আর পুলিশ মিলে একটা রিপোর্ট করেছে যে, ১ কোটি ১৫ লক্ষ পর্যন্ত বাদ যেতে পারে। আর এটা বাদ গেলে ওনারা জিতবেন না। তারপরে নতুন করে পুলিশের তালিকা করতে বলেছে, যদি পুলিশকে দিয়ে উদ্ধার পাওয়া যায়। পুলিশের ট্রান্সফার তালিকা তৈরি হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর বের হবে।’
অন্যদিকে তৃণমূল সরকার সরকারি স্তরে দুর্নীতি করার জন্য নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কার করেছে বলে তার রীতিমতো ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের সর্বনাশ আগেই করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার। এখন ১০০ দিনের কাজে ঠিকদারদের দিয়ে অন্যায় করানো হচ্ছে। এই কাজের সামগ্রী সরবরাহকারীদের অনেককেই টাকা দেওয়া হয়নি। পথশ্রীর নামে লুটশ্রী প্রকল্প চলছে পশ্চিমবঙ্গে। টেন্ডার ইস্যুতে নথি দেখিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে এই সরকার ৯ হাজার ১১৪টি স্কিমের টেন্ডারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হাজার হাজার কোটি টাকার কাটমানি নিয়ে ঠিকাদারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ব্রোকারদের ছবি প্রকাশ করে এটাও দাবি করেছেন যে, ৭/৮ শতাংশ টাকা সংগ্রহ করে ৩/৪ শতাংশ টাকা নাকি তারা তৃণমূলের পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে! এই কারণে ঠিকাদারদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট বলেছেন – ঠিকাদাররা যেন এখন কাজ না নেন, কারণ নিলে টাকা পাবেন না। কিন্তু কেন টাকা পাবেন না, সেটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। মনে করিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে যাবে। সে সময়ে তৃণমূল নেতারা ব্যস্ত থাকবেন ভোটের দৌড়ে। তাই কাজের কাজ কিছুই হবে না। ঠিকাদাররা একটাও টাকা পাবেন না। শুভেন্দু জানান, তাঁর আসল লক্ষ্য ঠিকাদারদের বাঁচানো।

আজ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের
জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মোট ১৩ হাজার ৪২১ শূন্যপদের জন্য নিয়োগ হবে। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মনে করেন, এসব পুরোটাই মনগড়া কথা। আদতে কিছুই হবে না এবং সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানেন!
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে টেন্ডার থেকে শুরু করে এসআইআর সব ইস্যুতেই তৃণমূল সরকারকে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নিশানা করেন বিজেপি বিধায়ক। সেই সময় প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো সব মনগড়া করছে, ওদের ইচ্ছে মতো। আইপ্যাকের পরামর্শ মতো করছে। এগুলোর কোনও বাস্তবতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে চাকরি দেবেন না সবাই জেনে গেছেন।’
]]>
পূর্ব বর্ধমানের পরে এবারে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার। বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে অস্বাভাবিক কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন আরও এক বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। মালবাজারে ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজের চাপে এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে ফের তোলপাড় শুরু হল বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজের চাপে বিএলও শান্তি মুনি ওরাওঁ আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ। এই নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই এই নিয়ে তৎপর হল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক তথা ডিইও-র কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল। মালবাজারের ওই বুথ লেভেল অফিসারের কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর পূর্ব বর্ধমানে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয় বিএলও নমিতা হাঁসদার। তিনি মেমারির চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন। অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি ছিল, রাতদিন এক করে কাজ করতে হচ্ছিল নমিতাকে। কাজের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকে ২৮ মৃত্যু
রাজ্যজুড়ে জোরকদমে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। একের পর এক মৃত্যুতে গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে কমিশনকে আক্রমণ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে ন্যায়সঙ্গত ভাবে কাজ করার কথা বলব এবং আরও প্রাণহানির আগে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের শাসকদলের তরফে এসআইআর-এর বিরোধিতা করে জানানো হয়েছিল, এক-দুই মাসের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া কী করে সম্পন্ন করা সম্ভব? ২০০২ সালে প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ হয়েছিল, সেখানে একমাসের মধ্যেই দ্রুততার সঙ্গে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী আদৌ সম্ভব? প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।
ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর ‘আতঙ্কে’ রাজ্যে একাধিক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে ২৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেউ আতঙ্কিত হয়ে, কেউ দুশ্চিন্তার কারণে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। কমিশনের অপরিকল্পিত ও অবিরাম কাজের চাপের কারণে মূল্যবান জীবন চলে যাচ্ছে। আগে যে প্রক্রিয়া ৩ বছর সময় লাগত, এখন রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার জন্য নির্বাচনের আগে মাত্র ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিএলওদের উপর অমানবিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’
কি অভিযোগ পরিবারের
মালবাজারের রাঙামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শান্তি আইসিডিএস কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি সামলাচ্ছিলেন ১০১ নম্বর বুথে বিএলও-র দায়িত্ব। মৃতা শান্তি মুনি ওরাওঁ (৪৮)-র পরিবারের অভিযোগ, বিএলও-র কাজের অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক বিপর্যয়ের জেরেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। প্রতিদিন ভোর থেকেই কাজ শুরু করতেন তিনি। কিন্তু বুধবার সকালে সন্দেহ হয় স্বামী সুখু এক্কার—রান্না হয়নি, স্ত্রীও বাড়িতে নেই। কিছু দূরে গিয়েই তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

সুখুর কথায়, বাংলা পড়তে-লিখতে না জানায় রোজই বাড়ত কাজের সমস্যা। কয়েক দিন আগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ব্লকের যুগ্ম বিডিও-র কাছে আবেদন করেছিলেন শান্তি। কিন্তু তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয় বলে দাবি তাঁর পরিবারের। সকাল ১১টা থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত টানা কাজ—এসবই ক্রমশ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছিল।
ছেলে ডিসুজা এক্কার কথায়, ‘আমরা কেউ বাংলা জানি না। মা সাহায্য চাইলে পারতাম না। ওঁকে প্রায়ই চাপের কথা বলতে শুনতাম।’
খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে যান রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণমন্ত্রী বুলুচিক বরাইক। তাঁর বক্তব্য, ‘এসআইআর আতঙ্কে বহু ভোটার এবং কর্মী বিপদের মুখে পড়ছেন। এবার কাজের অতিরিক্ত চাপ এক বিএলও-র জীবন কেড়ে নিল। ওঁরা হিন্দিভাষী হওয়ায় কাজ আরও কঠিন ছিল। এর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।’
]]>
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এরপরও রাজশাহীতে সিন্ডিকেট করে কৌশলে চামড়ার দরে পতন ঘটিয়েছেন আড়তদাররা। এর পেছনে গরুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ, অ্যানথাক্স ও চামড়ার মান খারাপের মতো অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন তারা। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, অসুস্থ কোরবানির পশু বিক্রির সুযোগ নেই। হাট বা খামারে বিক্রি হয়নি এ ধরনের গরু। আর অসুস্থ গরু কোরবানি হয়নি। কাজেই রোগের অজুহাত সম্পন্ন ভুয়া।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘কোরবানির জন্য নিখুঁত পশুর প্রয়োজন হয়। পশুকেও হতে হয় সুস্থ। এ ছাড়া পশুর দৃষ্টি, হাঁটাচলাও পরীক্ষা করে কোরবানি করা হয়। এ ধরনের পশু কোরবানি হলে কবুল হয়। অসুস্থ পশু কোরবানি দেওয়া জায়েজ নয়।’
এ বছর সরকার চামড়ার দর প্রতি বর্গফুটে পাঁচ টাকা বাড়ালেও বরাবরের মতো সেই সিন্ডিকেটই সক্রিয় থেকে ইচ্ছে মতো দরের পতন ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ৬০ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে চামড়া বিক্রি হয়েছে অর্ধেক দরে। আর এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগীতে তিন হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী।
এ ছাড়া সর্বনিম্ন কাঁচা চামড়ার দর এক হাজার ১৫০ টাকা ও খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা ও বকরির চামড়া ২০-২২ টাকা নির্ধারণ করে দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু ছাগল অথবা ভেড়ার চামড়ার দর পাওয়া যায়নি। অনেকে এই চামড়া নদী ও পুকুরে ফেলে দিয়েছেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গেলো দুই বছরের তুলনায় এবার বাজার খুব বাজে গেছে। চামড়া কেনা হয়েছে ৮০০ থেকে হাজার টাকায়। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে ৫০০ টাকাও দর পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ লবণ, শ্রমিক, খরচ সব মিলিয়ে সেই দর ওঠে না। উল্টো আরও লোকসান হয়। শুধু দর নির্ধারণ করে দিলেই হবে না। দর ঠিকভাবে বাস্তবায়ন, বাজার মনিটরিং, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব হ্রাস এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তার ব্যবস্থাও প্রয়োজন। না হলে প্রতি বছরই চামড়ার দর কমতে থাকবে।
রাজশাহী জেলায় কোরবানি হয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ৪৪৬টি পশু। বিভাগের আট জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এ বছর কোরবানির দুই লাখ ৮৭ হাজার ৫২৪টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৯০৫টি। আর ছাগলের চামড়ার সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার ৬১৯টি।
জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে সংরক্ষণ করা চামড়ার সংখ্যা ৬৭ হাজার ২৪৭টি। নাটোরে ৫৩ হাজার ৫১৩টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ হাজার ৭৩৮টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। বগুড়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩৬টি। পাবনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৪টি। সিরাজগঞ্জে সংরক্ষণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২২২টি। নওগাঁয় সংরক্ষণ করা হয়েছে ২১ হাজার ২৭৩টি। জয়পুরহাটে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৬৬ হাজার ১১১টি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর কোরবানির চামড়ার মূল্যবৃদ্ধি এবং এতিমদের হক আদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের এতিমখানা, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে বিনামূল্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন লবণ সরবরাহ করা হয়। যাতে স্থানীয়ভাবে দুই থেকে তিন মাস চামড়া সংরক্ষণ সম্ভব হয়।
অথচ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় উল্টো লোকসান গুনেছেন। এ বিষয়ে পবার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মুস্তাক আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেশি মূল্য নির্ধারণ করায় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় ৩০০ পিস চামড়া কিনেছি।
চামড়াগুলো বিকালে বাজারে তোলার পর প্রথম ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা কেউ দর জিজ্ঞাসাও করেনি। পরে গড়ে ৩৩০ টাকা করে সব বিক্রি করে দিয়েছি। এতে ৬০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। তাহলেই চামড়ার সুদিন ফিরবে।
মোহনপুর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী আবদুর রউফ বলেন, ‘আমি এবার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে দেড় হাজার চামড়া কিনেছি। এগুলোতে লবণ মাখিয়ে রাখা হয়েছে। রোগাক্রান্ত গরুর থাকতে পারে। তবে তা দেখা লাগবে। ট্যানারি মালিকরা কিভাবে দাম দেয় তাও দেখার বিষয়।’
রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘কতগুলো গরুর চামড়ায় ল্যাম্পি স্কিন আছে, তা আমি দেখাতে পারবো। সংগৃহীত ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট। তবু আমরা ঝুঁকি নিয়ে এই চামড়া কিনেছি। আমরা চাই না কারও লোকসান হোক।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান বলেন, রাজশাহীর কোনও হাটে লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত গরু বিক্রি হয়নি। রোগটি দৃশ্যমান হওয়ায় যেকোনো মানুষ দেখলেই বুঝতে পারেন। আর রোগ থাকলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করাও সম্ভব নয়। কাজেই এমন অজুহাত ভুয়া।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীরা লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করছেন। কিন্তু হাট বা খামারে এ ধরনের কোনও গরু বিক্রির সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে আমরা পরীক্ষা করে দেখবো।
]]>