বাড়িতে ১৯ বছরের মেয়ে থাকা সত্ত্বেও মেয়ের থেকে মাত্র বছর দুয়েকের বড় ২১ বছর বয়সী প্রাইভেট সেক্রেটারিকে বিয়ে করেছেন বিজেপির বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে রাতারাতি এভাবে প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নিজের বয়সের তিন ভাগের এক ভাগ বয়সী একটি মেয়েকে অবৈধভাবে বিয়ে করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের অথবা মামলার পাশাপাশি নয়া বিতর্কে ফেঁসেছেন বিজেপির খড়্গপুরের বিধায়ক।
২০২১ সালের মে মাসে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হিসেবে জিতে আসার পর থেকে এই রাতারাতি নাকি সুন্দরী মডেল ঋতিকা গিরির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। যার সুযোগ হয়ে যায় খড়্গপুরে বিধায়কের দপ্তর খুলে রাখার সুবাদে। পার্টি অফিসের মধ্যেই নাকি তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা পায় বলে জানা গিয়েছে।
তবে এবারে কিন্তু রীতিমতো এটমবোমা ফাটিয়ে দিলেন হিরনের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি তিনি ২০২১ সালের একটি ছবি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে পাস করে দিয়েছেন কিভাবে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বর্তমান বউ ঋতিকার কাছে ভাইফোঁটা নিয়েছিলেন ‘দাদা’ হিরন।
যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ঋতিকা হিরণকে ভাইফোঁটা দিচ্ছেন। আর সেই ছবি ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি যে, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে যদি ঋতিকা হিরণকে ভাইফোঁটা দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁদের পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের দাবি কীভাবে সত্য হয়?
অনিন্দিতার বক্তব্য যে, ছবিটি হিরণের খড়্গপুরের বাড়িতেই তোলা। তাঁর কথায়, “ভাই হিসেবে ভাইফোঁটা দেওয়ার পরে আবার সেই ব্যক্তিকেই বিয়ে করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিষয়টা ভাবতেই কেমন অস্বস্তি লাগছে।”
সকলের কাছে নাকি ঋতিকা গিরি-কে হিরণ পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘ছোট বোন’ বলে।
অনিন্দিতা জানিয়েছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে হিরণ নিয়মিত খড়্গপুর এবং কলকাতার বাড়ির মধ্যে যাতায়াত করতেন। তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কখনওই ছিল না। এমনকি ২০২৪ সালে তাঁরা বিদেশ সফরেও গিয়েছিলেন বলে দাবি অনিন্দিতার। সেই সময়ই প্রথম ঋতিকা সম্পর্কে কানাঘুষো শুনেছিলেন তিনি। তবে তখন হিরণ তাঁকে বলেছিলেন যে, ঋতিকা নাকি তাঁকে ভয় দেখাচ্ছেন। স্বামীর কথায় বিশ্বাসও করেছিলেন প্রথম স্ত্রী।

তবে সম্পর্ক যে একদমই মসৃণ ছিল না, সেটাও স্বীকার করেছেন অনিন্দিতা। তাঁর অভিযোগ যে, এই কয়েক বছরে তাঁর এবং তাঁর মেয়ের উপর মানসিক চাপ ও অনেক অত্যাচার হয়েছে। যদিও এতকিছু বিতর্কের মাঝেও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এখন তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে নানারকমের প্রশ্ন।
]]>
বেনারসীর লাল রঙে মোড়া এক সন্ধ্যা। আলো-ছায়ার মাঝে গঙ্গার ধারের বাতাসে যেন ঝলমল করছিল নতুন জীবনের ঘোষণা। হলুদ পাঞ্জাবিতে আত্মবিশ্বাসী হিরণ চট্টোপাধ্যায়, আর পাশে লাল বেনারসিতে স্নিগ্ধ কিন্তু স্পষ্টভাবে আত্মপ্রত্যয়ী ঋতিকা গিরি—এক ঝলকেই এই বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। রেড কার্পেট নয়, তবু ভিজ্যুয়ালটা ছিল নিখুঁত সিনেম্যাটিক। ক্যামেরা, ক্লিক, আর তারপরই শুরু প্রশ্নের বৃষ্টি।
বিয়ে মানেই তো গ্ল্যামার—কিন্তু এখানে গ্ল্যামারের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এল বিতর্ক। ২১ বছরের মডেল ও আইনের ছাত্রী ঋতিকা গিরির সঙ্গে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিযোগের তীর ছুড়লেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। দাবি, ২০০০ সালে হওয়া তাঁদের বিয়ে আইনত ভাঙেনি, ডিভোর্সের মামলাও নেই। ১৯ বছরের মেয়ের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে মাত্র দু’বছরের বড়—এই তথ্যই মুহূর্তে খবরকে ভাইরাল করে দেয়।
এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণের ভক্তদের উচ্ছ্বাসও কম নয়। “দাদা আমার যেমন তেমন, বৌদি আমার মডার্ন”—এই ধরনের পোস্টে ঋতিকার ফিটনেস, যোগব্যায়ামে জাতীয় স্তরের গোল্ড মেডেল, মডেলিং প্রোফাইল—সব মিলিয়ে তাঁকে গ্ল্যামার গার্ল হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ তো সরাসরি সিনেমার পর্দায় তাঁকে দেখতে চাওয়ার দাবিও তুলেছেন। ইনস্টাগ্রাম-চালিত এই যুগে, আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মানেই ট্রেন্ডিং।
কিন্তু গ্ল্যামারের মাঝেই ঋতিকা নিজে মুখ খুলে স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিয়ে নতুন নয়—পাঁচ বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে আছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর দেওয়া বয়স সংক্রান্ত তথ্য ভুল, এবং তাঁকে ডিভোর্স নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বেনারসের মতো পবিত্র স্থানে, মা গঙ্গার জলকে সাক্ষী রেখে, অগ্নিকে সামনে রেখে এই বিয়ে—এখানে কোনও শো-অফ ছিল না, ছিল মানসিক পরিতৃপ্তি। তাঁর সোজাসাপ্টা চ্যালেঞ্জ, “যদি বেআইনি মনে হয়, আইনি পথে যান।”
এই বিতর্কে আরও আবেগ যোগ করেছে হিরণের কন্যা নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়ের শেয়ার করা ছোট্ট ভিডিয়ো। সেখানে মা অনিন্দিতার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা—“তুমিই আমার মা, তুমিই বাবা”—এই কথাগুলো নেটদুনিয়ায় আলাদা করে আলোড়ন ফেলে। একদিকে গ্ল্যামার, অন্যদিকে পারিবারিক যন্ত্রণা—দু’য়ের সংঘর্ষেই এই খবর থামতে চাইছে না।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে হিরণ মানেই ‘মজনু’, ‘জামাই ৪২০’, ‘জিও পাগলা’র মতো পরিচিত মুখ। ২০২০-র পর বড়পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, এই বিয়ে তাঁকে ফের শিরোনামে ফিরিয়ে আনল। তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে সব ছবি মুছে ফেলেছেন তিনি—নীরবতার মধ্যেও যে সিদ্ধান্তের ভার আছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
রাজনীতি, গ্ল্যামার আর ব্যক্তিগত জীবনের এই মিশেলে হিরণ-ঋতিকা অধ্যায় এখন টক অফ দ্য টাউন। বেনারসের সেই লাল বেনারসির মতোই, এই গল্পও রয়ে গেল উজ্জ্বল—কিন্তু প্রশ্নচিহ্নে ভরা।
]]>
বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহ অব্যাহত। এবারে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওঁরাও।
সম্প্রতি জেলা ও মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। এনিয়ে দলের নিচের তলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ রয়েছে । বিশেষ করে জেলা সভাপতিদের বদল না করায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে । এবারে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওঁরাও এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে ।
তিনি লিখেছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ বাংলায় পরিবর্তন আনতে জান প্রাণ লাগিয়ে দিচ্ছে। কয়েকজন নেতৃত্ব ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠে পরে লেগেছে। কিন্তু কয়েকজন সাধারণ কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে ও তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে চাটুকারিকেই প্রধান্য দিচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচনে দলের রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।’ এরপর তিনি লিখেছেন, ‘এই পরিবেশে দলের কোনও দায়িত্বে থাকতে পারছি না। তাই সব দলীয় পদ থেকে অব্যহতি নিলাম। একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে থাকব।’
এদিকে তার এই পোস্টের পরেই বিজেপির মধ্যে তোলপাড় পড়ে গেছে । যদিও এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলা বিজেপির কোনো নেতা । আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মনোজ টিপ্পা বলেছেন,’যা বলার পরে বলবো । এই মুহুর্তে সংবাদমাধ্যমের কাছে আমি কিছু বলব না ।’

উল্লেখ্য,দলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক । তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে । যদিও নিজের ছবির উপর গেরুয়া রঙের অক্ষরে তিনি লিখেছেন, ‘মাঠেই আছি, মাঠ ছাড়ছি না, মাঠেই দেখা
হবে।’
]]>
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে BJP। বছর ঘুরলেই রাজ্যে ফের একটি বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বাংলায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে BJP? নাকি এটা নিছকই শাসকদল তৃণণূলের ‘চাপে ফেলার প্রচার’? বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও অন্তত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতার মন্তব্যে সেই জল্পনাই মাথাচাড়া দিয়েছে।
তাঁর দাবি একসঙ্গে ১২ বিজেপি বিধায়ক নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন।
একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেছেন, “কোচবিহারে তিন বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন তাঁরা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির অনেক এমএলএ আমাদের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমার ধারণা ১০-১১ জনেরও বেশি বিধায়ক নির্বাচনের আগে দল বদল করবেন। সংখ্যাটা এক ডজনও হতে পারে।”
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই খাস শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল তৃণমূল। সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধায়ক হওয়া তাপসী মণ্ডল দলবদল করে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলকে দলবদলের বড় ‘পুরস্কার’ও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে রাজ্য নারী ও শিশু ও সমাজ কল্যাণ দফতরের অধীনে নারী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় বিজেপিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে তাপসী মণ্ডলকে দলে টানার পর থেকে তৃণমূলের বড়-ছোট নেতারা বিজেপির আরও বিধায়কের দল বদলের জল্পনা তুঙ্গে তুলেছেন। সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, বিজেপির বেশ কয়েকজন সাংসদ তৃণমূলে আসার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছেন। এমনকী কুণাল ঘোষের দাবি ছিল, বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়কও তৃণমূলে যোগ দিতে ইচ্ছুক। কুণালের সেই মন্তব্যের পরপরই এবার তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এহন মন্তব্যে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
]]>প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে নারাজ বলে আগেই একাধিকবার বিভিন্ন জনসভা থেকে প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক।
এবারে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেও অনাস্থা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মন্ডল।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার ঠিক আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন হলদিয়ার সিপিএম বিধায়ক তাপসী মন্ডল।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন তাপসী।

এবারে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় এক বছর বাকি থাকতেই আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন তাপসী।
কেন দলবদল করলেন তাপসী মণ্ডল? সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। বেশ কিছু দায়িত্ব থেকে তাপসীকে তিনি সরিয়ে দিয়েছিলেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এছাড়া গত মাসে হলদিয়ায় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (বিএমএস) সমাবেশে আমন্ত্রণ করা হয়নি তাপসীকে।
খোদ বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেই সভা থেকেই নাম না করে তাপসীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দাবি করেছিলেন, কেউ কেউ অন্য সংগঠন করছেন। দল ভাঙাচ্ছেন!
Suvendu loses Medinipur: ফের মুখ পুড়ল শুভেন্দুর, শুভেন্দুর খাস তালুকে গোহারান হারল বিজেপি
তার পাল্টা দিতে দেখা গেছিল তাপসীকেও। বলেছিলেন সাংসদ হলদিয়া সম্পর্কে কিছু না জেনেই এই মন্তব্য করেছেন। সেই ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই তৃণমূলে এলেন তাপসী মণ্ডল।
]]>অবশেষে দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta to be Delhi’s New CM)। এদিনই দিল্লি বিজেপির পরিষদীয় দল তাঁকে নেত্রীর হিসাবে বেছে নেয়। এক্স হ্যান্ডেলে এই মর্মে পোস্ট করা হয়েছে । কালই তিনি শপথ নেবেন বলে খবর।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু, ভোটে জেতার পর ১১ দিন কেটে গেলেও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স ও আমেরিকা সফরের জন্য এই বাছাই-প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে বলে জানা যায়। স্বভাবতই ভেসে আসছিল একাধিক নাম।
রেখা গুপ্তার নাম বিজেপি দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিতেই একে একে দলীয় বিধায়ক ও দলীয় নেতারা তাঁকে অভিনন্দন জানান। তাঁর বাড়ির সামনে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। বাজি ফাটিয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। দলের দিল্লি অফিসের বাইরেও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
দিল্লির শালিমার বাগ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবারই তিনি রামলীলা ময়দানে শপথ নিতে পারেন বলে খবর। এদিন নব-নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক রবিশঙ্কর প্রসাদ ও ওমপ্রকাশ ধনকড়। সেখানেই রেখা গুপ্তার নামে সিলমোহর পড়ে। প্রাথমিকভাবে তাঁর নামের কথা অফিসিয়ালি সামনে আসে দিল্লি বিজেপির এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে। একটি হিন্দি পোস্টে দলীয় এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, “দিল্লি বিজেপির পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় রেখা গুপ্তাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।”

রেখা গুপ্তা দিল্লির চতুর্থ মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে জায়গা করে নেওয়াই, দিল্লি সরকারকে অতিশীর পর ফের কোনও মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্ব দিতে চলেছেন। এর আগেও দিল্লিতে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী সরকার চালিয়েছেন। আম আদমি পার্টির অতিশীর পর রেখা গুপ্তা পরবর্তী মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।
]]>একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে গত সাড়ে তিন বছরে চতুর্থ বার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ চার জন বিজেপি বিধায়ককে একমাসের জন্য সাসপেন্ড করলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও সাসপেন্ড করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল, বঙ্কিম ঘোষ এবং বিশ্বনাথ কারক। এর ফলে এক মাস বিধানসভার অধিবেশন বা আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা সহ ৪ বিজেপি বিধায়ক।
সরস্বতী পুজোর আয়োজনে রাজ্যে বাধা পেতে হচ্ছে, এই অভিযোগ করে বিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাব আনা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। মুলতুবি প্রস্তাব পড়তে দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মুলতুবি প্রস্তাব পড়েন অগ্নিমিত্রা পাল। মুলতুবি প্রস্তাবের উপর আলোচনা চায় বিজেপি। কিন্তু, অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে না। এরপরই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিতে থাকেন। স্পিকারের চেয়ারের কাছে গিয়ে কাগজ ছিঁড়ে ছুড়ে দেন শুভেন্দু। এর পরই ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা।
বিজেপির এই আচরণের নিন্দা করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আপনারা যে আচরণ করছেন যথাযথ নয়। নিন্দা করছি।” বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ শুভেন্দুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শুভেন্দু অধিকারী অধ্যক্ষের দিকে তেড়ে এসে কাগজ ছুড়ে মেরেছেন বিরোধী দলনেতা। যা অধ্যক্ষ পদের পক্ষে অবমাননাকর। এই অভিযোগ তুলেই বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং তাঁকে সাসপেন্ড করার দাবি তোলে শাসক দল।
এর পরই চার বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করার কথা জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিধানসভার বাইরে শুভেন্দু বলেন, “হিন্দুদের হয়ে কথা বলতে গিয়ে আমায় এক মাস বাইরে রাখা হয়েছে। আমি গর্বিত।”
বিরোধী দলনেতার অবশ্য পাল্টা দাবি, পূর্ব পরিকল্পিত ছক অনুযায়ী তাঁকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ে চার বার আমাকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হল। চার বছরে এই নিয়ে মোট আট মাস আমাকে বিধানসভার বাইরে রাখা হল। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের ভাষণের উপরে জবাবি বক্তব্য রাখবেন। তাই তিনি যাতে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতেই আমাকে অবৈধ ভাবে সাসপেন্ড করা হল।’
আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়ও বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার ভিতরে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তার বদলে বিধানসভার গেটে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তিনিও পাল্টা বিধানসভার গেট থেকে বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দু বলেন, “দেখবেন, আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। আমিও বিধানসভার বাইরে বক্তব্য রাখব।” সাসপেন্ড করায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধানসভার এক মাসের ভাতাও তিনি নেবেন না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
]]>তোলাবাজি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের তদন্তে নতুন মোড়। এই মামলায় কোচবিহারের বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে-কে তলব করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তাঁকে ই-মেলের মাধ্যমে তলব পাঠিয়েছে। বিধায়ককে আগামী তিন দিনের মধ্যে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
তোলাবাজি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, তোলাবাজি চক্রে জড়িত ব্যক্তিরা অভিষেকের নাম ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করছিল। এ নিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের তদন্তে উঠে এসেছে নিখিলরঞ্জন দে-র নাম।
নিখিলরঞ্জন দে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, “আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” তবে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে আখ্যা দিয়েছে। নিখিলরঞ্জন দে-কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ পুরো ঘটনাটি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ডিসেম্বর কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করেন বলে অভিযুক্তরা। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের ডিপিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তরা কালনার চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলেন যে, তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে কথা বলছেন। এছাড়াও তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদস্থ সরকারি আধিকারিক বলেও দাবি করেন অভিযুক্তরা। কালনার চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। এই ঘটনায় কালনা পুরসভার চেয়ারম্যানের সন্দেহ হয়। তিনি দলের কয়েকজনের সঙ্গে ঘটনাটি আলোচনা করেন।
এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ফোন করে গোটা বিষয়টি তিনি জানতে চান। পরে জানা যায়, গোটাটাই একটা চক্রান্ত। সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেন এবং সেক্সপিয়ার সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে ফোন করে তোলা আদায় করার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও, শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁরাও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে টাকা তুলতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ে।
]]>নিয়ম লঙ্ঘন করে বিধানসভা ভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে বিতর্কে জড়ালেন বাংলার দুই বিজেপি বিধায়ক। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ঢোকার সময় ২ বিজেপি বিধায়ককে আটকাল পুলিশ। শঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দাকে আটকালেন বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা। ২০২১ সালে বিতর্কের পর বিধানসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে না ঢোকার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ।
যদিও ২০২১ সালের সেই নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও আজ মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিধানসভার গেটে তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। দুজন সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্স নিয়ে গাড়ি চেপে বিধানসভার ভেতর ঢুকতে যান বিজেপির মুখ্য সচেতন শংকর ঘোষ। চালকের আসনে ছিলেন আরেক বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। গেটে তাদের আটকানো হয়। কারণ বিধানসভার অভ্যন্তরে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্স নিয়ে ঢোকা বারণ।
২০২১ সালে বিধানসভার অভ্যন্তরে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্স এর সঙ্গে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল সাংবাদিকদের। এরপরই অধ্যক্ষ নির্দেশ দেন সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্স নিয়ে ভেতরে ঢোকা যাবেনা। মূল গেটের বাইরেই তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। এই নিয়ে বিধানসভায় একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গেট থেকে গাড়িতে না চেপে পায়ে হেঁটে বিধানসভায় ঢোকেন।
মঙ্গলবার হঠাৎ করে দুজন বিজেপি বিধায়ক কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করায় বেশ কিছুটা আলোড়ন তৈরি হয়। শংকর ঘোষ নিরাপত্তা আধিকারিকের কাছে জানতে চান কাছে জানতে চান কি কারনে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কোন অর্ডার আছে। আধিকারিক জানান অধ্যক্ষের অর্ডার আছে। তারা সেই অর্ডারের কপি চান। শেষ পর্যন্ত সেই অর্ডারের কপি দেখার পর তারা সিকিউরিটি ফোর্সকে বাইরে পাঠিয়ে নিজেরা ভেতরে ঢোকেন।
বিধানসভা সূত্রে খবর অধ্যক্ষের এই অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ বিধানসভার ভেতরে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সে কারণেই কি এদিন সিকিউরিটি ফোর্স নিয়ে বিধানসভার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা?; বিধানসভার পক্ষ থেকে অবশ্য পাল্টা বলা হয়েছে অর্ডার যে আছে তা তো বিলক্ষণ জানেন বিজেপির বিধায়করা। না হলে আর মামলা করলেন কেন? কিন্তু যে ঘটনা ঘটানো হলো সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিধায়কদের কাছ থেকে এটা কখনোই আশা করা যায় না।
]]>