পূর্ব ঘোষণা মতোই যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে থাকা দোকান বাজার গুঁড়িয়ে দিয়ে রাতারাতি এলাকার সাফ করে ফেলল বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বুলডোজার। আর নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে না পারা তৃণমূল আন্দোলনে নামতে সংকোচবোধ করলেও বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তী। পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন।
যাদবপুর স্টেশনে (Jadavpur Station) হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র যাদবপুর। রবিবার সন্ধে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। বুলডোজ়ার (Bulldozer) দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়, একের পর এক বেআইনি দোকান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন সিপিএম (CPIM) ও কংগ্রেস নেতারা (Congress)। উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ করেন সুজন (Sujan Chakraborty), সৃজনরা (Srijan Bhattacharya)। ঘটনা প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পুলিশ অসভ্যের মতো, অমানুষের মতো, ডবল ইঞ্জিন সরকারের অর্ডার নিয়ে পিটিয়েছে। প্রথমে বাচ্চাদের উপরে, আমি বাঁচাতে গেলে আমাকে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। উচ্ছেদ রুখতে গিয়ে বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার সন্ধ্যা থেকেই যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। যেকোনো রকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে আগেভাগেই প্রস্তুত ছিল প্রশাসন। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখক কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ (GRP) এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। উচ্ছেদস্থলের চারিদিকে লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, যাতে বহিরাগত কেউ ঢুকতে করতে না পারে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন রেলের বুলডোজারগুলি এগোতে শুরু করে, তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাম-কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। উচ্ছেদ আটকাতে এক অভূতপূর্ব প্রতিরোধের সৃষ্টি হয়। বহু আন্দোলনকারী চলন্ত বুলডোজারের সামনে শুয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার সরাসরি মেশিনের ওপরে উঠে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মৃদু লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পুলিশের এই পদক্ষেপের জেরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। এই ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে গুরুতর জখম হন বিশিষ্ট নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর মাথায় গভীর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন।
ঘটনাস্থল থেকে সিপিআইএম (CPIM) নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের আওতায় একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভ্যানের ভেতর থেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৃজন বলেন, “আদালত এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঝরাতে এই গায়ের জোরের উচ্ছেদ চালাচ্ছে রেল। আমাদের সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে বামপন্থী অভিনেত্রী তথা সমাজকর্মী ঊষসী চক্রবর্তী এবং কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদও উপস্থিত থেকে রেলের এই আকস্মিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন।
ঊষশী চক্রবর্তী বলেন, “অনেক আশা-আকাঙখা নিয়ে সরকার বদল করেছেন। সরকারের সহানুভূতির সঙ্গে এটা বিচার করা উচিৎ। শহরবাসী হিসেবে আমিও চাই রাস্তাঘাট, স্টেশন ঝকঝকে হোক। কিন্তু, যে গরিব মানুষের রুটি-রুজি এখানে যুক্ত তাঁদের আগে পুনর্বাসন করা হোক।”
সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, সৃজন ভট্টাচার্য সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক রামগড়ের ঋতব্রত ঘোষ। জানা গিয়েছে, জয়রাজ ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তীর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আহত প্রায় ১৫। এদিকে, সৃজন ভট্টাচার্যের মুক্তির দাবিতে রাত তিনটে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন ছাত্রছাত্রীরা।

আন্দোলনকারী ও বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এই উচ্ছেদ অমানবিক। আদালত খোলার পর রেলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বসার কথা ছিল। সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই রাতের অন্ধকারে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্টেশন চত্বরের এই দোকান ও নির্মাণগুলি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং রেলের নিজস্ব জমিতে জবরদখল হয়ে ছিল। নিয়মানুযায়ী এবং আইনি পথ মেনেই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
]]>যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি হস্টেল সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হস্টেলগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ, পুজোর ছুটির সময় যেন কোনও বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারবে।
কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের আরও নির্দেশ, পুজো শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধান-এই সব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার পর হস্টেলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে। আদালত এ-ও বলেছে, ছুটির পর আবার হস্টেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। পুজোর ছুটি চলাকালীন যাতে সমস্ত হস্টেলের তালা বন্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাদবপুর থানাকে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, যাদবপুর থানার পুলিশ পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখবে। প্রয়োজনে পুলিশি সাহায্য নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুজোর ছুটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ করে দিতে হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত হস্টেলের ঘর। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও হস্টেলের ঘর যাতে খোলা না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে যাদবপুর থানার পুলিশকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ওপর হামলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেখানে সিসিটিভি লাগানো থেকে শুরু করে বহিরাগত তত্ত্ব উঠে এসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুজোর ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও হস্টেল খুলে রাখা যাবেনা। পুজোর সময় যাতে কোনো বহিরাগত হস্টেলে ঢুকতে না পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যাদবপুর থানার পুলিশকে। পুজোর পর খুলতে হবে হোস্টেল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় সিসিটিভি বসানো-সহ একাধিক দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়েছে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত বহিরাগতদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে৷ বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সিসিটিভি-সহ ভিতরে পুলিশের নিরাপত্তার ব্যবস্থার দাবিতে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। এর আগে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল৷
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘মাননীয় বিচারপতি একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যখন রায় দিচ্ছেন, তখন বুঝতে হবে বাকি ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর রায় নেই। তাহলে যাদবপুর নিয়ে এরকম উদ্বেগ এবং শঙ্কার কারণ আছে বলেই এই ধরনের রায় হচ্ছে। ৩১টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এক নিয়ম আর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এত কড়াকড়ি, এত বিধিনিষেধ, নিয়ম-কানুন তাহলে মাননীয় বিচারপতিও জানেন যে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কারা কীভাবে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। আমি বিচারপতিকে, যিনি এই সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছেন আমি তাঁকে স্বাগত জানাই।’
যত কান্ড যাদবপুরে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুতে নতুন মোড় এসেছে। পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে গোয়েন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মূল প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ হস্তান্তর করেছে, কিন্তু ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো ফুটেজ না থাকায় তদন্তকারীরা মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ওপর নির্ভর করছেন। পুলিশ ওই রাতে ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা তিনজন পড়ুয়াকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছে। তাদের বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও ঘটনাস্থলে নিয়ে আসার কথা ভাবা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান- দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনামিকার মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি খুন, সেই রহস্যের জট খুলতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে লালবাজার।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করে। প্রথমেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে রেকর্ড খতিয়ে দেখে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ, হোস্টেলের হাজিরা তালিকা, রাত্রিকালীন নিরাপত্তা রাউন্ডের রিপোর্ট-সব কিছু সংগ্রহ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদের আলাদা করে ডেকে জেরা করা হয়। কিছু ছাত্র জানান, হোস্টেলের মধ্যে রাতে নির্দিষ্ট কিছু ঘর থেকে চিৎকার বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যেত, কিন্তু ভয় বা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে কেউ মুখ খোলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন যে, বিগত কয়েক বছরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়েছে। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ, ছাত্র রাজনীতির নামে দাদাগিরি, এমনকি নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে আসে। শিক্ষকরা চান ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক, কিন্তু ছাত্রদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি প্রভাব তাঁরা চান না। গোয়েন্দারা হোস্টেলের বিভিন্ন ঘর ঘুরে দেখে, কিছু জায়গায় ছাত্রদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পরীক্ষা করে। এতে কিছু ছাত্র ক্ষুব্ধ হয় এবং ক্যাম্পাসের গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। কিন্তু গোয়েন্দারা জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য কাউকে হেনস্থা করা নয়, বরং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরের পুকুরে অনামিকাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। অনামিকার পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। তাঁদের দাবি, আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সে ওই রাতে একা একা পুকুরের ধারে যেত না। বাবার এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ঘটনার দিন রাতে প্রথম কে অনামিকাকে পুকুরে পড়ে থাকতে দেখেছিলেন, তা খুঁজে বের করা। এই মুহূর্তে পুলিশ জানতে চাইছে, সেই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী, নাকি কোনো বহিরাগত। এই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ধারণা মেলেনি।
]]>
স্বাভাবিকভাবে জলে পড়ে মৃত্যু হয়নি আমার মেয়ের। ওকে নিশ্চয়ই কেউ ডেকেছিল। তারপর যেতেই ওঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। ও কখনওই অন্ধকারে একা যেত না, ভয় পেত। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে যাদবপুর ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় খুুনের অভিযোগ তুললেন নিহতের বাবা অর্ণব মণ্ডল। যাদবপুরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডল বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কি লটে আয়োজিত ড্রামা ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের মাঝেই হঠাৎ করে ৪ নং গেট লাগোয়া ঝিলের পাশে থাকা শৌচালয়ে যান তিনি। তারপর আর ফেরেননি।
শুক্রবার অনামিকার ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে তাতে বলা হয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে ওই পড়ুয়ার। তারপরেও খুনের অভিযোগ করে বাবা অর্ণব মণ্ডল বলেন, ওকে নিশ্চয়ই কেউ কোনও প্রস্তাব দিয়েছিল। যাতে ও রাজি হয়নি বলেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। ও ইচ্ছাকৃত জলে পড়ে যায়নি। যেখান থেকে ওর দেহ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে ওকে কেউ ডেকেছিল বলেই মনে হচ্ছে। যদি আমি ধরেওনি ও শৌচালয়ে যাওয়ার জন্যই ঝিল পাড়ে গিয়েছিল, তাও আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ও ওই অন্ধকারে যাবে। ও একা ওখানে যেতেই পারে না।
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তৎপর জাতীয় মহিলা কমিশন। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। চেয়ারপার্সন বিজয়া রোহতকর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে এই মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ছাত্রীমৃত্যুর ফরেন্সিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মৃতার পরিবারের কাছে নিয়মিত আপডেট পৌঁছে দিতে হবে।
কোন পথে তদন্ত
কীভাবে মৃত্যু, সেটাই এখনও পুরোপুরি রহস্য।পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঠিক কী জানিয়েছিলেন মৃত অনামিকা মণ্ডলের বন্ধুরা? তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী তাঁরা জানান, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাতের দিকে ঝিলপাড়ে বসেছিলেন ৫ বন্ধু। তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন অনামিকা। সকলে মিলে মদ্যপান করেন। এরপরই জলে নামার ইচ্ছে প্রকাশ করেন সকলেই। পুলিশি জেরায় বন্ধুদের দাবি, অনামিকা নাকি বলেন, গরম লাগছে, আমি জলে নামব। বন্ধুরা জানত তিনি সাঁতার জানেন না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বারণ করেন। কিন্তু ঝিলে জল বিশেষ না থাকায় এতবড় বিপদের আশঙ্কা করেনি কেউ। আচমকাই নাকি ঝিলে নামেন অনামিকা। মদ্যপ অবস্থায় বন্ধুরা বোঝেন তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে মৃতার বন্ধুরা দাবি করেন, তাঁরা অনামিকাকে বাঁচাতে জলে নামেন। তুলে আনেন বন্ধুকে। কিন্তু ততক্ষণে অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন অনামিকা। চিৎকার করে তাঁরা লোক ডাকে। খবর দেওয়া হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। সঙ্গে সঙ্গে অনামিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। দেহে মেলেনি কোনও আঘাতের চিহ্নি। কিন্তু যে ঝিলে পড়েছিলেন তরুণী, সেটির গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট। ফলে সেখানে পড়ে মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন থাকছেই। যদিও চিকিৎসকদের থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গভীরতার উপর মৃত্যু নির্ভর করে না অনেকক্ষেত্রেই। একটা নির্দিষ্ট সময় নাক-মুখ জলের নিচে থাকলে মৃত্যু ঘটতেই পারে। মদ্যপ ছিলেন কি না তা ভিসেরা রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
কিন্তু শেষ ১৯ মিনিট ঘিরেই দানা বেঁধেছে রহস্য। বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেট লাগোয়া ঝিলে ভেসে ওঠা মৃতদেহ ঘিরে শুধুই ধোঁয়াশা। প্রাথমিক নজরে এবং ময়নাতদন্তে জলে ডুবে মৃত্যুর কথা উঠে এলেও, ঘটনার নেপথ্যে কোনও ঘটনা নেই তো? সেটাই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা অনামিকা মণ্ডল। অনুষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া, তারপর আর না ফেরা, ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। ঠিক কী হয়েছিল সেই ১৯ মিনিটে। এই সময়কালে কারা শেষবার জীবিত অবস্থায় দেখেছিল তাঁকে? কারাই বা প্রথম তাঁর দেহ ভাসতে দেখেছিল? আর কারাই বা তাঁর দেহ উদ্ধার করেছিল? তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে সব প্রশ্নগুলিই। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামিকাল ঘটনাস্থলে যাবে ফরেন্সিকের একটি টিম। এছাড়াও, যারা প্রথম অনামিকাকে দেখেছিল, এমন সাত জনকে তলব করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ১০টা ১ মিনিটে নিহত ছাত্রীকে হেঁটে যেতে দেখেছিল বেশ কয়েকজন। তার কিছু সময় পরেই কয়েকজন ঝিলের দিকে ছুটে যায়। ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ১০টা ২০মিনিট নাগাদ উদ্ধার হয় ছাত্রীর দেহ। আর এই ১৯ মিনিটেই অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
]]>যাদবপুর আছে যাদবপুরেই। মাত্র ২ বছর আগে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের হত্যাকাণ্ডের পরেও যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছুই বদলায়নি তার প্রমাণ আরও একবার মিলল যাদবপুরে ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায়। তরুণী ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলে পড়ে গিয়েছিলেন ওই তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ইংরেজি বিভাগের অনামিকা মণ্ডল। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। এদিকে মেয়ের মৃত্যুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তার বাবা-মা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলছিল। ‘ড্রামা ক্লাবে’র তরফে ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের মধ্যে এই অনুষ্ঠান চলে বলে দাবি। তারই মধ্যে গতকাল রাত ১০টা থেকে ১০.৩০টা নাগাদ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় বলে খবর। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছে একটি শৌচালয় রয়েছে। ঠিক তার পাশের পুকুর, কেউ কেউ ঝিল বলেন, ঠিক ওই স্থান থেকেই উদ্ধার হয় ‘অচেতন’ পড়ুয়ার দেহ। তবে পুকুরে ডুবে তাঁর মৃত্যু নাকি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে, এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি এখনও। ময়নাতদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে বলে খবর।
ইংরেজি বিভাগের এই ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু ফের বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠছে। ক্যাম্পাসে আদালতের নির্দেশের পরও শেষ পর্যন্ত কতগুলি সিসিটিভি বসেছে এবং যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেই ঝিলপাড়ে আদৌ সিসিটিভি বসেছে কিনা তাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি আছে কিনা স্পষ্ট নয়। ছাত্রী নিজেই পড়ে গেছেন নাকি তাকে কেউ ঠেলে ফেলে দিয়েছে? ছাত্রীর আচরণে পড়ে যাওয়ার আগে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল কি? সেই সময় তিনি একাই ঝিলপাড়ে ছিলেন নাকি সঙ্গে কেউ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর বা সিসিটিভি ফুটেজ আছে কিনা কোনওটাই এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। যারা ছাত্রীকে জল থেকে উদ্ধার করেছে তাদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিস। উদ্ধারের সময় কি ছাত্রী বেঁচে ছিলেন? জানতে চায় পুলিস। ছাত্রীকে কেউ জলে পড়ে যেতে দেখেছেন? জলে পড়ে যাওয়ার আগে বা পড়ে যাওয়ার সময় ছাত্রীর আচরণে কোন়ও অস্বাভাবিকতা ছিল? তিনি কি সেই সময় অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিস।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার সকালেই পরিদর্শনে পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টের তৈরি টাস্ক ফোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকেই বৃহস্পতিবারের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারা। ছাত্র-ছাত্রীদের মেন্টাল হেলথ সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতেই গোটা দেশ জুড়ে এই টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই টাস্ক ফোর্সই আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করছে।বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকেই গতকালের ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে জানতে চাইলেন তুললেন তারা।
এর মাঝেই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে খবর, গতকাল অত রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা জানানোই হয়নি কলেজে। বরং সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে বলে আগাম জানান হয়েছিল অনুষ্ঠানের আয়োজকদের তরফে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্ত জানিয়েছেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই ছাত্রীকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয় কেপিসি-তে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। এটা আমাদের কাছে দুঃখজনক। গতকাল হাসপাতালে ইংরেজি বিভাগের প্রধান উপস্থিত ছিলেন। তবে গতকাল কত রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলেছে সেই খবর নেই আমাদের কাছে। অমিতাভ জানান, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম নিরাপত্তারক্ষী ছিল। তাঁর কথা অনুযায়ী বিগত কয়েক বছরে অনেক নিরাপত্তারক্ষী অবসর নিয়েছে ফলে ঘাটতি বেড়েছে নিরাপত্তারক্ষীর। সীমিত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হচ্ছে বলেও এদিন দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে শোরগোল পরে গিয়েছে। ফিরে এসেছে আরও এক পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর স্মৃতি! দুই বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি নতুন করে মনে করিয়ে দিল এই মৃত্যু। ২০২৩ সালের ৯ অগস্ট একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে গুরুতর জখম অবস্থায় হস্টেলের নীচে পাওয়া গিয়েছিল। ছেলেকে হারানোর কষ্ট আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ওই পরিবারের সদস্যদের। নিহত ছাত্রের মা-বাবার আক্ষেপ, আমাদের ছেলে হস্টেলের তিন তলার বারান্দা থেকে কেন ঝাঁপ দিয়েছিল, তা আজও আমরা জানতে পারিনি। কেউ সত্যিটা জানাল না। যাদবপুরে কোনও শৃঙ্খলা নেই। দুই বছর আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ৩৭ লক্ষ টাকা খরচ করে পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানো হবে। সেটি আদৌ হয়েছে কি? আমরা তো কোনও বদল দেখিনি। মফস্বলের মেধাবী ছেলেমেয়েরা কি শুধু মৃত্যুবরণ করার জন্য যাদবপুরে আসে? তাঁদের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই র্যাগিংয়ের আঁতুড়ঘর। চার বছর আগে থেকেই তাঁরা প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল স্পষ্ট।
NIRF 2025 Ranking – বাংলার গর্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত NIRF Ranking 2025-এ নতুন মাইলফলক গড়ল Jadavpur University। দেশের সমস্ত State Public Universities-এর মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আর সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে তার স্থান নবম।
মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee এই সাফল্যে আপ্লুত। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন—
“শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও স্বীকৃতি পেল জেনে আনন্দিত! এই বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে প্রথম এবং সর্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় নবম।”
What is NIRF Ranking 2025?
National Institutional Ranking Framework (NIRF) হল কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের তৈরি একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে দেশের সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
NIRF ranking parameters include:
Teaching, Learning & Resources (TLR)
Research and Professional Practice (RP)
Graduation Outcomes (GO)
Outreach and Inclusivity (OI)
Perception (PR)
এই সূচকের ভিত্তিতেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্থান নির্ধারণ করা হয়।
Jadavpur University Performance in NIRF 2025
State Public Universities Category: Rank 1 (First in India)
Overall University Category: Rank 9 (Only state university in top 10)
এই সাফল্যে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা আরও বাড়ল।
Mamata Banerjee’s Reaction
মুখ্যমন্ত্রী জানান—
“এটিই একমাত্র স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার শীর্ষ ১০-এ স্থান পেয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও কর্মচারীদের আমি অভিনন্দন জানাই।”
Bengal Universities in NIRF Ranking 2025
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও, Bengal-এর আরও কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ বছর NIRF Ranking 2025-এ ভালো পারফর্ম করেছে। যেমন:
Presidency University – উন্নত গবেষণার জন্য প্রশংসিত
Calcutta University – শীর্ষ 20-এর মধ্যে স্থান ধরে রেখেছে
IISER Kolkata – Science research category-তে উল্লেখযোগ্য সাফল্য
এতে বোঝা যাচ্ছে, বাংলার higher education sector ক্রমেই দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে আসছে।
Why Jadavpur University Tops NIRF 2025
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে—
বিশ্বমানের research and innovation
Industry collaboration এবং patents
উচ্চমানের faculty এবং infrastructure
বহুমুখী student exchange ও international tie-ups
এছাড়াও, inclusivity ও merit-based শিক্ষার সুযোগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম সেরা করেছে।

NIRF 2025 Ranking Jadavpur University-র জন্য বাংলার শিক্ষা জগতে যুক্ত হল এক নতুন পালক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়, এটি বাংলার গর্ব এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্য।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করেছে— সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, শিক্ষাদান এবং ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে বিশ্বমানের স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব।
বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই অর্জন আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
]]>বাংলায় বামপন্থী ভাবধারার অন্যতম পীঠস্থান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবার এক ভিন্ন চিত্রের সাক্ষী থাকল। রাম নবমী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গেরুয়া পতাকা এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর দক্ষিণপন্থী ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রাম পুজোর আয়োজন করে।
শনিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাম-নবমী পালন করতে চেয়েছিল এবিভিপি। তবে তাতে অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রাম-নবমী পালন ডানপন্থী পড়ুয়াদের। উড়ল ‘জয় শ্রীরামের’ পতাকা। বাম-অতিবামদের ‘ঘাঁটি’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া পতাকা! নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ভবনে পড়ুয়াদের একাংশ রাম পুজো করছেন বলে অভিযোগ। স্রেফ তাই নয়, জাতীয় পতাকা দিয়ে যাদবপুরের দেওয়ালে ‘আজাদ কাশ্মীর’ স্লোগানও ঢাকা হল রামনবমীর দিনেই।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে রাম-পুজো করছে ডানপন্থী পড়ুয়ারা। শনিবারই ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকেছে রামের মূর্তি। প্যান্ডেল করে পুজোর সব তোড়জোড় শুরু করেছে ডানপন্থী পড়ুয়ারা। যাদবপুরের ছাত্র নেতা বলেন, “একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অল্প কিছু নকশাল রয়েছে। তারা বাদ দিয়ে আমরা সকলেই আজ এখানে রাম পুজো করছি।” তবে যাবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ গতকাল বলেছিল, এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও কর্তৃপক্ষ নেই। যে অস্থায়ী উপাচার্য ছিলেন, তাঁকেও আচার্য সিভি আনন্দ বোস সরিয়ে দিয়েছেন। ফলত, উপাচার্য না থাকার জন্য এই ধরনের কোনও অনুষ্ঠান পালন করা যাবে না। এই মর্মে একটি রেজুলিউশনও পাস করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যেখানে সহ উপাচার্য, ডিন-দের সই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
যদিও, কলকাতা জেলা সম্পাদক দেবাঞ্জন পাল বলেছিলেন,”আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ছোট করে আরাধ্য দেবতা শ্রী রামচন্দ্রের একটা আরাধনা করব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তো আর পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নয়! এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ইফতার হতে পারে, যদি সরস্বতী পুজোর মতো বিভিন্ন উৎসব ধুমধাম করে পালিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের একপেশে সিদ্ধান্ত আমরা অনেক আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম।” অনুমতি না পেলেও অবস্থানে অনড় থাকেন পড়ুয়াদের একাংশ। রবিবার সবুজ রঙের রাম প্রভুর প্রতিমা এনে পুজো করেন ছাত্রদের একাংশ। এই প্রথমবার যাদবপুরের ক্যাম্পাসে রামনবমী পালন করলেন পড়ুয়ারা।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাদবপুর বরাবরই বাম ও অতিবাম ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে গেরুয়া পতাকা এবং রাম নবমীর পুজোকে অনেকেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
]]>আর তিন পরে শেষ হত মেয়াদ। তার আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের পদ থেকে ভাস্কর গুপ্তকে সরিয়ে দিল রাজভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে ইতিমধ্যেই এই মর্মে চিঠি পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যপালের তরফে। কিন্তু, ভাস্কর গুপ্তের জায়গায় উপাচার্যের দায়িত্বভার কে গ্রহণ করবেন সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি।
অবসরের আগেই সরিয়ে দেওয়া হল যাদবপুরের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গন্ডগোলের জেরে অপসারণের সিদ্ধান্ত? ২০২৪-এর ২০ এপ্রিল ভাস্কর গুপ্তকে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করেন রাজ্যপাল। নিয়োগের সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল রাজভবন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ভাস্কর গুপ্ত। নথি অনুযায়ী চলতি মাসের ৩১ তারিখ অবসর গ্রহণ করার কথা তাঁর। তবে তার আগেই, ২৭ মার্চ অর্থাৎ গতকাল রাজভবনের তরফে উপাচার্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভাস্কর গুপ্তের নিয়োগ সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয় চিঠিতে। রাজভবনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ”২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে অধ্যাপক ভাস্কর গুপ্তকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এই বিজ্ঞপ্তি জারির সময় থেকেই তা কার্যকর হবে। আচার্যের অনুমোদনে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে।”
ভাস্কর গুপ্ত অবশ্য জানিয়েছেন, চাকরি জীবনের বাকি তিন দিন তিনি ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ”২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। চার দিন আগে এই চিঠি দেওয়া হল। ৩১ তারিখ পর্যন্ত আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে থাকব। আমি যত দিন উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলাম, যাদবপুরের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করেছি।” ওয়াকিবহল মহলের ধারণা, যাদবপুরের অশান্তির জেরেই এই পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে ওয়েবকুপার বৈঠককে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরুতেই উত্তাল হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। আক্রান্ত হন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও উপাচার্য। দুই ছাত্রনেতাও জখম হন। ঘটনার জল গড়ায় আদালতে। সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানাল, যাদবপুরে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ কাউকে নিয়ে কোনও সেমিনার বা মিটিং করা যাবে না। পাশাপাশি আদালতের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় জানা সত্ত্বেও কেন রাজনৈতিক নেতা সেখানে গিয়েছিলেন?
আদালতের নির্দেশ, পড়াশোনার বিষয় ছাড়া অন্য এমন কোনও অনুষ্ঠান বা সেমিনারের আয়োজন করা যাবে না বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার বিষয়েও কর্তৃপক্ষের কাছে হলফনামা চেয়েছে আদালত। বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে তা জানাতে হবে। একই সঙ্গে উল্লেখ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ কী করেছেন। আদালতের নির্দেশ, পড়াশোনার বিষয় ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান বা সেমিনার করা যাবে না যাদবপুরে। এদিন বিষয়টা সামনে আসতেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু উষ্মা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ”রবীন্দ্রভারতী থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যে ভাবে অচলাবস্থার এগিয়েছে, যাদবপুরও সেই পথে এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা থেকে এক জনকে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা যেত। রাজ্যপাল সেটা করলেন না। উল্টে অচলাবস্থা তৈরি করলেন।”
]]>যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টির ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল। ভিডিয়ো পোস্ট করে বাম-তৃণমূলকে একযোগে কটাক্ষ করলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোর কথা উঠলে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ ওঠে। আর এই সব ক্ষেত্রে ছদ্ম ধর্মনিরেপক্ষতা। এক্স হ্যান্ডেলে এই মর্মে পোস্ট করে তোপ দাগলেন সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুরের প্রাঙ্গণে দেবী সরস্বতীর প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও, ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে। হিন্দু বিরোধী মতাদর্শে বাম এবং তৃণমূল একজোট হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও-ও পোস্ট করেছেন সুকান্ত।
এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বাংলার সংস্কৃতি সুকান্তর বোঝার কথা নয় বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সুকান্ত। ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইফতারের আয়োজন চোখে পড়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে সুকান্ত লেখেন, ‘এটাই লিব্যারাল বামপন্থীদের মুক্তচিন্তার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র যাদবপুর! বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেখানে বাগদেবী মা সরস্বতীর আরাধনার কথা হলে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ ওঠানো সিউডো-সেক্যুলারদের ভ্রু কুঞ্চিত হয় কিন্তু এসব কেবলই ধর্মনিরপেক্ষতা মাত্র’!
সুকান্ত আরও লেখেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া তৃণমূল পন্থীদের কাছেও বাড়তি অক্সিজেন! সনাতন হিন্দু বিরোধী মতাদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে বাম-তৃণমূল অজৈব জোটের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে দেবী সরস্বতীর প্রবেশ নিষিদ্ধ কিন্তু এসবে মুখে কুলুপ’!
সংসদের বাইরেও বিষয়টি নিয়ে আজ মুখ খোলেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, “তৃণমূল এবং বামপন্থীরা কতটা হিপোক্রিট, এটা তার প্রমাণ। যারা সরস্বতী পুজো হতে দেয় না, তারা সর্বতোভাবে সাহায্য় করে। এখানে কিন্তু দু’জনের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই! একসঙ্গে মিলে করছে। সব ছদ্ম সেকুলাররা একসঙ্গে ইফতার পার্টি করছে। ইফতার পার্টি কি সেকুলার, আর সরস্বতী পুজো সাম্প্রদায়িক। এরা কমিউনিস্ট সেজে থাকে। এই কি ধর্মনিরপেক্ষতা! এদের একটাই কাজ, ইসলামিকরণ, জেহাদিকরণ।”
এর পাল্টা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই পুজো হয়, ইফতারও হয়। যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পুজো হতে পারে, ইফতার হতে পারে, বড়দিনের অনুষ্ঠান হতে পারে। শিখদের জন্যও যদি কোনও অনুষ্ঠান হয়, ছাত্রছাত্রীরা পালন করলে সমস্যা কোথায়? আমাদের রাজ্যে এগুলো হবে। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির বোঝার কথা নয় এগুলো। উনি বুঝতে চানও না। ওঁর যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সেটা ইফতার বাধা দিতে চায়। আমরা চাই না।”
এ বিষয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলছেন, “বাংলা সব ধর্মের, সকল সংস্কৃতির মানুষের! জননেত্রী যেভাবে দুর্গাপুজোর সময় যেভাবে দুর্গাঠাকুরের চক্ষুদান করেন, বাড়িতে কালীপুজো করেন একইভাবে ইদের সময় ইদের পরব পালন করেন। আবার ২৫ ডিসেম্বর চার্চে গিয়ে গডের কাছে মা-মাটি-মানুষের জন্য প্রার্থনা করেন। আমাদের সংবিধান সর্ব-ধর্ম সহিষ্ণুতার কথা বলে, সংবিধান বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের কথা বলে। তাদের বিরোধিতা করে এই বিজেপি। তাই ওদের নিয়ে যত কম বলা হয় তত ভাল।”
বিতর্ক এবং অস্থিরতা ঘিরে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবার নিজের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। ২০২৪ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিংয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৭২১-৭৩০ এর মধ্যে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের ৭৪১-৭৫০ র্যাঙ্কের তুলনায় একধাপ উন্নতি। ১২ মার্চ প্রকাশিত এই তালিকা থেকে জানা যাচ্ছে, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি), এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেনের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোর ৯৬.৮। রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এই তালিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্সে আইআইটি খড়্গপুর রয়েছে একেবারে ৬০ নম্বরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, র্যাগিংয়ের অভিযোগ, এবং সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর আগমণকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেসবের মাঝে এই সাফল্য যাদবপুরের জন্য এক অনন্য অর্জন। অন্যদিকে ভারতের রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তালিকায় চেন্নাইয়ের আন্না বিশ্ববিদ্যালয় বা পুণে বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। কলকাতা রয়েছে ৭৫১-৭৬০ নম্বরে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ঘটছে না বিতর্ক। নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে লেখা আজাদ কাশ্মীরের পোস্টার ঘিরে। 1 মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের ঘটনার পর থেকে মাঝেমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যাদবপুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তবে এর মাঝেও শিক্ষার দিক থেকে নিজের জায়গায় অটুট থাকল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “পরিকাঠামোগত কিছু প্রতিকূলতাকে ছাড়া যাদবপুরের এই লড়াই ফেলনা নয়। সেই দিকগুলিতে নজর না-দিয়ে কিছু মহল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টায় রয়েছে।”
বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই স্থায়ী উপাচার্য। নেই স্থায়ী রেজিস্ট্রার। একাধিক পদ ফাঁকা রয়েছে যাদবপুরের মতো শহরের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি জুটার মতে, এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে 100 কোটি টাকার ঘাটতি চলছে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দরকারি কাজ, পঠন-পাঠন সংক্রান্ত বেশকিছু কাজ, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হওয়া একাধিক দামি যন্ত্র পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
]]>