‘আপনারা ফিরে আসুন আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দেবো।’ এভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ত্যাগ করা বিধায়ক ও সাংসদদের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষুব্ধ যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁরা ফিরে এলে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ইস্তফা দেবেন। এ দিন এভাবেই দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে যখন সমস্যা তখন বিদ্রোহী নেতানেত্রীরা ফিরে এলে পদ ছেড়ে দিতে আপত্তি নেই তাঁর। একই সঙ্গে অবশ্য অভিষেক দাবি করেছেন, তাঁর এই প্রস্তাবে কোনও বিক্ষুব্ধই সাড়া দেবেন না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই বিজেপি-র সঙ্গে ডিল হয়েছে বিদ্রোহী নেতাদের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যাঁরা বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ নেতাই দল ছাড়ার কারণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েই অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। দলের মধ্যে অভিষেকের ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক এবং আইপ্যাক-কেই দায়ী করেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা। এমন কি, এখনও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলে যাঁরা রয়েছেন সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও তৃণমূলের এই অবস্থার জন্য নাম না করে অভিষেককেই দায়ী করেছেন।
এ দিন কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হারের দায়িত্ব যদি আমার হয় তাহলে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ২৯ আসনে জয়ের কৃতিত্বও আমার হওয়া উচিত। আমাকে নিয়ে তো সমস্যা? আজকে ১৮ তারিখ, আপনি (বিদ্রোহীরা) যবে খুশি আসুন। আপনারা ফিরে আসুন আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দেবো। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘৬০ জন এমএলএ গেছে, কিছু মানুষ গেছে, ২০ জন এমপি গেছে। আপনারা এটাই বলছেন তো যে অভিষেক ব্যানার্জী ছেড়ে দিলে আপনারা সবাই চলে আসবেন? আমি মমতা ব্যানার্জীর সামনে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আপনারা দলে ফিরে আসুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমি নিজের ইস্তফা দিয়ে দেব। আপনারা ৩টের সময় আসুন, আমি ৪টের সময় পদ ছেড়ে দিচ্ছি। কেউ আসবে না, কারণ ওনাদের আসল উদ্দেশ্য বাঁচা, দল করা নয়।’
অফিসে বুলডোজার চালানো প্রসঙ্গে
ডায়মন্ড হারবার এর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলায় যে সাংসদ কার্যালয় ছিল সেটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে আজ বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বুলডোজার চালানোর সময় কোন রকম বাধা না দিলেও বিকেলে কালিঘাটে দাঁড়িয়ে অভিষেক একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙা হচ্ছে বলে আজ যাঁরা আনন্দে মেতে উঠেছেন এবং এটাকে অবৈধ বলছেন, তাঁরা আদতে এর সপক্ষে কোনও প্রমাণই দেখাতে পারেননি। ঠিক কীসের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, তার একটি কপিও জেলা প্রশাসন আমাদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। যাঁরা আজ অতিসক্রিয় হয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙছেন, তাঁরা দয়া করে মনে রাখবেন – আজ যে ধারা ও যে আইনের দোহাই দিয়ে আমাদের কার্যালয় ভাঙা হল, ভবিষ্যতে যদি রাজ্যে সরকার পাল্টায়, তবে ঠিক একই আইনের কোপে পড়ে বিজেপির কোনও পার্টি অফিসও আর বাংলায় থাকবে না!

যে ধারায় আজ বুলডোজার চলল, একই আইনে সেদিন বিজেপির কার্যালয়গুলিও ভাঙা হবে। ভিডিওতে যাদের যাদের মুখ দেখা গেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না, কেউ বাঁচবে না। আইনের হাত অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কেউ যদি ভেবে থাকেন যে পিছন থেকে বিজেপির নেতারা এসে তাঁদের বাঁচিয়ে দেবে, সেটা হবে না।’
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে, বিজেপি-র চাপে বা পুলিশের চাপে, মাথানত করার চাপে বা মামলার চাপে, ইডি-সিবিআই-সিআইডি-র চাপে বা আইসি-ওসির চাপে, তাঁদের অনুরোধ করব, ২১ জুলাইয়ের আগে দয়া করে যাঁর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাঁরা বাঁচতে চান, লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যান বিজেপি-র কথা কথা শুনে। আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, তাকে কলঙ্কলিপ্ত করবেন না।” মদন মিত্র থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার কোয়েল মল্লিক পর্যন্ত একের পর এক নেতা-নেত্রী এবং জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে দল ছেড়ে যাওয়ার শুরু করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিনিও বিজেপি-তে যাবেন কি না, সেই নিয়ে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আগেই ইমেলে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোয়েল। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক, ২১ জুলাইয়ের আগেই সকলে চলে যেতে পারেন বলে এদিন মন্তব্য করেন মমতা।
বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তা শুরু করেন মমতা। আর তার পরই কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি…বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করে রিজাইন করতে গিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন।”
মমতা বলেন, “আজ যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ ভয় সহ্য করতে পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথা নীচু করে চলি না বলেই ফেস করতে হচ্ছে। ফেস করতে না শিখি যদি, বাংলাকে, দেশকে যদি ভালবাসতে না শিখি, মানুষের রায়কে যদি সম্মান না জানাই, তাহলে আত্মগ্লানিতে ভুগব। যা করেছেন, ভাল করেছেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার ভাল থাক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। তাতে কে এল, কে না এল. কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। আগামীতে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। ১৯৯৭ সালে যদি নতুন করে পথ চলতে পারি, ২০২৬ সালেও পারব। অনেক ছলনা করেছে…নাম-নিশান কোনওটাই নাকি রাখবে না! আপনারা ভাল থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন, দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো পারবেন! দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মনে রাখুন, যতই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিনে…আমরা দেশের সঙ্কট চাই না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, মানুষ বলছেন। অনেক নাম বদলেছে, সিম্বল বদলেছে। ক্ষমতার জোরে নাম চেঞ্জ করতে পারেন, ভিসন, মিশন শেষ করতে পারেন না।”
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও বার বার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লির মদতে যা ইচ্ছা আপনারা করে যাচ্ছেন। আগে দিল্লিটা রক্ষা করুন।’’ দিল্লির আবস্থা ভাল নয় বলে কটাক্ষ করে মমতা সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কেন দিল্লির সরকার সোনমের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে যায়নি সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, পুলিশের ভয় বা অর্থের প্রলোভন দেখান হচ্ছে ২১-শের শহিদদের পরিবারকেও। আদালতের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ২১শে জুলাই শহিদ স্মরণ করার বার্তা দেন মমতা। তবে সেই সঙ্গে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকারও আর্জি তাঁর।
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে মিলল স্বস্তি। ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের (TMC 21 July) অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তবে সেই অনুমতি নিঃশর্ত নয়। একগুচ্ছ কঠোর শর্ত মেনে এবার বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের (Birla Planetarium) সামনে শহীদ দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে।
এই নির্দেশের ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল, এবারের ২১ জুলাই আর ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে ফিরছে না। বরং আদালতের নির্ধারিত বিকল্প স্থানেই সীমিত পরিসরে কর্মসূচি করতে হবে। রাজনৈতিক মহলে এই নির্দেশকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে আবেদন জানানো হয়েছিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতির জন্য। আদালতে রাজ্য পুলিশের তরফে ধর্মতলায় সভার বিরোধিতা করা হয়। মূল শহরাঞ্চলে বিপুল জনসমাগম হলে যান চলাচল ও জনজীবনে বড় প্রভাব পড়বে বলে আদালতে জানানো হয়।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/07/cityflo-kolkata-bus-service-launch/
শুনানি শেষে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিক্টোরিয়া হাউস (Victoria House), এসপ্ল্যানেড ইস্ট (Esplanade East) কিংবা ডোরিনা ক্রসিং (Dorina Crossing)-এ কোনওভাবেই সভার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ, ওই এলাকায় জনসভা হলে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরপর বিকল্প স্থান হিসেবে উঠে আসে বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনের রাস্তা। আদালত সেখানেই শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, সমাবেশে সর্বাধিক ২,৫০০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। এর বেশি জমায়েত করা যাবে না। আদালতের মতে, অতিরিক্ত ভিড় হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
সময়ের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্তই কর্মসূচি চালানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে সভা বা সমাবেশ চলবে না।
রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে রাস্তার একদিকে মঞ্চ ও বসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য দিকটি সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। যাতে শহরের স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যাহত না হয়, সেই দায়িত্ব থাকবে ট্রাফিক পুলিশের ওপর।
আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও সম্পূর্ণভাবে পুলিশ প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আদালত। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সভার আয়োজকদের পরিচয় নিয়েও কড়া নির্দেশ রয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান আয়োজকদের নাম ও মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপির দফতরে জমা দিতে হবে। এরপরই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ধর্মতলায় শহীদ দিবস পালন করে আসছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দুই-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই রাজনৈতিক কর্মসূচির স্থান বদলায়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের অবস্থান বদলায়। ধর্মতলায় আর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল।
আদালতের এই রায়ে একদিকে যেমন কালীঘাট তৃণমূল কর্মসূচি করার সুযোগ পেল, অন্যদিকে স্পষ্ট বার্তা মিলল—আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।
এবার নজর ২১ জুলাইয়ের দিকে। সীমিত পরিসরের এই সভা কি আগের মতোই রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারবে? আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে কালীঘাট তৃণমূল কতটা সফলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে ২১ জুলাইয়ের এই নতুন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
]]>অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছাড়লেন মমতার সব থেকে পুরনো সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। মমতার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মমতা। মমতা যখন যুব কংগ্রেসে, সেই সময়ও নেত্রীর পাশে দেখা যেত তাঁকে। মমতা তৃণমূল তৈরির পরও সেভাবেই ছিলেন। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও নেত্রীর পাশেই দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। অন্যরা যখন বিদ্রোহ করছেন, সেই সময় তাঁদের কটাক্ষও করেছেন। এবার সেই মদন নিজেই মমতার হাত ছাড়লেন। নেত্রীর দেওয়া হালফিলের সব পদও ছেড়ে দিলেন। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে চিফ হুইপ করা হয়েছিল মদনকে। সেই পদ ছেড়ে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন। শুধু দলের অফিসিয়াল গোষ্ঠীর হাত ধরেছেন। মদন বলেন, “তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায় তাহলে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।”
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “ইডির থেকেও এবি বেশি ভয়ংকর। কখন তাড়িয়ে দেয়, সেই ভয়ে থাকতাম। মমতার কথাও শোনে না অভিষেক।”
বুধবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোন মদন। নিজেই ড্রাইভ করে বিধানসভায় পৌঁছন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে ঢুকে যান। আর সেখান থেকেই তৃণমূলের সব পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন। ঋতব্রতর পাশে বসে বলেন, “কবিতাটা ছোট্ট, দু’লাইনের- জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল না, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম। দুঃখের বিষয় যখন ইতিহাস লেখা হবে বাংলার এই সময় নিয়ে, লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, তাদের সর্বনাশ হয়ে যায়।”

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে তলব করেছে ইডি। ২২ এবং ২৩ জুলাই হাজিরা দিতে হবে। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’ যোগ দেওয়ার সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে মদন বলেন, “রাজনীতি আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা জিনিস। আমার পিরবারকে ডাকা হয়েছে। এজেন্সিদের সেই ক্ষমতা রয়েছে, ডাকতে পারে। আমরা সর্বতো ভাবে সহযোগিতা করব। তার সঙ্গে আজকের এই যোগ দেওয়াটার যোগ নেই।”
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আমরাই আসল তৃণমূল। অন্য কেউ যদি নিজেদের প্রকৃত তৃণমূলে বলে দাবি করতে চান তার আগে আলিপুর আদালতের এই রায় পড়ে তারপরে কথা বলা উচিত।’ রবিবার এভাবেই আলিপুর আদালতের রায়ের নথি হাতে নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।
রবিবার দুপুরে আলিপুর কোর্টের রায়ের কপি হাতে নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আদালত জানিয়েছে, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের বহুল পরিচিত হোটেলে ২২ জুন যে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগতভাবে স্বীকৃত বডি।
অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এছাড়া অন্য কেউ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেন, সেটা অবৈধ। এই তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র। আদালতের রায় পড়ে বোঝালেন, অন্য কেউ আর চাইলেই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করতে পারবেন না, দলীয় কার্যালয়-তহবিল সংক্রান্ত কোনও কিছুই করতে পারবেন না অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে।’ সেই সঙ্গে ঋতব্রতর সাফ হুঁশিয়ারি, ‘মগের মুলুক চলবে না।’
https://youtu.be/1I7Bca8jtqE?si=NUp-jDLInZGPQYpu
ঋতব্রত এদিন বলেন, ‘রায়ে পরিষ্কারভাবে বলেছে, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত বডি।’ সঙ্গেই বলেন, ‘কেউ যদি দাবি করেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস, আমি আসল-নকল বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে, আদালতের এই রায় দেখে নিতে বলব।’

তাঁর সংযোজন, ‘এই কমিটি বাইরে অন্য কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ। এই তৃণমূল কংগ্রেসই হচ্ছে একমাত্র।’ শুধু এটুকুই নয়। ঋতব্রত বলেন, ‘এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করেন তাহলে একাধিক বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে, যেমন- দল চালানোর জন্য কোনও মতামত প্রকাশ, দলের নাম করে কোনও নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন না।’
]]>
শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় ঝড়। এবার সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। কলকাতায় (Kolkata) একাধিক জায়গায় দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর এইচডিএফসি (HDFC Bank)-তে থাকা তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কয়েক বছরের মধ্যে দলীয় তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এমন কিছু সংস্থায় পাঠানো হয়েছে, যাদের মাধ্যমে বিলাসবহুল বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
ইডি সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাতটি নিয়মিত ব্যবহার করা হত। তার মধ্যে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একটি বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের নজরে আসে। সেই কারণেই মূলত তিনটি অ্যাকাউন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পুরো তদন্তের সূত্রপাত হয় বিধাননগর (Bidhannagar)-এর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই ইডি তদন্তে নামে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা Carewell Aviation India Pvt Ltd এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এরপর আরও প্রায় ৮২.৯৬ কোটি টাকা অন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ।
ইডির দাবি অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে একটি বিলাসবহুল Embraer Legacy 600 বিমান এবং একটি Agusta 109 Grand New হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাব অনুযায়ী, এই দুই উড়ানযান কিনতেই প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে তদন্তকারীদের আর একটি দাবি। ইডির বক্তব্য, দলীয় তহবিল থেকে অর্থ পাঠিয়ে প্রথমে বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা হয়। এরপর সেই একই উড়ানযান আবার নির্বাচনী প্রচার বা অন্যান্য কাজে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেই ভাড়ায় দেওয়া হত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে এই অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এতেই শেষ নয়। তদন্তে বিদেশি আর্থিক লেনদেনের দিকেও নজর পড়েছে। ইডির অভিযোগ, ২০২৩ সালে কেম্যান আইল্যান্ডস (Cayman Islands)-ভিত্তিক একটি সংস্থা থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলারের অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই বিদেশি অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার ভূমিকাও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডি জানিয়েছে, এই জটিল আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এর সুবিধাভোগী এবং কোনও বেআইনি অর্থপাচারের যোগ রয়েছে কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতেই তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, অর্থের প্রবাহ এবং ব্যবহার—দুই দিকই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ওপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। এটি তদন্তের একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। শেষ পর্যন্ত আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তে উঠে আসা প্রমাণই নির্ধারণ করবে অভিযোগের সত্যতা।
এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে নতুন তথ্য। আর সেই কারণেই এখন নজর একটাই—ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং এই মামলায় নতুন করে আর কার নাম উঠে আসে। এবার কী নতুন মোড় নেবে এই বহুচর্চিত তদন্ত?
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘কালের নিয়মে চলতে হয়। সময় যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকে যাব।’ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে এমন দাবি করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুক্রবার পদত্যাগ করার পর চন্দ্রিমা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেই ছবি সামনে এসেছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, এবার প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের দিকে ঝুঁকলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। দলীয় পদ ছাড়ার নেপথ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে দায়ী করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঋতব্রত গোষ্ঠীর তরফে তৃণমূল ভবন দখল করার যে চেষ্টা হয়েছিল, তার পেছনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত রয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করেন। দলনেত্রীর মুখে নিজের আনুগত্য নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলায় তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন এবং তার জেরেই মমতা শিবির ও সংগঠনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার তিনি রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করেন। বিধানসভায় পৌঁছানোর পর বর্ষীয়ান বিদায়ী বিধায়ক সন্দীপন সাহা সহ অন্যান্য বিদ্রোহী নেতারা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
চন্দ্রিমা দাবি করেন, মন্ত্রী হলেও গুরুত্ব ছিল না তাঁর। বাজেট নিয়েও তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হত না। গোপন রাখা হত তাঁর কাছ থেকেও। প্রাক্তন মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বিশ্বাসযোগ্যতা কী, আনুগত্য কতটা, তা আপনারা জানেন। আপনাদের সঙ্গে আমি রূঢ় ব্যবহার করেছি। আমি স্বীকার করছি। আপনাদের বলেছি, বলব না, মন্ত্রগুপ্তি আছে, মমতার নির্দেশ ছাড়া কিছু বলব না। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিইনি। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’


বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘সবাইকেই সময়ের সঙ্গে চলতে হয়, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি পেনশনের কাজে এসেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমি শাসক দলের ঘরে না বসে বিরোধী শিবিরের ঘরে বসেছি। আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলবে এবং সবাই তা দেখতে পাবেন।’
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) দরজায়। দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের বৈঠক শেষ হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর অন্যতম মুখ সৌগত রায় (Saugata Roy)।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌগত রায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “যাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা কীভাবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের সময় পেল?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সৌগত রায়ের দাবি, নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল যে শুধুমাত্র স্বীকৃত প্রতিনিধিরাই কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সেই অবস্থায় দলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কোনও সাক্ষাতের আবেদন না করলেও, কীভাবে ভিন্নমতাবলম্বী বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পেল, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের প্রতিনিধি কে হবেন, সেটা দলই ঠিক করবে। নির্বাচন কমিশনের কাজ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। যে কেউ চাইলে কি কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে পারে?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির।
অন্যদিকে, দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর সদর দফতরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), অরূপ রায় (Arup Roy), আখরুজ্জামান, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা-সহ মোট ১০ জন বিধায়ক।
বৈঠকের পর অরূপ রায় জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো, বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং দলের পুনর্গঠনের সমস্ত নথি লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের গঠনতন্ত্র মেনেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বিষয়টি কমিশনকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বড় দাবি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এখন তাঁদের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, পুরপ্রতিনিধি এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের পাশে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন ঋতব্রত শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করে। সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)— কারও নাম রাখা হয়নি। পরিবর্তে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় অরূপ রায়ের নাম। পাশাপাশি সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) এবং অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)-কে।
পরের দিনই এই নতুন কমিটির তালিকা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও জমা দেওয়া হয়। এরপর দিল্লিতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করায় গোটা বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই লড়াই শুধুমাত্র সাংগঠনিক নেতৃত্বের নয়, ভবিষ্যতে দলের প্রতীক, স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও বড় আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্কের দিকে এগোতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এখন নজর একটাই—দুই পক্ষের দাবি-প্রতিদাবির পর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত কি শুধুই রাজনৈতিক চাপানউতোরে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আগামী দিনে আরও বড় মোড় নেবে? উত্তর খুঁজছে গোটা বাংলা।
]]>সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা: রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন মঙ্গলবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (West Bengal Chief Minister Suvendu Adhikari) এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যপালের ভাষণের উপর জবাবি বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু যে ভাষায় আক্রমণ শানালেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
“আমি জানি, আপনারা আর ফিরতে পারবেন না। ওই অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে”— বিধানসভার মেঝেতে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করতেই মুহূর্তে চড়ে যায় রাজনৈতিক উত্তাপ। শাসক-বিরোধী সংঘাতের আবহে শুভেন্দুর বক্তব্য যেন শুধু সমালোচনা নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও এক বড় বার্তা।
মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের অভিভাষণ নিয়ে বিরোধীদের জবাব দিতে ওঠেন শুভেন্দু। সেখানে আগাগোড়া পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন তিনি। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের জন্য সরাসরি ফিকিকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন। বলেন, “প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী দিয়েছেন। আপনি এটা করতে পারেন? পারেন দিতে? সহযোগিতা করুন। কাজ করতে দিন। আমরা এই রাজ্যকে দাঁড় করাতে চাই।” (Mamata Banerjee)
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভোট পরবর্তী অশান্তির প্রতিবাদে সম্প্রতি ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মমতা। সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী বললেন, রানি রাসমণিতে বসব। পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করল। আমি পুলিশমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘স্যর কী করব?’ আমি বললাম, পারমিশন দেবেন। ওয়াই চ্যানেলে বসতে বলুন। যত ক্ষণ খুশি বসতে বলুন। করুন, রোজ মিছিল করুন। নো প্রবলেম। কিন্তু আসতে পারবেন না। আসতে আর কোনও দিন পারবেন না। আমি জানি। ৩৪ বছরের কমিউনিস্টদের অত্যাচার ভেঙে ২০১১-র পরিবর্তনেও আমি রাস্তায় ছিলাম। আর ২০২৬-এ আপনাদের তাড়ানোর কাজেও রাস্তায় ছিলাম আমি। আমি জানি, আপনারা আর আসতে পারবেন না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গিয়েছে।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “পুষ্পা ঝুকেগা নহি! পুষ্পা মার্কেটেই নেই? মার্কেট ছেড়ে ভেগে গিয়েছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কাদের হাতে দল গিয়েছিল? যারা একটা সময় কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়েছিল…তার পর আপনারা লাল চুল, কানে দুল, তার নাম যুব তৃণমূল। যা পরিণতি হওয়ার, তা হয়েছে।”
মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে ফের তোষণের অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। নিজের পরিবার ছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কারও কথা ভাবেন না বলেও দাবি করেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, “মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছিলেন, তার বদলা নিয়েছে বাংলা। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি…সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রামমন্দির তৈরি হয়েছে। সরকারি টাকায় হয়নি। ত্রাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা যারা হিন্দবধর্মে আস্থাবান. তাঁরা দিয়েছি। একজন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থেকে মিছিল করছেন রামমন্দির মানি না, মানব না! তার উত্তর বাংলার জনগণ দিয়েছেন। আমি গিয়ে খাতা খুলে দেখি, দিঘার জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার লেখা আছে। আপনি চালিয়ে গেলেন গজা, প্যাঁড়া। কেউ বিশ্বাস করবে! সরকারি টাকায় হয়! তার উন্নয়ন করতে পারেননি। রাস্তা, আলো করে দিন! যাতায়াতের ব্যবস্থা, রেল স্টেশন করে দিন! যারা তীর্থযাত্রী যাবে, বসার জায়গা করে দিন। পার্ক বানিয়ে দিন। আমরা ধাম শব্দ তুলে দিয়েছি। আপনি বদলে দিতে পারেন না চার ধামের… এত ক্ষমতা কেউ দেয়নি আপনাকে। তাই নিজে নন্দীগ্রামেও হেরেছেন, এবার ভবানীপুরেও হেরেছেন। নিজের বুথ মিত্র ইনস্টিটিউশন। চারটি বুথে হেরেছেন। যিনি বুথে হারেন, তাঁকে জননেত্রী মানতে হবে! এখান থেকে আমাকে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘সবাই হেরেছো’। আজ আপনি বাড়িতে বসে আমার কথা শুনছেন। আমি বলেছিলাম, উত্তর ২০২৬-এ দেব। জনগণ উত্তর দিয়ে দিয়েছে।”
এদিন অধিবেশনের শেষ দিকে ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়করা ওয়াকআউট করেন। সেই সময় কালীঘাট শিবিরের বিধায়ক হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ তাঁদের কটাক্ষ করেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও যাতে সব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় আবেদন জানান শুভেন্দুর কাছে। সেই সময় শুভেন্দু বলেন, “মাত্র দেড় মাসে ৮০-র মধ্যে ৬২ বিধায়ক নেই। ভারতে হয়নি। আপনাদের এই দশার জন্য আমরা দায়ী নই। আপনারা নিজেরাই দায়ী। নিজেদের ঘর আগে সামলান। এই খণ্ডচিত্র বাংলা দেখছে। এরকম অবস্থা কোনও দলের হয়নি। এই করুণ পরিণতি হয়েছে দম্ভ, অহঙ্কার, স্বেচ্ছাচারিতা, ঔদ্ধত্য, তোষণ, পরিবারতন্ত্র, সীমাহীন দুর্নীতির জন্য। আপনারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।”
]]>সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা (West Bengal Politics)। বাংলার রাজনৈতিক মহলে হঠাৎই তুমুল আলোড়ন। বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) ঘিরে গড়ে ওঠা ‘আসল তৃণমূল’-এর তরফে এমন এক দাবি সামনে এসেছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
ঋতব্রতপন্থী শিবিরের দাবি, একটি বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকের পর দলের কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে সরিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘোষণা যতটা সাংগঠনিক, তার চেয়েও বেশি প্রতীকী। কারণ বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে গত কয়েক দশকে।
সূত্রের দাবি, সোমবার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করা হয়। সেই বৈঠকের পর প্রকাশিত তালিকায় দলের নতুন চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে অরূপ রায়ের (Arup Roy) নাম।
একইসঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাখা হয়েছে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) এবং রথীন ঘোষকে (Rathin Ghosh)। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আনা হয়েছে জাভেদ খান (Javed Khan), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha), ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে (Sabina Yasmin)।
ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দলকে “সমষ্টিগত নেতৃত্বের” পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সাংগঠনিক অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে এই পুনর্গঠনে।
সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় অবশ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত। ‘আসল তৃণমূল’-এর নেতাদের একাংশের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে মূল তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে প্রতিটি বড় দলেই সময়ে সময়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। তবে বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করে সাংগঠনিক শক্তি, জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং জনভিত্তির উপর।
ঋতব্রতপন্থী শিবির আরও দাবি করেছে যে একাধিক জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সাংগঠনিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
এদিকে এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিরোধীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, আবার শাসকদলের সমর্থকদের একাংশ পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ বলেও ব্যাখ্যা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় কেবল ঘোষণায় নয়, মাঠের লড়াই এবং ভোটারদের সমর্থনে। ফলে এই নতুন কমিটি বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বাংলার রাজনীতিতে বহু নাটকীয় মোড় দেখা গেছে অতীতে। কিন্তু এই ঘোষণার পর যে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে, তা নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর একটাই—এটি কি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা, নাকি সত্যিই বাংলার রাজনীতিতে বড় কোনও সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত? উত্তর লুকিয়ে আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহেই।
]]>