সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

 

বছর ঘুরলেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরে বাংলায় ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে পহেলগাঁও কাণ্ড এবং ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এসেছেন। আলিপুরদুয়ারে সভা থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাকও দিয়েছেন। ঠিক তার পরেই শাহ এসেছিলেন বাংলায়। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে কর্মী সম্মেলন করেছেন তিনি। আক্রমণ শানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তৃণমূল তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন শাহকে। প্রধানমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে সভা করে যাওয়ার পর অব্যবহিত পরেই তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মমতাও ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দলও প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে।

সেই আবহে ফের বাংলা দখলের হুঁশিয়ারি দিলেন শাহ। রবিবার তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে দলীয় কর্মী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে শাহ বলেন, ”১০০ শতাংশ তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার। ২০২৬ সালে বাংলা এবং তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার গড়বে।” তামিলনাড়ুর সরকারি সংস্থা তাসম্যাকের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনকে বিঁধেছেন শাহ। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে স্ট্যালিন যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার একটিও তিনি পূরণ করতে পারেননি। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের দিকে তোপ দেগে অমিত শাহ বলেন, “ডিএমকে সরকার দুর্নীতির সব সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ওরা নয়ছয় করেছে কেন্দ্রের পাঠানো অনুদান নিয়েও। নয়াদিল্লি তরফে তাদের ৪৫০ কোটি টাকা পুষ্টি কিট দেওয়া হয়েছিল। যা তারা তুলে দিয়েছে বেসরকারি কিছু সংস্থার হাতে। এটা শুধুই দুর্নীতিই নয়, দরিদ্রদের খাদ্য, অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও।”

আর অমিত শাহের এই হুঙ্কারের পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ”এগুলো ওঁদের দিবাস্বপ্ন। এই কথাগুলো তো উনি ২০২১ সাল থেকে বলে যাচ্ছেন। উনি একবার করে বিজেপি কর্মীদের এ রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। তার পরে গোহারা হারেন। তামিলনাড়ুতে শুধু ওইটুকু বললেন কেন? জিতবেন বলে দাবি করেও ২০২১ সালে যে পশ্চিমবঙ্গে গোহারা হেরেছিলেন, সে কথাও তো বলা উচিত ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও যে এখানে গোহারা হেরেছেন, সে কথাও ওখানে গিয়ে বলা উচিত ছিল।”

অমিত শাহের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে ডিএমকে-ও। দলের মুখপাত্র সৈয়দ হাফিজুল্লা বলেন, ”ক্ষুদ্র সম্ভাবনা রয়েছে, বিজেপি হয়তো আমেরিকাতেও সরকার গড়তে পারবে। কিন্তু তামিলনাড়ুতে কোনও সম্ভাবনাই নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *