প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

দিল্লির রাস্তায় সোমবার সকাল থেকেই দেখা গেল বিরোধী ঐক্যের এক ভিন্ন ছবি। Parliament March vote rigging protest কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ প্রায় ২৫টি বিরোধী দলের ৩০০-রও বেশি সাংসদ। তাঁদের মূল দাবি—ভোটচুরি ও ভোটার তালিকার অনিয়ম বন্ধ হোক, নির্বাচন কমিশন হোক সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।

 

সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা

লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই সকাল ১১টার মধ্যে সংসদের মকর দ্বারে জমায়েত করেন বিরোধী সাংসদরা। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর পর্যন্ত মিছিল করার পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। তবে দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, এই ধরনের জমায়েতের কোনও অনুমতি নেই। তবুও বিরোধীরা কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

 

প্রথম থেকেই পুলিশের বাধা

সংসদ ভবন থেকে মাত্র ৪০০ মিটার এগোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন। মহিলা পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলেও বিরোধীরা পিছু হটেননি।

 

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাস্তায় বসে প্রতিবাদ

পুলিশের বাধায় রাস্তাতেই বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডিম্পল যাদব, সাগরিকা ঘোষ-সহ একাধিক মহিলা সাংসদ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাহুল গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহম্মদ আজহারউদ্দিন-সহ বহু নেতা। চারদিক থেকে শোনা যেতে থাকে স্লোগান—“ভোট চুরি বন্ধ করো” এবং “নির্বাচন কমিশন জবাব দাও”।

আটক নেতাদের তালিকায় শীর্ষ মুখ

দিল্লি পুলিশ শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মহুয়া মৈত্র, অখিলেশ যাদব-সহ বহু সাংসদকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। আটক হওয়া নেতাদের অভিযোগ—সরকারের চাপে নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের আওয়াজ দমন করতে চাইছে।

 

তৃণমূলের বার্তা: ‘চুপি চুপি ভোটের কারচুপি’

তৃণমূল সাংসদদের হাতে থাকা পোস্টার ও ব্যানারে লেখা ছিল— “চুপি চুপি ভোটের কারচুপি”। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী সমর্থকদের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরের দলও শামিল

যদিও বর্তমানে আম আদমি পার্টি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ নয়, তবুও সোমবারের এই বিক্ষোভে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল উপস্থিত ছিল। বিরোধীরা জানিয়েছে, এটি গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন, তাই রাজনৈতিক সীমারেখা পেরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই মূল লক্ষ্য।

 

অধিবেশন কার্যসূচি ব্যাহত

এদিন সকাল থেকেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় তুমুল হইচই হয়। এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের স্লোগান, পোস্টার, এবং ওয়াকআউটের জেরে দুপুর ২টো পর্যন্ত দুই কক্ষের কার্যসূচি মুলতুবি থাকে। এর পরেই বিরোধী সাংসদরা রাস্তায় নেমে মিছিল শুরু করেন।

 

পুলিশের যুক্তি ও বিরোধীদের পাল্টা বক্তব্য

দিল্লি পুলিশের দাবি—সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত বিরোধীদের মিছিলের অনুমতি ছিল না। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার কারণে ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য—সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার তাঁদের আছে, আর এই বাধা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

আগামীর পরিকল্পনা

বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকার অনিয়ম ও ভোটচুরি বন্ধ না হলে সারা দেশে আন্দোলন চলবে। রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়াও আবারও দিল্লিতে বৃহত্তর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে। তাঁদের বার্তা—নির্বাচন কমিশনের ওপর জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন এই ধরনের বড় মাপের বিক্ষোভ বিরোধী ঐক্যের শক্তি ও বার্তা উভয়ই তুলে ধরেছে। ২০২৪-২৫ সালের একাধিক রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এই প্রতিবাদ বিজেপি-বিরোধী জোটের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *