সরকারি প্রকল্পে নতুন শর্তের ইঙ্গিত, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কড়া অবস্থান রাজ্যের
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘অন্নপূর্ণা যোজনাতে কেন ফর্ম ছাপিয়ে আমরা যোগ্য উপভুক্ত চিহ্নিত করছি? কারণ বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্পে কত দুর্নীতি হয়েছে। সিআইডি তদন্ত করছে মা-বোনেদের টাকা লুঠ করেছে। এমন কোনও জায়গায় দেব না যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়, ভারত বিরোধী শিক্ষা দেওয়া হয় সেখানে আমরা দেব না।’ বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মঞ্চ থেকে এভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না সেই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গোটা রাজ্য জুড়ে জনকল্যাণ শিবির হচ্ছে। আপনারা শিবিরে সমবেত হয়েছেন। এই শিবির এ যেহেতু অঞ্চলে অঞ্চলে করা যায়নি তাই লম্বা লাইন দেখছেন। মানুষ এই সরকার এর উপর আস্থা রাখছেন, ভরসা রাখছেন। কোনওরকম দুর্নীতি, ব্রোকার ছাড়াই আপনারা যাতে পরিষেবা পেতে পারেন তার জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আমরা আগামীকাল পর্যন্ত এই শিবির চালাবো এই নির্দেশিকা দিয়েছি। আয়ুষ্মান ভারত সব থেকে গুরুত্ব পূর্ন স্কিম। এই রাজ্যে ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার, সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এই পরিষেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার স্কিমের পরিষেবা আপনারা নিন।’
তিনি বলেন, ‘১ জুলাই ৩০০০ টাকা করে পেয়ে যাবে যারা বাকি আছেন জন কল্যান শিবির এ ফর্ম ফিল এপ করুন। ২২ তারিখ রাজ্য বাজেট আছে সেখানে যুবকদের জন্য, নিয়োগ নিয়ে, কর্মচারীদের জন্য, কৃষকদের জন্য আমরা কর্মসূচি নিতে চলেছি। আমার কথায় সারা দিয়ে ফলতায় লক্ষধিক ভোটে জিতিয়েছেন, ফলতা আদৰ্শ বিধানসভা হিসাবে গড়ে তুলব। সম্প্রসারণ বন্দর ভিত্তিক শিল্প হিসাবে ফলতা গড়ে তুলব। ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালে ১০০ বেড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলতাতে একটি মহিলা কলেজ, একটা ফায়ার ব্রিগেড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহিলা অফিসার দের এখানে নিয়োগ করবো। আইন হাতে তুলে নেবেন না। এই সরকার ছাড়বে না।’
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনে কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতায় কয়েকদিন আগেই একচেটিয়া ভাবে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। বুধবার ফতেপুর ফুটবল মাঠের এক বিশাল জনসমাবেশে এবং শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশনের মাঠের ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার, উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, ৩ দিন ব্যাপী এই শিবিরের সময়সীমা আরও একদিন বাড়িয়ে আগামী ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হলো।
ফলতার মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জমি লুঠ, গুন্ডাগিরি করতে দেব না। ভোট লুঠ অতীত হয়ে গিয়েছে। এখানে কিছু লোক একজন মাফিয়া স্ত্রীর নেতৃত্বে ভিডিও-তে যত জনকে দেখা গিয়েছে কেউ যেন বাড়িতে না থাকতে পারেন। রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের যে ধারা আছে এমন শিক্ষা দিন যাতে প্যারামিলিটারি ফোর্স আক্রমণ করার সাহস কেউ না করতে পারে। যারা করেছেন তাদের সম্পত্তি দখল করে নিলামে চড়াব। ফলতায় অনেক দুর্নীতি হয়েছে। বাংলার বাড়ি স্কিমে এখানে ৮০০০ ইউনিটের ৬০ হাজার টাকা করে তুলে নিয়ে গিয়েছেন৷ অভিযোগ রয়েছে বিডিও-র উপর। সেটা ভিজিলেন্স দেখবে। ফিজিকাল ভেরিফিকেশন করে যাদের টাকা দিয়েছিল তাদের থেকে ফেরত নেবেন আমি এটা নজর রাখব ডিএম-কে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি। সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর আমি নিজের হাতে রেখেছি। ফলতা থেকে সাগর পর্যন্ত আমরা সুন্দর রেখে কাজ করব৷’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২২ জুন রাজ্যের বাজেট পেশ হতে চলেছে, যেখানে যুবক-যুবতী, সরকারি কর্মচারী ও কৃষকদের জন্য বড়সড় কর্মসংস্থানের কর্মসূচি নেওয়া হবে। বক্তব্যের শেষে, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ফলতাবাসীকে ঘরে ঘরে যোগ দিবস পালনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে আজ সাতসকালে বাগবাজারে মায়ের ঘাটে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঝাঁটা হাতে সাফ করলেন সিঁড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও।