প্রধানমন্ত্রী [Narendra Modi], নবান্নের বৈঠক ও [Kolkata]-র রাজনৈতিক সমীকরণ—একদিনেই দুই বৈঠককে ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
একদিনে দুই শহর, দুই বৈঠক, আর তারপরই বাংলার রাজনীতিতে শুরু তীব্র বাকযুদ্ধ। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী [Narendra Modi]-র সঙ্গে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের ব্রেকফাস্ট বৈঠক এবং [Nabanna] (Kolkata)-এ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা [Kunal Ghosh]। তাঁর দাবি, “গদ্দার টিম ১ গেছে মোদীর কাছে, আর গদ্দার টিম ২ গেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক-বিরোধী সম্পর্ক, রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কুনাল ঘোষের অভিযোগ, যাঁরা একসময় তৃণমূলের হয়ে রাজনীতি করেছেন অথচ পরে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের একাংশ এখন কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, আরেক অংশ রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্র নবান্নে বৈঠক করছেন। তাঁর কটাক্ষ, “এরা বিরোধী রাজনীতির নামে মানুষের সামনে অন্য ছবি তুলে ধরছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত বিরোধী রাজনীতি আজ অন্য জায়গায় হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যখন রাজনৈতিক বৈঠক নিয়ে এত আলোচনা চলছে, তখন বিরোধী দলের প্রকৃত দায়িত্ব হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, তাঁদের দলের প্রতিনিধিরা সেদিন [Bankura]-য় এক আশা কর্মীর বাড়িতে গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শুনেছেন।
দিল্লি ও কলকাতার এই দুই বৈঠককে কেন্দ্র করে কুনাল ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই বিজেপি এবং তাদের সহযোগী শক্তির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, বাংলার রাজনীতিতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে শাসকের বিরুদ্ধে কার্যকর বিরোধী কণ্ঠস্বর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে।
এনসিপিআই-কে নিশানা করেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই একের পর এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি, তবুও তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুনাল ঘোষ। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ সবকিছু দেখছেন এবং সময় এলে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাবেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষকে দীর্ঘদিন বিভ্রান্ত করা যায় না। রাজনৈতিক জবাব শেষ পর্যন্ত মানুষই দেয়।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী [Narendra Modi] এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী [Amit Shah]-কেও পরোক্ষে নিশানা করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর প্রশ্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া হলে ‘রাজনীতির শুদ্ধিকরণ’-এর দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য? একইসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যদি রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন ওঠে, তবে নিচুতলার নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত।
তবে কুনাল ঘোষের এই সমস্ত বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরগুলির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। ফলে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বাংলার রাজনীতিতে দলবদল, জোটের সমীকরণ এবং বিরোধী রাজনীতির চরিত্র নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু একই দিনে দিল্লি ও নবান্নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে যে রাজনৈতিক বার্তা আদানপ্রদান শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাজনৈতিক দাবা বোর্ডে নতুন চাল কি শুধু শুরু হল, নাকি এর পরেই বদলে যাবে বাংলার বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে গোটা রাজ্য।