বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ • ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • রাত ১০:০২
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
আন্তর্জাতিক

US Election : মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের চাপে রিপাবলিকানরা! কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২৪ আসনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, হাতছাড়া হতে চলেছে মার্কিন কংগ্রেস, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২৪টিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

US Election : মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের চাপে রিপাবলিকানরা! কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২৪ আসনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউসে পা রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে দু’বছরের মধ্যেই জোর ধাক্কা। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশায়ী ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের দখল নিতে চলেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস -দুই কক্ষেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল ট্রাম্পের দল।

প্রসঙ্গত ইউরোপ সহ দক্ষিণ আমেরিকা,ইজরায়েল সর্বত্রই ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ উগ্র দক্ষিণপন্থী রাষ্টেনেতারা পরাজিত হচ্ছেন। ব্রাজিল, সার্বিয়া,বুলগেরিয়ায় ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ ও সমর্থিত রাষ্ট্রপ্রধানরা নির্বাচন কিংবা গণ অভ্যুত্থানে সরে গিয়েছেন। শক্তিশালী ইজরায়েলি রাষ্ট্রপ্রধান প্রায় ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে প্রথমবার ধাক্কা খেয়েছেন। বিরোধীরা একজোট হয়ে তাকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথে।

যুদ্ধের বদলে উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির দিকেই মানুষের রায় গিয়েছে। ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে এবং অভিবাসী নীতিকে হাতিয়ার করেই মধ্যবর্তী নির্বাচন পার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা কাজে দিল না। এমনকি ইসলামোফোবিয়া ছুঁড়ে ফেলে নিউইয়র্কের মতই মিশিগান রাজ্য বেছে নিয়েছে প্রথম সংখ্যালঘু মেয়র। ২৫ বছর পর জর্জিয়া হাতছাড়া হয়েছে রিপাবলিকানদের।

দু’বছর পর আমেরিকায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।এই ফলাফলের পথে ট্রাম্পের অনেক পরিকল্পনা আইনি পথে আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প একার সিদ্বান্ত নিয়ে কোনো আইন পাশ করাতে পারবেন না। যা এতদিন করেছেন। পার্লামেন্টে ক্ষমতাবলে ৩৩ টি আইন একতরফা পাশ করিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বাড়ার ফলে তারা শুনানির আয়োজন করা, সমন জারি করা এবং তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও পেয়ে যাবে।

তবে ট্রাম্প ফলাফল দেখেই আগাম ঘোষণা করে রেখেছেন, তিনি ডেমোক্র্যাটদের আনা সব প্রস্তাবে ভেটো দেবেন। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ১০০ আসন বিশিষ্ট সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ৫৩টিতে এবং রিপাবলিকানরা ৪২টিতে। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ ৪৩৫ আসনের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২৪টিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এবং ১৩৩টিতে এগিয়ে রিপাবলিকানরা। তবে কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল এখনও আসা বাকি। বলে রাখা ভালো, এতদিন পর্যন্ত সেনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৪৭টি আসন। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি।

প্রসঙ্গত,মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই ভোটে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হয় না। বরং কংগ্রেসের হাউস এবং সেনেটের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর নির্বাচন করা হয়। এ বারের ভোটে ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদেও নির্বাচন হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে নতুন আইন পাশ করানো কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক