বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ • ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ২:৫৭
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
আন্তর্জাতিক

Middle East Crisis : ইজরায়েলের নির্বাচন: আরব দলগুলির উত্থানে কেন বাড়ছে নেতানিয়াহুর চাপ?

ইজরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে ক্ষমতার লড়াই! প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। কেনেসেটের ১২০ আসনের নির্বাচনে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ৬১-তে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে দুই শিবিরই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। আর সেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্যালেস্তিনীয় নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরবপন্থী দলগুলি।

Middle East Crisis : ইজরায়েলের নির্বাচন: আরব দলগুলির উত্থানে কেন বাড়ছে নেতানিয়াহুর চাপ?
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

ইজরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট কেনেসেটে সরকার গড়তে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর প্রাথমিক গণনায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ, কোনও শিবিরই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আরব দলগুলির হাতেই কি সরকার গঠনের চাবিকাঠি? এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এখানেই। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা আগের কেনেসেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলি যদি এই আরব দলগুলির সমর্থন আদায় করতে পারে, তাহলে বিকল্প সরকার গঠনের অঙ্ক মেলানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা আরব দলগুলির সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সংখ্যার অঙ্ক মিললেও রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুও বিরোধী শিবিরের কোনও অংশকে কাছে টেনে বৃহত্তর জোট তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। ভোটে কারচুপির অভিযোগ, পাল্টা তদন্তের দাবি নির্বাচনের ফল ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে কারচুপির অভিযোগ। নেতানিয়াহুর লিকুদ দল ভোটে অনিয়ম, ভয় দেখানো, জাল নথি এবং বেআইনি সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এগুলি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, প্রমাণিত ঘটনা নয়। ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির এক আধিকারিকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কারচুপির অভিযোগের সঙ্গে তাঁরা একমত নন। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত ফলাফল এবং তদন্তের অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অনিয়ম প্রতিষ্ঠা করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। Middle East Crisis-এ কী প্রভাব পড়তে পারে? ইজরায়েলের এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং গাজা সংঘাত আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ সরকার কোন পথে চলবে, তার উপর ইজরায়েলের নিরাপত্তানীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির দিক নির্ভর করতে পারে। ভারতের কাছেও এই পরিস্থিতির গুরুত্ব কম নয়। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল থেকেই অবিলম্বে এমন কোনও পরিবর্তন ঘটবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বিশ্ব রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন US Election 2026, Russia Ukraine War বা China US Tension-এর মতো পৃথক ভূরাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে ইজরায়েলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর বিদায়, নাকি নতুন রাজনৈতিক চাল? এখনই নেতানিয়াহুর বিদায় নিশ্চিত নয়। তিনি এখনও বৃহত্তম জোটের নেতা এবং সরকার গঠনের সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের সামনে রয়েছে আরব দলগুলির সঙ্গে সমঝোতা, বৃহত্তর ঐক্যজোট গঠন অথবা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আরব দলগুলির ঐতিহাসিক উত্থান কি শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেবে, নাকি জোটের নতুন সমীকরণে ফের ঘুরে দাঁড়াবেন ইজরায়েলের এই দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা? সেই উত্তর মিলবে আগামী দিনের সরকার গঠনের আলোচনায়।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক