প্রত্যাশিতভাবেই বাংলা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তৃণমূলের চার মনোনীত প্রার্থী।
পাশাপাশি বিজেপি থেকেও রাজ্য সভায় নির্বাচিত হলেন রাহুল সিনহা। বাংলার বিধানসভায় বিধায়কের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যসভার এই পাঁচ আসনে তৃণমূল এবং বিজেপির মনোনীত প্রার্থীদের জয় ছিল প্রত্যাশিত।
সেইমতো কোন ভোটাভুটি না হওয়ায় এবং মনোনয়নপত্রে কোনো গাফিলতি ধরা না পড়ায় আজ রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে
রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে নিজেদের সাংসদ পদে নির্বাচিত হওয়ার সার্টিফিকেট হাতে নেন নব নির্বাচিত সাংসদেরা।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সার্টিফিকেট পেলেন তৃণমূলের বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমাররাও। তবে মানেকা গুরুস্বামী দিল্লিতে থাকায় তাঁর হয়ে সার্টিফিকেট নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

মনোনয়নপত্রে বেশ কিছুটা ভুল ত্রুটি থাকলেও সবকিছু পের করে অবশেষে সাংসদ হিসেবে সার্টিফিকেট পেলেন বিজেপির মনোনীত প্রার্থী রাহুল সিনহা। সোমবার বিধানসভায় তাঁর হাতে জয়ের সার্টিফিকেট তুলে দিলেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক। তাঁর হাত ধরে অভিনন্দন জানাতে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে।
]]>
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে এখনো কিছুটা দেরি রয়েছে। তবে তার আগেই বাংলায় রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় এসে নিজেদের মনোনয়নপত্র পেশ করলেন তৃণমূল এবং বিজেপির মনোনীত রাজ্য সভার প্রার্থীরা।
এবার রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে বিশাল চমক। সব হিসেব-জল্পনা উল্টে দিয়ে প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দিলেন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, নির্মল ঘোষ। প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে নেমে স্বামী নিসপাল সিং রানেকে সঙ্গে নিয়ে যান অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
তৃণমূলের এবারের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন রাজীব কুমার। সময়ের আগেই বিধানসভায় পৌঁছে মুখ্য সচেতকের ঘরে পৌঁছান রাজীব কুমার। রাজনীতির নতুন ইনিংস শুরুর প্রাক্কালে তিনি বলেন, ‘মাদার টেরিজা বলতেন, ঈশ্বর আমাদের ওপর ততটুকুই দায়ভার দেন যা আমরা বইতে পারি। তবে আমি চাই ভগবান যেন আমায় অতটা বিশ্বাস না করেন!’
বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘যেমন আপনি একটা স্টেজে গেলে আপনাকে মানুষ গানের অনুরোধ করে। এই গানটা গান, সেই গানটা গান। এটাও প্ল্যাটফর্ম বা পারফর্মেন্স। শুধু রিকোয়েস্টের ধরণ আলাদা। এনারা যদি বলেন, রাস্তাটা করে দিন, স্কুল করে দিন, তো মানুষের টাকাতেই কাজ হয়। আগে ভোটে জেতাতে হয়, তারপর সে কাজ কীরকম করছে দেখতে হয়। আগে আমায় মনোনীত করুন, তারপর আমার কাজটা কেমন হবে বিচার করবেন।’

কোয়েল মল্লিক বলেন, ‘প্রথমবার রাজ্য বিধানসভায় পা রেখে দারুণ লাগছে। জার্নিটা সবে শুরু হল। একদম নতুন অভিজ্ঞতা। ভীষণ ভাল লাগছে। কেরিয়ারে প্রায় ২২ বছর হয়ে গিয়েছে। মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছি। আশা করি আগামী দিনেও মানুষের আশীর্বাদ এভাবেই পাব।’ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘অত্যন্ত আপ্লুত এবং সম্মানিত বোধ করছি।’ রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোন বিষয়গুলিতে তিনি গুরুত্ব দেবেন জানতে চাইলে সাফ জানিয়ে দেন, ‘টু আর্লি। সদ্য মনোনয়ন জমা করতে এসেছি আজকে।’

শমীক শুভেন্দুকে নিয়ে মনোনয়ন রাহুলের
তৃণমূলের চার প্রার্থীর পাশাপাশি এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পৌঁছান রাহুল সিনহা। গলায় বাঁকে বিহারীর উত্তরীয় এবং সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে হাজির হয়ে তিনিও নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, বিজেপির বরিষ্ঠ নেতৃত্ব সম্মানীয় রাহুল সিনহা মহোদয় আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। আজ বিধানসভায় বিজেপির পথপ্রদর্শক তথা পশ্চিমবঙ্গের জনক প্রাতঃস্মরণীয় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও ভারতের সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর’কে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে, রাহুল সিনহা মহাশয় আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন। আমরা ওনার জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। সম্মানীয় রাহুল সিনহা মহাশয়কে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই।’
রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় চমক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে রাজ্যসভার সাংসদ হচ্ছেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার।
তালিকায় রয়েছে একের পর এক চমক। বিধানসভায় প্রার্থী না করে সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ করছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ও মানেকা গুরুস্বামীকে।
এরপরেই রয়েছে আরেকটি বড়ো সারপ্রাইজ। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে মমতা পাঠাচ্ছেন রাজ্যসভায়।

আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন।
]]>দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উপরে তৃণমূলের মন্ত্রী বনাম বিজেপি-র সাংসদ। বচসায় জড়ালেন রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিজেপি সাংসদের গাড়ি আটকে রাখলেন রাজ্যের মন্ত্রী। প্রকাশ্যেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুই জনপ্রতিনিধি। বাবুলের অভিযোগ, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করায় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বিজেপি সাংসদকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন বাবুল।
এ দিন রাতে কলকাতার দিকে থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। মন্ত্রীর দাবি, সেই সময় তাঁর গাড়ির সামনেই ছিল তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গাড়ি। বাবুলের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে সাইরেন বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে এগোচ্ছিল বিজেপি সাংসদের গাড়ি।
দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উপরে মেরামতির কাজ চলায় এমনিতেই রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে রয়েছে। তার মধ্যেই বেপরোয়া গতিতে এগোতে গিয়ে বিজেপি সাংসদের গাড়ি বেশ কয়েকটি বাইককেও ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ বাবুলের।
বাবুলের দাবি, তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে হুটার বাজিয়ে প্রচণ্ড গতিতে একটি গাড়ি আসছিল। সেটি বাবুলের গাড়িকে অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাবুল সে সময় মুখ বার করে অপর গাড়ির চালককে ঠিক ভাবে গাড়ি চালানোর কথা বলেন। বাবুলের দাবি, তিনি দ্বিতীয় গাড়ির চালককে বলেন, ‘এ ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন কেন? আপনি তো লোককে মেরে দেবেন! আমার গাড়ির সঙ্গে ঠেকে গেলে তো দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।’ তৃণমূল বিধায়কের দাবি, সেই সময় দ্বিতীয় গাড়ির পিছন থেকে কেউ এক জন ‘চালা দে, চালা দে’ বলে ওঠেন। অর্থাৎ, গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন চালককে।
বেশ কিছুটা ধাওয়া করে বিজেপি সাংসদের গাড়ি থামান বাবুল। মন্ত্রীর অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁকে গ্রেফতার করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এর পরেই নিজের গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে বিজেপি সাংসদের গাড়ি আটকান বাবুল। তিনি দাবি করেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ক্ষমা না চাইলে তাঁর গাড়ি তিনি ছাড়বেন না। যদিও গোটা ঘটনার সময় গাড়িতেই বসেছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ।

ঘটনার জেরে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উপরে তৈরি হয় যানজট। মন্ত্রী এবং সাংসদের বচসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। এর পর পুলিশের মধ্যস্থতায় ঝামেলা মেটে।
]]>ওয়েবসাইট হ্যাক করে পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল একদল সাইবার অপরাধীরা। এই ট্যাব কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিড়ম্বনা বেড়েছিল। যদিও পর পর গ্রেফতার হতেই বহু টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে সবটা উদ্ধার করা গিয়েছে কিনা সেটা পুলিশ জানায়নি। তবে এই সাইবার প্রতারণার ঘটনার পর থেকে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয় ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো প্রতারণার ঘটনা। এক্ষেত্রে একটি ফোন ধরলে বা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করলেই ব্যাঙ্কের টাকা গায়েব হতে পারে। তাই এমন প্রতারণার ঘটনা রুখতে উদ্যোগী হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। লঞ্চ করা হল দুটি বই। যা সাইবার সচেতনতা বাড়াবে।
রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার ক্রাইমের প্রতিকারে এবার পাবলিক অ্যাওয়ারনেসের উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। ডিজিটাল প্রতারণা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দফতর। সাইবার প্রতারকদের ফাঁদ থেকে মানুষকে সচেতন করতে বই লঞ্চ করলেন তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘এই বইয়ে কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলকে সচেতন করা হবে। আপাতত বই লঞ্চ করা হলেও পরে ডিজিটাল অ্যাপও চালু করা হবে। মানুষ যখন ক্রমে ব্যাঙ্ক ট্রানজাকশন থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে অনলাইন মাধ্যমে দিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তখন রোজ সাইবার ক্রাইম বেড়ে চলেছে।
নানা জায়গায় সাইবার অপারেশনে এক্সপার্ট মানুষজন এই ধরনের সাইবার ক্রাইম গ্রুপ খুলে সেখানে নানা সাইটে একাধিক অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম ঘটিয়ে চলেছে।’
এই সাইবার ক্রাইম থেকে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভিভিআইপিরাও বাদ যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বাবুল সুপ্রিয়। আজ, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাবুলের বক্তব্য, ‘কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের প্রায় ৩ হাজারের বেশি কর্মীকে তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের পক্ষ থেকে সাইবার সুরক্ষা নিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এবং সচেতনতার দ্বারা সাধারণ মানুষকে সাইবার প্রতারণার হাত থেকে অনেক বেশি বাঁচানো সম্ভব হবে। এখন প্রতারকরা খুব সরল ভাষা ব্যবহার করে প্রতারণার জাল ছড়ায়। আমজনতা তা বুঝতে না পেরে তাদের কথা মতো এগিয়ে যায় এবং প্রতারণার শিকার হয়।’
সাইবার ক্রাইম থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে এবার সরকারি উদ্যোগে অ্যাওয়ারনেস বা জনসচেতনতা গড়ে তোলার কাজ শুরু করল রাজ্য সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ। সাইবার ক্রাইম থেকে কেমন করে নিজেকে মুক্ত রাখা যায় সেটা কার্টুন পুস্তিকার মাধ্যমেই এবার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করল তারা।

আজ রাজ্য বিধানসভায় সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র কথায়, ‘বেশ কিছু ব্রাউজারের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। মানুষ যদি সচেতন হন তাহলে সাইবার ক্রাইমের পাল্লায় পড়ে আর কউকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা খোয়াতে হবে না। কাউকে টাকা পেমেন্ট করতে গিয়ে সেই টাকা হারাতে হবে না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও পার্সোনাল ডকুমেন্টস হ্যাক হবে না।’
]]>ডেস্টিনেশন বেঙ্গল। ডেস্টিনেশন কলকাতা। ভারতবর্ষের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থাগুলির পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম সারির সংস্থা গুলির কাছেও সবথেকে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে উঠে আসতে শুরু করেছে বাংলা।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলায় বিনিয়োগের জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরা বাংলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
আজ কলকাতায় রাজ্য সরকার, ওয়েবেল এবং টিসিএস সহ ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকের পরে জানিয়ে দিলেন পূর্ব ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং।
বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আগেই বাংলায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য প্রথমবারের জন্য কলকাতায় এসেছে ব্রিটেনের প্রথম সারির ১৭ সেমিকন্ডাক্টর, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা।
ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে এই সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে আশা ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, ওয়েবেল এবং এমএসএমই দপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানে ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলায় সেমিকন্ডাক্টর এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেক্টরে যে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে তা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরে রাজ্য সরকার।
https://x.com/UKinKolkata/status/1858154336812974234?t=3bRNEk83p32sdWjLoeR9TA&s=19
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছুটে গিয়ে বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন বিদেশী শিল্পপতিদের সামনে, সোমবার সেই ভূমিকা পালন করেন রাজীব তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

সল্টলেকে ওয়েবেল আইটি পার্কে আয়োজিত এই বিশেষ কনফারেন্সে উপস্থিত ছিল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস, বণিক সভা ন্যাশকম-সহ বেশ কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

কলকাতায় ভারত মার্কিন যৌথ উদ্যোগে যে সেমিকন্ডাক্টার প্লান্ট তৈরীর ঘোষণা কয়েকদিন আগেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করেছিলেন সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে এদিনের কনফারেন্সে।
তার প্রেক্ষিতেই সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত গোটা ইউরোপ জুড়ে ব্যবসা করা ব্রিটেনের তিনটি সংস্থা কলকাতায় ভারত ইংল্যান্ড যৌথ উদ্যোগে নতুন একটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট তৈরির বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করে।

পাশাপাশি কলকাতায় যেভাবে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সমস্ত মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয় জানার পরে ব্রিটেনের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আসা দুটি সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হেলথটেক অর্থাৎ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে ইউকে ওয়েস্ট বেঙ্গল টেকনোলজি রাউন্ড টেবিল শীর্ষক আজকের কনফারেন্সে।

দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনের বৈঠকের শেষে বাংলায় ব্রিটিশ শিল্পপতিদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বলে জানিয়ে আসা প্রকাশ করেন পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং।
প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নিত্যনতুন উন্নতি হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে ই-ওয়েস্ট। বাড়ির পুরনো কম্পিউটার, টিভি কিংবা মোবাইল সেট ফেলবেন কোথায়? এবার সেই সমস্ত বাতিল জিনিসপত্রই কিনে নেবে ওয়েবেল। কলকাতা পুরসভার সঙ্গে একযোগে তারা এই বাতিল জিনিসপত্র কিনবে বলে সূত্রের খবর।
এজন্য বিভিন্ন পাড়ায় তারা ক্য়াম্প খুলবে। সেখানেই এই বাতিল হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক্সের জিনিসপত্র কেনা হবে।
অর্থাৎ একেবারে বিনা পয়সায় তারা এই সব জিনিসপত্র নিয়ে নেবে এমনটা নয়। প্রতিটি জিনিসের জন্য আলাদা দাম নির্ধারন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে সেই বাতিল হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক্সের জিনিসপত্র কিনে নেবে ওয়েবেল।
ইতিমধ্য়েই কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে ওয়েবেলের কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন। তিনি মূলত বাতিল হয়ে যাওয়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ বিক্রি করেছেন ওয়েবেলের কাছে। তবে কেবলমাত্র মেয়র নন। আপনিও বিক্রি করতে পারেন ওয়েবেলের কাছে।
তথ্য প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, সব বাড়িতেই খুঁজলে প্রচুর বাতিল বাল্ব পাওয়া যাবে। যা আজ আর কাজে লাগছে না। তা কোনওদিন কাজে লাগবে না। জমিয়ে না রেখে এগুলো বিক্রি করে দিন।
পাড়ায় পাড়ায় মাঝেমধ্য়েই শুনতে পাওয়া যায় ফেরিওয়ালারা বাতিল হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক্সের জিনিসপত্র কেনার জন্য আসেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে তারা কী করেন তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে এবার আর এসব নিয়ে চি্ন্তার কোনও কারণ নেই।
কারণ যেটা বলা হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া টিভি, রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, ইনভার্টারে এমন ধরনের ধাতব জিনিস থাকে যে সেগুলি পরিবেশের মধ্য়ে গেলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেকারণে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াকরণ করাটা অত্যন্ত দরকার। সেটাই করবে ওয়েবেলের বিশেষ ইউনিট।
এজন্য় সোনারপুর আইটি পার্কে তৈরি হচ্ছে প্লান্ট। সেখানেই এই প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। সেই অনুসারে এই বাতিল হওয়া জিনিসপত্র কেনা হবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। আর এই বাতিল হওয়া ই-ওয়েস্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর লোকজনের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বাংলায় এই কাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
এদিকে কিছু ইলেকট্রনিক্সের জিনিসে ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু থাকে। এগুলি ফুসফুসের ক্যানসার, কিডনি বা লিভারের অসুখ তৈরি করতে পারে। সেকারণে যেখানে সেখানে ই-ওয়েস্ট ফেলে দিয়ে পরিবেশের আর নতুন করে ক্ষতি করাটা উচিত নয়।
]]>