যাবতীয় চক্রান্ত ব্যর্থ করে সনাতনী দূর্গা পূজা করার অনুমতি মিলল অবশেষে। বিরোধী দল নেতা থাকা কালীন শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনে যে সনাতনী দুর্গাপুজোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবারে ধুমধাম সহকারে সেই সনাতনী দূর্গা পূজা হবে নিউ টাউন মেলা প্রাঙ্গণেই।
২০২২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে নিউটাউনে বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছোট একটি মূর্তি তৈরি করে শুরু হয়েছিল সনাতনী দূর্গা পুজো। কিন্তু এরপর থেকে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের কিছু নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিকদের চক্রান্তে অনুমতি পাওয়া নিয়ে দরজা থেকে দরজায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে সনাতনী দূর্গা পূজা কমিটির উদ্যোক্তাদের।
এনকেডিএ এবং হিডকো-র পাশাপাশি তৎকালীন সরকার পক্ষের বা তৃণমূলের কিছু পেটোয়া ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে এই নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণকে ব্যবহার করেছে অশুভ কাজে।
২০২৪ সালে আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ১০ কিলোমিটার দূরে নিউটাউন ইকোপার্কের পিছনে হনুমান মন্দিরের পাশে পুজো সরাতে বাধ্য করা হয়।
আবার ২০২৫ সালেও এনকেডিএ এবং হিডকো-র পক্ষ থেকে এই দুর্গা পুজোকে অনুমতি না দিয়ে অন্য একটি দুর্গা পুজো কমিটিকে জায়গা করে দেওয়া হয়।

এবারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই তাই সেই সনাতনী দূর্গা পূজা কমিটির উদ্যোক্তারা রাজ্য সরকারের কাছে এবং রাজ্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন অনুমতির জন্য। সেই আবেদন ইতিমধ্যেই চলে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
]]>প্রথমে দেবাশীষ সেন এবং তারপরে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে অপসারণের পরে হিডকোর নতুন চেয়ারপার্সন পদে দায়িত্ব পেলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্যের আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন পর্ষদ হিডকো-র নতুন চেয়ারপারসন হলেন অর্থ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য । মঙ্গলবার নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি হিডকো ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে চন্দ্রিমা বলেন, আমায় এর জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। জান-প্রাণ দিয়ে এই দায়িত্ব পালন করব।
২০২১ সাল থেকে হিডকোর চেয়ারম্যান ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম। তবে গত ডিসেম্বরে তাঁকে সরিয়ে হিডকোর দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে তুলে দেওয়া হয় প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর হাতে। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যদিও ফিরহাদ বিষয়টিকে ‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
মূলত ডিসেম্বরেই হিডকোকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে না রেখে আনা হয় প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবর্গ দফতরের অধীনে— যে দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, হিডকোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সরাসরি নজরে রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। চন্দ্রিমাকে ওই পদে বসিয়ে কার্যত এক জন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত মুখকে সামনে রাখা হল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল উত্তর দমদমের বিধায়ক চন্দ্রিমার।
বর্তমানে তিনি অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের বাজেট পেশ করেন এবং মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলান। এবার সেই তালিকায় যোগ হল হিডকোর চেয়ারম্যান পদ। শুধু তাই নয় চলতি বছরের মে মাসে চন্দ্রিমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের হাত থেকে দলের লিগাল সেলের দায়িত্ব তুলে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার সঁপে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমার হাতে। মলয় ঘটক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের লিগাল সেলের দায়িত্বে ছিলেন। মলয় ঘটক রাজ্যের আইনমন্ত্রী-ও।

সিপিএম আমলে হিডকো ছিল আবাসন দফতরের অধীনে। তখন আবাসনমন্ত্রী হিসেবে সিপিএম নেতা গৌতম দেব ছিলেন চেয়ারম্যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে হিডকো পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে এলেও, এখন তা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে।
]]>নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA) এবার আবর্জনা সমস্যার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল। খালি জমিতে আবর্জনা ফেললে এখন থেকে দিতে হবে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
আগস্ট ২০২৫-এর শুরুতেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং ইতিমধ্যেই নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে Garbage Display Boards।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি জায়গায় এই সাইন বোর্ড বসানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে— “এখানে আবর্জনা ফেলবেন না, নইলে জরিমানা”।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
এনকেডিএ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা জমি ও পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধভাবে আবর্জনা ফেলার অভিযোগ আসছিল। শুধু অভিযোগই নয়, এনকেডিএ কর্মকর্তারা নিজেরাও এই সমস্যা চাক্ষুষ করেছেন। আবর্জনার কারণে শুধু এলাকার সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, বরং সেগুলোতে জমে থাকা নোংরা জল হয়ে উঠছিল ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘর। তাই জনগণের অসচেতনতার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা থেকে শাস্তির পথে
এর আগে এনকেডিএ একটি WhatsApp Helpline Number চালু করেছিল, যেখানে ছবি ও লোকেশনের তথ্য পাঠালেই সাফাই কর্মীরা গিয়ে পরিষ্কার করতেন। একইসঙ্গে চালানো হয়েছিল ৭ দিনের ক্লিনিং ড্রাইভ। কলকাতা পুরসভা এবং NKDA যৌথ উদ্যোগে বর্ষার আগে এই বিশেষ অভিযান চলে। তবে সমস্যা থেকে যায় একই জায়গায় বারবার আবর্জনা ফেলার কারণে।
কলকাতা পুরসভার অবস্থাও একই
কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে রয়েছে প্রায় ৭৪২০টি খালি জমি, যার মধ্যে ১৮২৩টি “স্পর্শকাতর” বলে চিহ্নিত। এসব জায়গা পরিষ্কার করার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের নোংরা হয়ে যাচ্ছে। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে ৪০৭০টি পুকুরের ক্ষেত্রেও, যার মধ্যে প্রায় ৬৭৩টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। পুরসভার একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এক লরি বর্জ্য ধাপায় নিয়ে যেতে খরচ হয় প্রায় ₹১৭০০ টাকা। একই জায়গা বারবার পরিষ্কার করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে বিপুলভাবে।
জরিমানাই একমাত্র সমাধান
পুরসভার অনেক আধিকারিকের মতে, যত প্রচার বা প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, জরিমানা চালু না করলে নাগরিক উদাসীনতা বন্ধ করা যাবে না। সেই কারণে NKDA-র এই পদক্ষেপকে অনেকেই যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন। কারণ, কঠোর আর্থিক শাস্তি ছাড়া নগরবাসীর আচরণে পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব।
]]>
দুর্গাপুজো এখন আর কেবলমাত্র বাঙালির উৎসব নয়, UNESCO-র স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই গর্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে নিউটাউনে তৈরি করতে চলেছে ‘দুর্গা অঙ্গন’ (Durga Angan)—একটি স্থায়ী মন্দির-সদৃশ কমপ্লেক্স, দেবী দুর্গাকে উৎসর্গিত।
প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২৬২ কোটি টাকা, এবং ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত হয়েছে নিউটাউনের ইকোপার্কের বিপরীতে, ওয়েস্টিন হোটেলের পাশে। কলকাতার বিমানবন্দর, মেট্রো স্টেশন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির কাছাকাছি হওয়ায় এই জায়গাকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা ও কাঠামো
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিডকো (WBHIDCO)-কে। একটি বিশেষ এজেন্সি নিয়োগ করা হবে যারা মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এটি হবে বাংলার প্রথম স্থায়ী দুর্গা মন্দির-কমপ্লেক্স, অনেকটা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ধাঁচে। সারা বছর পর্যটকরা এখানে এসে শুধু পূজা নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন।
একজন সিনিয়র অফিসার বলেছেন – “এটি হবে বাংলার একমাত্র দুর্গা মন্দির কমপ্লেক্স। সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পুজোর সময় ছাড়াও সারা বছর ধরে এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে বাস্তবে
২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী প্রথম ঘোষণা করেন এই পরিকল্পনার কথা। এরপর রাজ্য মন্ত্রিসভা প্রস্তাব অনুমোদন করে। পর্যটন দফতর ও হিডকোকে উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত নিউটাউনকেই নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, পর্যটন ও অর্থ দফতর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে যারা মন্দির কমপ্লেক্সের নির্মাণ ও পরিচালনা দেখবে।
UNESCO স্বীকৃতির প্রভাব
২০২১ সালে UNESCO পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোকে “Intangible Cultural Heritage” ট্যাগ দেয়। এই স্বীকৃতি বিশ্ব দরবারে বাংলাকে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। সেই গর্বকেই স্থায়ী রূপ দিতে ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন – “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন তাই করেন। UNESCO আমাদের দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সম্মানকে ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী ‘দুর্গা অঙ্গন’ গড়ার প্রস্তাব দেন। আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হল।”
পর্যটনের সম্ভাবনা
নিউটাউন ইতিমধ্যেই কলকাতার অন্যতম আধুনিক হাব। ইকোপার্ক, সিটি সেন্টার, মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের মতো জায়গার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘দুর্গা অঙ্গন’।
এটি কেবল বাঙালির পূজা সংস্কৃতির প্রতীক হবে না, বরং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে। সরকারের আশা, প্রতিবছর লক্ষাধিক পর্যটক এখানে ভিড় জমাবেন।

West Bengal government Durga Angan প্রকল্প শুধু একটি মন্দির নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রচেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ নিউটাউনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
‘দুর্গা অঙ্গন’ বাঙালির গর্ব, সংস্কৃতির শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠবে। আগামী দিনে এটি বাংলার অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র হবে বলেই আশা করা যায়।
]]>এক সময় সল্টলেকের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠত শান্ত জলাধার, ছায়া ঘেরা হাঁটার পথ আর সবুজ উদ্যান। সেই সৌন্দর্যের কিছুটা এখনও টিকে থাকলেও, আজকের সল্টলেক, বিশেষত সেক্টর ফাইভ ও কাছাকাছি নিউটাউন, হয়ে উঠেছে কাঁচ-লোহার বহুতল ভবনের শহর।
এখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক টেক পার্ক, কর্পোরেট অফিস ও আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র—যা কলকাতাকে এনে দিয়েছে "সিলিকন ভ্যালি অফ দ্য ইস্ট"-এর খেতাব। Kolkata IT industry growth
গত সাত বছরে এই অঞ্চলে ১৫০০-রও বেশি আইটি সংস্থা গড়ে উঠেছে, কর্মসংস্থান হয়েছে ২.৬ লাখেরও বেশি মানুষের। কেন্দ্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার আইটি ও আইটি-সাপোর্টেড সার্ভিস (ITeS) রপ্তানি FY18-এ যেখানে ছিল ৬,৬৮৪ কোটি টাকা, FY25-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,২৬৮ কোটি টাকায়। IT boom in Kolkata
বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি এবং নিউটাউনের উত্থান
২০১৮ সালে নিউটাউনের ২৫০ একর জমিতে গড়ে ওঠে বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি (BSV)। ( Silicon Valley of the East ) আধুনিক পরিকাঠামো ও দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা এই অঞ্চলকে করে তোলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কাছে আকর্ষণীয়। কোভিড-১৯ এর সময় বহু প্রযুক্তি কর্মী শহরে ফিরে আসেন, এবং তখনই সংস্থাগুলি বুঝতে পারে—এই শহরে তাদের অনেক কর্মী রয়েছেন, যাঁদের ধরে রাখতে গেলে কলকাতাতেই এক্সপান্ড করা উচিত।

IBM, Microsoft, Wipro, TCS, Tech Mahindra-র মতো সংস্থা অনেক আগেই এখানে বিনিয়োগ করেছিল। ( IT companies in Salt Lake Sector V ) তবে গত তিন বছরে নতুন করে এসেছে Calsoft, Zensar, LTIMindtree, Grant Thornton, McKinsey-এর মতো সংস্থা। এই সংস্থাগুলি মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়েছে এবং তৈরি হয়েছে ২০ হাজারের বেশি চাকরি। (Bengal Silicon Valley project)
সেক্টর ফাইভ: আইটি বিপ্লবের হৃদপিণ্ড
২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সেক্টর ফাইভ-এ ৬৪১টি আইটি ও ITeS সংস্থা কাজ শুরু করেছে—গড়ে বছরে ১৬০টি করে নতুন সংস্থা। ৪৩২ একরের এই অঞ্চলে প্রায় ২৫০টি ভবন, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই আইটি সংস্থা দখল করেছে। (New Town IT hub Kolkata) ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সরকারী তথ্য অনুযায়ী এখানে ১,৫২,২৩১ কর্মী কাজ করছেন। (Kolkata IT job opportunities)
গ্লোবাল ফাউন্ডরিজ-এর মতো আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাও এখানেই অফিস খোলার ঘোষণা করেছে। ২০২২ সাল থেকে এই অঞ্চলে ৬৭৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। (Investment in Bengal IT sector)
নিউটাউনের নতুন চেহারা
সেক্টর ফাইভ থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরের নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া II-এ ২৭১৮ একর জমিতে গত তিন বছরে ৩০টি আইটি ভবন ও ৫টি ডেটা সেন্টার অনুমোদিত হয়েছে। (TCS Infosys Wipro Kolkata offices) এর মধ্যে রয়েছে TCS, Infosys, Wipro, EY GDS, Deloitte USI, LTIMindtree, Zensar, Thoughtworks, STT Global, Reliance ও Adani-এর মতো সংস্থা। (NDITA and NKDA IT zones)
Infosys-এর ৩.২ লাখ স্কোয়ার ফুট ক্যাম্পাস ৪২৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৪-এ। ১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ITC-এর ১৭ একরের আইটি প্রকল্পের জন্য অকুপেন্সি সার্টিফিকেট জারি করেছেন। (Data centres in Kolkata)
বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি: বিনিয়োগের নতুন যুগ
BSV-তে বর্তমানে ৪১টি সংস্থা কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ST Telemedia, NTT Data, Airtel Nxtra, CtrlS। মোট ২৭,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে, যার বেশিরভাগই ২০২১ পর থেকে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭৫,০০০ কর্মসংস্থান হবে। (Tech parks in Kolkata)
TCS এখানে ২০ একর জমি নিয়ে কাজ শুরু করছে, Adani Group ৫০ একর, Reliance Jio ৪০ একর এবং LTIMindtree ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। LTIMindtree-এর চিফ HR অফিসার চেতনা পटनায়েক জানিয়েছেন, “২০২৬ অর্থবর্ষের শেষের মধ্যে আমরা কলকাতা সেন্টারে ৫,০০০-৬,০০০ কর্মী রাখতে চাই।”
মানবসম্পদ, ভূগোল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা
Sector V Stakeholders’ Association-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কল্যাণ করের মতে, Infosys, Wipro ও ITC Infotech-এর মতো সংস্থাগুলোর সম্প্রসারণ ancillary business গুলোকেও টেনে আনছে। এছাড়াও, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগোষ্ঠী—যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০%—তাদের কাছাকাছি থাকায় এখানে ডেটা সেন্টার তৈরি ও পরিচালনা সহজ হয়েছে। (Indian IT hubs beyond Bengaluru)
কলকাতার মতো শহরে Jadavpur University, IIM Calcutta, IIT Kharagpur, Indian Statistical Institute-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজলভ্য, দক্ষ এবং খরচ সাশ্রয়ী মানবসম্পদ পাওয়া যায়, যারা AI, blockchain, IoT ও সাইবারসিকিউরিটি-র মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ।
বদলে যাওয়া প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি
আজকের বিনিয়োগকারীরা জানেন যে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত। (Government policy for IT in Bengal) বিল্ডিং প্ল্যান বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে মিলছে। “প্রো-অ্যাক্টিভ নীতি ও বিশ্বমানের পরিকাঠামো দিয়ে আমরা ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি,” দাবি করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। (IT real estate boom Kolkata)
রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রও সমান গতিতে বাড়ছে। (IT real estate boom Kolkata) Merlin Group-এর চেয়ারম্যান সুশীল মোহতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ১৯ লক্ষ স্কোয়ার ফুট ও ২০২৪ সালে ২২ লক্ষ স্কোয়ার ফুট অফিস স্পেস কলকাতা বাজারে এসেছে। (Kolkata as an emerging IT hub)
চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে
তবে সবকিছুর মধ্যেও কিছু স্থায়ী সমস্যা রয়েছে। অনেক নতুন আইটি চাকরি এখনও অপেক্ষাকৃত কম বেতনের। অন্যান্য মেট্রো শহরের মতো বহিরাগত উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-ব্যয়কারী কর্মীর দল কলকাতায় আসতে চাইছে না। এক প্রবীণ আইটি কর্তার মতে, “শুধু চাকরি থাকলেই হবে না, দরকার প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ভবিষ্যৎ কেরিয়ার গ্রোথ ও এক আকর্ষণীয় জীবনধারা।” (Cost-effective IT talent in Bengal)
২০২৫ সালের মার্চে রাজ্য সরকার কিছু শিল্প সুবিধা প্রত্যাহার করেছে—যা নতুন বিনিয়োগে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া আধুনিক ও উদ্ভাবনী আইটি নীতির ঘাটতি আগামীদিনে সমস্যার কারণ হতে পারে। যদিও সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনে ভালো সাড়া মিলেছে, বাকি রাজ্যের ২৬টি আইটি পার্ক এখনও অনেকটাই খালি পড়ে রয়েছে। (Kolkata digital economy)
NASSCOM-এর প্রাক্তন সভাপতি আর. চন্দ্রশেখরের মতে, “কলকাতাকে সত্যিকারের আইটি শহরে পরিণত করতে হলে এটিকে এমন এক শহরে রূপান্তর করতে হবে, যেখানে বাইরের রাজ্য থেকে আসা মানুষও থাকতে ও কাজ করতে চাইবেন।”
একসময় পরাধীনতার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির শহর হিসেবে পরিচিত কলকাতা আজ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। পরিকাঠামো, নীতিগত সহায়তা, শিক্ষাগত পরিকাঠামো ও ভৌগলিক অবস্থান—সব মিলিয়ে কলকাতা এখন একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তবে এই পথচলা সম্পূর্ণ করতে গেলে দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারাবাহিকতা দরকার—কারণ, সামনে সুযোগ অনেক, কিন্তু সময় সীমিত।
]]>বদলে যাবে নিউটাউনের চেহারা। নিউটাউনে তৈরি হচ্ছে ৫ নয়া আন্ডারপাস।
স্মার্টসিটি নিউটাউনের বুকে আরও আধুনিক পরিকাঠামোর ছোঁয়া। চওড়া রাস্তা থাকলেও দিন দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় বাড়ছে যানজট। সেই সঙ্গে পথচারীদের রাস্তা পারাপারও হয়ে উঠছে কঠিন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার ৫ নতুন আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হিডকোর তরফে।
সূত্রের খবর, এই ৫ আন্ডারপাসের মধ্যে থাকছে দুটি ভিন্ন ব্যবস্থাপনা— যানবাহনের জন্য 'ভেহিকুলার আন্ডারপাস' এবং পথচারীদের জন্য 'পেডেস্ট্রিয়ান সাবওয়ে'।
ইতিমধ্যে ৫ নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নকশা তৈরি, মাটি পরীক্ষা, নিকাশির প্ল্যান সহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী দু'মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে হিডকোর কাছে। সবুজ সঙ্কেত মিললেই শুরু হবে নির্মাণকাজ।
বিশ্ববাংলা সরণি, যা নিউটাউনের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা, সেখানে নিয়মিত গাড়ি, বাস, লরি ও বাইকের চাপ থাকে। চিনারপার্ক থেকে সেক্টর ফাইভ হয়ে নিউটাউনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে যান চলাচল অনেকটাই বেড়েছে।
পথচারীদের সংখ্যাও কম নয়। যদিও বর্তমানে কিছু সাবওয়ে থাকলেও তা শুধু পথচারীদের জন্যই, এবং যান চলাচলের জন্য আন্ডারপাসের সংখ্যা একেবারেই কম।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউটাউনের টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে তৈরি হবে একটি যুগ্ম আন্ডারপাস— যেখানে থাকবে ভেহিকুলার ও পেডেস্ট্রিয়ান উভয় ব্যবস্থা। অপরদিকে, সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটির সামনে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য 'পেডেস্ট্রিয়ান সাবওয়ে' নির্মাণের ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাংলা গেট থেকে ইকোপার্কের দিকে এগোলেই রয়েছে দ্য ওয়েস্টিন হোটেল। এখান থেকে চিনারপার্ক পর্যন্ত চারটি ভেহিকুলার আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে দ্য ওয়েস্টিনের সামনে একটি, সেভেন রোটারি এলাকায় একটি, নোয়াপাড়া অঞ্চলে একটি এবং চিনারপার্কে একটি আন্ডারপাস তৈরি হবে। কলকাতাগামী এবং এয়ারপোর্টগামী উভয় লেনে থাকবে এই আন্ডারপাস সুবিধা।
পথচারি ও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে— এমন পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউটাউনের দ্রুত প্রসারমান জনবসতি ও বাণিজ্যিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্পকে ‘ভবিষ্যতের শহর গঠনের দিশা’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
]]>“গুঞ্জনের তো কিছু নেই। এটা মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। উনি আমাকে হিডকোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। উনিই আমার থেকে দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন।” শুক্রবার নিজেই স্বীকার করে জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। হিডকোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমকে সরিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধেয় এই খবরের ‘সত্যতা’ স্বীকারও করে নিয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে হিডকো। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ছিলেন হিডকোর চেয়ারম্যান। এবার হিডকোর কাজ সরাসরি দেখবে মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা বিভাগ। পার্সোন্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস বিভাগের অধীনে আনা হল হিডকোকে। যে বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ফলে এবার থেকে হিডকোর কাজ সরাসরি দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার টক টু মেয়র অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে। তিনি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নিশ্চয়ই ভালো বুঝেই নিয়েছেন।” ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “যে পদগুলি মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তিনি সেগুলি যাকে দেবেন তার উপরেই নির্ভর করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমি দলের একজন অনুগত সৈনিক, তিনি যা দায়িত্ব দেবেন, সেটাই পালন করব।”
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা আক্ষেপের সুরও শোনা যায় ফিরহাদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “আমার কাছে অনেক কাজ এবং দায়িত্ব রয়েছে। তবে দলের সাংগঠনিক কাজে লাগাবেন মনে করে মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাকে সরিয়ে দেন, তাতেও কোনো আপত্তি নেই।”

মেয়রের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। কেন হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তবে ফিরহাদের কথায় স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তিনি দলের প্রতি অনুগত থাকতে বদ্ধপরিকর। রাজারহাট এবং নিউটাউনে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দেখাশোনা করে হিডকো। নিউটাউনে নগরের যাবতীয় পরিকল্পনা করেছে হিডকো।
এই হিডকোর চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ হাকিম তিন বছর আগে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব দেবাশিস সেন হিডকোর চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে কিছু মন্তব্য শোনা গেলেও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে নয়, বরং সংগঠনের কাজে বেশি মনোনিবেশ করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
]]>