যাবতীয় চক্রান্ত ব্যর্থ করে সনাতনী দূর্গা পূজা করার অনুমতি মিলল অবশেষে। বিরোধী দল নেতা থাকা কালীন শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনে যে সনাতনী দুর্গাপুজোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবারে ধুমধাম সহকারে সেই সনাতনী দূর্গা পূজা হবে নিউ টাউন মেলা প্রাঙ্গণেই।
২০২২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে নিউটাউনে বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছোট একটি মূর্তি তৈরি করে শুরু হয়েছিল সনাতনী দূর্গা পুজো। কিন্তু এরপর থেকে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের কিছু নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিকদের চক্রান্তে অনুমতি পাওয়া নিয়ে দরজা থেকে দরজায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে সনাতনী দূর্গা পূজা কমিটির উদ্যোক্তাদের।
এনকেডিএ এবং হিডকো-র পাশাপাশি তৎকালীন সরকার পক্ষের বা তৃণমূলের কিছু পেটোয়া ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে এই নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণকে ব্যবহার করেছে অশুভ কাজে।
২০২৪ সালে আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ১০ কিলোমিটার দূরে নিউটাউন ইকোপার্কের পিছনে হনুমান মন্দিরের পাশে পুজো সরাতে বাধ্য করা হয়।
আবার ২০২৫ সালেও এনকেডিএ এবং হিডকো-র পক্ষ থেকে এই দুর্গা পুজোকে অনুমতি না দিয়ে অন্য একটি দুর্গা পুজো কমিটিকে জায়গা করে দেওয়া হয়।

এবারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই তাই সেই সনাতনী দূর্গা পূজা কমিটির উদ্যোক্তারা রাজ্য সরকারের কাছে এবং রাজ্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন অনুমতির জন্য। সেই আবেদন ইতিমধ্যেই চলে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
]]>আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক জগতে নতুন পালক জুড়তে চলেছে কলকাতার মুকুটে। ভারতবর্ষের মধ্যে সবথেকে বড় এবং অত্যাধুনিক মানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য নিউটাউনের বুকে তৈরি হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের বিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
কয়েক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঘোষণা করেছিলেন সেই অনুযায়ী এবারে হিডকোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হলো। প্রাথমিকভাবে অন্তত 354 কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রস্তাবিত দরপত্রে জানিয়েছে তারা।
নিউটাউনের বুকে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে। পিপিপি মডেলে হবে এই পার্ক। ইন্টারন্যাশানাল ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল, এতগুলি বিষয়কে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বাংলায় বলা হচ্ছে বিশ্ব অঙ্গন।
প্রস্তাবিত এই পার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন মমতা নিজেই। মমতা বলেন, ‘এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিও বড় ইন্ডাস্ট্রি। সমস্ত এক্সিবিশন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার করা হয়েছে এখানে। কাজেই এটা একটা আন্তর্জাতিক মানের পার্ক হলে এটার নাম দিচ্ছি ইংরেজিতে ইন্টারন্যাশানাল ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল পার্ক। শর্টে বলব IITEC। আইটেক। এখানে আন্তর্জাতিক মানের অনেক কালচারাল ইভেন্ট করতে ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন নায়ক নায়িকারা আসেন। সারা পৃথিবীর। সারা দেশেরও আসেন। এতে আমাদের প্রচুর প্রোগ্রাম হবে। এটা একটা ট্যুরিজম থেকে শুরু করে এনটারটেইনমেন্ট থেকে শুরু করে ইনফরমেশন থেকে শুরু করে ইনোভেশন থেকে শুরু করে এই জায়গায়…জমিটা আমরা দিয়ে দিচ্ছি। ২৫ একর জমি। এখন টেন্ডার সহ যা যা করার হবে। বাংলায় নামটা হবে বিশ্ব অঙ্গন।
চলতি বছরের ১৪ মে নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নিউ টাউনেই এ বার আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠতে চলেছে। তার জন্য ২৫ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছিল। মমতা জানিয়েছিলেন, নিউ টাউনে নির্মিত হতে চলা এই সংস্কৃতিকেন্দ্রের পোশাকি নাম ‘ইন্টারন্যশনাল ইনফর্মেশন টেকনোলজি, এন্টারটেনমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল পার্ক’ (আইআইটিইসি পার্ক)। বাংলা নাম হবে ‘বিশ্ব অঙ্গন’।
প্রসঙ্গত সাম্প্রতিককালে ব্রায়ান অ্যাডামস, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, হানি সিং, সোনু নিগমের মতো তারকারা কলকাতায় বিশ্বমানের কনসার্ট করেছেন। এই অনুষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। যা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলা তথা কলকাতার নাম সাংস্কৃতিক জগতে নতুন করে তুলে আনবে ঠিক তেমনভাবেই বাড়বে কর্পোরেট বাণিজ্যের সুযোগ।
কী হবে নিউ টাউনের প্রস্তাবিত বিশ্ব অঙ্গনে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট করা যাবে নিউটাউন এর প্রস্তাবিত এই পার্কে। নির্মাণের মূল দায়িত্বে থাকবে হিডকো। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতই এবারে দরপত্র ডাকল হিডকো। পিপিপি মডেলে গড়ে উঠবে ‘বিশ্ব অঙ্গন’।
মমতার কথায়, “বিশ্ব অঙ্গন ভবিষ্যতে গর্বের বিষয় হবে রাজ্যের। হিডকোর সঙ্গে পিপিপি মডেলে নিউটাউনে ২৫ একর জমিতে একটি ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন টেকনোলজি, এন্টারটেনমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল পার্ক তৈরি করতে চলেছি। কারণ, মনে রাখবেন, যারা ওয়ার্ল্ড ট্যুরে আসেন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন তাঁদের সুবিধা হবে। মনে রাখবেন, কনসার্ট ইকোনমি এখন নতুন ভাবনা। সমস্ত এক্সজিবিশন, এন্টারটেনমেন্টের জন্য বিরাট ব্যবস্থা করা হবে। ২৫ একর জায়গা মানে বিরাট বড় এলাকা।”
মমতা আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমার কাছে অনেকেই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতার কাছে ২৫ একর জমি খুঁজে পাওয়া মুখের কথা নয়। বিজিবিএস (বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন)-এর পর থেকেই আমরা জমি খোঁজা শুরু করেছিলাম। অবশেষে নিউ টাউনে ২৫ একর জমি পাওয়া গিয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘আপনারাও প্রোগ্রাম করতে যাবেন কভার করতে যাবেন। শুধু নেগেটিভ খবর দেখলে মানুষ দেখে। এই সব বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের প্রোগ্রাম দেখতে মানুষ ভালোবাসে। অনেকেরই এমন একটা ডিমান্ড ছিল। কিন্তু একলপ্তে এতটা জমি কলকাতার কাছে ২৫ একর জমি পাওয়া এত কিছু করার পরে সেটা একটা ম্যাটার। বিজিবিএসের পর থেকেই এটা আমরা খুঁজছিলাম। আজকে আমরা সফল হয়েছি। জমিটা ক্লিয়ার করে দিয়েছি। টেন্ডারে যাব, বা যা করার হবে। ’
]]>তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) ফের উলটপুরাণ! দীর্ঘ নীরবতার পর ফের প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovan Chatterjee)। রাজ্য সরকার তাঁকে নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা এনকেডিএ (NKDA)-র নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করেছে। বুধবার সরকারি নির্দেশিকা জারি হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা—এ কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর পুরনো সৈনিকের ঘরে ফেরা?
এতদিন পর্যন্ত হিডকোর চেয়ারম্যানই এনকেডিএর দায়িত্ব সামলাতেন। কিন্তু এবার প্রথমবার আলাদা চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। বর্তমান হিডকো চেয়ারম্যান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। নিউ টাউনের দ্রুত বিকাশ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতা মাথায় রেখেই আলাদা চেয়ারম্যান পদে অভিজ্ঞ মুখ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়া হয়েছে।
নিউ টাউন এখন কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়—রাজ্যের আইটি সেক্টর (IT Sector), ফিনটেক হাব (Fintech Hub), এমনকি ভবিষ্যতের হাই কোর্ট (Calcutta High Court) ভবন পর্যন্ত উঠে আসছে এখানেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন এই অঞ্চলে। ফলে উন্নত পরিষেবা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক তৎপরতা এখন সময়ের দাবি ছিল। আর সেই কারণেই রাজ্যের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ প্রশাসক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রাজনীতির মঞ্চে নতুন মোড়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বরাবরই আলোচিত। একসময় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ, কিন্তু ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দূরত্ব বাড়ান শোভন। যদিও বেশিদিন সেই দলে টেকেননি। মমতা-শোভনের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে গত বছর থেকেই। ভাইফোঁটায় ‘দিদি’-র কালীঘাটের বাড়িতে ফোঁটা নিতে যান তিনি, সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি দার্জিলিং সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পাহাড়ে দেখা করেন শোভন। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। আর সেই বৈঠকের মাত্র দু’দিন পরেই আসে এই বড় ঘোষণা—এনকেডিএ-র নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়!
নিয়োগের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শোভন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি কোনও দায়িত্ব দেন, আমি সেটি সম্পূর্ণ সিনসিয়ারিটি দিয়ে পালন করব। এই নিউ টাউন আমার চোখের সামনে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই শহরকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই।”
দলে ফেরার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করছি না। আমি এখন শুধুমাত্র আমার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে মনোযোগী।”
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। Mamata Banerjee নিজের পুরনো সৈনিককে ফের প্রশাসনিক আঙিনায় ফিরিয়ে এনে তৃণমূলের বার্তা দিচ্ছেন—“দিদির ছত্রছায়া থেকে কেউই চিরতরে দূরে নয়।”
নিউ টাউনের উন্নয়নে শোভনের নতুন ভূমিকা ঘিরে এখন প্রত্যাশা তুঙ্গে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থার মিশেলে Newtown Kolkata Development Authority (NKDA)-র ভবিষ্যৎ পথচলা যে নতুন দিশা পেতে চলেছে, তা বলাই যায়।
]]>নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA) এবার আবর্জনা সমস্যার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল। খালি জমিতে আবর্জনা ফেললে এখন থেকে দিতে হবে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
আগস্ট ২০২৫-এর শুরুতেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং ইতিমধ্যেই নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে Garbage Display Boards।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি জায়গায় এই সাইন বোর্ড বসানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে— “এখানে আবর্জনা ফেলবেন না, নইলে জরিমানা”।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
এনকেডিএ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা জমি ও পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধভাবে আবর্জনা ফেলার অভিযোগ আসছিল। শুধু অভিযোগই নয়, এনকেডিএ কর্মকর্তারা নিজেরাও এই সমস্যা চাক্ষুষ করেছেন। আবর্জনার কারণে শুধু এলাকার সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, বরং সেগুলোতে জমে থাকা নোংরা জল হয়ে উঠছিল ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘর। তাই জনগণের অসচেতনতার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা থেকে শাস্তির পথে
এর আগে এনকেডিএ একটি WhatsApp Helpline Number চালু করেছিল, যেখানে ছবি ও লোকেশনের তথ্য পাঠালেই সাফাই কর্মীরা গিয়ে পরিষ্কার করতেন। একইসঙ্গে চালানো হয়েছিল ৭ দিনের ক্লিনিং ড্রাইভ। কলকাতা পুরসভা এবং NKDA যৌথ উদ্যোগে বর্ষার আগে এই বিশেষ অভিযান চলে। তবে সমস্যা থেকে যায় একই জায়গায় বারবার আবর্জনা ফেলার কারণে।
কলকাতা পুরসভার অবস্থাও একই
কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে রয়েছে প্রায় ৭৪২০টি খালি জমি, যার মধ্যে ১৮২৩টি “স্পর্শকাতর” বলে চিহ্নিত। এসব জায়গা পরিষ্কার করার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের নোংরা হয়ে যাচ্ছে। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে ৪০৭০টি পুকুরের ক্ষেত্রেও, যার মধ্যে প্রায় ৬৭৩টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। পুরসভার একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এক লরি বর্জ্য ধাপায় নিয়ে যেতে খরচ হয় প্রায় ₹১৭০০ টাকা। একই জায়গা বারবার পরিষ্কার করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে বিপুলভাবে।
জরিমানাই একমাত্র সমাধান
পুরসভার অনেক আধিকারিকের মতে, যত প্রচার বা প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, জরিমানা চালু না করলে নাগরিক উদাসীনতা বন্ধ করা যাবে না। সেই কারণে NKDA-র এই পদক্ষেপকে অনেকেই যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন। কারণ, কঠোর আর্থিক শাস্তি ছাড়া নগরবাসীর আচরণে পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব।
]]>কলকাতার রিয়েল এস্টেট জগতে চরম আলোড়ন ফেলে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়। নয়ডার সুপারটেক টুইন টাওয়ার ভাঙার ঘটনার মতোই এবার কলকাতায়ও এক বহুতল ভাঙার নির্দেশ দিল আদালত।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বেআইনি অনুমোদন, প্রতারণা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা নিউ টাউনের ২৬ তলা টাওয়ারকে দুই মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। এই রায়ের ফলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে শহরের আবাসন শিল্প, প্রোমোটারদের ভূমিকা এবং সরকারি সংস্থার নজরদারির সীমাবদ্ধতা।
হাইকোর্টের রায়: বেআইনি বহুতল ভাঙার নির্দেশ
বিচারপতি রাজশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ তাদের ৯৪ পাতার রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— প্রোমোটাররা প্রতারণা করে সংশোধিত অনুমোদন জোগাড় করেছিলেন।
NKDA আইন, পশ্চিমবঙ্গ অ্যাপার্টমেন্ট ওনারশিপ অ্যাক্ট এবং প্রোমোটার অ্যাক্ট-এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ২০ আগস্টের অনুমোদন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
এক মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট মালিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে এবং দুই মাসের মধ্যে টাওয়ার ভাঙতে হবে।
প্রোমোটাররা টাওয়ার না ভাঙলে NKDA সেই কাজ সম্পন্ন করবে এবং খরচ প্রোমোটারদের থেকেই আদায় করবে।
সমস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে হবে ৭% সুদসহ।

অভিযুক্ত কারা?
প্রধান অভিযোগ উঠেছে এলিটা গার্ডেন ভিস্তা প্রাইভেট লিমিটেড-এর শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে।
সুশীল মোহতা – ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মার্লিন গ্রুপের কর্ণধার ও ক্রেডাই বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট।
প্রকাশ বচ্চাওয়াত – ফুলটাইম ডিরেক্টর, জেবি গ্রুপ।
সহযোগী গোষ্ঠী – সুরেকা গ্রুপের প্রদীপ সুরেকা।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রোমোটাররা ‘অবৈধভাবে এবং গোপনে’ এই ২৬ তলা টাওয়ার নির্মাণ করেছেন, এবং এর ফলে ফ্ল্যাট ক্রেতা ও জমির মালিক উভয় পক্ষকেই প্রতারিত করা হয়েছে।
ফ্ল্যাট মালিকদের অভিযোগ ও লড়াই
২০০৭ সালে কেপেল ম্যাগাস প্রাইভেট লিমিটেড প্রথমে প্রকল্পের অনুমোদন নেয়। তখন পরিকল্পনা ছিল—
২৩ তলার ১৫টি টাওয়ার
১২৭৮টি ফ্ল্যাট
১৬৮৮টি গাড়ি পার্কিং
পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও কমিউনিটি সুবিধা
২০১০ সালে ফ্ল্যাট ক্রেতারা জমির অংশীদারিত্ব পান, ২০১২ সালে রেজিস্ট্রেশন হয়।
কিন্তু ২০১৪ সালে কেপেল সংস্থা মালিকানা বিক্রি করে দেয় এলিটা গার্ডেন ভিস্তা প্রাইভেট লিমিটেড-কে। নতুন মালিকরা ২০১৫ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে ২৬ তলা নতুন টাওয়ার এবং একটি বাণিজ্যিক প্লাজা নির্মাণ শুরু করেন, যা ফ্ল্যাট মালিকদের অগোচরে ঘটে।
২০১৭ সালে মালিকরা জানতে পারেন—
টাওয়ার বেড়ে হয়েছে ১৬টি।
ফ্ল্যাট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৮৮-তে।
খোলা জায়গা ৬০০ বর্গমিটার পর্যন্ত কমে গেছে।
২০১৮ সালে তাঁরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানান NKDA-কে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় শেষমেশ তাঁরা হাইকোর্টে মামলা করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে—
প্রোমোটারদের আচরণ ছিল প্রতারণামূলক ও বেআইনি।
১৫ টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিকরা যেমন প্রতারিত হয়েছেন, তেমনি ১৬তম টাওয়ারের মালিকরাও প্রতারিত হয়েছেন।
NKDA তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, রিয়েল এস্টেট শিল্পে এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ নজিরবিহীন নয়। তাই এই রায় অন্য প্রোমোটারদের জন্যও সতর্কবার্তা।
আইনি লড়াই: প্রোমোটারের চেষ্টা ব্যর্থ
প্রোমোটারের আইনজীবী অভ্রজিৎ মিত্র আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। অর্থাৎ, বহুতল ভাঙা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
প্রভাব: রিয়েল এস্টেট জগতে কাঁপন
এই রায়ের প্রভাব বহুমাত্রিক—
1. ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য বার্তা: আইন তাঁদের পাশে আছে। প্রতারণার শিকার হলে আদালত আশ্রয় হতে পারে।
2. প্রোমোটারদের জন্য সতর্কবার্তা: প্রতারণা বা দুর্নীতি করে কোনো প্রকল্প অনুমোদন নিলে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
3. সরকারি সংস্থার ভূমিকা: NKDA-র মতো সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হতে হবে।
4. শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারে আস্থা: একদিকে ভয় তৈরি হলেও অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলার দৃঢ়তা ক্রেতাদের ভরসা জোগাবে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় শুধু একটি বহুতল ভাঙার নির্দেশ নয়, বরং গোটা আবাসন শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক। সুপারটেক টুইন টাওয়ারের মতো এই ঘটনাও বার্তা দিচ্ছে—আইনকে ফাঁকি দিয়ে, দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বহুতল তৈরি করলে শেষ পর্যন্ত তা টিকবে না।
নিউ টাউনের ২৬ তলা টাওয়ার ভাঙার নির্দেশ শুধু কলকাতার নয়, গোটা দেশের আবাসন শিল্পের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।
]]>এক সময় সল্টলেকের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠত শান্ত জলাধার, ছায়া ঘেরা হাঁটার পথ আর সবুজ উদ্যান। সেই সৌন্দর্যের কিছুটা এখনও টিকে থাকলেও, আজকের সল্টলেক, বিশেষত সেক্টর ফাইভ ও কাছাকাছি নিউটাউন, হয়ে উঠেছে কাঁচ-লোহার বহুতল ভবনের শহর।
এখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক টেক পার্ক, কর্পোরেট অফিস ও আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র—যা কলকাতাকে এনে দিয়েছে "সিলিকন ভ্যালি অফ দ্য ইস্ট"-এর খেতাব। Kolkata IT industry growth
গত সাত বছরে এই অঞ্চলে ১৫০০-রও বেশি আইটি সংস্থা গড়ে উঠেছে, কর্মসংস্থান হয়েছে ২.৬ লাখেরও বেশি মানুষের। কেন্দ্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার আইটি ও আইটি-সাপোর্টেড সার্ভিস (ITeS) রপ্তানি FY18-এ যেখানে ছিল ৬,৬৮৪ কোটি টাকা, FY25-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,২৬৮ কোটি টাকায়। IT boom in Kolkata
বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি এবং নিউটাউনের উত্থান
২০১৮ সালে নিউটাউনের ২৫০ একর জমিতে গড়ে ওঠে বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি (BSV)। ( Silicon Valley of the East ) আধুনিক পরিকাঠামো ও দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা এই অঞ্চলকে করে তোলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কাছে আকর্ষণীয়। কোভিড-১৯ এর সময় বহু প্রযুক্তি কর্মী শহরে ফিরে আসেন, এবং তখনই সংস্থাগুলি বুঝতে পারে—এই শহরে তাদের অনেক কর্মী রয়েছেন, যাঁদের ধরে রাখতে গেলে কলকাতাতেই এক্সপান্ড করা উচিত।

IBM, Microsoft, Wipro, TCS, Tech Mahindra-র মতো সংস্থা অনেক আগেই এখানে বিনিয়োগ করেছিল। ( IT companies in Salt Lake Sector V ) তবে গত তিন বছরে নতুন করে এসেছে Calsoft, Zensar, LTIMindtree, Grant Thornton, McKinsey-এর মতো সংস্থা। এই সংস্থাগুলি মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়েছে এবং তৈরি হয়েছে ২০ হাজারের বেশি চাকরি। (Bengal Silicon Valley project)
সেক্টর ফাইভ: আইটি বিপ্লবের হৃদপিণ্ড
২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সেক্টর ফাইভ-এ ৬৪১টি আইটি ও ITeS সংস্থা কাজ শুরু করেছে—গড়ে বছরে ১৬০টি করে নতুন সংস্থা। ৪৩২ একরের এই অঞ্চলে প্রায় ২৫০টি ভবন, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই আইটি সংস্থা দখল করেছে। (New Town IT hub Kolkata) ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সরকারী তথ্য অনুযায়ী এখানে ১,৫২,২৩১ কর্মী কাজ করছেন। (Kolkata IT job opportunities)
গ্লোবাল ফাউন্ডরিজ-এর মতো আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাও এখানেই অফিস খোলার ঘোষণা করেছে। ২০২২ সাল থেকে এই অঞ্চলে ৬৭৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। (Investment in Bengal IT sector)
নিউটাউনের নতুন চেহারা
সেক্টর ফাইভ থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরের নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া II-এ ২৭১৮ একর জমিতে গত তিন বছরে ৩০টি আইটি ভবন ও ৫টি ডেটা সেন্টার অনুমোদিত হয়েছে। (TCS Infosys Wipro Kolkata offices) এর মধ্যে রয়েছে TCS, Infosys, Wipro, EY GDS, Deloitte USI, LTIMindtree, Zensar, Thoughtworks, STT Global, Reliance ও Adani-এর মতো সংস্থা। (NDITA and NKDA IT zones)
Infosys-এর ৩.২ লাখ স্কোয়ার ফুট ক্যাম্পাস ৪২৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৪-এ। ১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ITC-এর ১৭ একরের আইটি প্রকল্পের জন্য অকুপেন্সি সার্টিফিকেট জারি করেছেন। (Data centres in Kolkata)
বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি: বিনিয়োগের নতুন যুগ
BSV-তে বর্তমানে ৪১টি সংস্থা কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ST Telemedia, NTT Data, Airtel Nxtra, CtrlS। মোট ২৭,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে, যার বেশিরভাগই ২০২১ পর থেকে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭৫,০০০ কর্মসংস্থান হবে। (Tech parks in Kolkata)
TCS এখানে ২০ একর জমি নিয়ে কাজ শুরু করছে, Adani Group ৫০ একর, Reliance Jio ৪০ একর এবং LTIMindtree ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। LTIMindtree-এর চিফ HR অফিসার চেতনা পटनায়েক জানিয়েছেন, “২০২৬ অর্থবর্ষের শেষের মধ্যে আমরা কলকাতা সেন্টারে ৫,০০০-৬,০০০ কর্মী রাখতে চাই।”
মানবসম্পদ, ভূগোল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা
Sector V Stakeholders’ Association-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কল্যাণ করের মতে, Infosys, Wipro ও ITC Infotech-এর মতো সংস্থাগুলোর সম্প্রসারণ ancillary business গুলোকেও টেনে আনছে। এছাড়াও, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগোষ্ঠী—যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০%—তাদের কাছাকাছি থাকায় এখানে ডেটা সেন্টার তৈরি ও পরিচালনা সহজ হয়েছে। (Indian IT hubs beyond Bengaluru)
কলকাতার মতো শহরে Jadavpur University, IIM Calcutta, IIT Kharagpur, Indian Statistical Institute-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজলভ্য, দক্ষ এবং খরচ সাশ্রয়ী মানবসম্পদ পাওয়া যায়, যারা AI, blockchain, IoT ও সাইবারসিকিউরিটি-র মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ।
বদলে যাওয়া প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি
আজকের বিনিয়োগকারীরা জানেন যে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত। (Government policy for IT in Bengal) বিল্ডিং প্ল্যান বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে মিলছে। “প্রো-অ্যাক্টিভ নীতি ও বিশ্বমানের পরিকাঠামো দিয়ে আমরা ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি,” দাবি করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। (IT real estate boom Kolkata)
রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রও সমান গতিতে বাড়ছে। (IT real estate boom Kolkata) Merlin Group-এর চেয়ারম্যান সুশীল মোহতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ১৯ লক্ষ স্কোয়ার ফুট ও ২০২৪ সালে ২২ লক্ষ স্কোয়ার ফুট অফিস স্পেস কলকাতা বাজারে এসেছে। (Kolkata as an emerging IT hub)
চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে
তবে সবকিছুর মধ্যেও কিছু স্থায়ী সমস্যা রয়েছে। অনেক নতুন আইটি চাকরি এখনও অপেক্ষাকৃত কম বেতনের। অন্যান্য মেট্রো শহরের মতো বহিরাগত উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-ব্যয়কারী কর্মীর দল কলকাতায় আসতে চাইছে না। এক প্রবীণ আইটি কর্তার মতে, “শুধু চাকরি থাকলেই হবে না, দরকার প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ভবিষ্যৎ কেরিয়ার গ্রোথ ও এক আকর্ষণীয় জীবনধারা।” (Cost-effective IT talent in Bengal)
২০২৫ সালের মার্চে রাজ্য সরকার কিছু শিল্প সুবিধা প্রত্যাহার করেছে—যা নতুন বিনিয়োগে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া আধুনিক ও উদ্ভাবনী আইটি নীতির ঘাটতি আগামীদিনে সমস্যার কারণ হতে পারে। যদিও সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনে ভালো সাড়া মিলেছে, বাকি রাজ্যের ২৬টি আইটি পার্ক এখনও অনেকটাই খালি পড়ে রয়েছে। (Kolkata digital economy)
NASSCOM-এর প্রাক্তন সভাপতি আর. চন্দ্রশেখরের মতে, “কলকাতাকে সত্যিকারের আইটি শহরে পরিণত করতে হলে এটিকে এমন এক শহরে রূপান্তর করতে হবে, যেখানে বাইরের রাজ্য থেকে আসা মানুষও থাকতে ও কাজ করতে চাইবেন।”
একসময় পরাধীনতার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির শহর হিসেবে পরিচিত কলকাতা আজ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। পরিকাঠামো, নীতিগত সহায়তা, শিক্ষাগত পরিকাঠামো ও ভৌগলিক অবস্থান—সব মিলিয়ে কলকাতা এখন একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তবে এই পথচলা সম্পূর্ণ করতে গেলে দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারাবাহিকতা দরকার—কারণ, সামনে সুযোগ অনেক, কিন্তু সময় সীমিত।
]]>মমতার বাংলায় ফিরে এলো টাটা (Tata group )। খাস কলকাতার বুকে বিপুল অংকের বিনিয়োগ করতে চলেছে টাটা গোষ্ঠী।
জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে মমতার আন্দোলনের জেরে টাটা গোষ্ঠী হুগলির সিঙ্গুর থেকে চলে গেলেও সেই টাটা গোষ্ঠীকে নিউটাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে ( Bengal Silicon valley) ২০ একর জমি দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা এনকেডিএ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমি টাটা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ( Mamata Banerjee )
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ‘নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (এনকেডিএ)-র তরফে ইতিমধ্যেই ‘বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি’র ২০ একর জমিতে টিসিএসের প্রথম পর্যায়ের (ফেজ় ওয়ান) ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভারত তথা বিশ্বের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসের (TCS) তাদের নতুন ক্যাম্পাস তৈরি করতে চলেছে নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালী হাবে। ( NKDA )
মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের তরফে পুরো পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হলো।
'এক্স' হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার) এই খবর জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, 'নিউটাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি'র ২০ একর জমিতে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের প্রথম পর্যায়ের (ফেজ ওয়ান) ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি' (এনকেডিএ)। প্রথম পর্যায়ে ১১তলা অফিস টাওয়ার-সহ ন'লক্ষ বর্গফুটের বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। এর ফলে ৫,০০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ লক্ষ বর্গফুট স্থান সংযুক্ত হবে। যার ফলে আরও ২০,০০০ কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরে, ক্যাম্পাসে ২৪ লক্ষ বর্গফুট স্থান থাকবে এবং ২৫,০০০ সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"
My city kolkata App by KMC : এবার শহর হাতের মুঠোয়! কলকাতা ঘোরার সব তথ্য এখন ‘মাই সিটি কলকাতা’ অ্যাপে
এর পরেই নাম না করে বাংলার বিরোধী দলের নেতাদের খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "যারা নিরলসভাবে বাংলার অপমান করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের অগ্রগতি উপেক্ষা করেন, তাঁদের কাছে আমরা কর্মদক্ষতার নজির দেখালাম। বাংলা উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বাংলা মানে ব্যবসা এবং গোটা বিশ্ব তা লক্ষ্য করছে।"

২০ একরের জমির ওপর তৈরি হবে এই ক্যাম্পাস।
KMC Advertisement Policy : কলকাতা পুরসভার নতুন নীতি: বেআইনি বিজ্ঞাপন বন্ধে এক নতুন পদক্ষেপ
মোট কর্মসংস্থান – ২৫০০০+

প্রথম পর্যায়ে ৯ লক্ষ স্কোয়ার ফিটের বিশ্বমানের অফিস স্পেস তৈরি হবে যেখানে কর্মসংস্থান হবে ৫০০০+
দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ক্যাম্পাসের ১৫ লক্ষ স্কোয়ার ফিটের অফিস স্পেস তৈরি হবে এবং আরো ২০০০০+ কর্মসংস্থান হবে।

TCS ছাড়াও বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাবে তৈরি হচ্ছে Reliance Jio, LTIMindtree, Adani Group সহ অন্তত ৫০+ সংস্থার নিজস্ব ক্যাম্পাস।
দেশের অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিসেব আত্মপ্রকাশ করছে আমাদের কলকাতা ।
]]>বদলে যাবে নিউটাউনের চেহারা। নিউটাউনে তৈরি হচ্ছে ৫ নয়া আন্ডারপাস।
স্মার্টসিটি নিউটাউনের বুকে আরও আধুনিক পরিকাঠামোর ছোঁয়া। চওড়া রাস্তা থাকলেও দিন দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় বাড়ছে যানজট। সেই সঙ্গে পথচারীদের রাস্তা পারাপারও হয়ে উঠছে কঠিন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার ৫ নতুন আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হিডকোর তরফে।
সূত্রের খবর, এই ৫ আন্ডারপাসের মধ্যে থাকছে দুটি ভিন্ন ব্যবস্থাপনা— যানবাহনের জন্য 'ভেহিকুলার আন্ডারপাস' এবং পথচারীদের জন্য 'পেডেস্ট্রিয়ান সাবওয়ে'।
ইতিমধ্যে ৫ নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নকশা তৈরি, মাটি পরীক্ষা, নিকাশির প্ল্যান সহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী দু'মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে হিডকোর কাছে। সবুজ সঙ্কেত মিললেই শুরু হবে নির্মাণকাজ।
বিশ্ববাংলা সরণি, যা নিউটাউনের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা, সেখানে নিয়মিত গাড়ি, বাস, লরি ও বাইকের চাপ থাকে। চিনারপার্ক থেকে সেক্টর ফাইভ হয়ে নিউটাউনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে যান চলাচল অনেকটাই বেড়েছে।
পথচারীদের সংখ্যাও কম নয়। যদিও বর্তমানে কিছু সাবওয়ে থাকলেও তা শুধু পথচারীদের জন্যই, এবং যান চলাচলের জন্য আন্ডারপাসের সংখ্যা একেবারেই কম।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউটাউনের টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে তৈরি হবে একটি যুগ্ম আন্ডারপাস— যেখানে থাকবে ভেহিকুলার ও পেডেস্ট্রিয়ান উভয় ব্যবস্থা। অপরদিকে, সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটির সামনে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য 'পেডেস্ট্রিয়ান সাবওয়ে' নির্মাণের ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাংলা গেট থেকে ইকোপার্কের দিকে এগোলেই রয়েছে দ্য ওয়েস্টিন হোটেল। এখান থেকে চিনারপার্ক পর্যন্ত চারটি ভেহিকুলার আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে দ্য ওয়েস্টিনের সামনে একটি, সেভেন রোটারি এলাকায় একটি, নোয়াপাড়া অঞ্চলে একটি এবং চিনারপার্কে একটি আন্ডারপাস তৈরি হবে। কলকাতাগামী এবং এয়ারপোর্টগামী উভয় লেনে থাকবে এই আন্ডারপাস সুবিধা।
পথচারি ও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে— এমন পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউটাউনের দ্রুত প্রসারমান জনবসতি ও বাণিজ্যিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্পকে ‘ভবিষ্যতের শহর গঠনের দিশা’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
]]>