সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
নয়াদিল্লি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস [Mamata Banerjee | TMC]। কলকাতা হাইকোর্ট [Calcutta High Court] যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, তা-ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট [Supreme Court of India]। ফলে নির্দিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন এবং প্রশাসনিক খরচ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের পথ আপাতত খোলা থাকল।
মঙ্গলবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ [Justice M.M. Sundresh] এবং বিচারপতি পিবি ভারালে [Justice P.B. Varale]-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে দলের আর্থিক প্রয়োজন এবং অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার প্রভাব তুলে ধরেন আইনজীবী কপিল সিব্বল [Kapil Sibal]।
শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত।
কী নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট?
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অধিকার নিয়ে অন্য দাবিদারদের পক্ষ থেকেও আবেদন সামনে আসে।
মঙ্গলবার সেই মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়।
তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল প্রথমেই দলের মাসিক পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় দলের কর্মীদের বেতন দেওয়া-সহ দৈনন্দিন কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘৬০ কোটি টাকার মামলায় ৪০০ কোটি কেন?’
শুনানিতে সিব্বলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি ছিল বাজেয়াপ্ত অর্থের পরিমাণ নিয়ে। তাঁর দাবি, ইডি [Enforcement Directorate] যে মামলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’-এর কথা বলেছে, সেখানে ব্যাঙ্কে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
তাঁর প্রশ্ন, অভিযোগের পরিমাণের তুলনায় এত বিপুল অর্থ কেন আটকে রাখা হবে?
তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকায় দলের কর্মীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না এবং সাংগঠনিক কাজ চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইডির পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়, একটি অ্যাকাউন্টেই মাত্র ২০ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। তদন্তের স্বার্থেই অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য।
স্পেশাল অফিসারের হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
শুনানিতে উঠে আসে কলকাতা হাইকোর্টের নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের বিষয়টিও। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠলেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিকে ফের ফ্রিজ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকবে। তবে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের উপর।
অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেয়নি; বরং হাইকোর্টের নির্ধারিত প্রক্রিয়াকেই বহাল রেখেছে।
বিশ্বনাথ দাসের আবেদনে কী বলল শীর্ষ আদালত?
এদিকে ঋত ব্লকের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস [Biswanath Das]-এর আবেদনও শুনানিতে সামনে আসে। তাঁর পক্ষ থেকে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দাবি তোলা হয়েছিল।
এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট—হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কাছেই আবেদন জানাতে হবে। যদি দলের উপর সংশ্লিষ্ট অধিকার বা দাবির আইনি ভিত্তি থাকে, তাহলে স্পেশাল অফিসার তা খতিয়ে দেখবেন।
তৃণমূলের পক্ষে কপিল সিব্বলের পাশাপাশি অভিষেক মনু সিংভি [Abhishek Manu Singhvi] এবং মানেকা গুরুস্বামী [Menaka Guruswamy] সওয়াল করেন।
রাজনীতিতে নতুন চাপানউতোরের ইঙ্গিত?
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে আইনি লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখায় মমতা-পন্থী তৃণমূল আপাতত বড় স্বস্তি পেলেও, অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করবে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।
একদিকে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর প্রশ্ন, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার আর্থিক লেনদেন নিয়ে আপত্তি—দুইয়ের মাঝখানে আইনি লড়াই আরও কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের পথ আপাতত বন্ধ হল না—কিন্তু সেই অর্থ বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, এবার কি সেই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের জন্য নতুন আইনি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে?
]]>নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় সহ মোট ১৩ জন বিধায়ক। এসআইআর বিবেচনা সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আর্জি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন তাঁদের।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, মসজিদের মাইক অপসারণের বিষয়টি তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তাই বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথেই হাঁটবে তাঁদের দল।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা হাই কোর্টে যাব। আমাদের দলের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তাঁর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।
ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় বলে জানান বিরোধী দলনেতা। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বক্তব্য, ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমাদের কোনও সহানুভূতি নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হোক। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশের নাগরিকদের ভাগ করা চলবে না। সুনালি খাতুনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে কেন্দ্রের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি দেশের নাগরিকদের অধিকার যেন ধর্মের ভিত্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। সমস্তটা কোর্টে জানাব।’
পাশাপাশি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদএর পুরনো নির্দেশিকা অনুযায়ী একাধিক মসজিদে মাইক খুলে ফেলার পর এবার বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ‘আসল’ তৃণমূল। দলের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্ট -এর দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট মোদির
আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে ব্রেকফাস্টে আমন্ত্রিত ছিলেন এনডিএ এবং শরিকদলের সাংসদেরা৷ সেখানে উপস্থিত এনসিপিআই সাংসদেরাও যোগ দেন প্রাতঃরাশে৷ ছিলেন কাকলি, শতাব্দী, আবু তাহের, ইউসুফ পাঠানেরা৷ ছিলেন না শুধুমাত্র দেব। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আমন্ত্রিত সাংসদদের বাসে করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ প্রাতঃরাশের বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের বিশেষ পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ জানা গিয়েছে, এদিন এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের বার্তা দেন মোদি৷ সংসদে আরও বেশি উপস্থিতি নিয়েও পরামর্শ দেন তিনি৷ প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে উনি খুবই আগ্রহী। কারা যোগা করেন জানতে চেয়েছেন। ক’জন যোগা করেন, হাত তুলতে বলেছিলেন৷ খুব জোভিয়াল মুডে ছিলেন৷ পরে বলেছেন সবাইকে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে৷’ এছাড়া, নিজেদের এলাকায় সময় দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের বৈঠক শেষে বেরিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, ‘ভাল করে কথা বলেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে গল্প করেছেন৷ প্রত্যেককে বলেছেন আপনাদের কনট্রিবিউশন চাই৷ চা নিয়ে বসেছিলেন, আমরা পায়েস টায়েসেও খেয়েছি৷’

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে বলেন, ‘উনি বললেন, আপনারা ভাল করে কাজ করুন৷ আমি খুব সাধারণ ভাবে বড় হয়েছি৷ আমাদের উদ্দেশ্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া৷ বলেন, ৪০ বছর পেরলেই প্রত্যেকদিন যোগা করুন। বছরে একবার মেডিক্যাল টেস্ট করান। শরীরের যত্ন নিন।’
]]>
শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
নজিরবিহীন ঘটনা বিধানসভার অন্দরে। তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভার চত্বর। কালীঘাটপন্থী তথা বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ-কে বের করে দেওয়া হল হাউসের ভিতর থেকে।
একাধিকবার বারণ করা হয়েছিল হাউসের অন্দরে বিশঙ্খলা তৈরি না করার। তবে কুণাল তা শোনেননি। এরপরই অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর নির্দেশে মার্শাল ডেকে কুণালকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় হাউস থেকে।
এ দিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন ঋত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। সেই সময় কুণাল ঘোষ ওঠেন। তারপর সোজা আখরুজ্জামানের সামনে এসে প্রশ্ন করেন, ‘বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন? নাম কাটলেন কেন?’ কুণালের অভিযোগ, ঋতব্রত-শিবিরের তরফে বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের বলতে দেওয়া হয় না, নাম কেটে দেওয়া হয়।
সেই সময় আখরুজ্জামান কোনও উত্তর না দিয়েই নিজের বক্তব্য পেশ করতে থাকেন। এদিকে, কুণালও অনড়। তিনিও একই প্রশ্ন করতে থাকেন। অধ্যক্ষ বারেবারে কুণাল ঘোষকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমি কিন্তু বলছি আপনি না বসলে বের করে দেব।’ তিনি একবার নয়, একাধিকবার সতর্ক করেন। কিন্তু কুণালও নিজের প্রশ্ন করতে থাকেন। সেই সময় মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়া হয় বেলেঘাটার বিধায়ককে।
কুণালকে বের করে দেওয়ার পর মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রতিবাদ অনেক রকম হয়। এখানে পাঁচবার ও আটবারের বিধায়কও আছে। এমন অসভ্যতামি আগে দেখিনি। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আখরুজ্জামান দীর্ঘদিন বিধানসভার এমএলএ। আজ যেভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সদস্য ওঁকে যেভাবে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এর তীব্র নিন্দা করছি।’
বিকেলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন কুণাল ঘোষ। সেখান থেকে কুণাল দাবি করে বলেন, ‘আমাকে জাভেদ খান বলেছেন, আপনি এদিকে চলে আসুন। তাহলে বলতে পারবেন। এটা কোনও কথা হল…।’

প্রসঙ্গত, জাভেদ খানও এখন ঋত শিবিরের সদস্য। এবার তিনিই নাকি অফার দিয়েছেন কুণাল ঘোষকে তাঁদের শিবিরে যোগদানের। কুণাল এ দিন এও দাবি করেছেন, আখরুজ্জামান তাঁকে নাকি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে কুণালের সম্পর্ক ভাল। তবে, উপর থেকে ওপর থেকে বারণ আছে। এই উপরটা কে সেই বিষয়ও জানতে চান কুণাল।
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে, বিজেপি-র চাপে বা পুলিশের চাপে, মাথানত করার চাপে বা মামলার চাপে, ইডি-সিবিআই-সিআইডি-র চাপে বা আইসি-ওসির চাপে, তাঁদের অনুরোধ করব, ২১ জুলাইয়ের আগে দয়া করে যাঁর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাঁরা বাঁচতে চান, লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যান বিজেপি-র কথা কথা শুনে। আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, তাকে কলঙ্কলিপ্ত করবেন না।” মদন মিত্র থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার কোয়েল মল্লিক পর্যন্ত একের পর এক নেতা-নেত্রী এবং জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে দল ছেড়ে যাওয়ার শুরু করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিনিও বিজেপি-তে যাবেন কি না, সেই নিয়ে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আগেই ইমেলে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোয়েল। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক, ২১ জুলাইয়ের আগেই সকলে চলে যেতে পারেন বলে এদিন মন্তব্য করেন মমতা।
বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তা শুরু করেন মমতা। আর তার পরই কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি…বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করে রিজাইন করতে গিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন।”
মমতা বলেন, “আজ যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ ভয় সহ্য করতে পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথা নীচু করে চলি না বলেই ফেস করতে হচ্ছে। ফেস করতে না শিখি যদি, বাংলাকে, দেশকে যদি ভালবাসতে না শিখি, মানুষের রায়কে যদি সম্মান না জানাই, তাহলে আত্মগ্লানিতে ভুগব। যা করেছেন, ভাল করেছেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার ভাল থাক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। তাতে কে এল, কে না এল. কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। আগামীতে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। ১৯৯৭ সালে যদি নতুন করে পথ চলতে পারি, ২০২৬ সালেও পারব। অনেক ছলনা করেছে…নাম-নিশান কোনওটাই নাকি রাখবে না! আপনারা ভাল থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন, দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো পারবেন! দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মনে রাখুন, যতই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিনে…আমরা দেশের সঙ্কট চাই না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, মানুষ বলছেন। অনেক নাম বদলেছে, সিম্বল বদলেছে। ক্ষমতার জোরে নাম চেঞ্জ করতে পারেন, ভিসন, মিশন শেষ করতে পারেন না।”
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও বার বার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লির মদতে যা ইচ্ছা আপনারা করে যাচ্ছেন। আগে দিল্লিটা রক্ষা করুন।’’ দিল্লির আবস্থা ভাল নয় বলে কটাক্ষ করে মমতা সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কেন দিল্লির সরকার সোনমের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে যায়নি সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, পুলিশের ভয় বা অর্থের প্রলোভন দেখান হচ্ছে ২১-শের শহিদদের পরিবারকেও। আদালতের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ২১শে জুলাই শহিদ স্মরণ করার বার্তা দেন মমতা। তবে সেই সঙ্গে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকারও আর্জি তাঁর।
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে মিলল স্বস্তি। ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের (TMC 21 July) অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তবে সেই অনুমতি নিঃশর্ত নয়। একগুচ্ছ কঠোর শর্ত মেনে এবার বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের (Birla Planetarium) সামনে শহীদ দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে।
এই নির্দেশের ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল, এবারের ২১ জুলাই আর ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে ফিরছে না। বরং আদালতের নির্ধারিত বিকল্প স্থানেই সীমিত পরিসরে কর্মসূচি করতে হবে। রাজনৈতিক মহলে এই নির্দেশকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে আবেদন জানানো হয়েছিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতির জন্য। আদালতে রাজ্য পুলিশের তরফে ধর্মতলায় সভার বিরোধিতা করা হয়। মূল শহরাঞ্চলে বিপুল জনসমাগম হলে যান চলাচল ও জনজীবনে বড় প্রভাব পড়বে বলে আদালতে জানানো হয়।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/07/cityflo-kolkata-bus-service-launch/
শুনানি শেষে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিক্টোরিয়া হাউস (Victoria House), এসপ্ল্যানেড ইস্ট (Esplanade East) কিংবা ডোরিনা ক্রসিং (Dorina Crossing)-এ কোনওভাবেই সভার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ, ওই এলাকায় জনসভা হলে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরপর বিকল্প স্থান হিসেবে উঠে আসে বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনের রাস্তা। আদালত সেখানেই শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, সমাবেশে সর্বাধিক ২,৫০০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। এর বেশি জমায়েত করা যাবে না। আদালতের মতে, অতিরিক্ত ভিড় হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
সময়ের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্তই কর্মসূচি চালানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে সভা বা সমাবেশ চলবে না।
রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে রাস্তার একদিকে মঞ্চ ও বসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য দিকটি সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। যাতে শহরের স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যাহত না হয়, সেই দায়িত্ব থাকবে ট্রাফিক পুলিশের ওপর।
আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও সম্পূর্ণভাবে পুলিশ প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আদালত। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সভার আয়োজকদের পরিচয় নিয়েও কড়া নির্দেশ রয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান আয়োজকদের নাম ও মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপির দফতরে জমা দিতে হবে। এরপরই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ধর্মতলায় শহীদ দিবস পালন করে আসছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দুই-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই রাজনৈতিক কর্মসূচির স্থান বদলায়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের অবস্থান বদলায়। ধর্মতলায় আর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল।
আদালতের এই রায়ে একদিকে যেমন কালীঘাট তৃণমূল কর্মসূচি করার সুযোগ পেল, অন্যদিকে স্পষ্ট বার্তা মিলল—আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।
এবার নজর ২১ জুলাইয়ের দিকে। সীমিত পরিসরের এই সভা কি আগের মতোই রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারবে? আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে কালীঘাট তৃণমূল কতটা সফলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে ২১ জুলাইয়ের এই নতুন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
]]>অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছাড়লেন মমতার সব থেকে পুরনো সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। মমতার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মমতা। মমতা যখন যুব কংগ্রেসে, সেই সময়ও নেত্রীর পাশে দেখা যেত তাঁকে। মমতা তৃণমূল তৈরির পরও সেভাবেই ছিলেন। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও নেত্রীর পাশেই দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। অন্যরা যখন বিদ্রোহ করছেন, সেই সময় তাঁদের কটাক্ষও করেছেন। এবার সেই মদন নিজেই মমতার হাত ছাড়লেন। নেত্রীর দেওয়া হালফিলের সব পদও ছেড়ে দিলেন। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে চিফ হুইপ করা হয়েছিল মদনকে। সেই পদ ছেড়ে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন। শুধু দলের অফিসিয়াল গোষ্ঠীর হাত ধরেছেন। মদন বলেন, “তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায় তাহলে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।”
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “ইডির থেকেও এবি বেশি ভয়ংকর। কখন তাড়িয়ে দেয়, সেই ভয়ে থাকতাম। মমতার কথাও শোনে না অভিষেক।”
বুধবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোন মদন। নিজেই ড্রাইভ করে বিধানসভায় পৌঁছন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে ঢুকে যান। আর সেখান থেকেই তৃণমূলের সব পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন। ঋতব্রতর পাশে বসে বলেন, “কবিতাটা ছোট্ট, দু’লাইনের- জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল না, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম। দুঃখের বিষয় যখন ইতিহাস লেখা হবে বাংলার এই সময় নিয়ে, লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, তাদের সর্বনাশ হয়ে যায়।”

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে তলব করেছে ইডি। ২২ এবং ২৩ জুলাই হাজিরা দিতে হবে। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’ যোগ দেওয়ার সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে মদন বলেন, “রাজনীতি আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা জিনিস। আমার পিরবারকে ডাকা হয়েছে। এজেন্সিদের সেই ক্ষমতা রয়েছে, ডাকতে পারে। আমরা সর্বতো ভাবে সহযোগিতা করব। তার সঙ্গে আজকের এই যোগ দেওয়াটার যোগ নেই।”
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আমরাই আসল তৃণমূল। অন্য কেউ যদি নিজেদের প্রকৃত তৃণমূলে বলে দাবি করতে চান তার আগে আলিপুর আদালতের এই রায় পড়ে তারপরে কথা বলা উচিত।’ রবিবার এভাবেই আলিপুর আদালতের রায়ের নথি হাতে নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।
রবিবার দুপুরে আলিপুর কোর্টের রায়ের কপি হাতে নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আদালত জানিয়েছে, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের বহুল পরিচিত হোটেলে ২২ জুন যে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগতভাবে স্বীকৃত বডি।
অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এছাড়া অন্য কেউ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেন, সেটা অবৈধ। এই তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র। আদালতের রায় পড়ে বোঝালেন, অন্য কেউ আর চাইলেই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করতে পারবেন না, দলীয় কার্যালয়-তহবিল সংক্রান্ত কোনও কিছুই করতে পারবেন না অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে।’ সেই সঙ্গে ঋতব্রতর সাফ হুঁশিয়ারি, ‘মগের মুলুক চলবে না।’
https://youtu.be/1I7Bca8jtqE?si=NUp-jDLInZGPQYpu
ঋতব্রত এদিন বলেন, ‘রায়ে পরিষ্কারভাবে বলেছে, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত বডি।’ সঙ্গেই বলেন, ‘কেউ যদি দাবি করেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস, আমি আসল-নকল বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে, আদালতের এই রায় দেখে নিতে বলব।’

তাঁর সংযোজন, ‘এই কমিটি বাইরে অন্য কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ। এই তৃণমূল কংগ্রেসই হচ্ছে একমাত্র।’ শুধু এটুকুই নয়। ঋতব্রত বলেন, ‘এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করেন তাহলে একাধিক বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে, যেমন- দল চালানোর জন্য কোনও মতামত প্রকাশ, দলের নাম করে কোনও নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন না।’
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকে একের পর এক ঘটনা অস্তিত্বহীন হয়ে যেতে যেতেও কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সীমিত পরিসরে লেনদেন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই লেনদেনের উপর নজরদারির জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই দায়িত্বপ্রাপ্তের স্বাক্ষরযুক্ত চেকের ভিত্তিতেই অর্থ খরচের অনুমতি দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নির্বাচনে ভরাডুবির পরে রাতারাতি ভাঙন ধরে তৃণমূলে। বিধানসভায় জিতে আসা বিধায়কদের সিংহভাগই মমতার শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। তাঁরাই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন। এই মুহূর্তে কে আসল তৃণমূল, তা নিয়ে লড়াই গিয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদন পর্যন্ত। কার হাতে জোড়াফুল প্রতীক থাকবে, এখন সে লড়াইও চলছে। এ সবের মধ্যেই গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় শিবির বদল করা এক বিধায়ক অভিযোগ জানান, তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টে বেআইনি কোনও টাকা থাকলেও থাকতে পারে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। ব্যাঙ্ককে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করতে বলে পুলিশ। যা নিয়ে মমতা-পন্থীরা হাইকোর্টে যান।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ়ের মামলার শুনানির মধ্যে থানায় অভিযোগ জানানো বিধায়কদের তরফে দাবি করা হয়, তাঁরা প্রকৃত তৃণমূল। ফলে ওই অ্যাকাউন্ট অন্য পক্ষকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। যা শুনে কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা প্রকৃত তৃণমূল, সেটা আপনাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মনে হচ্ছে না। ভোট হওয়ার পরে রাজ্যে ক্ষমতা বদলে গিয়েছে, তার পরে আপনার একটা স্ট্যান্ড নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ যে সব অভিযোগ তুলছেন, সেটা কেন ৪ মে-র আগে তোলেননি? এখন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার পরে আপনারা নতুন অঙ্ক কষছেন। ভোট পেরোতেই সেই দল থেকে সামার সল্ট দিয়ে এখন উল্টোদিকে এসে অভিযোগ জানালেন। আবারও বলছি, কেন এত অভিযোগ ভোটের ফল বেরোনোর আগে আপনাদের মুখ দিয়ে বেরোয়নি?’
সূত্রের খবর, এদিন শুনানিতে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘সংবিধান সব রাজনৈতিক দলকেই সমানাধিকার দেওয়ার কথা বলে। এমন ঘটনা রাজনীতিতে আগে কখনও হয়নি।’ ১৮ জুন অভিযোগ, ১৯ আকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়, ওই প্রসঙ্গ তুলে আনেন তিনি। ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে, অভিযোগকারী বিধায়কেরাও টাকা নিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গও তুলে আনেন তিনি।

এরপর আদালতের নির্দেশ, তিনটে ফ্রিজ় অ্যাকাউন্ট থেকে দলের প্রকৃত ব্যবহারকারীরা চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। তার জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে নিয়োগ করছে আদালত। তৃণমূলের কোন অংশ ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিচার কোর্ট করছে না। তিনটে অ্যাকাউন্টের জন্য দু’জন সই করবেন এবং স্পেশাল অফিসার তাতে সই করে দিলে ব্যাঙ্ক টাকা দেবে। প্রতিদিনের খরচের জন্য টাকা তোলা যাবে। একটা দলকে চালাতে গেলে রোজ যে টাকা দরকার হয়, সেটাই তোলা যাবে বলে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আইনি খরচও নিতে পারবে এখান থেকে।
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘কালের নিয়মে চলতে হয়। সময় যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকে যাব।’ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে এমন দাবি করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুক্রবার পদত্যাগ করার পর চন্দ্রিমা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেই ছবি সামনে এসেছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, এবার প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের দিকে ঝুঁকলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। দলীয় পদ ছাড়ার নেপথ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে দায়ী করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঋতব্রত গোষ্ঠীর তরফে তৃণমূল ভবন দখল করার যে চেষ্টা হয়েছিল, তার পেছনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত রয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করেন। দলনেত্রীর মুখে নিজের আনুগত্য নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলায় তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন এবং তার জেরেই মমতা শিবির ও সংগঠনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার তিনি রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করেন। বিধানসভায় পৌঁছানোর পর বর্ষীয়ান বিদায়ী বিধায়ক সন্দীপন সাহা সহ অন্যান্য বিদ্রোহী নেতারা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
চন্দ্রিমা দাবি করেন, মন্ত্রী হলেও গুরুত্ব ছিল না তাঁর। বাজেট নিয়েও তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হত না। গোপন রাখা হত তাঁর কাছ থেকেও। প্রাক্তন মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বিশ্বাসযোগ্যতা কী, আনুগত্য কতটা, তা আপনারা জানেন। আপনাদের সঙ্গে আমি রূঢ় ব্যবহার করেছি। আমি স্বীকার করছি। আপনাদের বলেছি, বলব না, মন্ত্রগুপ্তি আছে, মমতার নির্দেশ ছাড়া কিছু বলব না। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিইনি। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’


বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘সবাইকেই সময়ের সঙ্গে চলতে হয়, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি পেনশনের কাজে এসেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমি শাসক দলের ঘরে না বসে বিরোধী শিবিরের ঘরে বসেছি। আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলবে এবং সবাই তা দেখতে পাবেন।’
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘গত ১৫ বছরে রাজ্যে যা ঘটেছে, আমরা তা বদলানোর চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার কিন্তু প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। রাজ্যের উন্নয়ন করতে গেলে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’ শুক্রবার নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টার এ আয়োজিত নবনির্বাচিত বিধায়কদের অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমস্ত দলের বিধায়কদের এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে বাংলাকে ভারত সেরা করার জন্য আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টির জন্য কি ভূমিকা পালন করেছিলেন তা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এই বিধানসভাতেই নেওয়া হয়েছিল। আজ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে আমরা কেউ এখানে উপস্থিত থাকতে পারতাম না।’
নবনির্বাচিত ও প্রবীণ বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি এবং আইনসভার অভ্যন্তরীণ আচরণবিধি শেখাতে নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে শুরু হলো দুই দিনের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। শুক্রবার এই হাই-প্রোফাইল প্রশিক্ষণ শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, হরিয়ানার রাজ্যপাল অসীমকুমার ঘোষ এবং দেশের অন্য আটটি রাজ্যের বিধানসভার স্পিকাররা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাও। এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারগুলোকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এখানকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা আগে এতটা খারাপ ছিল না। বামেদের ৩৪ বছর সব সিদ্ধান্ত তো পার্টি অফিস থেকে হত, বিধানসভার কোনও ভূমিকাই ছিল না। আর গত পনেরো বছরে যা হয়েছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ কোনও কটু কথা বলতে চাই না, তবে কিছু রূঢ় বাস্তব আমাদের মেনে নিতেই হবে। রাজ্যে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের কোনও মূল্যই ছিল না। এমনকি থানার ওসি-আইসিরাও তাঁদের পাত্তা দিত না; সব ক্ষেত্রেই শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হত। আর তৃণমূল আমলের বিগত ১৫ বছরের যে অবস্থা, তা আজ আর নতুন করে এই মঞ্চে বলতে চাই না। যারা প্রথমবার বিধায়ক হয়ে এসেছেন, তাদের সংসদীয় রাজনীতির অনেক কিছু শেখার থাকে। এই ধরনের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালাগুলো থেকেই সেই সমস্ত নিয়মকানুন শিখতে হবে। আমি নিজে চার বারের বিধায়ক এবং দু’বারের সাংসদ ছিলাম। কিন্তু এর আগে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজ্যের কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে আমি ডাক পাইনি। বিগত সরকারের জমানায় প্রশাসনিক বৈঠকগুলোতে বিরোধী দল বা তাদের বিধায়কদের সম্পূর্ণ ব্রাত্য রাখা হতো।’
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তিনি সেই ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র অবসান ঘটিয়েছেন দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দেড় মাসে আমি যে ক’টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছি, তার প্রতিটিতে দলমত নির্বিশেষে বিরোধী দলের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছি।’


‘মুখ্যমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি রয়েছে’ লোকসভার অধ্যক্ষ
দু’দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন লোকসভার অধ্যক্ষ। একই সঙ্গে সুশাসনের উপরে জোর দিয়ে ওম বিড়লা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি রয়েছে। তিনি গণতন্ত্র মজবুত করার কাজ করছেন। এই রাজ্য আধ্যাত্মিকতার মাটি। উদ্যোগ, শিক্ষা, চেতনার মাটি। গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশেই রয়েছে কেন্দ্র
ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করতে ১০০ শতাংশ আর্থিক সাহায্য দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার নিউটাউনে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের ফাঁকে সাংবাদিকদেরর এ কথা জানান কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রিজিজু জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সঙ্গে একটি সমঝোতা মউ স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, ‘সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ১০০ শতাংশ আর্থিক অনুদান দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।’
বিধায়ক প্রশিক্ষণ থেকে ওয়াকআউট কুনালের
প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ডেলিগেট কার্ডও সংগ্রহ করেন তিনি। তার পরেই বেরিয়ে যান তিনি। অবশ্য এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
বেরিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কুণাল বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শিবিরে আসাটা আমার কর্তব্য ছিল। বিধায়ক হিসাবে এসেছিলাম। ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাওয়াটা আমার সিদ্ধান্ত।’ তার পরেই লোকসভা এবং বিধানসভার স্পিকারকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, ‘সংসদে তৃণমূলকে ভাঙার খেলায় যুক্ত রয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। অন্য দলে মিশে যাওয়া সাংসদদের বরখাস্ত না-করে উনি গ্রুপ ছবি তুলছেন। আর বিধানসভার স্পিকার বেইমানগুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন। এঁদের কাছে সংসদীয় রাজনীতি, নিয়মকানুন, শিষ্টাচার শিখব না।’ বিকল্প কোন উপায়ে পরিষদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে সড়গড় হবেন, তা-ও জানিয়েছেন প্রথম বারের বিধায়ক কুণাল। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের স্পিকার পদে থাকা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় এখন আমার সহকর্মী। তাঁর কাছ থেকেই পরিষদীয় রাজনীতি, নিয়মনীতি, শিষ্টাচার শিখে নেব।’
]]>