রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
টলিউড (Tollywood) আর শুধু তাঁর গন্তব্য নয়। একদিকে বাংলাদেশ (Bangladesh Film Industry), অন্যদিকে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রি (Telugu Cinema)—দুই ভিন্ন মঞ্চে একসঙ্গে নিজের ছাপ ফেলতে প্রস্তুত অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার (Madhumita Sarcar)। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বাংলার জনপ্রিয় ‘পাখি’ এবার দক্ষিণী দর্শকদের মন জয় করতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রথম তেলুগু ছবিতেই দেখা যাবে ‘বাহুবলী’ (Baahubali)-খ্যাত অভিনেতা রাকেশ ভারে (Rakesh Varre)-র বিপরীতে। ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।
বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচালক মহম্মদ ইকবালের (Mohammad Iqbal) ছবি ‘গুলশানের চামেলি’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত মধুমিতা। এই ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় এটিই তাঁর প্রথম কাজ, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/19/nusrat-jahan-orange-bikini-photo-viral-social-media-reaction/
ঠিক সেই সময়েই অভিনেত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন আরেকটি সুখবর। প্রকাশ্যে এল তাঁর প্রথম তেলুগু সিনেমা ‘মায়া লেডি’ (Maya Lady)-র ফার্স্ট লুক। একেবারে নতুন অবতারে ধরা দিলেন তিনি, আর সেই ছবিই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ছবিতে মধুমিতার বিপরীতে রয়েছেন তেলুগু অভিনেতা ও প্রযোজক রাকেশ ভারে। ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ এবং ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’-এ ‘সেতুপতি’ চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিত। রাজমাতা শিবগামীর আদেশ অমান্য করার পর অমরেন্দ্র বাহুবলীর হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড—সেই স্মরণীয় দৃশ্য আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।
তবে ‘মায়া লেডি’-তে একেবারে অন্য স্বাদের গল্প অপেক্ষা করছে। পরিচালক প্রশঙ্করের (Prashankar) এই ছবি শুধু রোম্যান্টিক নয়, বরং একটি রোম্যান্টিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। প্রেম, রহস্য, অ্যাকশন এবং অপ্রত্যাশিত টুইস্ট—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য থাকছে পূর্ণ বিনোদনের প্রতিশ্রুতি।
ছবিটির প্রযোজনা করেছে রাকেশ ভারের নিজস্ব সংস্থা ক্রেজি অ্যান্টস প্রোডাকশন। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিশাল চন্দ্রশেখর (Vishal Chandrasekhar), যাঁর সুর ইতিমধ্যেই দক্ষিণী সিনেমাপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

মজার বিষয় হল, এই ছবির নাম শুরুতে ছিল ‘ওকে ওকা আশা’। পরে নির্মাতারা ছবির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মায়া লেডি’। সেই নতুন নামেই এবার মুক্তির অপেক্ষায় ছবিটি।

ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বোঝে না সে বোঝে না’-র ‘পাখি’ চরিত্র থেকেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন মধুমিতা। এরপর বড়পর্দা, ওটিটি এবং একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘চিনি’, ‘কুলের আচার’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

এখন তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ যেন নতুন উচ্চতায়। একদিকে বাংলাদেশে বড় বাজেটের সিনেমা, অন্যদিকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক—সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল মধুমিতা সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলার দর্শকের প্রিয় ‘পাখি’ কি এবার দক্ষিণী বক্স অফিসেও নিজের ডানা মেলতে পারবেন? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ‘মায়া লেডি’-র মুক্তির দিনেই।
]]>বিনোদন ডেস্ক। কলকাতা সারাদিন।
বাংলা টেলিভিশনের একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর এবার বড়পর্দায় দেখা যাবে অভিনেতা সুশোভন সোনু রায়কে। বাংলা ছবি ‘টেক কেয়ার ভালোবাসা’-য় এটি তাঁর প্রথম কাজ। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং আবেগের টানাপোড়েনকে ঘিরে নির্মিত এই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘জয়’ চরিত্রে।
‘টেক কেয়ার ভালোবাসা’ ছবিটি চার বন্ধুর সম্পর্ক এবং তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘জয়’ চরিত্রটির উপস্থিতি দেখা যায়, যেখানে বন্ধুদের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তন ধীরে ধীরে সামনে আসে। বড়পর্দায় এটিই সুশোভনের প্রথম কাজ হলেও অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়।
২০১৯ সালে আকাশ আটের ধারাবাহিক ‘আনন্দময়ী মা’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন সুশোভন। প্রয়াত পরিচালক দেবীদাস ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সেখানে তিনি এক বৈষ্ণব ভক্তের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। পরে ‘মোহর’, ‘কোড়াপাখি’, ‘তিতলি’, ‘খেলাঘর’ এবং ‘যমুনা ঢাকি’-র মতো ধারাবাহিকেও কাজ করেন। ‘কোড়াপাখি’-তে পার্নো মিত্রর বিপরীতে তিনি একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও কাজ করেন সুশোভন। কোভিডের সময় কিছুটা কাজের বিরতি ছিল। এরপর ২০২৩ সালে মডেলিং শুরু করেন তিনি এবং হোলিডে ইন, ডাবর, বিগ বাজার, স্পেন্সার্স-এর মতো সংস্থার সঙ্গে মডেল হিসেবে কাজ করেন।
হাওড়ায় জন্ম সুশোভনের। শৈশবের একটা সময় কেটেছে কলকাতা ও গৌহাটিতে। অভিনয়ের আগে তাঁর আগ্রহ ছিল নৃত্যে। প্রায় দু’বছর ওয়েস্টার্ন ডান্সের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মঞ্চানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে দমদম মতিঝিল রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার পর পরিচালক পীযূষ সাহার তত্ত্বাবধানে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন।

অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ‘এথনিক এলিগেন্স ২০২৫’ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছিলেন সুশোভন, যেখানে তিনি প্রথম রানার-আপ হন। বর্তমানে টেলিভিশন, মডেলিং এবং সিনেমা—তিনটি মাধ্যমেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
]]>বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
টলিউডের অন্যতম মিষ্টি নায়িকা ঋতাভরী। বরাবরই নিজের ফিগার নিয়ে সচেতন তিনি। তাই বিকিন হোক কিংবা শাড়ি সবতেই নজরকাড়া ঋতাভরী।
ইতিহাস নিয়ে স্নাতকোত্তর করা এই মেয়ে আইসিএসসি পরীক্ষায় ইতিহাস আর বাংলায় সর্বভারতীয় টপার হয়েছিলেন। স্কুলে থাকতেই শুরু হয় তাঁর অভিনয়-জীবন। ছবি আঁকা ছাড়া তাঁর আর এক নেশা ঘুরে বেড়ানো। পৃথিবীর নানা জায়গায়।
নতুন প্রজন্মের টলি স্টারদের অন্যতম প্রতিনিধি তিনি।
ঋতাভরী চক্রবর্তী সোস্যাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয় থাকেন। জীবনের নানা মুহূর্ত সকলের সঙ্গে শেয়ার করেন টলিউড অভিনেত্রী।
সম্প্রতি নায়িকা তাঁর সোশ্যাল পেজে শেয়ার করেছেন শ্যুটের কিছু ঝলক। যা দেখে, এই মুহূর্তে মন মজেছে নেটিজেনদের।
স্যুইমিং পুলে আসমানি বিকিনিতে নজর কাড়ছেন ঋতাভরী। পুলের ধারে দাঁড়িয়ে নায়িকা দিচ্ছেন লাস্যময়ী পোজ। ঋতাভরী যে সমুদ্র বা জল খুব পছন্দ করেন, একথা এতদিনে প্রায় সকলেরই জানা। সেই পোস্টের ক্যাপশনে নায়িকা লিখেছেন ,’তোমাদের জলপরী’।
নায়িকার এই বোল্ড লুক দারুণ পছন্দ করছেন অনুগামীরা। কেউ তাঁকে সম্বোধন করেছেন অ্যাকোয়া প্রিন্সেস’ নামে, তো কেউ লিখেছেন ‘জলপরী’। ঋতাভরীর উষ্ণ লুকে এক প্রকার বুঁদ নেটপাড়া। তবে নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ট্রোল করেছেন। একজন তাঁকে কটাক্ষ করেছেন সানি লিওনের সঙ্গে তুলনা টেনে।
ইন্ডিয়ান হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন, সব ধরনের পোশাকে নয়া স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করেন নায়িকা।
টেলিভিশন নিয়ে অভিনয়ের জার্নি শুরু ঋতাভরী চক্রবর্তীর। এরপর ২০২০ সালে ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ছবিতে শবরী চরিত্রে সকলের মন জয় করেছিলেন তিনি। এই ছবি সমাজের তথাকথিত কুসংস্কার ভেঙে এক মহিলা পুরোহিতের লড়াইয়ের গল্প।

টলিপাড়ার বং ক্রাশ হিসাবে পরিচিত ঋতাভরী চক্রবর্তী। তাঁর বোল্ড ও লাস্যময়ী ভঙ্গিমা সর্বদাই তাঁর ভক্ত-অনুরাগীদের কাবু করে রাখে।
এই নায়িকার প্রেমে পাগল বহু পুরুষই। লাল সুইম পোশাকে পুলে জলকেলিতে মগ্ন নায়িকা।
]]>
গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস।
সূত্রের খবর, তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ ‘বাহুবলী’ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করেছে। আর চাপে আছেন দাদা অরূপও। কারণ মেসি-কাণ্ডে তাঁকে তলব করেছে পুলিশ।
নিউ আলিপুর থানার সামনে ভিড় করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশ। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা। সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি ও অত্যাচার করেছে স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা। সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, সকলের সামনে দিয়ে হাঁটিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যেতে হবে। ওই ভিড় থেকে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে উত্তেজিত বাসিন্দাদের একাংশের।

বুধবারই টলিপাড়ার ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কাস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া- সংগঠনটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। স্বরূপ বিশ্বাসের জমানায় একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সরকারের তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সংগীত শিল্পী এবং সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদান করা শিল্পীদের কাছ থেকে কাট মানি নিতেন। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে পৌঁছে সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় লবিবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে তৃতীয় দিনের জনতার দরবার কর্মসূচিতে সল্টলেক বিজেপি দফতরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন দেখা যায়। ইতিমধ্যেই গত দিনের জমা পড়া অভিযোগপত্র এবং গত এক সপ্তাহ যাবত বিজেপি অফিসে জমা পড়া একাধিক সাধারণ মানুষের সমস্যার নম্বর ভিত্তিতে টোকেন বিলি শুরু হয়েছে। সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভার শপথ থাকার কারণে গতকাল, সোমবার নির্ধারিত দিন অনুযায়ী জনতার দরবার কর্মসূচি হয়নি। তাই আজ মঙ্গলবার অভিযোগকারীদের ভিড় জমে বিজেপি দপ্তরের সামনে।
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই শিল্পীদের একাংশ মুখ খুলতে শুরু করেছেন ‘তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠদের’ বিরুদ্ধে। গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষুব্ধ শিল্পীরা বাংলা আকাদেমির সামনে জড়ো হন। তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটি ফোরামও গঠিত হয়। সেই সময়েও বার বার ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে। এ বার নিজেদের সেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিলেন তাঁরা।
টলিউডের সংগীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায় কয়েকদিন আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল জমানায় টলিউডের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে। এমনকি প্রাক্তন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পরে সেই টাকা থেকেও কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে জনতার দরবারে দেখা করার পরে ঋদ্ধি একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেই বলেন, ‘তাঁরা ৪-৫টা করে, ৬-৭টা করেও এক একজন অনুষ্ঠান পেতেন। এবং প্রত্যেকে হাই পেমেন্ট পেতেন। সেটা ব্যাঙ্কে পড়ত। সেখান থেকে টাকাটা রিটার্ন হয়ে আবার চলে আসছে অন্য জায়গায়, তোলার মতো করে বা কাটমানির মতো করে।’
শিল্পীর অভিযোগ, এসবের প্রতিবাদ যাঁরা করেছিলেন বলে তাঁদেরকে ব্যান করা হয়। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমি মোটামুটি শেষ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যান ছিলাম। ইন্দ্রনীল সেনের আন্ডারে যে চক্রটা চলত… বিভিন্ন রকম মঞ্চে দেখতেন যে, পাঁচালি গাইছেন, কীর্তন গাইছেন। তাঁদের অনেকেই আছেন, যাঁরা সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সমস্তই আমাদের গায়ক মন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর একটা লবি, তাঁর সিন্ডিকেট।’

পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন ভোট পরবর্তী অশান্তিতে আক্রান্তদের পরিবারও মঙ্গলবার পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির দফতরে। ন্যায়বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা বাবুসেনা মণ্ডল নির্বাচন পরবর্তী অশান্তিতে ছ’বছরের সন্তানকে হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। ২০১৪ সালের ভোট পরবর্তী অশান্তিতে ভাইকে হারিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার রহড়ার বাসিন্দা শর্বাণী রায়। তিনিও ন্যায়বিচারের আশায় পৌঁছেছেন জনতার দরবারে।
]]>
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
টলিউড যেন আচমকাই থমকে গেল।
যে মানুষটা পর্দায় ব্যঙ্গ, বুদ্ধি আর অন্যরকম গল্প বলার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন, সেই পরিচালক অনীক দত্তর মৃত্যু ঘিরে এখন চরম চাঞ্চল্য কলকাতায়। বুধবার দুপুরে হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল জনপ্রিয় এই পরিচালকের। আর তারপর থেকেই প্রশ্নের পর প্রশ্ন— এটা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?
ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা টলিউডে।
হাসপাতাল, আবাসন, থানার বাইরে বিকেল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে। পরিচালক, অভিনেতা থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠ মহল— সকলেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না এই খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে নিজের স্ত্রীর ফ্ল্যাটে এসেছিলেন অনীক দত্ত। হিন্দুস্তান পার্কের ওই অভিজাত বহুতলের ছ’তলার ছাদে কী কারণে উঠেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছুক্ষণ পর আচমকাই নিচে পড়ে যান তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বিকট শব্দ শুনেই তাঁরা ছুটে আসেন। দেখা যায়, বহুতলের পাশের একটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে রয়েছে। অনুমান, পড়ে যাওয়ার সময় সেই গাছেই ধাক্কা লেগেছিল পরিচালকের।
রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয়েছিল অনীকের। মাথা, বুক, কাঁধ-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত ছিল। এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন পরিচালকের স্ত্রী।
তবে অনীক একা ছাদে উঠেছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন— তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গড়িয়াহাট থানার একটি বিশেষ দল হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে জায়গায় অনীক দত্ত পড়ে গিয়েছিলেন, সেই জায়গা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফরেন্সিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে। রক্তের দাগ, পড়ে থাকা জিনিসপত্র— সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হলেও, অন্য কোনও সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে খবর, আজ আর ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়নি। দেহ সংরক্ষণ করে রাখা হবে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। পরিচালকের মেয়ে মুম্বই থেকে কলকাতায় ফিরছেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে পৌঁছে যান পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা জিতু কমল-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। অনেকের চোখেই জল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শোকবার্তার বন্যা। কেউ লিখেছেন, “বাংলা সিনেমা এক অসাধারণ গল্পকারকে হারাল।” আবার কেউ বলছেন, “অনীকদার মতো ব্যঙ্গাত্মক অথচ গভীর সিনেমা খুব কম মানুষই বানাতে পারতেন।”
বাংলা ছবির জগতে অনীক দত্তর নাম মানেই ছিল অন্যরকম স্বাদ।
২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ মুক্তির পর রাতারাতি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা সিনেমায় ব্যঙ্গ আর বুদ্ধিদীপ্ত কমেডির নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন অনীক। এরপর একের পর এক ছবি— ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘অপরাজিত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘যত কাণ্ড কলকাতা’— তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও সৃষ্টির অনুপ্রেরণায় তৈরি ‘অপরাজিত’ তাঁকে জাতীয় স্তরেও নতুন পরিচিতি দেয়। সিনেমাপ্রেমীদের একাংশের মতে, অনীক দত্ত ছিলেন সেই বিরল পরিচালক, যিনি একই সঙ্গে বাণিজ্যিক দর্শক ও বুদ্ধিজীবী মহল— দু’দিকেই সমান জনপ্রিয় ছিলেন।
শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, তাঁর ব্যক্তিত্বও ছিল আলাদা। স্পষ্ট কথা বলা, তীক্ষ্ণ রসবোধ আর সমাজ-রাজনীতি নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বরাবর আলোচনায় থাকতেন তিনি। তাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
উল্লেখ্য, অনীক দত্ত ছিলেন ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্র চন্দ্র দত্তর পৌত্র। দীর্ঘ কেরিয়ারে পেয়েছেন একাধিক সম্মান ও পুরস্কার। আনন্দলোক পুরস্কার থেকে শুরু করে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্মান— তাঁর ঝুলিতে রয়েছে বহু স্বীকৃতি।
কিন্তু বুধবারের সেই কয়েক মিনিট যেন সব কিছু ওলটপালট করে দিল।
একজন সফল পরিচালক, যাঁর মাথায় হয়তো আরও অনেক গল্প ছিল, তিনি এভাবে হঠাৎ চলে যাবেন— তা কেউ ভাবতেও পারেননি।

এখন নজর পুলিশের তদন্তে।
ছাদ থেকে কীভাবে পড়লেন অনীক দত্ত? সেটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীর কোনও রহস্য? উত্তর খুঁজছে টলিউড, উত্তর খুঁজছে কলকাতা। আর সেই উত্তরই হয়তো আগামী কয়েক দিনে আরও বড় চাঞ্চল্য তৈরি করতে পারে।
]]>
টলিউডে বিতর্ক ও জনপ্রিয়তা—দু’টিই যেন সমান তালে পিছু নেয় Srabanti Chatterjee-র। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র social media buzz। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় চরম বডি শেমিং, কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় ই-মেল মারফত অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন অভিনেত্রী। এই ঘটনাই এখন বাংলা entertainment news-এর অন্যতম আলোচিত বিষয়।
ভাইরাল পারফরম্যান্স থেকে বিতর্কের ঝড়
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী। সেই ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে, শুরু হয় trending on Instagram এবং ফেসবুকে শেয়ার। কিন্তু প্রশংসার পাশাপাশি ধেয়ে আসে কটাক্ষ। চেহারার পরিবর্তন নিয়ে অশালীন ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যে ভরে যায় কমেন্ট বক্স।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজে তাঁর ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমানজনক পোস্ট করা হচ্ছে। শুধু সমালোচনা নয়, বরং সরাসরি বডি শেমিং ও মানহানির অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমে শ্রাবন্তী স্পষ্ট বলেন, শিল্পীরা অনেক সময় ‘soft target’ হয়ে যান। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও এ ধরনের আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, “কেন আমার চেহারায় পরিবর্তন হয়েছে, তা না জেনেই উল্টোপাল্টা মন্তব্য করা হচ্ছে।”
সাম্প্রতিক ফটোশুটে গ্ল্যামারের ছটা
বিতর্কের মধ্যেও থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। সম্প্রতি তাঁর একটি viral photoshoot নতুন করে আলোড়ন তোলে। শাড়িতে ধরা দেওয়া তাঁর bold saree look নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলাদা উন্মাদনা। নরম মেকআপ, খোলা চুল এবং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ধরা দেওয়া সেই glamorous look সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ফ্যাশন অনুরাগীদের মতে, শ্রাবন্তী বারবার প্রমাণ করেছেন যে শাড়িও হতে পারে স্টাইল স্টেটমেন্ট। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। অনেকেই লিখেছেন, “হেটার্স গোনা বন্ধ করুন, আপনি সবসময়ই সুন্দর।” আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “Confidence is your real beauty।”
দুই দশকের ক্যারিয়ার, বহু উত্থান-পতন
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করে আজ টলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ শ্রাবন্তী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিক সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি পারিবারিক ড্রামা ও রোমান্টিক ঘরানায় তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি দর্শকের মন জিতেছে বারবার।
বর্তমানে একটি নতুন ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে কিছুটা ওজন বাড়াতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণেই সাম্প্রতিক পরিবর্তন, যা নিয়েই শুরু হয় ট্রোলিং। কিন্তু অভিনেত্রীর মতে, চরিত্রের জন্য শারীরিক পরিবর্তন শিল্পীর কাজেরই অংশ।
Fan Reactions ও ট্রোলিং: দ্বিমুখী সোশ্যাল মিডিয়া
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া। একদিকে তীব্র ট্রোলিং, অন্যদিকে শক্ত সমর্থন। অনেক অনুরাগী তাঁর সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, “এভাবে প্রতিবাদ করাই উচিত।” কেউ বলেছেন, “Body shaming বন্ধ হোক, শিল্পীদের সম্মান দিন।”
তবে সমালোচনার সুরও শোনা গেছে। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, সেলিব্রিটিদের জনসমক্ষে এলে সমালোচনা মেনে নিতেই হয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানেই ব্যক্তিগত অপমান নয়।
নিজের লড়াই নিজেকেই..
সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শ্রাবন্তী—অনলাইন অপমানের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই সম্ভব। তাঁর কথায়, “নিজের লড়াই নিজেকেই করতে হয়।”
বর্তমানে নতুন প্রজেক্ট ও ফটোশুট নিয়ে ব্যস্ত এই টলিউড তারকা। বিতর্ক সত্ত্বেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি, বরং social media buzz আরও বেড়েছে। শাড়ির glamorous look থেকে শুরু করে আইনি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে আবারও শিরোনামে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
এখন দেখার, সাইবার ক্রাইম শাখার পদক্ষেপ কতটা কঠোর হয় এবং ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে এই উদ্যোগ কতটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তবে একথা নিশ্চিত—শ্রাবন্তী থেমে থাকার পাত্রী নন, তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেনই।
ভিয়েতনামের সমুদ্রে নোনা জলে ভেজা শরীরে চুঁইয়ে পড়ছে আবেদন। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি রাতারাতি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেল টলিউড অভিনেত্রীর সৌজন্যে।
টলিপাড়ার চেনা মুখ অঙ্গনা রায়। ‘সেই যে হলুদ পাখি’ থেকে ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’— মাত্র কয়েক বছরেই ঝুলিতে তাঁর বেশ কিছু হিট সিরিজ এসে গিয়েছে। ছোটপর্দাতেও কাজ করেছেন অঙ্গনা। তাঁর অভিনয় সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ অ্যাক্টিভ অঙ্গনা। শহরে শীতের আমেজ কমতেই ভিয়েতনামে ভ্যাকেশনে চলে গেলেন অভিনেত্রী। আর সেখান থেকে লাল বিকিনতে ধরা দিতেই উষ্ণতা ছড়ালো নেট পাড়ায়।
Sanam Shetty Bikini Look : পুলসাইডে মধ্যরাতের আগুন, ভাইরাল হল সনম শেট্টির বোল্ড গ্ল্যামার
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ভিয়েতনামের নীল জলরাশির পটভূমিতে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন অঙ্গনা।
পরনে টকটকে লাল রঙের বিকিনি, কোমরে জড়ানো লাল-সাদা প্রিন্টেড স্কার্ফ, খোলা চুল আর গাঢ় লাল লিপস্টিক— সব মিলিয়ে অঙ্গনার এই ‘বোল্ড’ লুক ইন্টারনেটে রীতিমতো আগুন ধরিয়েছে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘সানস্ক্রিন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত।’

নেটিজেনদের মতে, অভিনেত্রীর এই মেদহীন কোমর আর আত্মবিশ্বাসী পোজ যেকোনো বলিউড সুন্দরীকেও টেক্কা দিতে পারে।
সি-বিচ থেকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন নায়িকা। যেখানে তাঁকে লাল রঙের বিকিনি পরে দেখা গিয়েছে, কোমরে বাঁধা প্রিন্টেড স্কার্ফ। খোলা চুল আর লাল রঙের লিপস্টিক তাঁর এই লুকসকে আরও বোল্ড করে তুলেছে।

অঙ্গনার মেদহীন কোমরে চোখ আটকাবে। সি-বিচে কিলার পোজে একের পর এক ছবি তুলেছেন অঙ্গনা। তাঁর এই বোল্ড লুকস নিমেষে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিনেত্রীর লাস্যময়ী ছবি ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়।
পরিচালক তরুণ মজুমদার ‘আলো’ ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করে বিনোদন জগতের সঙ্গে পরিচয় ঘটে অঙ্গনার। তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালিকা ও সঙ্গীতশিল্পী লাজবন্তী রায়ের একমাত্র মেয়ে।

এখনও অনেকেই অঙ্গনার মায়ের পরিচয় জানেন না। ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ২০১৮ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে অভিনয় শুরু করেন লাজবন্তী-কন্যা। শ্রীকান্ত সিরিজে সোহিনীর কিশোরী বয়সের চরিত্রে অভিনয় করে অঙ্গনা প্রশংসা কুড়োন সমস্ত মহল থেকে। পারিয়া ছবিতেও তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে সকলের।

‘তুমি আশেপাশে থাকলে’ ধারাবাহিকে রোহন ভট্টাচার্যের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন অঙ্গনা। এই সিরিয়াল করতে করতেই অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অঙ্গনা।

রোহন ও অঙ্গনার প্রেমের খবর ইন্ডাস্ট্রির ওপেন সিক্রেট। মা-বাবার সঙ্গেই ভিয়েতনামে বেড়াতে গিয়েছেন অঙ্গনা। এমনিতে তিনি সাহসী অভিনেত্রী বলেই পরিচিত।

তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে তাঁর একাধিক বোল্ড লুকসের ছবি। দু বছর পর ফের হইচইতে ফিরছেন অঙ্গনা। অদিতি রায়ের কুহেলি সিরিজে তাঁকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।
]]>
বেনারসীর লাল রঙে মোড়া এক সন্ধ্যা। আলো-ছায়ার মাঝে গঙ্গার ধারের বাতাসে যেন ঝলমল করছিল নতুন জীবনের ঘোষণা। হলুদ পাঞ্জাবিতে আত্মবিশ্বাসী হিরণ চট্টোপাধ্যায়, আর পাশে লাল বেনারসিতে স্নিগ্ধ কিন্তু স্পষ্টভাবে আত্মপ্রত্যয়ী ঋতিকা গিরি—এক ঝলকেই এই বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। রেড কার্পেট নয়, তবু ভিজ্যুয়ালটা ছিল নিখুঁত সিনেম্যাটিক। ক্যামেরা, ক্লিক, আর তারপরই শুরু প্রশ্নের বৃষ্টি।
বিয়ে মানেই তো গ্ল্যামার—কিন্তু এখানে গ্ল্যামারের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এল বিতর্ক। ২১ বছরের মডেল ও আইনের ছাত্রী ঋতিকা গিরির সঙ্গে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিযোগের তীর ছুড়লেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। দাবি, ২০০০ সালে হওয়া তাঁদের বিয়ে আইনত ভাঙেনি, ডিভোর্সের মামলাও নেই। ১৯ বছরের মেয়ের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে মাত্র দু’বছরের বড়—এই তথ্যই মুহূর্তে খবরকে ভাইরাল করে দেয়।
এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণের ভক্তদের উচ্ছ্বাসও কম নয়। “দাদা আমার যেমন তেমন, বৌদি আমার মডার্ন”—এই ধরনের পোস্টে ঋতিকার ফিটনেস, যোগব্যায়ামে জাতীয় স্তরের গোল্ড মেডেল, মডেলিং প্রোফাইল—সব মিলিয়ে তাঁকে গ্ল্যামার গার্ল হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ তো সরাসরি সিনেমার পর্দায় তাঁকে দেখতে চাওয়ার দাবিও তুলেছেন। ইনস্টাগ্রাম-চালিত এই যুগে, আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মানেই ট্রেন্ডিং।
কিন্তু গ্ল্যামারের মাঝেই ঋতিকা নিজে মুখ খুলে স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিয়ে নতুন নয়—পাঁচ বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে আছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর দেওয়া বয়স সংক্রান্ত তথ্য ভুল, এবং তাঁকে ডিভোর্স নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বেনারসের মতো পবিত্র স্থানে, মা গঙ্গার জলকে সাক্ষী রেখে, অগ্নিকে সামনে রেখে এই বিয়ে—এখানে কোনও শো-অফ ছিল না, ছিল মানসিক পরিতৃপ্তি। তাঁর সোজাসাপ্টা চ্যালেঞ্জ, “যদি বেআইনি মনে হয়, আইনি পথে যান।”
এই বিতর্কে আরও আবেগ যোগ করেছে হিরণের কন্যা নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়ের শেয়ার করা ছোট্ট ভিডিয়ো। সেখানে মা অনিন্দিতার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা—“তুমিই আমার মা, তুমিই বাবা”—এই কথাগুলো নেটদুনিয়ায় আলাদা করে আলোড়ন ফেলে। একদিকে গ্ল্যামার, অন্যদিকে পারিবারিক যন্ত্রণা—দু’য়ের সংঘর্ষেই এই খবর থামতে চাইছে না।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে হিরণ মানেই ‘মজনু’, ‘জামাই ৪২০’, ‘জিও পাগলা’র মতো পরিচিত মুখ। ২০২০-র পর বড়পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, এই বিয়ে তাঁকে ফের শিরোনামে ফিরিয়ে আনল। তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে সব ছবি মুছে ফেলেছেন তিনি—নীরবতার মধ্যেও যে সিদ্ধান্তের ভার আছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
রাজনীতি, গ্ল্যামার আর ব্যক্তিগত জীবনের এই মিশেলে হিরণ-ঋতিকা অধ্যায় এখন টক অফ দ্য টাউন। বেনারসের সেই লাল বেনারসির মতোই, এই গল্পও রয়ে গেল উজ্জ্বল—কিন্তু প্রশ্নচিহ্নে ভরা।
]]>
‘আমি কোনও অন্যায় করিনি। গতকাল যা করেছি তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে করেছি। তুমি আমাকে খুন করতে এসেছো। আমারও আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’ এভাবেই শুক্রবার যাদবপুরের এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে হায়দ্রা মর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এর বিরুদ্ধে মহা মিছিলের পরে গতকাল তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সব বিএলএ-২, আমার সব তথ্য চুরি করেছো। তোমরা ৬ টায় ঢুকেছো, আমি তো ১১.৪০ নাগাদ ঢুকছি। ততক্ষণে সব সরিয়ে নিয়েছো। আমি প্রতীককে (জৈন)ফোন করলাম, দেখলাম ফোনটা ধরল না। আমি দেখলাম জোড়া ফুল চিহ্নে তো আমরা দাঁড়াই। জোড়া ফুল, পার্টি যদি রক্ষা না হয়, লড়াইটা করব কী করে? একটা মঞ্চ তো দরকার।’
আইপ্যাক যে অতীতে বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছে, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বলেন, আইপ্যাক তো ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির হয়ে কাজে করেছিল। চন্দ্রবাবু নাইডু, জগন, নীতীশের জন্য কাজ করেছে। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল। এখন মালিকানা বদল হয়েছে। ওদের আমরা আইটি সেল দেখার দায়িত্ব দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গতকাল বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। কয়লা চুরি কাণ্ডে তদন্তের সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে ইডি সূত্রে দাবি করা যদিও সেই তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে প্রতীক জৈন এবং তার পর আইপ্যাক-এর সল্টলেকের দফতরে হাজির হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি-কে ব্যবহার করে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘আমি আপনাদের বলি, আমরা যদি করতে পারতাম না, অনেক কিছু করতে পারতাম। বলছে কয়লার টাকা, কে খায় ? অমিত শাহ খায়, হোম মিনিস্টার ! কী করে খায় ? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়।..সাথে আছে এক জগন্নাথ। জগন্নাথ ধামের জগন্নাথ নয়।

পুরীর জগন্নাথ নয়। বড় ডাকাত বিজেপির। জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর অমিত শাহর কাছে। শুনুন আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলি বাইরে বের করে দেই না। বেশি রাগালে কিন্তু বলে দিচ্ছি, আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে। আমি কিন্তু ভান্ডার ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। লক্ষণের সীমারেখা পেরিয়ে গেলে কিন্তু, আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি। বলি না শুধু দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে, সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। কিন্তু আমি করি না, দেশটাকে ভালবাসি বলে। কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়।’

হাজরায় মিছিলের শেষে মঞ্চ থেকে মমতা চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। মমতা বলেন, ‘বাংলা জেগে উঠেছে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখছি। সিপিএমের লোকেরা লোহার চেন নিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করেছে, মোটা ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, রক্ত বেরোচ্ছিল। পরপর ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, হাত থেঁতলে দিয়েছিল, এই হাজরাতেই মার খেয়েছিলাম। অনেকবার মার খেয়েছি, সারা দেহে আঘাত নিয়েই কাজ করি। যেদিন আমাকে কেউ আঘাত করে, সেদিন আমার পুনর্জীবন হয়।’
এস আই আর নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠাচ্ছে, তথ্য নিয়ে রিসিপ্ট দিচ্ছে না, লিখে দিচ্ছে নট ফাউন্ডিং। কেন ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, লজ্জা করে না, জুমলা পার্টি, অত্যাচারী পার্টি, ব্যাভিচারী পার্টি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বলা হচ্ছে বাংলাদেশি, এদের ভোটে জিতেছেন, তাহলে কেন পদত্যাগ করবেন না? এখানে একটিও রোহিঙ্গা খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাহলে বাংলার ওপর হামলা কেন? নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোট চুরি করে জিতেছে অন্য রাজ্যে, ঘেঁচু করবে নির্বাচন কমিশন।’
]]>