শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।

গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। জেলায় কার্যত তাণ্ডব চলেছে। ঘর-বাড়ি, দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার ভবানী ভবনে মুর্শিদাবাদের কয়েকজন ঘরছাড়াকে সঙ্গে নিয়ে ভবানী ভবন যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপি একাধিক নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজ্যে ডিজিকে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে হবে, তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে।

বিএসএফ না এলে তাঁরা বাঁচতে পারতেন না। ভবানী ভবনের সামনে হাজির হয়ে বুধবার এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন আক্রান্তকে। মুর্শিদাবাদে আক্রান্তদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাজ্য পুলিশের প্রধান দফতর ভবনী ভবনে হাজির হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মুর্শিদাবাদে নির্যাতিতদের সঙ্গে নিয়ে ভবানী ভবনে হাজির হন বিজেপি নেতৃত্ব। গত শনিবার মুর্শিদাবাদে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্যাতিত মানুষ যাতে পুলিশের পদস্থ আধিকারিককে জানাতে পারেন সবটা, তার জন্যই ভবানী ভবনে সুকান্ত মজুমদাররা হাজির হন।

সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে গেছিলেন রাজ্যের ডিজিপি। কিন্তু ঘরছাড়া হোক কিংবা আক্রান্তদের পরিবার, কারও সঙ্গেই দেখা করে কথা বলেননি তিনি। তাই বুধবার ঘরছাড়াদের নিয়েই তাঁরা ভবানী ভবন অভিযান করেছেন বলে জানান। তাঁরা চান, ডিজি আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলুন। কারণ পীড়িতরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের কথা তাঁকে জানাবেন বলে।

ভবানী ভবনের সামনে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের মহিলারা নিরাপদ নন। মুর্শিদাবাদে তাঁদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা তো হয়েছেই, ভয় দেখানো হয়েছে প্রাণে মেরে ফেলার। শুধু এটুকুই নয়, হিন্দু মহিলাদের সংখ্যালঘুদের তরফে নোংরা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুকান্তর কথায়, রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টি সম্পর্ক অবগত হলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে পুলিশও নিষ্ক্রিয়।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবানী ভবনের সামনে বেরিয়ে আসে ডিসি সাউথ। তিনি জানান, ডিজি ভবানী ভবনে নেই। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। তা শুনে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “পুলিশের তরফে প্রথমে বলা হয় ৪ জনের সঙ্গে দেখা করবেন ডিজি। আমরা বলি সম্ভব নয়। কারণ, ঘরছাড়াই শুধুমাত্র ১১ জন। তারপর আমরা ৩ নেতা রয়েছি। আমি আশা করব সকলের সঙ্গে ডিজি দেখা করবেন। কারণ, এঁরা কেউ রোহিঙ্গা নন।” প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বাকবিতণ্ডার পর ভবানী ভবনে ঢোকার অনুমতি পায় বিজেপি। প্রথমে অবশ্য সুকান্তদের বলা হয়েছিল, ৪ জনের বেশি প্রতিনিধি ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এখানে আসা প্রত্যেক আক্রান্তকে ঢুকতে না দিলে তাঁরা কেউ ভিতরে যাবেন না, ধর্না জারি রাখবেন। শেষমেশ সকলকেই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠকের পরেও আশ্বস্ত হতে পারেননি সুকান্তেরা। ভবানী ভবনের বৈঠক শেষে জানালেন, ডিজি ঘরছাড়াদের অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু তাঁরা পাননি। সুকান্ত বলেন, “ডিজিকে আমরা যে যে প্রশ্ন করেছিলাম, তার যথাযথ উত্তর পেলাম না। উনি বলেছেন, আমরা আইন অনুসারে কাজ করব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *