সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

 

ভোটমুখী বাংলায় বাঙালি অস্মিতাকে শান দিতে পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরইমধ্যে আবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘অয়েল অ্যান্ড ফ্যাট বোর্ডের’ জারি করা নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হয় জোরজার চাপানউতোর। বলা হয়, বিভিন্ন ক্যাফেটেরিয়া, জনবহুল জায়গায় প্রাত্যহিক খাবারে ‘শারীরিক ঝুঁকি’র বিষয়ে সতর্ক করতে হবে মানুষকে।

 

কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ স্বরূপ শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ফিস ফ্রাই, শিঙাড়া, জিলিপি সাজানো প্লেট দেখা যায় তৃণমূল নেতৃত্বের টেবিলে। সুর চড়িয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “কে কী খাবে তা ঠিক করে দিতে পারে না “। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য মনে করে শিঙাড়া, ফিস ফ্রাই, জিলিপির মতো খাদ্যের গুণগত মান যদি ঠিক থাকে তবে খেতে আপত্তি কোথায়? বহু জায়গায় মাছ-মাংস-ডিম খেতে দিচ্ছে না । কেউ কেউ নিরামিষ খান, কেউ আমিষ। গণতান্ত্রিক দেশে কে কী খাবে তা তার নিজস্ব। খাদ্য তালিকায় ফিস ফ্রাই থাকবে, শিঙাড়া থাকবে, জিলিপি থাকবে। খাদ্যে বিধিনিষেধ আমরা মানব না। মাছ-মিষ্টি অ্যান্ড মোর বাংলায় ছিল, আছে, থাকবে এবং চলবে। আমরা কোনওভাবেই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের পক্ষে নই।”

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এদিন মোদিকে পালটা খোঁচা দিয়েছে তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “পালিয়ে ভয়ে বহু মহিলা, পুরুষ পালিয়ে চলে আসছেন। রাজবংশীরা এখানকার নাগরিক। ভারতের নাগরিক। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার পর নোটিস দিচ্ছেন। কারণ, তাঁরা বাংলায় কথা বলছেন। গুজরাটে ব্যবসায়ীকে পুলিশ জিজ্ঞাসা করছেন আপনি বাঙালি? কারণ, তাঁর দোকানের সামনে বাংলায় লেখা। বাংলা লেখা অপরাধ? আপনি নিজেই নিয়ম লঙ্ঘন করছেন।”

 

পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাজার হাজার কোটির প্রকল্পের শিলান্যাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কুণাল। মোদিকে ‘মিথ্যাচারি’ বলে তোপ দেগে তিনি বললেন, “একজন প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একরাশ মিথ্যে তথ্য দিয়ে গেলেন। উন্নয়ন নিয়ে কতটা মিথ্যাচার করলেন… কী আর বলব। উনি খালি হাতে এসে বড় বড় কথা বলছেন কেন? বাংলার ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা। সেটা উনি দিচ্ছেন না। একশো দিনের কাজ করিয়েও টাকা দেননি। আবাসের টাকা দেননি। সবটা রাজ্য সরকার দিয়েছে।” এরপরই খোঁচা দিয়ে বললেন, “দৃশ্যমান বকেয়া দিচ্ছেন না, অদৃশ্য ৫ হাজার কোটি দেখিয়ে গেলেন! কিন্তু এটা করার কথাই ছিল। কোনও দয়া উনি করছেন না।”

অপরদিকে, আরজি কর কাণ্ডের পাশাপাশি গতকয়েক দিন কসবাকাণ্ড, জোকা আইআইএম এর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তারপর একের পর এক কলেজের ইউনিয়ন রুমের শিউরে ওঠা ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতাদের। চাপের মুখে শাসকদল। এহেন পরিস্থিতিতে নারী নির্যাতনের ইস্যুতে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের সরকার মহিলাদের প্রতি অন্যায় করেছে। বাংলায় হাসপাতাল মহিলাদের জন্য সুরক্ষিত নয়। এখানে চিকিৎসকের ওপর অত্যাচার হয়েছে, কিন্তু টিএমসি সরকার অভিযুক্তদের বাঁচায়। এই ঘটনা ঘটার পরেই আরও একটি কলেজে মহিলার ওপর অত্যাচার। টিএমসির বড় নেতা-মন্ত্রী অভিযুক্তদের বদলে অভিযোগকারীকেই দোষী সাব্যস্ত করে। আমরা সবাই মিলে এই নির্মমতা থেকে মুক্তি দেব।’

এই ইস্যুতে কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ইউপিতে পুলিশ ছাত্রীকে রেপ করছে। মহারাষ্ট্রের পুণেতে রেপ। মোদির গুজরাতে, সুপ্রিম কোর্ট বিলকিসের পরিবারের ধর্ষণ এবং খুনের জন্য যাদের যাবজ্জীবন দিয়েছে, বিজেপি তাঁদের দরজা খুলে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট আবার তাঁদের জেলে ফেরৎ এনেছে। সারা দেশ নারী নির্যাতনে। পশ্চিমবঙ্গে একটাও ঘটনা আমরা চাই না। বাম জামানার থেকে কমেছে। অন্য রাজ্যর থেকে কম। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির অধিকার নেই এখানে এসে কথা বলার, কারণ তাঁর দলের রাজ্যগুলিতে এই জিনিস হয়ে আছে। সম্পূর্ণভাবে মিথ্যাচার করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *