সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার প্রকাশিত হবে বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বিশাল সংখ্যক আধা সেনার বুট জানান দেবে ভোটের রণপ্রস্তুতি। বাংলায় পা রাখবে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তবে এবারে আর অতীতের মতো বাহিনী বাংলায় এসে পৌঁছালেও তাদেরকে গেস্টহাউস অথবা স্কুল বাড়িতে রেখে খাওয়া দাওয়ায় ব্যস্ত করে রাখলে চলবে না।

 

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় এসে পৌঁছানোর পর থেকেই রাজ্যের সমস্ত পুলিশ জেলায় নির্দিষ্ট হিসেব করেন ছড়িয়ে দিতে হবে প্রয়োজনমতো। তার জন্যেই নবান্নের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্য পুলিশ এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন তৈরি করে ফেলল চূড়ান্ত ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান।

 

জেলা ও পুলিশ কমিশনারেট ভিত্তিক বাহিনী বণ্টনের এই পরিকল্পনায় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের ৩৫ টি পুলিশ জেলা ও কমিশনারেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে পুর্ব মেদিনীপুরে ১৪ কোম্পানি। পাশাপাশি মালদহ ও কলকাতায় ১২ কোম্পানি করে রাখা হয়েছে।

TMC draft candidate list : ছন্নছাড়া বিজেপি সিপিএম, ২৯৪ আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত! দেখুন ২০২৬-এ তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে ৯, দার্জিলিংয়ে ৬, জলপাইগুড়িতে ৭, আলিপুরদুয়ারে ৫ কোম্পানি পাঠানো হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ৭, ব্যারাকপুরে ৯, বারাসত ও ডায়মন্ড হারবারে ৬ এবং বারুইপুরে ৫ কোম্পানি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত। এছাড়া বীরভূম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭ কোম্পানি করে, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও সুন্দরবনে ৪-৫ কোম্পানি রাখা হয়েছে।

Abhishek Nandigram Sebaashray : নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ের বিপুল সাড়া, শুভেন্দুর ঘাঁটিতে কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরে চর্চা

নির্বাচন বা বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এই ব্যাপক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

 

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছনোর পর এক মুহূর্তও তাদের বসিয়ে রাখা যাবে না। ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও কোনও অশান্তি দানা না বাঁধতে পারে, তার জন্য বাহিনীকে অবিলম্বে রুট মার্চ শুরু করতে বলা হয়েছে। ভোটারদের ভয় কাটাতে এবং এলাকায় আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এই আগাম রুট মার্চ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছে কমিশন।

 

এখানেই শেষ নয়, দ্বিতীয় দফায় আগামী ১০ মার্চ রাজ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি আধা সেনা প্রবেশ করবে। অর্থাৎ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই কার্যত দুর্গে পরিণত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। কমিশনের এই মাস্টারস্ট্রোক রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *