বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ • ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • সকাল ১০:৪১
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
রাজনীতি

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারি ঘিরে তোলপাড়! ‘মেরুদণ্ড বিক্রি না করলেই জেল’, বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

দুর্নীতি তদন্ত, গ্রেপ্তারি ও রাজনৈতিক তরজা—ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে বিতর্কে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের পাল্টা জবাবে কী বলল বিজেপি?

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারি ঘিরে তোলপাড়! ‘মেরুদণ্ড বিক্রি না করলেই জেল’, বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

বাংলার রাজনীতিতে ফের তীব্র সংঘাত! একদিকে প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে গ্রেপ্তারি ও দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে একটাই অভিযোগ—রাজনৈতিকভাবে মাথা নত না করলেই কি জেলযাত্রার মুখে পড়তে হচ্ছে বিরোধীদের? দুর্গাপুজোর পাস সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তদন্তে ওঠা অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—দুটিকে এক করে দেখা যাবে না। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি তদন্তের গতিপ্রকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে কী অভিযোগ? ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen-কে কেন্দ্র করে দুর্গাপুজোর পাস বণ্টন এবং ‘মাস আর্ট’ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্তের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় তাঁকে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন মামলায়, কী আইনি ভিত্তিতে এবং কোন ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র থেকে নিশ্চিত করা জরুরি। এই ঘটনাকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত তথ্য সামনে এলে কি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হবে? আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের উপর। ‘মেরুদণ্ড বিকিয়ে লড়াই নয়’, বিস্ফোরক অভিষেক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসকদলের বিরোধিতা করে যারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দিলে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মনোভাব দেখা যায় বলেও তিনি দাবি করেছেন। অভিষেকের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য সাধারণভাবে এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দুর্নীতির তদন্তকে আইন মেনেই পরিচালিত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে। তবে ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে কোন পক্ষ কী নথি বা প্রমাণ সামনে রেখেছে, তা যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্তের তথ্যই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাল্টা হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অবস্থান, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। দুই শিবিরের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্পষ্ট, ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে বিতর্ক শুধুমাত্র একটি তদন্ত বা গ্রেপ্তারির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিশ্বাসযোগ্যতার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের সঠিক শব্দ ও প্রেক্ষাপটও প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। তদন্তের পর রাজনীতির পরবর্তী চাল কী? বাংলার রাজনীতিতে তদন্ত ও গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত নতুন নয়। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই আসল প্রশ্ন, তদন্ত কতটা স্বচ্ছভাবে এগোচ্ছে এবং অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ সামনে আসছে। ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে এই বিতর্কেও নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ, পুলিশের বক্তব্য এবং আদালতের প্রক্রিয়ার দিকে। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব কী রাজনৈতিক অবস্থান নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক হুঙ্কারের মাঝখানে শেষ পর্যন্ত সামনে আসবে কোন তথ্য? তদন্তের মোড় কি বদলে দেবে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ, নাকি এই বিতর্ক আরও তীব্র সংঘাতের জন্ম দেবে? উত্তর দেবে আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক