বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ • ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ২:৫৮
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
খেলা

বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে কেন্দ্রের বড় উদ্যোগ! ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে ১,৮৫৬ কোটি টাকার অনুমোদন

খেলাধুলার সরঞ্জাম তৈরিতে ১,৮৫৬ কোটি টাকার বড় প্রকল্প! ‘খেলো ইন্ডিয়া’য় কেন্দ্রের ছাড়পত্র, বাড়বে দেশীয় উৎপাদন ও চাকরির সুযোগ?

বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে কেন্দ্রের বড় উদ্যোগ! ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে ১,৮৫৬ কোটি টাকার অনুমোদন
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

ক্রিকেট ব্যাট থেকে অলিম্পিকের মানের ক্রীড়া সরঞ্জাম—বিশ্ববাজারে ভারতকে বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে নতুন উদ্যোগ কেন্দ্রের। আট বছরের প্রকল্পে জোর আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র এবং দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণে। বিশ্বের ক্রীড়া সরঞ্জামের বাজারে ভারতকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘খেলো ইন্ডিয়া স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম’-এ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের খবর সামনে আসতেই নজর পড়েছে দেশীয় উৎপাদন, রফতানি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার দিকে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরির কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পও নতুন সুযোগ পেতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩৩-৩৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আট বছরের জন্য মোট ১,৮৫৬.৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, যোগ্য সংস্থার তালিকা এবং সহায়তা পাওয়ার শর্ত সম্পর্কে সরকারি নির্দেশিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। এটি শুধু ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরির প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বাড়ানো, আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্য। আট বছরে কোথায় খরচ হবে বরাদ্দের টাকা? কেন্দ্রের ঘোষিত পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অ্যাঙ্কর ইনভেস্টমেন্ট সাপোর্ট এবং উৎপাদনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা—এই দুই খাতে মিলিয়ে বরাদ্দ ১,১৩০ কোটি টাকা। বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য। Press Information Bureau +1 এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মান অনুযায়ী পণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহের জন্য ১০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, গুণমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেশন পাওয়াও জরুরি। এই ব্যবস্থায় দেশীয় নির্মাতারা সুবিধা পেতে পারেন। Prime Minister of India +1 জলন্ধর, মীরাটের মতো উৎপাদন কেন্দ্রের উপর জোর ভারতে ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলির মধ্যে পাঞ্জাবের জলন্ধর এবং উত্তরপ্রদেশের মীরাট বিশেষভাবে পরিচিত। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা, কারিগর এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। নতুন প্রকল্পে এই ধরনের উৎপাদন ক্লাস্টারের পরিকাঠামো আধুনিক করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ পরীক্ষাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং যৌথ উৎপাদন-সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি করা গেলে ছোট সংস্থাগুলির খরচ কমানো ও উৎপাদনের মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। Prime Minister of India +1 পরিকল্পনায় বিশেষ উৎপাদন অঞ্চল গড়ে তোলার কথাও রয়েছে। সেখানে উৎপাদক সংস্থার পাশাপাশি সরবরাহকারী, পণ্যের নকশা তৈরির কেন্দ্র এবং পরীক্ষার পরিকাঠামো এক জায়গায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গবেষণা, প্রযুক্তি ও স্টার্টআপেও নজর ক্রীড়া সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে আধুনিক উপকরণ, উন্নত নকশা এবং নিরাপত্তার মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উৎকর্ষ কেন্দ্র বা সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপগুলিকে পণ্য তৈরি, পরীক্ষা এবং বাজারে আনার ক্ষেত্রে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও এই প্রকল্পের অংশ। Prime Minister of India +1 অর্থাৎ, উদ্যোগটি শুধু বড় শিল্পগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ছোট সংস্থা, নতুন উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কী বার্তা? এই প্রকল্পের দিকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলেরও নজর রাখা উচিত। রাজ্যে ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই, ছোট নির্মাতা সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা এবং আধুনিক উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের সংস্থাগুলি কীভাবে পাবে, কোন কোন অঞ্চলে উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হবে এবং রাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ কতটা থাকবে—সেই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও উৎপাদন অঞ্চল তৈরির ঘোষণা রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে, ১,৮৫৬.৬৭ কোটি টাকার এই প্রকল্প ভারতের ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে আর্থিক সহায়তা কত দ্রুত শিল্পের কাছে পৌঁছয়, ক্ষুদ্র সংস্থাগুলি কতটা সুবিধা পায় এবং দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক মানে কতটা উন্নীত হয়, তার উপর। ভারত কি এবার শুধু বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরি নয়, তাঁদের ব্যবহারের সরঞ্জাম তৈরিতেও বিশ্ববাজারে বড় শক্তি হয়ে উঠবে? আগামী আট বছরের বাস্তবায়নই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক