শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ • ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • দুপুর ৩:২৮
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
বিজনেস

Gold-Silver Price: ধনতেরসের আগে বড় স্বস্তি! কলকাতায় একদিনেই ৮,২৮৬ টাকা কমল রুপোর দাম, সোনা কত সস্তা হল?

ধনতেরসের আগে কলকাতার বাজারে কমল সোনা ও রুপোর দাম। প্রতি কেজি রুপো সস্তা ৮,২৮৬ টাকা, ২২ ক্যারেট সোনাতেও বড় পতন।

Gold-Silver Price: ধনতেরসের আগে বড় স্বস্তি! কলকাতায় একদিনেই ৮,২৮৬ টাকা কমল রুপোর দাম, সোনা কত সস্তা হল?
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

ধনতেরস \[Dhanteras\] ও দীপাবলির আগে সোনা-রুপো কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে কলকাতার \[Kolkata\] বুলিয়ান বাজারের ৩০ অক্টোবরের দর আপনার নজরে রাখা জরুরি। উৎসবের মরশুমে মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে ২২ ক্যারেট, ২৪ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গিয়েছে রুপোর বাজারে। প্রতি কেজি রুপোর দাম এক ধাক্কায় কমেছে ৮,২৮৬ টাকা। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি \[Swarna Shilpa Bachao Committee (SSBC)\] প্রকাশিত বাজারদরের সূচক অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের তুলনায় ৩০ অক্টোবর সকালে কলকাতায় সোনা ও রুপোর বিক্রয়মূল্যে এই পতন রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ধনতেরসে সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা বাসন কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের কাছে এই দর পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত? গয়না তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট সোনার দামেও উল্লেখযোগ্য সংশোধন হয়েছে। SSBC-র ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের আপডেট অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩,৩৮০ টাকা। একদিন আগে, অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর এই দাম ছিল ১৩,৫০৫ টাকা। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রতি গ্রামে দাম কমেছে ১২৫ টাকা। সেই হিসেবে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্যে ১,২৫০ টাকার পার্থক্য তৈরি হয়েছে। শুধু বিক্রয়মূল্য নয়, দোকানদারদের ক্রয়মূল্যও কমেছে। প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার ক্রয়মূল্য ১২,৯৩৪ টাকা থেকে নেমে হয়েছে ১২,৮১৫ টাকা। অর্থাৎ এখানেও প্রতি গ্রামে ১১৯ টাকা কমেছে দর। ২৪ ক্যারেট সোনার দামেও পতন খাঁটি সোনার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২৪ ক্যারেট সোনা, যা SSBC-র সূচকে ফাইন গোল্ড ৯৯৫ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রতি গ্রামের বিক্রয়মূল্য বৃহস্পতিবার সকালে দাঁড়িয়েছে ১৪,০৮৩ টাকা। ২৯ অক্টোবর এই দাম ছিল ১৪,২১৪ টাকা। অর্থাৎ একদিনে প্রতি গ্রামে ১৩১ টাকা কমেছে। ১০ গ্রাম হিসাবে হিসাব করলে দাম কমেছে ১,৩১০ টাকা। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যাঁরা সোনা কেনেন, তাঁদের কাছেও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজারদরের এই পতন স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং মুদ্রার বিনিময়মূল্যের উপর। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত হল? ডায়মন্ড ও বিভিন্ন স্টোনের গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেট সোনার দামও কমেছে। কলকাতায় ৩০ অক্টোবর প্রতি গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য হয়েছে ১০,৯৮৫ টাকা। আগের দিন এই দর ছিল ১১,০৮৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ১০০ টাকা কমেছে। ১০ গ্রাম সোনা কিনলে আগের দিনের তুলনায় দামের পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১,০০০ টাকা। উৎসবের আগে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের জন্য এই দর পরিবর্তন কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে গয়নার চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সময় সোনার মূল্যের পাশাপাশি মজুরি, পাথরের দাম এবং প্রযোজ্য করও বিবেচনায় রাখতে হবে। একদিনে ৮,২৮৬ টাকা কমল রুপোর দাম! সোনার তুলনায় রুপোর বাজারে দরপতনের অঙ্ক আরও বড়। ধনতেরসে অনেকেই সোনার পাশাপাশি রুপোর কয়েন, ঠাকুরের বাসন, পুজোর সামগ্রী এবং গয়না কেনেন। তাঁদের জন্য বৃহস্পতিবারের বাজারদর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। SSBC-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৯৯৯ বিশুদ্ধতার প্রতি কেজি রুপোর দাম ২৯ অক্টোবর ছিল ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৮৩ টাকা। ৩০ অক্টোবর সকালে সেই দর কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯৭ টাকা। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে ৮,২৮৬ টাকা। ১০০ গ্রাম রুপোর হিসাবেও দামের পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ৮২৮ টাকা ৬০ পয়সা। ফলে উৎসবের কেনাকাটায় রুপো কেনার কথা ভাবছেন এমন ক্রেতাদের কাছে এই পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কেন কমছে সোনা ও রুপোর দাম? আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সোনা ও রুপোর দামের ওঠানামার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের মূল্য, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা মূল্যবান ধাতুর বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্ত বাজার-ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দরপতনের পিছনে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা প্রফিট বুকিং \[Profit Booking\] অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আগে দাম বাড়ার পর অনেক বিনিয়োগকারী লাভের অঙ্ক নিশ্চিত করতে সোনা ও রুপো বিক্রি করেন। এর ফলে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ \[US Federal Reserve\]-এর সুদের হার সংক্রান্ত অবস্থানও এই বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পরিবর্তন, ডলারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে মূল্যবান ধাতুর দামে। ভারতের বাজারেও আন্তর্জাতিক বুলিয়ান বাজারের পরিবর্তনের প্রভাব এসে পৌঁছয়। পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময়মূল্য এবং দেশীয় বাজারের পরিস্থিতিও চূড়ান্ত দরে ভূমিকা রাখে। তবে ৩০ অক্টোবরের এই পতনের জন্য প্রতিটি কারণের নির্দিষ্ট অবদান কতটা, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। ধনতেরসের কেনাকাটার আগে কী মাথায় রাখবেন? উৎসবের মরশুমে সোনা বা রুপো কেনার আগে শুধু প্রতি গ্রামের বাজারদর দেখলেই হবে না। গয়নার ক্ষেত্রে মজুরি, বিশুদ্ধতা, হলমার্ক এবং চূড়ান্ত বিলের হিসাব যাচাই করা জরুরি। একইভাবে রুপোর সামগ্রী কেনার সময়ও বিশুদ্ধতার মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, এখানে উল্লেখিত দাম ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রকাশিত SSBC-র সূচকভিত্তিক দর। দিনের পরবর্তী সময়ে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন গয়নার দোকানে বিক্রয়মূল্য, মজুরি ও অন্যান্য খরচের পার্থক্যও থাকতে পারে। ধনতেরসের আগে কলকাতার বাজারে সোনা ও রুপোর এই দরপতন ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ খবর। তবে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে সেদিনের চূড়ান্ত দাম জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক