সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দল বা ধর্ম দেখে নয়, সরকারি গাইডলাইন মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণ। আগে ‘বাংলার বাড়ি’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তাকে নির্মীয়মাণ আবাস সম্পূর্ণ করার জন্য মোট ৬,১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই আর্থিক সহায়তার ফলে নির্মীয়মাণ বাড়িগুলির কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তারা দ্রুত নিজেদের স্থায়ী আবাসে বসবাসের সুযোগ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাচাই পর্বে ১২ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। সেই কারণে আপাতত তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের তালিকা থেকে বাদ রাখা হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে লিন্টেল স্তর পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁরাই এই পর্যায়ে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাচ্ছেন। প্রশাসনের আশা, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ হাতে পেলে উপভোক্তারা দ্রুত বাড়ির বাকি নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁরা বহু প্রতীক্ষায় ছিলেন পরিবর্তনের সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াবে কি না। বা তাঁদের মধ্যে ভ্রম ঢোকানো হয়েছিল। কারণ পশ্চিমবঙ্গে যত বেনিফিট দেওয়া হয় সেখানে সরকারের নাম বলা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে আমরা দেখে এসেছি এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে গেছেন, এটা তো দিদি-এর স্কিম। এটা এনডিএ-এর সরকার। আমরা আলাদা ভাবে চলি না। তাঁদের গৃহনির্মাণের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির যে সংকল্প রয়েছে তাতে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।’
প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মন্ত্রিসভা ঠিক করেছি পশ্চিমবঙ্গ নামটা নিয়ে। আমরা পশ্চিম নামটা কোনও দিন মুছে দিতে পারি না। তাই আমরা বাংলার বাড়ি-এর নাম পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গ আবাস নাম করব। আমরা একসঙ্গে একটা টিমে কাজ করি। বিগত সরকার শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করে গেছেন। ২০২২ সালের ৩১-এ মার্চ পর্যন্ত আবাসের টাকা পেয়েছে চুরি দুর্নীতির আগে পর্যন্ত। ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ৪০ লক্ষ ইউনিটের জন্য। এখনও যাঁরা আবাস যোজনায় নাম অন্তর্ভূক্ত করেননি তাঁরা নাম তুলুন। আমরা দল, ধর্ম, রাজনীতি দেখব না। পুজোর পরে আরও কয়েক লক্ষ বাড়ি প্রথম কিস্তি-এর টাকা দেব আরও বড় করে।’
স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি
১৫ আগস্ট উপলক্ষে এনডিএ সরকার বছর কয়েক ধরে উদযাপন করে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। এতদিন বাংলায় বিরোধী দলের সরকার থাকায় তা হতো না। এবার রাজ্যেও বিজেপি সরকার। প্রথমবার কেন্দ্রের ওই কর্মসূচির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হবে এই কর্মসূচি। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই এই যাত্রা শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির খুঁটিনাটি সবিস্তারে জানিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘আগামিকাল (শুক্রবার) আমরা ভবানীপুর অর্থাৎ আমার কেন্দ্র থেকে তেরঙ্গা যাত্রা শুরু করছি। সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা পর্যন্ত বিশাল মিছিল করব, আমি নিজে মিছিলে অংশ নেব। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা সকলে এতে অংশগ্রহণ করুন। নিজের নিজের বাড়িতে তেরঙ্গা তুলুন।’

এই উপলক্ষে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা বিতরণ করা হচ্ছে রাজ্যে। নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তেরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট তেরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।’
]]>
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দেশজুড়ে NEET বিতর্ক, আর সেই আবহেই বাংলার টপারদের মঞ্চে সম্মান
সারা দেশে যখন NEET পরীক্ষাকে ঘিরে স্বচ্ছতা, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রশ্নে তুমুল আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেল একেবারে অন্য ছবি। বিতর্কের আবহকে সরিয়ে রেখে কৃতিত্বকেই সামনে আনল রাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার নবান্ন (নবান্ন, হাওড়া)-র সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সর্বভারতীয় NEET পরীক্ষায় সফল প্রথম ১০০ জন কৃতী পড়ুয়াকে সংবর্ধনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (পশ্চিমবঙ্গ)। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে ল্যাপটপ। শুধু পুরস্কার নয়, ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের জন্য ছিল বিশেষ বার্তাও।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সাফল্য কেবল একজন ছাত্র বা একটি পরিবারের নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। তাঁর কথায়, NEET দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলার ছাত্রছাত্রীরা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
‘শুধু ডাক্তার নয়, মানুষের চিকিৎসক হোন’—আবেগঘন বার্তা
সংবর্ধনা মঞ্চ থেকেই ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের উদ্দেশে আবেগঘন আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধুমাত্র একটি কর্মজীবন নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক মহান দায়িত্ব।
তিনি কৃতী পড়ুয়াদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, শহরের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার মানুষের কাছেও উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে এগিয়ে আসতে হবে। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ—দুইয়ের প্রতিই সমান দায়বদ্ধ থেকে কাজ করার বার্তাও দেন তিনি।
স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত মন্ত্র ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাফল্যই শেষ কথা নয়। নিরন্তর শেখা, এগিয়ে চলা এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় রোডম্যাপ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা।
তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তার মধ্যে রয়েছে নিউ টাউন (কলকাতা)-এ প্রস্তাবিত ২০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল, এসএসকেএম হাসপাতাল (কলকাতা)-এ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আধুনিক এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, এসএনসিইউ, উন্নত অপারেশন থিয়েটার এবং চিকিৎসকদের আবাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
চার নতুন মেডিক্যাল কলেজ, বাড়বে MBBS আসনও
চিকিৎসা শিক্ষার সম্প্রসারণ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, কালিম্পং (পশ্চিমবঙ্গ), আলিপুরদুয়ার (পশ্চিমবঙ্গ), পশ্চিম বর্ধমান (পশ্চিমবঙ্গ) এবং দক্ষিণ দিনাজপুর (পশ্চিমবঙ্গ)—এই চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে রাজ্যে MBBS আসন সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী যাতে রাজ্যেই চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গে আরও একটি AIIMS-এর পরিকল্পনার ইঙ্গিত
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কল্যাণী AIIMS (নদিয়া)-এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও একটি নতুন AIIMS প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা চলছে।
এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ। যদিও প্রকল্পের সময়সীমা বা বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে এদিন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা—’সততাই চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয়’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গ)। ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়, পেশার প্রতি সততা এবং রোগীর প্রতি দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি কৃতী পড়ুয়াদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গ), রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক, কৃতী পড়ুয়াদের পরিবার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

রাজনীতির আবহে বার্তার তাৎপর্য
দেশজুড়ে NEET-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন এখনও থামেনি, সেই সময় কৃতী পড়ুয়াদের সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
একদিকে পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে সফল ছাত্রছাত্রীদের সামনে রেখে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবার রূপরেখা—এই দুই বার্তাই এক মঞ্চ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার।

এখন নজর থাকবে, ঘোষিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবের রূপ পায় এবং ভবিষ্যতের এই তরুণ চিকিৎসকেরা সত্যিই বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় লিখতে পারেন কি না। সেই উত্তরই হয়তো আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
]]>প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা: বাংলার রাজনীতির পালাবদলের পর একের পর এক প্রতীকী পরিবর্তন নজরে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন (Nabanna)। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিচিত নীল-সাদা রঙের পরিচিতির মধ্যে এবার দৃশ্যমান হল নতুন অধ্যায়। সোমবার সকালে নবান্ন চত্বরে নজর পড়তেই দেখা গেল, ভবনের মাথায় থাকা ‘নবান্ন’ নামফলকের রং বদলে গিয়েছে। নীলের জায়গা নিয়েছে গেরুয়া।
এই পরিবর্তন ঘিরেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। কারণ, এটি শুধুই একটি রঙের পরিবর্তন নয়, বরং অনেকের মতে রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীকও বটে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি ভবন, দফতর এবং জনপরিসরে রঙের পরিবর্তনের ছবি সামনে এসেছে। বহু জায়গায় আগের নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে নতুন রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু নবান্ন (Howrah)-এর নামফলকেও বদল স্পষ্ট।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই মুহূর্তে পুরো ভবনের রং পরিবর্তন করা হয়নি। শুধুমাত্র ভবনের উপরে থাকা ‘নবান্ন’ লেখার ফলকের রং বদলানো হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ভবনের মূল কাঠামো এখনও আগের মতোই রয়েছে।
এই পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই নামফলকের পরিবর্তন, নাকি ভবিষ্যতে পুরো প্রশাসনিক ভবনের বাইরের রংও নতুনভাবে সাজানো হবে? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকার বদলের পরে প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে প্রতীকী পরিবর্তন প্রায় সব রাজ্যেই দেখা যায়। বাংলাতেও সেই প্রবণতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে আরও কিছু সরকারি ভবন বা প্রকল্পে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেলে তা অস্বাভাবিক হবে না বলেই মত তাঁদের।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আরও একটি সিদ্ধান্তকে একসঙ্গে দেখছেন অনেকে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সরকারি স্কুলগুলির ইউনিফর্ম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। ২০২২ সালে চালু হওয়া নীল-সাদা ইউনিফর্মের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির পুরনো ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্ম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের এই পদক্ষেপও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফলে একদিকে স্কুলের পোশাকে পরিবর্তন, অন্যদিকে নবান্নের নামফলকের নতুন রং—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা খুঁজছেন অনেকেই। যদিও সরকারিভাবে এই পরিবর্তনগুলিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজ্যের নতুন প্রশাসন নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতেই এই ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের মতে, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের চেয়ে প্রতীকী পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে এই বিষয়েও রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নবান্নের নামফলকের রং পরিবর্তন আপাতদৃষ্টিতে ছোট ঘটনা হলেও, তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। আগামী দিনে এই পরিবর্তন কি শুধুই নামফলকে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি প্রশাসনিক ভবনের সামগ্রিক চেহারাতেও বড় বদল দেখা যাবে—সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

নবান্নের এই নতুন রূপ কি শুধুই প্রতীকী পরিবর্তন, নাকি বাংলার প্রশাসনিক পরিচয়ের আরও বড় রূপান্তরের সূচনা? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যজুড়ে।
]]>প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ): জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি থেকে শুরু করে নথিভুক্তিকরণের পুরো ব্যবস্থাতেই এবার বড় প্রশাসনিক রদবদল। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা জারি হতেই বদলে গেল বহু বছরের প্রচলিত কাঠামো। এবার থেকে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক (DM & Collector)-ই হবেন সংশ্লিষ্ট জেলার District Registrar of Births and Deaths। একই সঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন জন্ম শংসাপত্র নিয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ভুয়ো নথির অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত (West Bengal Panchayat) এলাকায় আর কোনও প্রধান (Pradhan) জন্ম বা মৃত্যু নথিভুক্তির Sub-Registrar থাকবেন না। তাঁদের সেই দায়িত্ব অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক (DM) পঞ্চায়েত সচিব অথবা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে Registrar হিসেবে নিয়োগ করবেন।
শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী BMOH, গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের MSVP-দের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তির Registrar হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। ADM, SDO, BDO এবং কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র Joint Municipal Commissioner-দের Additional District Registrar হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।
পুরসভাগুলিতেও পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন যেখানে চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ অফিসার বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এই দায়িত্ব পালন করতেন, সেখানে এবার সরকারি আধিকারিকদের Registrar হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কলকাতা পুর এলাকায় অবশ্য Municipal Commissioner-ই District Registrar হিসেবে থাকবেন এবং তাঁর হাতেই থাকবে Registrar নিয়োগের ক্ষমতা।
এই নতুন গাইডলাইন জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (West Bengal Chief Secretary)।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) চলাকালীন প্রশাসনের হাতে একাধিক অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় জন্ম শংসাপত্রে অনিয়ম, ভুল তথ্য এবং ভুয়ো নথির অভিযোগ ধরা পড়েছে। সেই কারণেই গোটা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যসচিবের কথায়, “নিয়ম থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনওভাবেই কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, জন্ম শংসাপত্র যাচাই কোনও বিশেষ অভিযান নয়, এটি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগের জেরে এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই যাচাইয়ের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মীরাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা বেসরকারি সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণে জবাবদিহি যেমন বাড়বে, তেমনই ভুয়ো নথি তৈরির সুযোগও অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশও মনে করছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় উঠে আসা অভিযোগের পর এই প্রশাসনিক পুনর্গঠন ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা পেতে কোনও অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন নজর একটাই—নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তির ব্যবস্থায় কতটা স্বচ্ছতা আসে, আর ভুয়ো শংসাপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান কতটা কঠোর হয়। আগামী দিনে তারই উত্তর মিলবে।
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকার সাফাই কর্মীদের সুরক্ষার জন্য চালু হল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচি। রাজ্যকে দূষণমুক্ত করতে এবং পরিচ্ছন্নতার প্রসারে বড় পদক্ষেপ করল সরকার। একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের 50 হাজার সাফাই কর্মীর হাতে এই বিশেষ কিট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পরিবেশ দূষণ এবং সবুজ ধ্বংস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আধুনিকীকরণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় জোর না-দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের অপরাধী হয়ে থাকতে হবে।’ রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফাই কর্মীদের প্রকৃত সেবাদানকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল পরিবেশ রক্ষার আকুল আবেদন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একসময় পরিবেশ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যেভাবে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, স্বচ্ছতার অভাবে যেভাবে বৃক্ষ ছেদন করে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে এবং যেভাবে 15 বছরের বয়সের থেকে বেশি গাড়ি যা শহর এলাকায় চলাচল কার্যত নিষিদ্ধ, তার ভিজিল্যান্স উপেক্ষা করা হয়েছে, এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব যদি কারও মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে শিশু কিশোর এবং বয়স্ক মানুষদের উপরই পড়ে। পরিবেশের ইন্ডেক্সগুলো এত বিপজ্জনক জায়গায় যায় যে, ডাক্তারবাবুরা বলেন মর্নিং ওয়াক করবেন না ইভনিং ওয়াক করুন।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর প্রশংসাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির কথা প্রধানমন্ত্রী খোদ রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিনকয়েক আগে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের উপস্থিতিতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এমন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রায়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই দফতরকে আরও গতিশীল ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে নবান্ন থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘সব জায়গায় শুধুমাত্র ফ্লাইওভার, রোডওভার ব্রিজ, সুন্দর সুন্দর দৃষ্টিনন্দন নানা হল- অডিটোরিয়াম এগুলোর যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি স্বচ্ছতা, স্বচ্ছ পরিস্রুত পানীয় জল, অরণ্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সবুজায়ন এবং পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ, এই বহুমুখী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যদি আমরা এগোতে না-পারি তাহলে আগামী দিনে সমাজের কাছে আমরা নিজেদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত করব।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত তৎপরতা ও দূরদর্শিতাকে সাধুবাদ জানিয়ে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা মিরিক, দুধিয়া ও তরাই-ডুয়ার্সের অবহেলিত মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মাত্র দু মাসের কার্যকালে পাহাড়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারী যে সমস্ত পদক্ষেপ করেছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন।’ সাংসদ রাজু বিস্তা বর্তমান সরকারের অধীনে পাহাড়ে অনুমোদিত হওয়া একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দার্জিলিংয়ে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে এবং সেখানে একটি ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য জমি খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ছাড়পত্র মিলেছে। পাহাড়ের চা শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় ৩১৩ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকায় ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে লাগু করা হয়েছে। এছাড়াও ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ সুবিধা পাচ্ছেন।
]]>
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘অর্থ দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবে সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে। অতীতের প্রশাসনিক ও কর্পোরেশনের ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ তারাতলার বেআইনি গোডাউন বিপর্যয় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এভাবেই আগামী দিনে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তারাতলা কাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাদের পাশে থাকারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তার ব্যবস্থা করবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গার্ডেনরিচ থেকে তারাতলা— এই ধরনের ঘটনা আগের তৃণমূল সরকার এবং সেই আমলে কলকাতা পুুরসভার ভুলত্রুটির জন্যই ঘটছে।
ভবিষ্যতে যাতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ করবে সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘ঘটনার আধ ঘণ্টার মধ্যে দমকল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তার পরের ২ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। আমরা ১৭ জনকে বাঁচাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে আপনাদের মুক্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
Amit Shah : ‘আগামী ৫ বছরে শুভেন্দুর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়বে পশ্চিমবঙ্গ’ ঘোষণা অমিত শাহের
অর্থসাহায্য মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হতে পারে না, সে কথা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা তা করব। আহতদের ভবিষ্যতে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়তে পারে। তা নজরে রেখে আমরাই ওষুধপত্র দেব আপনাদের। মৃতদের বাড়ির ছেলেমেয়েদেরও যাতে ভবিষ্যতে পড়াশোনা না আটকায়, তার কথাও ভাববে সরকার।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ে উদ্ধার কাজের জন্য সিভিল ডিফেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে উন্নত করা হচ্ছে। যন্ত্রপাতি কেনার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে।
নবান্নের বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কাছে প্রত্যাশা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তার প্রেক্ষিতে তারাতলা কাণ্ডে মৃত এক যুবকের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মাথার ছাদ তো চলে গিয়েছে। আমার ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। আমায় যদি কোনও কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়…।’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রম দপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আর কী কী ভাবে সাহায্য করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা মাসে মাসে কিছু হেল্প করতে পারব। শ্রম দপ্তর পারবে। মুখ্যসচিবই সে কথা জানালেন আমাকে।’ এই কাজের দায়িত্ব রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্থানীয় পুরসভায় মৃতদের পরিবারের কোনও এক সদস্যকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। এছাড়াও, দশম শ্রেণি পাশ কোনও উপযুক্ত সদস্য থাকলে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরির সুযোগ মিলবে। এ জন্য কলকাতা পুরসভার কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একটি প্রস্তাব তৈরি করে মুখ্যসচিবের মাধ্যমে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারগুলিকে মাসিক আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই বৈঠকের উদ্দেশ্য দোষারোপ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।’
]]>পশ্চিমবঙ্গে নাকি বিপুল বিনিয়োগ আসবে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হওয়ার পরে। ক্ষমতায় থাকাকালীন বেশ কয়েক বছর এমন দাবি করে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বারে বারে দাবি করার পরেও এমনকি আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পরেও তাজপুরে আর গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ শুরু হয়ে ওঠেনি।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে গতকাল নবান্নে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পরে জানিয়ে দিলেন তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করাই রয়েছে টেকনিক্যাল সমস্যা। তাই তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা সম্ভব নয়।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করা আর সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, জমির অভাবেই আদানিরা এক সময় তাজপুর প্রকল্প থেকে কার্যত সরে গিয়েছিলেন। তবে শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে না নতুন সরকার। তাজপুরের বিকল্প হিসেবে এবার বেছে নেওয়া হয়েছে দাদনপাত্রবাড়কে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবারে ১৭০০ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার সেই জমিতেই গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত এগোবে।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তাজপুরের মতো একটি বিশাল মাপের গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করতে গেলে কয়েক হাজার একর সংলগ্ন জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো, তাজপুরে রাজ্য সরকারের হাতে তেমন কোনো জমি নেই। এই কঠিন সত্যটি অনুধাবন করেই শিল্পপতিরা ওই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। আমাদের পরিকাঠামো ও শিল্পায়নের লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

আজ কী নিয়ে কথা হয়েছে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “আগে বিরোধী দলনেতা হিসাবে এই কথা আমি বলেছিলাম, যতক্ষণ না রেল, হাইওয়ে, ওয়্যারহাউস সহ কয়েক হাজার একর জমি না থাকবে, ততক্ষণ তাজপুর ডিপ সি পোর্ট দাঁড়াবে না। তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়। এখানে পুরোনো নুনের কারখানা ছিল। সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে রাজ্যের হাতে। আমরা এখন ওইটা নিয়ে এগোব। আজ আমাদের মিটিংয়ের এজেন্ডা এটাই ছিল। ১ হাজার ৭০০ একর জমি হাতে নিয়ে আমরা এগোব। পরে জমি সংগ্রহ করা যাবে। প্রাথমিক ভাবে আমরা আজ এটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
]]>
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনের সংকল্প পত্রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক একাউন্টে তিন হাজার টাকা পাঠানো শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ নবান্ন সভাঘরের একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ৫ মহিলা উপভোক্ত তার হাতে ৩০০০ টাকার প্রতীকী চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ডুপ্লিকেট লোকদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে। অ্যাকাউন্টসের অডিট হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণের সাহায্য করা হবে। ফর্ম পূরণের পর ভেরিফিকেশনের পর ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে।
বুধবার নবান্ন সভাঘরে প্রকল্পের সূচনা হয়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘২৭ তারিখ থেকে আমরা ফর্ম দেওয়া শুরু করেছিলাম। আজ থেকে ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করা শুরু করল সরকার। যাঁরা যাঁরা আবেদন করে দিয়েছেন, আজ থেকে ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকে যাবে।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন, প্রথমে বলা হয়েছিল, ফর্ম দেওয়া লাগবে না, ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করা হবে। কিন্তু পরে পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার, লক্ষ ভুয়ো নাম ঢুকে রয়েছে। সেগুলিকে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই নতুন ফর্ম দেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের ফল-আপ শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে যোজনার টাকা ঢুকবে। এই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ফর্ম আগের থেকেই দেওয়া শুরু হয়েছে। আজ অনলাইনে দেওয়া শুরু হয়েছে। ৩ জুন থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। তবে, বারবার ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘এই যে বলছে এতগুলো ১২ পাতার ফর্ম। এগুলো ডেটার জন্য। ফর্ম ফিল-আপ না করতে পারলে যে আপনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না, তা কিন্তু নয়। কারণ আগামীদিনে আমরা এরকম আরও প্রকল্প নিয়ে আসছি, সেই জন্য এই ডেটা দরকার।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির স্কিমের টাকা ঢুকবে। এসআইআরের পরে দেখা গেল অনেক মানুষ এ দেশের নয়। তাই আমরা নতুন করে ফর্ম পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিই। ১ লাখ ২১ হাজার সিএএ তে আবেদন করেছেন। আরও অনেকে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। আরও মানুষ সিএএ র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু যাঁরা অবৈধ ভাবে এ দেশে ঢুকেছেন তাঁরা এই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন না। ভারতীয় নাগরিকত্ব যাঁদের নেই তাঁরা পাবেন না। এই প্রক্রিয়া তিন মাস ধরে চলবে। যেমন যেমন ফর্ম পূরণ করে জমা পরবে, সেগুলো ভেরিফিকেশন করে তারপরই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে যাবে।’
তৃণমূলে মহাভাঙন! শোভনদেবকে সরিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত, ৫৮ বিধায়কের সমর্থনে বড় ধাক্কা অভিষেককে
সরাসরি সরকারি হেল্পলাইন
সরকারি পরিষেবায় সমস্যার কথা জানাতে হেল্পলাইন নম্বর চালু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সপ্তাহের সোম থেকে শনি নির্দিষ্ট নম্বর ও ইমেইল মারফত অভিযোগ জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আপনার সরকার আপনার পাশে।’ ৮২৮২০৮২৮২০ এই নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন সমস্যার কথা।

সেই সঙ্গে সরকার বিনামূল্যে বাস পরিষেবাও চালু করেছে ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য। সরকারি সংস্থা এসবিএসটিসি, ডব্লিউবিটিসি, এনবিটিসি-তে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস পরিষেবা দেওয়া হবে। এক্সপ্রেস বাস, এসি বাস সব বাসেই এই ধরনের পরিষেবা পাওয়া যাবে, কাউন্টার টিকিট এবং অনলাইন সবেতেই এই ধরনের পরিষেবা পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা এর কাজ পুরো শেষ হয়ে গেলে আগের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। তেমনি ভাবে আয়ুষ্মান ভারত শুরু হলে নাম ট্রান্সফার শুরু হলে স্বাস্থ্য সাথীর ক্ষেত্রেও তাই হবে।
]]>
‘এখনও পর্যন্ত মোট ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে। ১টি অ্যাকাউন্ট রাকিবুলের, আরও ১৫টি মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী তুহিনার, বাকি ৬টি অ্যাকাউন্ট তারিকুল রহমানের।’ এই তথ্য পরিসংখ্যান পেশ করে আজ নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্যাখ্যা করলেন কেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য তেরো পাতার ফরম বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যারা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন – জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা ও তাদের দলকে বলব সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। অনুপ্রবেশকারী, হাজার হাজার তৃণমূল নেতা – যারা মহিলা নন – তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুট করছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। সিট গঠন করতে বলেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি। রাকিবুল, মুস্তাফিজুরদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে। লুটেরাদের পার্টি কীভাবে লুট করেছে এটা তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। ফর্মপূরণ করতে এগিয়ে এসেছেন অনেকে। জনগণ সহযোগিতা করেছেন। সোমবার থেকে অনলাইনে চালু হয়ে গিয়েছে। আশা করছি বুধবার আরও অনেকের ফর্ম ফিলআপের কাজ হয়ে যাবে।’
বিধানসভার সই জাল কান্ড প্রসঙ্গে
তৃণমূলের সব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বাড়িতে কত কয়েক দিনে সিআইডির গোয়েন্দারা যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিরোধীদের উপরে রাজনীতির প্রতি হিংসা নেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার সম্পূর্ণ খন্ডন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অমুকের বাড়ি তমুকের বাড়ি সিআইডি যাচ্ছে বলে আপনারা দেখাচ্ছেন। এতে বিজেপি অথবা সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। গত ৯ মে আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক একটি চিঠি লেখেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে। সেই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা জানিয়ে চিঠি দেন। ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সম্পাদককে দলীয় বৈঠকের মিনিটস জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। ২০ মে সেই চিঠির জবাব আসে। ২৭ মে দু জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য ৬ মে তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁরা শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য সই করেছিলেন। তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভার সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। এর পর স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশে এবং আমার অনুমোদনে মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।’
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তৃণমূলের দেওয়া ওই চিঠিতে ১৪ জন তৃণমূল বিধায়কদের সই হিসেবে বড় হরফে তাঁদের নাম লেখা ছিল। ওই ১৪ জন বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছে সিআইডি। হস্তরেখা বিশারদকে দিয়ে ওই বিধায়কদের সইও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে সিআইডি ইতিমধ্যে কথাও বলেছে। তিন জন বিধায়ক তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ করেছিল, তা খণ্ডন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিজেপি অথবা সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগেই তদন্ত হচ্ছে। তৃণমূল চোরের দল। এতদিন বাংলার মানুষকে ঠকিয়েছে, এবার নিজেদের বিধায়কদের ঠকাচ্ছে। যে দল ১৫ বছর সরকার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠা বাংলার জন্য অত্যন্ত চিন্তার।’ তবে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলছিস যাঁরা সই জাল করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে। আমরা সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। বিধানসভা থেকেও পুলিশ সুপারিশ নেবে। একজনের সই তো অন্যজন করতে পারেন না।’

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সব চোরের পাঠশালা, কালীঘাটের টালির চালা। তৃণমূল পার্টিটা কার্যত উঠেই গেছে। ভোটে লড়ার আগে তৃণমূলের প্রার্থী পালাচ্ছেন। তৃণমূলের কোনো লোকই প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন না। নিজের দলের বিধায়কদের সঙ্গে তঞ্চকতা ও প্রতারণা করেছে তৃণমূল। তবে বিজেপি সরকারের আমলে এই সই চোরেরা কোনো ছাড় পাবেন না। একজনের সই অন্যজন করতে পারেন না।’
]]>
একই বাড়িতে থাকলেই পরিবার? স্বামী-স্ত্রীর আলাদা ঠিকানা হলে কী হবে, বাড়ছে বিভ্রান্তি
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ১২ পাতার ফর্ম ঘিরে রাজ্যজুড়ে যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে বিভ্রান্তি। আধার, ব্যাঙ্ক, ভোটার কার্ড, আয়—সব তথ্য চাওয়ার পর এবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে একটি শব্দ—‘পরিবার’। আর এই এক শব্দ ঘিরেই এখন সাধারণ মানুষের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে একগুচ্ছ প্রশ্ন।
কারণ, সরকার যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা শুনে অনেকেই বলছেন—“তা হলে আমাদের ক্ষেত্রে কী হবে?”
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আবেদনপত্র ইতিমধ্যেই বহু মানুষের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। কেউ অনলাইনে ডাউনলোড করছেন, কেউ আবার স্থানীয় স্তরে ফর্ম সংগ্রহ করছেন। কিন্তু ফর্মের শেষ পাতায় গিয়ে কার্যত চমকে উঠছেন অনেক আবেদনকারী।
সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, “পরিবার বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে, যারা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার খান।”
আর এই সংজ্ঞাই এখন তৈরি করেছে বড় ধোঁয়াশা।
কারণ, বর্তমান সময়ে বহু পরিবারই আর সেই পুরনো কাঠামোয় আটকে নেই। কাজের সূত্রে স্বামী এক জেলায়, স্ত্রী অন্য জেলায় থাকেন—এমন ঘটনা এখন খুবই সাধারণ। কেউ কলকাতায় চাকরি করেন, পরিবার থাকে মুর্শিদাবাদে। কেউ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, স্ত্রী-সন্তান থাকেন গ্রামে। তাহলে তাঁরা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে চায়ের দোকান থেকে ব্লক অফিস পর্যন্ত।
শুধু তাই নয়, ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের ঠিকানা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জট। বহু বিবাহিত মহিলার ভোটার কার্ড এখনও বাবার বাড়ির ঠিকানায়। আধারেও সেই পুরনো ঠিকানাই রয়েছে। অথচ তাঁরা স্বামীর সঙ্গে অন্যত্র থাকছেন। সেক্ষেত্রে আবেদন করার সময় কোন ঠিকানা ব্যবহার হবে? পরিবার হিসেবে কাদের নাম ধরা হবে?

এমনই নানা প্রশ্ন এখন উঠে আসছে সাধারণ মানুষের মুখে।
ফর্মে আবেদনকারীর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, পেশা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার তথ্য, স্বাস্থ্যবিমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা—সব কিছু বিস্তারিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। ফলে কে “পরিবারের সদস্য” হিসেবে গণ্য হবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে থমকে গিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে এই বিভ্রান্তি আরও বেশি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই একই বাড়িতে থেকেও আলাদা রান্না হয়। আবার অনেকে বাইরে কাজ করলেও রেশন কার্ডে এখনও পরিবারের সদস্য হিসেবেই নাম রয়েছে।
ফলে বাস্তবে কোন নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়েই বাড়ছে কৌতূহল।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণের আগে এলাকার বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়গুলি পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ফর্ম ঘিরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এত বিশদভাবে চাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই এই তথ্য সংগ্রহ জরুরি।
তবে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—ভুল তথ্য দিলে কি আবেদন বাতিল হবে? আর বাস্তব জীবনের জটিল পারিবারিক পরিস্থিতিকে সরকার কীভাবে বিচার করবে?
এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে না আসায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। ফলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পেতে গিয়ে অনেকেই এখন কাগজপত্রের চেয়ে বেশি লড়াই করছেন “পরিবার” শব্দটার সংজ্ঞা নিয়ে।
আগামী দিনে সরকার কি এই ধোঁয়াশা কাটাতে নতুন নির্দেশিকা আনবে? নাকি ফর্ম ঘিরে বিভ্রান্তিই আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা।
]]>