প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
বগলের কালো দাগ আর দুর্গন্ধ—এই দু’টি সমস্যা অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ। হাত তুললেই আত্মবিশ্বাসে টান পড়ে, পছন্দের পোশাক পরতেও দ্বিধা আসে। নিয়মিত শেভ করা, কেমিক্যাল-ভিত্তিক ডিওডোরেন্ট, অতিরিক্ত ঘাম, হরমোনের ওঠানামা বা সংবেদনশীল ত্বক—সব মিলিয়েই আন্ডারআর্মের ত্বক ধীরে ধীরে কালচে, রুক্ষ আর শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই তখন দামি প্রোডাক্টে ভরসা করেন, কিন্তু ঘরোয়া কিছু সহজ অভ্যাসও যে কাজে আসতে পারে, সেটা অনেক সময় নজরে আসে না।
প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ারের দুনিয়ায় নারকেল তেল বহুদিনের চেনা ভরসা। Coconut Oil Remedy হিসেবে নারকেল তেল ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা জোগাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এতে থাকা ভিটামিন ই ও প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বক নরম রাখে এবং শেভ বা ঘর্ষণের কারণে হওয়া শুষ্কতা ও জ্বালাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। ত্বক যখন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, তখন কালচে ভাব আরও বেশি চোখে পড়ে। সেই জায়গাতেই নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বকের অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পরিষ্কার বগলে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল লাগিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করা একটি সহজ অভ্যাস। কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং তেলটি ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হয়। নিয়মিত করলে ত্বক নরম লাগে এবং অনেকের ক্ষেত্রে রঙ ধীরে ধীরে সমান হতে শুরু করে বলে অভিজ্ঞতা।
আরও একটু বাড়তি যত্ন চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবুর রস প্রাকৃতিকভাবে মৃত ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের ওপর জমে থাকা ময়লা ও ডেড স্কিন দূর করতে সহায়ক হতে পারে। এক চা চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে বগলে লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে দিন, তারপর হালকা করে ধুয়ে ফেলুন।
তবে এখানে একটু সতর্কতা জরুরি। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার করলে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহার করার আগে ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। আর লেবুর রস ব্যবহারের পর সূর্যের আলো লাগলে ত্বক আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে—তাই রাতের দিকেই ব্যবহার করাই নিরাপদ।
বগলের দুর্গন্ধ কমানোর ক্ষেত্রেও নারকেল তেল সহায়ক হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম আর ব্যাকটেরিয়ার কারণে সাধারণত দুর্গন্ধ তৈরি হয়। নারকেল তেল ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, ফলে দুর্গন্ধ ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে এটিকে কোনও চিকিৎসা নয়, বরং একটি সহায়ক ঘরোয়া অভ্যাস হিসেবেই দেখা উচিত।
এর সঙ্গে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস বদলালেও উপকার মেলে। খুব ঘনঘন শেভ না করে ট্রিমিং বা ওয়াক্সিং বেছে নেওয়া যেতে পারে। অ্যালকোহলযুক্ত ডিওডোরেন্ট ত্বক শুষ্ক করে তোলে, তাই ত্বকবান্ধব পণ্য ব্যবহার করা ভালো। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং আর্দ্রতা বজায় রাখলেই কালচে ভাব ও দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ধৈর্য। ঘরোয়া কোনও উপায়ই এক রাতের মধ্যে জাদুর মতো ফল দেয় না। নিয়মিত যত্ন আর সঠিক অভ্যাসই ধীরে ধীরে ত্বকের পরিবর্তন আনে।
সতর্কীকরণ:
এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে লেখা। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শ নয়। দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের সমস্যা থাকলে বা জ্বালা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।