শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় ভূকম্পন। Supreme Court of the United States এক ঐতিহাসিক ৬-৩ রায়ে জানিয়ে দিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে Donald Trump জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে যে বিস্তৃত শুল্ক (tariffs) আরোপ করেছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়। এই রায়ে কার্যত তাঁর আরোপিত একাধিক বড় শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হল—এবং তা কার্যকর হচ্ছে অবিলম্বে।
কী বলেছে সুপ্রিম কোর্ট?
আদালত স্পষ্ট করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যে আইনের আওতায় এই শুল্ক বসিয়েছিল—International Emergency Economic Powers Act (IEEPA)—তার ব্যাখ্যা অতিরিক্তভাবে প্রসারিত করা হয়েছে। এই আইন মূলত জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশি হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। কিন্তু আদালতের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি বা বাণিজ্যিক বিরোধকে “জরুরি অবস্থা” হিসেবে দেখিয়ে সার্বিক শুল্ক বসানো সেই আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে।
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বিচারপতিরা বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের ব্যাপক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া সংবিধানসম্মত নয়।
তাহলে কি সব শুল্কই বাতিল?
সব নয়। আদালতের রায়ে যে শুল্কগুলো সরাসরি IEEPA-র অধীনে বসানো হয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে অকার্যকর। তবে অন্য আইনের আওতায় আরোপিত কিছু শুল্ক—যেমন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত পৃথক বিধানের অধীনে নেওয়া পদক্ষেপ—সেগুলো আপাতত বহাল থাকতে পারে। ফলে পুরো চিত্রটা কিছুটা জটিল, কিন্তু বড় বার্তাটি স্পষ্ট: জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত নয়।
কার্যকর হচ্ছে কবে থেকে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—রায় কি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর? হ্যাঁ। আদালত কোনও স্থগিতাদেশ বা বিলম্বের কথা উল্লেখ করেনি। ফলে সংশ্লিষ্ট শুল্কগুলো অবিলম্বে বাতিল বলে গণ্য হবে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুল্ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকতে পারে, কিন্তু আইনি দিক থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর এখনই।
আমেরিকার অর্থনীতি ও ভোট রাজনীতিতে প্রভাব
এই রায় শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও বিস্ফোরক। ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ছিল তাঁর রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের বড় অংশ—“আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির প্রতীক। এখন সেই নীতির একটি বড় স্তম্ভ আদালতের ধাক্কায় ভেঙে পড়ল।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, আমদানিকারক সংস্থাগুলোর জন্য এটি স্বস্তির খবর। অনেক ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্কের কারণে ব্যয়বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছিল। অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা বলছেন, এই রায় প্রেসিডেন্টের হাত বেঁধে দিল এবং ভবিষ্যতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হবে।

বড় বার্তা কী?
এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বার্তা—মার্কিন ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য এখনো অটুট। প্রেসিডেন্ট যত শক্তিশালীই হোন না কেন, তাঁর পদক্ষেপ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আর সেই কারণেই এই রায়কে অনেকে বলছেন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মুহূর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এখন নতুন মোড়ে। সামনে কী আসছে—নতুন আইন, নাকি নতুন রাজনৈতিক লড়াই? আপাতত একটাই নিশ্চিত: ট্রাম্পের জরুরি শুল্কে সুপ্রিম কোর্টের সিলমোহর পড়ল ‘অবৈধ’-এর তকমায়, এবং তার প্রভাব পড়বে দেশজুড়ে।