শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে বাৎসরিক উৎসবের (ফেস্ট) জন্য দু’কোটি টাকা অনুদানের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনার পরেই এইভাবে সরকারি টাকা নয় ক্ষয় করার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রকাশ্যেই। এবার সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করার অনুমতি মিলল। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই অনুমতি দেয়।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ফেস্ট আয়োজনের জন্য দু’কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের দাবি, সরকারি অনুদানের ফলে এই ক্ষেত্রে নতুন করে দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আগে থেকেই মেডিক্যাল কলেজে বাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখন ক্লাব অনুদানের মতো এখানেও সরকারি টাকা ঢালার সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।
কী বলেছিলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছিলেন। “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, “আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার বোনটি আজও বিচার পাননি। বোন অভয়ার বাবা মা প্রতিদিন বিচারের দাবীতে মহামান্য আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। বোন অভয়ার সহকর্মী চিকিৎসকরা এখনো বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত ও সংঘবদ্ধ। এরকম একটা প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী ধনধান্য স্টেডিয়াম থেকে সরকারি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন যা আদপে চিকিৎসকদের আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করার এক সুষ্পষ্ট পরিকল্পিত ছক। মমতা ব্যানার্জী এছাড়াও প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে “ফেস্ট” আয়োজন করার জন্য দু’কোটি টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বিগত দশ বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজ সহ রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ গুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি। এত দিন শাসকদলের ছাত্র নেতারা ফেস্টের টাকা নয়ছয় করতো, এ বার মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির লাইসেন্স দিয়ে দিলেন। রোগী পরিষেবা যেখানে নিম্ন মানের সেখানে এই অনুদান মানানসই? রোগীদের স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, সেখানে ২ কোটি টাকা ফেস্টের জন্য অনুদান! এটা কি নির্বাচনের আগে ঘুষ?”
আবেদনকারী আইনজীবী এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, রাজ্যের কোনও মেডিক্যাল কলেজেই নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি বা ছাত্র সংসদ নেই। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুদানের অর্থ কীভাবে খরচ হবে, তা নিয়ে ক্রমশ জলঘোলা হচ্ছে। সেই অর্থের অপব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে এখনও রোগীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে ‘ফেস্ট’-এর জন্য এত টাকা বরাদ্দ করা কতটা ঠিক, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আবেদনকারী। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ছাত্র নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেই এই বিষয়টিকে যুক্ত করে শোনা হবে।