কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই ঝলমলে আলোকসজ্জা, রঙিন ব্যানার ও হোর্ডিং। কিন্তু এবার সেই হোর্ডিং নিয়েই তৈরি হলো বিতর্ক। ইএম বাইপাসের ধারে একাধিক পুজোর হোর্ডিং ও ফ্লেক্স দেখে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী নিজে চোখে পড়তেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ফোন করে অবিলম্বে সব অবৈধ হোর্ডিং খোলার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে বুধবারই কলকাতা পুরনিগম বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, ইএম বাইপাসের ধারে কোনও হোর্ডিং, ফ্লেক্স বা ব্যানার লাগানো যাবে না। যেসব হোর্ডিং পুরনিগমের অনুমোদন ছাড়া বসানো হয়েছে, সেগুলি দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।
পুরনিগমের বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ধরনের হোর্ডিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গত বছর পুজোর সময় যেভাবে বিপর্যয় হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোর্ডিং ভাঙার অভিযান
বুধবার সকাল থেকেই ইএম বাইপাস ও আশেপাশের এলাকায় পুরনিগমের কর্মীরা হোর্ডিং নামানোর কাজ শুরু করেন। মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার জানান, “নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে হোর্ডিং খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পুরনিগমের কড়া বার্তা—ভবিষ্যতে কোনও ক্লাব বা পুজো কমিটি অনুমতি ছাড়া হোর্ডিং তুললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইনবোর্ডে বাংলার মর্যাদা
হোর্ডিং বিতর্কের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শহরের প্রতিটি সাইনবোর্ডে বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অক্ষরের আকার ছোট করে লেখা যাবে না। যেই আকারে অন্য ভাষা থাকবে, বাংলাতেও সেই আকারেই লিখতে হবে।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম পরিষ্কার জানিয়েছেন—
“আমরা চাই বাংলার মানুষ নিজেদের মাতৃভাষাকে মর্যাদা দিয়ে পড়তে পারুক। বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া মানে অন্য ভাষার বিরোধিতা নয়।”
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পুরসভার অধিবেশনে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। বিজেপি ছোট আকারে বাংলা লেখার অভিযোগ তুললেও তৃণমূল কাউন্সিলররা বিজেপিকে পাল্টা কটাক্ষ করেন।
দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। তবে উৎসবের আবহে শহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিকেও কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার ও পুরনিগম। ইএম বাইপাস থেকে হোর্ডিং সরানোর পদক্ষেপ যেমন দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করবে, তেমনই সাইনবোর্ডে বাংলার সঠিক ব্যবহার শহরবাসীর মাতৃভাষাকে সম্মান দেবে।