সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় এবং অসমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগেই একের পর এক দুর্ঘটনা। গতকাল রাতে অসমে ট্রেনের ধাক্কায় নজিরবিহীন ভাবে আট হাতির মৃত্যুর ঘটনা বেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকালে মুর্শিদাবাদ থেকে নদীয়ার তাহেরপুরের নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে আসা ৪ বিজেপি সমর্থককে পিষে দিল ট্রেনের চাকা। প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে আসছিলেন ওরা, দুর্ঘটনার কবলে প্রাণ গেল চারজনের। জানা গেছে, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। মৃতরা মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদের সকলেই বড়ঞার সাবলদহ গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে কয়েকজন ভোরবেলা রেললাইনের ধারে প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। সেই সময় অন্যদিক থেকে ধেয়ে আসা ট্রেনের ধাক্কায় লাইনে ছিটকে পড়েন চারজন। মোদির সভায় যোগ দিতেই তাঁরা নদিয়ার তাহেরপুরে এসেছিলেন। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রেল এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া চার বিজেপি সমর্থকের মৃত্যুর পরেও রাজ্য বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে সেই সমস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল নেতৃত্ব পৌঁছে যান মুর্শিদাবাদের এই চার পরিবারের পাশে।
আর এই ঘটনার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘বাংলার মানুষের মৃতদেহের ওপর দাঁড়িয়ে মোদীর সভা! নরেন্দ্র মোদীর সভার জন্য অন্য জেলা থেকে মানুষ এনে জড়ো করা হয়েছিল, একেবারে পশুদের মতো ঠাসাঠাসি করে আনা হয়েছিল। না ছিল কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, না ছিল ভিড় নিয়ন্ত্রণ! মানুষের জীবনের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা ছিল না বিজেপি নেতাদের। আর তারই জেরে মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। একজন ব্যক্তির অহংকার আর একটি জনবিরোধী দলের ক্ষমতা প্রদর্শনের খেসারত দিতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন দিয়েছেন। এটাই বিজেপির রাজনীতি! সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করে যদি সভায় ভিড় বাড়ানো যায়, দৃশ্যপট তৈরি করা যায়, খবরের শিরোনাম দখল করা যায়—তাহলে বিজেপি এক মুহূর্তও দ্বিধা করে না। আর এই ঘটনা তো নতুন নয়। বারবার বিজেপি মানুষের জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছে। ওরা যেখানে যায়, সেখানেই মৃত্যুমিছিল আর ধ্বংসলীলা। এই রক্তের দাগ একেবারে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছাবে। দায়বদ্ধতা শুরু হয় একেবারে শীর্ষ স্তর থেকে। যদি তথাকথিত ‘প্রধান সেবক’ একটি রাজনৈতিক সভাকেও হত্যাক্ষেত্রে পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে না পারেন, তাহলে দেশের কাছে তাঁর ন্যূনতম দায়িত্ব হল সরাসরি ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগ করা।’

মতুয়াদের ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ
তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার প্রাক্কালে চাকদায়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মতুয়াদের অধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে দমন করা হচ্ছে-এই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক মোদী’ লেখা পোস্টার লাগানো হয়। ব্যানারে বিজেপিকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন ৫,১৯,৭৩২ জন মতুয়াকে ধোঁকা দেওয়া হলো? বিজেপি এই ঘটনার নেপথ্যে শাসকদলের হাত দেখলেও তৃণমূলের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ।