সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এবারের কলকাতা দুর্গাপুজো উদ্বোধন সূচিতে কাটছাঁট হয়েছে বলে দাবি করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, চতুর্থীতে (২৬ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় মোট তিনটি পুজো উদ্বোধন করার কথা ছিল শাহের। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার ৫৬ লেক অ্যাভিনিউয়ে সেবক সঙ্ঘের (৮৭ নম্বর ওয়ার্ড) পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করার কথা ছিল তাঁর।
বাংলায় মোট ৬২ হাজারেরও বেশি দুর্গাপুজো হয়। এই বিপুল সংখ্যক পুজোর মধ্যে বিজেপি নিজেদের বলে দাবি করেছিল মাত্র তিনটি পুজোকে। আর সেই তিনটি পুজোই ঘটা করে উদ্বোধন করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আচমকা বাতিল করা হলো তার মধ্যে একটির উদ্বোধন। আয়োজক বা বিজেপি, কেউই এর কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি। তবে সূত্রের খবর, যে পুজোটির উদ্বোধন বাতিল করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত লোক সমাগম করা সম্ভব হচ্ছিল না। জনসমর্থনের অভাব এবং ফাঁকা মণ্ডপে অনুষ্ঠান করে হাসির পাত্র হওয়া থেকে বাঁচতেই নাকি শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “লোকজন হবে না, তাই দক্ষিণ কলকাতার পুজো উদ্বোধন বাতিল হলো। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়ে গেল বিজেপির আসলে বাংলায় কোনও পাড়াই নেই, পাড়ার পুজোও নেই।” তিনি আরও বলেন, “আইবি রিপোর্ট নাকি জানিয়েছে যে ভিড় হবে না। তাই বাতিল। বাকি রইল দুটি পুজো, যার একটি আবার হল ভাড়া করে।”
কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, আদি বিজেপি নেতাদের কোনো পাড়া নেই, কোনো পুজো নেই। অমিত শাহের এই পুজো-ভ্রমণ আসলে শুধুই ছবি তোলার জন্য, যার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব আগেও ছিল না, এখনও নেই। বিজেপি নেতাদের ঢাকঢোল পেটানো সত্ত্বেও জনসমর্থনের এই অভাব তাদের অন্দরেও চরম কোন্দল তৈরি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, জনসমর্থন বা লোকবল না থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বড় বড় আয়োজন করা হলো? এই ঘটনার পর বিজেপির দুই পুজোর ভবিষ্যৎ কী হবে, এখন সেটাই দেখার।