আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামছেন নির্যাতিতার পরিবার। আগামী ৯ অগাস্ট, ওই তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুদিনে আহ্বান জানানো হয়েছে ‘ন্যায় চাই’ শ্লোগানে নবান্ন অভিযানের।
একবছর পেরিয়ে গেল, বিচার এখনও অধরা
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজেই ঘটে সেই নৃশংস ঘটনা। কর্মরত অবস্থায় ধর্ষণের পরে খুন হন এক তরুণী চিকিৎসক। এক বছরের মাথায়, নিগৃহীতার পরিবার এখনও মনে করে, প্রকৃত দোষীরা ধরা পড়েনি, এবং গোটা বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, দেহ দ্রুত সৎকার করে দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশের ভূমিকা সন্দেহজনক।
তৃণমূল ছাড়া সকলকে আমন্ত্রণ
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া কংগ্রেস, সিপিএম, SUCI ও বিজেপিকে ডাকা হয়েছে। কারণ তৃণমূল ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পরিবারে আস্থা নেই। তারা সরাসরি অভিযোগ করেছে, শাসকদল তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে।
শুভেন্দুর নেতৃত্বে দলহীন নবান্ন অভিযান
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে এই মিছিল আয়োজিত হলেও, এতে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা থাকবে না। থাকবে শুধু একটাই স্লোগান — “আমরা ন্যায় চাই।” শুভেন্দু স্পষ্টভাবে বলেছেন, “এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক নয়, এটা ন্যায়ের লড়াই। প্রকৃত অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি তুলতেই আমরা পথে নামছি।”
বিজেপির অবস্থান
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এই মৃত্যু একটি প্রাতিষ্ঠানিক খুন, যেখানে প্রমাণ লোপাট, ময়নাতদন্তের গাফিলতি ও সৎকারে তাড়াহুড়ো ছিল পরিকল্পিত।” তিনি আরও জানান, “আমরা পরিবারকে পাশে রয়েছি এবং রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি যাতে সকলে এই আন্দোলনে অংশ নেয়।”
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নিহত ছাত্রীর পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানালেও, বলেন, “পরিবার হয়ত প্ররোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে, আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।” তাঁর মতে, তদন্তের বাইরে কিছু প্রমাণ মেলেনি।