শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনে কলকাতায় জোড়া পথ দুর্ঘটনা। সোমবার সকালে শহরের দুই প্রান্তে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওয়েলিংটন ও এক্সাইড মোড়ে বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ২ মহিলার। কিছু করেই রোখা যাচ্ছে না বেপরোয়া বাসের দৌরাত্ম্য। এর পরেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার নির্দেশে কলকাতা শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে কত স্পিডে গাড়ি চালানো যেতে পারে সেই স্পিড লিমিট বেঁধে দিল কলকাতা পুলিশ।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকাল ৭টা নাগাদ। ওয়েলিংটন স্কোয়ারে বেপরোয়া স্কুল বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক পথচারী মহিলার। রাস্তা পার হওয়ার সময় সত্তরোর্ধ্ব প্রৌঢ়াকে ধক্কা মারে বাসটি। জানা গিয়েছে, প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ওই ৭৭ বছরের বৃদ্ধা। সেসময় দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি স্কুলের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে বাঁদিকে মোড় ঘোরে। বৃদ্ধা রাস্তায় পড়ে যান ও তার উপর দিয়ে বাসের পেছনের চাকা চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার। সঙ্গে সঙ্গে বাসটিকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। কিন্তু গতি বাড়িয়ে বাসটি চলে যায়। পরে পুলিশকে গোটা বিষয়টি জানানো হলে এন্টালি থেকে বাসটিকে আটক করে পুলিশ। চালককেও আটক করেছে বউবাজার থানার পুলিশ। বৃদ্ধার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে রবীন্দ্র সদনের কাছে এক্সাইড মোড়ে। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এক্সাইড মোড়ে দুটি বাসের রেষারেষিতে মারা যান এক মহিলা। সকালে পিটিএস এর দিকে একটি সরকারি বাস ও একটি ২২২ নম্বর রুটের বেসরকারি বাস রেষারেষি করছিল। মহিলা রাস্তা পার হওয়ার সময় তাকে বেসরকারি বাসটি সজোরে এসে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা। রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ। কাছেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলাকে। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। মহিলাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ইতিমধ্যেই বেসরকারি বাস ও বাস চালককে আটক করেছে পুলিশ। ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা জানতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছ পুলিশ। অফিসের ব্যস্ত সময়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
অন্যদিকে, শহরের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গাড়ির গতিবেগ কত হবে, তা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার। এদিন থেকেই এই নিয়ম কার্যকরী করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। সরকারি বা বেসরকারি কোনও চালক নির্দেশিকা ভাঙলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এজেসি বোস রোস, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, বাসন্তী হাইওয়ে, নিউটাউন, রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের কানেক্টর, উত্তম কুমার সরণির মতো রাস্তায় ঘণ্টায় ৪০ কিমির বেশি গতিবেগে গাড়ি চালানো যাবে না। একইভাবে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রি, আবু হুদা রোড, কালীঘাট রোডে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ২৫ কিমি। সর্বোচ্চ ৩০ কিমি গতিবেগে গাড়ি চালানো যাবে কুল্টি রোড, কুলিতলা-জীবনতলা রোডে।