সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য সরকারকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় কমিশনের কাছে পৌঁছতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্থায়ী ডিজি নিয়োগ নিয়ে এভাবেই কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা ক্যাটের প্রিন্সিপাল বেঞ্চ।
ক্যাটের নির্দেশ অনুসারে, রাজ্য ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রস্তাব পাঠানোর পর ইউপিএসসি ২৮ জানুয়ারির মধ্যে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক করবে। তারপর ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই ডিজি পদের জন্য তৈরি প্যানেল রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই প্যানেল পাওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্থায়ী ডিজি নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাজ্যকে নিতে হবে। এই মামলার আবার পরবর্তী শুনানি হবে ১১ মার্চ। নিয়ম অনুযায়ী, ডিজি পদের জন্য রাজ্য সিনিয়র আইপিএস অফিসারদের একটি তালিকা ইউপিএসসি-র কাছে পাঠায়। সেখান থেকে তিন জনের নামের একটি প্যানেল তৈরি হয়। সেই তিন জনের মধ্য থেকে রাজ্য সরকার একজনকে স্থায়ী ডিজি হিসেবে বেছে নেয়। এই প্রক্রিয়ায় ইউপিএসসি প্রতিনিধি, আধাসেনার ডিজি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধি, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং বিদায়ী ডিজির উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।
প্রসঙ্গত, আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এমন নির্দেশ দিয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা ক্যাটের প্রিন্সিপাল বেঞ্চ। বর্তমানে তিনি রাজ্যের গণশিক্ষা প্রসার এবং গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইবুনালে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ডিজি হওয়ার জন্য যেসমস্ত যোগ্যতা থাকা দরকার সেই সমস্ত যোগ্যতা তাঁর থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৯৯০ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের মামলায় ক্যাট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্য সরকার কোনও যোগ্য আইপিএস অফিসারকে এরকম ভাবে বাদ দিতে পারে না।
এর আগে স্থায়ী ডিজি ছিলেন মনোজ মালব্য ২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে অবসর নেন। কিন্তু তারপর রাজ্য সরকার কোনো প্যানেল না পাঠিয়ে রাজীব কুমারকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি করে। ফলে ইউপিএসসি, ২০২৩ র ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ‘ডেট অব ভেকেন্সি’ মনে করছে। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকার ২০২৫ এ প্যানেল পাঠায় দুবার। কিন্তু দু বারের প্যানেল গ্রহণ না করে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিতে বলে ইউপিএসসি। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় ইউপিএসসি কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানির দ্বারস্থ হয়েছিল। অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ, রাজ্য সরকারকে আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুমতি আনতে হবে। শীর্ষ আদালত যদি অনুমতি দেয়, তবেই ইউপিএসসির উচিত পদক্ষেপ করা। তার আগেই ক্যাটের আজকের নির্দেশ।