সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ফের ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নিহত হলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। তবে এবার বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে নয়, এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের বন্ধু দল ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার ক্ষত-বিক্ষত দেহ। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে মৃতের স্ত্রী। পাশে দাঁড়ায়নি প্রশাসন জন-প্রতিনিধিরা। তারপরেই এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলো তৃণমূল।
জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম (২৯)। বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে। এলাকায় কোনও কাজ নেই।তাই পেটের টানে চেন্নাইতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন আলমগীর। নয় দিন আগে আরেকটি কাজের জন্য হায়দ্রাবাদ যাওয়ার কথা ছিল তার। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। কিন্তু তারপর থেকে তার আর কোন খোঁজ নেই। পাওয়া যাচ্ছিল না ফোনেও। আশে পাশে থাকা তার সহকর্মীরা স্থানীয় থানাতেও জানান। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে হায়দ্রাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল তার পরবর্তী স্টেশনের কাছাকাছি রেল লাইনের ধারে জঙ্গল থেকে আলমগীরের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।
খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে স্ত্রী থেকে শুরু করে পরিবারের লোকেরা। আলমগীরের উপর নির্ভর ছিল সমস্ত সংসার। ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। গভীর শোকের মাঝেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আলমগীরের স্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তামিলনাড়ু প্রশাসন বা জন-প্রতিনিধিরা কেউ দেখা করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন মৃত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা। যদিও মালদহের স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে আলমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলা ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে কাজে গিয়ে তাঁদের খুন হতে হচ্ছে। তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে কেন? তাঁদের কেন কোনও নিরাপত্তা নেই? কেন এই নিয়ে চুপ কেন্দ্র?

অন্যদিকে, অন্ধ্রের কাজে গিয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এক শ্রমিকের। নাম মঞ্জর আলম। পেশায় তিনি জরি শ্রমিক। পরিবারের অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়েই মঞ্জুরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মঞ্জুরের বাড়ি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার রঙ্গিলাবাদ গ্রামে গোয়াল খালি এলাকার। কাজ করতেন অন্ধ্রপ্রদেশে কোমারলু এলাকায়। ওই এলাকা থেকে মঙ্গলবার বাড়িতে ফোন করে ২৫০০ টাকা চান তিনি। বলেন, টাকা না দিলে মেরে ফেলবে। বাড়ি থেকে ছয় হাজার টাকা ফোন পে করাও হয়েছিল। তার পর থেকে আর কোনও খবর ছিল না। বুধবার দিন মৃত্যুর খবর আসে।
এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কারণে রাজ্যের শ্রমিকদের বাইরে গিয়ে বারবার বিপদে পড়তে হচ্ছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, একশো দিনের কাজ বন্ধ করে শ্রমিকদের বিপাকে ফেলেছে বিজেপি। এখন বিজেপির মদতে ভিন রাজ্যে বেছে বেছে বাংলার শ্রমিকদের উপর আক্রমণ হচ্ছে।