শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
সোমবারই ফুরফুরা শরিফে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ফুরফুরা শরিফ যাওয়া নিয়ে বেনজির কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। “ভোটব্যাঙ্ক গুছোতেই ফুরফুরা যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সোমবার দিল্লি রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবারই হুগলির ফুরফুরা শরিফের যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফুরফুরা শরিফের মুসাফিরখানায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। সেই ইফতার পার্টিতেই যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ফুরফুরা শরিফে একটি হাসপাতাল ও পলিটেকনিক কলেজ তৈরি হচ্ছে। তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয় ফুরফুরা শরিফের পীরজাদাদের।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফুরফুরা শরিফ সফর নিয়ে এদিন কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দিল্লি রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “ভোটব্যাঙ্ক গুছোতে ফুরফুরায় যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি প্রতিবার বিধানসভা ভোটের আগে ফুরফুরায় যান। ২০১৬ সালেও গিয়ছিলেন। ৫ বছর ফুরফুরার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, মুসলিমদের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। এখন ভোট এসেছে, তাই ফুরফুরায় যেতে হবে। ২০২৬-এ ভোট আসছে, চাপে আছেন। যে হিন্দুরা তৃণমূলকে ভোট দেন তাঁরা আজ টিভিতে নজর রাখবেন। আমি যে বলি তোষণের রাজনীতি, সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে।”
শুভেন্দুর দাবি, ফুরফুরা শরিফের সংখ্যালঘু মানুষদের উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “ফুরফুরায় গিয়ে দেখুন, কেমন উন্নয়ন হয়েছে! মুসলিম সমাজও এখন তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের কথা মনে রাখেন। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ভোটাররা আজ টিভির দিকে নজর রাখুন। দেখবেন, আমি যে তোষণের রাজনীতি বলি, সেটা আজ প্রমাণ হয়ে যাবে। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল হিন্দু ভোট পাবে না। সেই ভোট ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে।”
পাশাপাশি এদিন নওশাদ সিদ্দিকীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ককে কটাক্ষ করে এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, “ও যেদিন ডায়মন্ড হারবার ছেড়ে পালিয়েছে, সেদিনই বাংলার মানুষ বুঝে গেছে ও তৃণমূলের বি টিম। ওকে ভোটের দিনও মাঠে থাকতে হবে। হাড়োয়ার উপনির্বাচনেও মাঠে ছিল না। আমি মাঠে ছিলাম, তাই মমতা ব্যানার্জী হেরেছে।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে বঙ্গ বিজেপির সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করতে আজ দিল্লি যান শুভেন্দু অধিকারী। আগামীকাল, মঙ্গলবার ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি।
ভুয়ো ভোট আটকাতে আধার লিংকিং ও বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলে শুভেন্দু বলেন, “রেশন দোকানে যদি বায়োমেট্রিক থাকতে পারে, তাহলে ভোটের বুথে কেন থাকবে না? পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এই ব্যবস্থা শুরু হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই ভুয়ো ভোট আটকাতে চান, তাহলে বায়োমেট্রিক চালুর দাবি তুলুন।”